ঢাকা, সোমবার ২৬ জুলাই ২০২১, ১১ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

পিআইডি এর নিয়ম অনুসারে আবেদিত

বিডিআর বিদ্রোহের পেছনে তারাই

প্রকাশিত : 11:20 AM, 7 September 2020 Monday

গণঅধিকার নিউজ ডেস্কঃ

প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা বিডিআরের ঘটনার পেছনে বিএনপি-জামায়াত ও ওয়ান ইলেভেন সৃষ্টিকারীদের সম্পৃক্ত থাকার প্রতি ইঙ্গিত করে বলেছেন, বিএনপি-জামায়াতের মিথ্যা বলার ভাল একটা আর্ট আছে। সরকারে থেকে আমরা এমন একটা ঘটনা ঘটাব তা কোনভাবেই যুক্তিযুক্ত নয়। যারা ক্ষমতায় আসতে পারেনি, তারাই তখন তাদের পেছনে ছিল এতে কোন সন্দেহ নেই। আর তাদের সঙ্গে ছিল ওয়ান ইলেভেন যারা সৃষ্টি করেছিল তারা। আওয়ামী লীগ মেজোরিটি নিয়ে ক্ষমতায় আসায় সবকিছুকে নস্যাত করার পরিকল্পনায় তারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে। একদিন না একদিন সত্যটা বের হবে।

নারায়ণগঞ্জের মসজিদে বিস্ফোরণের ঘটনা তদন্ত করা হচ্ছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞরা সেখানে গেছেন, নমুনা সংগ্রহ করেছেন। ওই ঘটনা কেন ঘটল, কীভাবে ঘটেছে সেই ব্যাপারে তদন্ত হচ্ছে। আমি মনে করি এটি বের হবে। যথাযথ অনুমোদন না নিয়ে, নক্সা না মেনে যেখানে সেখানে ইমারত গড়তে এবং বিদ্যুত সরবরাহের সক্ষমতা ও নিরাপত্তার ব্যবস্থা না থাকার পরও মসজিদে মসজিদে অপরিকল্পিত এয়ারকন্ডিশনার বসানো হলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি যে বাড়বে, সে কথাও মনে করিয়ে দেন সংসদ নেতা শেখ হাসিনা।

রবিবার একাদশ জাতীয় সংসদের নবম অধিবেশনের প্রথম দিনে সদ্য প্রয়াত আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন, সংসদ সদস্য ইসরাফিল আলম এবং ভারতের প্রথম বাঙালী রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জীর মৃত্যুতে আনীত শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

স্পীকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে শুরু হওয়া সংসদ অধিবেশনে শোক প্রস্তাবের ওপর আরও আলোচনায় অংশ নেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী, বিরোধীদলের উপনেতা গোলাম মোহাম্মদ কাদের, আওয়ামী লীগের শাজাহান খান, এ্যাডভোকেট আবদুল মতিন খসরু, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন, প্রতিমন্ত্রী মুন্নুজান সুফিয়ান, জুনাইদ আহমেদ পলক, সাবেক হুইপ শহীদুজ্জামান সরকার, সরকারী দলের শামসুল আলম দুদু, বিরোধী দলের চীফ হুইপ মশিউর রহমান রাঙ্গা ও বিএনপির হারুনুর রশীদ। আলোচনা শেষে শোক প্রস্তাবটি সর্বসম্মতক্রমে গৃহীত হয়। এরপর প্রয়াতদের বিদেহী আত্মার প্রতি সম্মান দেখাতে এক মিনিট দাঁড়িয়ে নীরাবতা পালন শেষে মোনাজাত করা হয়।

বিডিআরের সত্য ঘটনা একদিন বের হবে ॥ ২০০৯ সালে নির্বাচনে জয় লাভ করে আওয়ামী লীগ ক্ষমতা গ্রহণের পরপরই রাজধানীর পিলখানায় তৎকালীন বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনায় প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেত্রী এ্যাডভোকেট সাহারা খাতুনের সাহসী ভূমিকার কথা বলতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ ঘটনার পেছনে কারা ছিল? আমরা তো কেবল সরকার গঠন করেছি। এটা কোনদিনই যুক্তিযুক্ত না, যে আমরা সরকার গঠন করেই এমন একটা ঘটনা ঘটাব, যাতে দেশে একটা অস্বাভাবিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হোক। কাজেই যারা তখন ক্ষমতায় আসতে পারেনি তারাই তাদের পেছনে ছিল এতে কোন সন্দেহ নেই। আসলে বিএনপি-জামায়াতের মিথ্যা বলার ভাল একটা আর্ট আছে।

সংসদ নেতা বলেন, বিডিআরের ঘটনার সময় সাহারা খাতুনের সাহসী ভূমিকা দেখেছি। সাহারা আপা ঝুঁকি নিয়ে সেখানে গেছেন। রাতের বেলা সেখানে গিয়ে বিডিআর সদস্যদের আর্মড সারেন্ডার করিয়েছেন। অনেক আর্মি অফিসার ও তাদের পরিবারের সদস্যদের উদ্ধার করে নিয়ে এসেছেন। এজন্য তার জীবনের ওপরও হুমকি এসেছিল। তার ওপর ওরা হামলা করতে গিয়েছিল। এ রকম অবস্থায় এ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন দুঃসাহসিক ভূমিকা রেখেছিলেন। কোন সাধারণ মানুষ এই সাহস করতে পারত না। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে তিনি সততার সঙ্গে কাজ করেছিলেন। মন্ত্রী হিসেবে তিনি মানুষের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিতসহ কঠিন দায়িত্ব পালনের দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন।

বিডিআরের ঘটনাটি ছিল একটা অস্বাভাবিক ঘটনা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা সরকার গঠনের মাত্র ৫২ দিনের মাথায় বিডিআরের ঘটনা ঘটল। বিডিআরের ওই ঘটনায় যে অফিসাররা মারা যান তাদের মধ্যে ৩৩ জনই আওয়ামী লীগ পরিবারের। এমনকি বিডিআরের ডিজি এই পার্লামেন্টের সদস্য লুৎফুল হাই সাচ্চুর আপন চাচাতো ভাই ছিলেন। তিনি বলেন, সে সময় ঘটনা ঘটার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের চেষ্টা ছিল এটাকে থামানো। আমাদের যারা অফিসার আছে তাদের রক্ষা করা, তাদের পরিবারগুলো রক্ষা করা। আমরা যখন সেখানে সেনাবাহিনী নিয়োগ করলাম, সেনাবাহিনী নামার সঙ্গে সঙ্গে তাদের গুলিতে সেখানে কয়েকজন সেনা সদস্য মারা গেল।

তিনি বলেন, বিডিআর এর ঘটনাটি ছিল একটা অস্বাভাবিক ঘটনা। আগের দিন গেলাম একটা ভাল পরিবেশ, পরেরদিন সেখানে এ ধরনের একটা ঘটনা ঘটল। এর পেছনে কারা আছে? আমরা তো কেবল সরকার গঠন করেছি। যারা তখন ক্ষমতায় আসতে পারে নাই তারাই তখন তাদের পেছনে ছিল এবং তাদের সঙ্গে ওই ১/১১ যারা সৃষ্টি করেছিল- যাদের ধারণা ছিল নির্বাচনে একটা ঝুলন্ত পার্লামেন্ট হবে। কিন্তু যখন দেখল আওয়ামী লীগ মেজোরিটি নিয়ে চলে এলো- তখন সবকিছুকে নস্যাত করার পরিকল্পনা যাদের ভেতরে ছিল তারাই এই ঘটনা ঘটিয়েছে। একদিন না একদিন এই সত্যটা বের হবে।

বিএনপি-জামায়াতের মিথ্যা বলার ভাল একটা আর্ট আছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, একুশে আগস্টের গ্রেনেড হামলার পর খালেদা জিয়া থেকে শুরু করে তারা (বিএনপি-জামায়াত) ব্যাপকভাবে প্রচার করে ফেলেছিল আমি নাকি নিজেই গ্রেনেড নিয়ে নিজেই মেরেছি! বিডিআরের ঘটনার পরও তারা একইভাবে অপপ্রচার শুরু করেছিল। আসলে মিথ্যা বলায় তাদের ভাল একটা আর্ট আছে।

প্রয়াত সাহারা খাতুনের বিদ্রোহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রত্যেক আন্দোলন-সংগ্রামে সাহারা খাতুন অত্যন্ত বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখতেন। কোন ভয়ভীতি কিছুই তার ছিল না। এরশাদের আমলে তাকে নির্মমভাবে পিটিয়ে ডাস্টবিনে ফেলে দিয়েছিল। খালেদা জিয়া ক্ষমতায় আসার পরও একই অত্যাচার। ওই সময় ছিল সীমাহীন অত্যাহার। একদিকে পুলিশবাহিনী, আরেকদিকে ছাত্রদলের ক্যাডার বাহিনী। খালেদা জিয়া নিজেই বলতেন ছাত্রদলকে দিয়েই নাকি আওয়ামী লীগকে সোজা করে দেবেন। তাদের অত্যাচারে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী, মহিলা কর্মী কেউই বাদ যেত না। সাহারা খাতুন নিবেদিত প্রাণ ছিলেন, তার কোন চাওয়া পাওয়া ছিল না। তিনি সবকিছু নেতাকর্মীদের বিলিয়ে দিয়েছেন। সারাক্ষণ দেশের জন্যই কাজ করেছেন। তার সঙ্গে আমার ছাত্রজীবন থেকেই পরিচয় ছাত্রলীগের একজন কর্মী হিসেবে।

ওয়ান ইলেভেনের প্রসঙ্গে সংসদ নেতা বলেন, ২০০৭ সালে যখন আমাকে গ্রেফতার করা হয় এবং একের পর এক মামলা দেয়া হয়। বিএনপি আমার বিরুদ্ধে ১২টি মামলা দিয়েছিল। তত্ত্বাবধায়ক আসার পর আরও ৫/৬টি মামলা দেয়া হয়। তাদের প্রচেষ্টা ছিল মামলাগুলো দ্রুত চালিয়ে আমাকে শাস্তি দিয়ে দেবে। বলতে গেলে একদিন পরপর আমাকে কোর্টে হাজিরা দিতে নেয়া হতো। আর এই মামলার সময় সাহারা আপা সার্বক্ষণিক উপস্থিত থাকতেন। মামলা পরিচালনা করতে আমাদের আইনজীবীরা এলে পুলিশ তাদের ধাওয়া করত, গ্রেফতার করত। তাদের ছাড়িয়ে আনতে ছুটে যেতেন সাহারা আপা। এভাবে তার সাহসী ভূমিকা আমরা দেখেছি।

সদ্য প্রয়াত অপর সংসদ সদস্য ইসরাফিল আলমকে স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এত অল্প সময়ে সে চলে যাবে বুঝতে পারি নাই। তার করোনা হওয়ার পর ভাল হয়েছিল। তার কিডনির সমস্যা ছিল। কিন্তু সে কিছু মানেনি। যখন একটু সুস্থ হলো চলে গেল এলাকায়। এভাবে করোনার সময় আমরা আওয়ামী লীগের অগণিত নেতাকর্মীকে হারিয়েছি। করোনার সময়ে তারা ঘরে ঘরে মানুষের কাছে রিলিফ পৌঁছে দিয়েছে। বন্যার সময় রিলিফ পৌঁছাতে গেছে। এতে অনেকেই অসুস্থ হয়ে মারা গেছেন। মানুষের পাশে দাঁড়াতে গিয়ে, মানুষের জন্য কাজ করতে গিয়েই কিন্তু তারা জীবন দিয়েছেন। ইসরাফিল আলমের ক্ষেত্রেও সেটা হয়েছে।

মসজিদে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত ঘটনা অবশ্যই বের হবে ॥ নারায়ণগঞ্জে তল্লায় একটি মসজিদে বিস্ফোরণের ঘটনা নিয়ে বিএনপির হারুনুর রশীদের কিছু দাবির জবাব দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী যথাযথ অনুমোদন না নিয়ে, নক্সা না মেনে যেখানে সেখানে ইমারত গড়লে এবং বিদ্যুত সরবরাহের সক্ষমতা ও নিরাপত্তার ব্যবস্থা না থাকার পরও মসজিদে মসজিদে অপরিকল্পিতভাবে এয়ারকন্ডিশনার বসানো হলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি যে বাড়বে, সে কথা সবাইকে মনে করিয়ে দেন।

এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নারায়ণগঞ্জে যে ঘটনাটি ঘটেছে, মসজিদে যে বিস্ফোরণটা ঘটল, এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা ইতোমধ্যে তদন্ত কমিটি করে দিয়েছি। বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞরা সেখানে গেছেন, নমুনা সংগ্রহ করেছেন। এই ঘটনাটা কেন ঘটল, কীভাবে ঘটল, সেটার ব্যাপারে তদন্ত হচ্ছে। আমি মনে করি, সেটা অবশ্যই বের হবে।

তিনি বলেন, এটা খুবই দুঃখজনক যে নামাজ পড়া অবস্থায় মসজিদে এই ধরনের একটা বিস্ফোরণ হলো। যেখানে ওইটুকু একটা জায়গায় ছয়টা এসি লাগানো, আবার শোনা যাচ্ছে ওখানে গ্যাসের লাইনের উপরেই নাকি এই মসজিদটা নির্মাণ! সাধারণত যেখানে গ্যাসের পাইপলাইন থাকে সেখানে কিন্তু কোন নির্মাণ কাজ হয় না। আমি জানি না এটার পারমিশন (অনুমতি) দিয়েছে কি না। কারণ এই ধরনের পারমিশন তো দিতে পারে না, দেয়া উচিত না। কারণ এটা সব সময়ই একটা আশঙ্কাজনক অবস্থায় থাকে। সেটাই এখন তদন্ত করে দেখা হবে কীভাবে এটা ঘটল।

এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, মসজিদে এখন সবাই দান করে। আজকাল তো সকলের পয়সাও আছে। এয়ারকন্ডিশনার দিয়ে যাচ্ছে। সেখানে বিদ্যুত সরবরাহটা বা বিদ্যুত লাইন কতটা নিতে পারবে, সেই ক্যাপাসিটি ছিল কিনা, সার্কিট ব্রেকার ছিল কিনা- এইসব বিষয়গুলো কিন্তু দেখতে হবে। অপরিকল্পিতভাবে কিছু করতে গেলে দুর্ঘটনা অবশ্যই ঘটতে পারে।

মসজিদে বিস্ফোরণের ওই ঘটনা কেন ঘটেছে, তা খুঁজে বের করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশেই মসজিদগুলোতে যারা অপরিকল্পিতভাবে ইচ্ছেমতো মানে এয়ারকন্ডিশনার লাগাচ্ছেন বা যেখানে সেখানে একটা মসজিদ গড়ে তুলছেন, সে জায়গাটা আদৌ একটা স্থাপনা করবার মতো কিনা বা যথযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নেয়া বা সেভাবে নক্সাগুলো করা হয়েছে কিনা- সে বিষয়গুলো কিন্তু দেখা একান্ত প্রয়োজন। নইলে এ ধরনের দুর্ঘটনা যে কোন সময় ঘটতে পারে মন্তব্য করে তিনি বলেন, এই ধরনের একটা ঘটে গেছে এটা সত্যিই দুঃখজনক এবং যারা মৃত্যুবরণ করেছেন, তাদের আত্মার মাগফিরাত তিনি কামনা করেন।

সরকারপ্রধান বলেন, ঢাকা মেডিক্যালের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের ডাঃ সামন্ত লাল সেনের সঙ্গে তার নিয়মিত যোগাযোগ হচ্ছে, রোগীর অবস্থা সম্পর্কেও তিনি নিয়মিত খোঁজ রেখে আমাকে জানাচ্ছেন। অনেকজন এ পর্যন্ত মারা গেছেন এবং বাকি যারা তাদের বেশিরভাগের পোড়ার অবস্থা এত খারাপ, তারপরও চিকিৎসার সব রকম ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। তাদের সব ধরনের চিকিৎসার আমরা ব্যবস্থা করেছি। এখন আল্লাহ যদি এদের জীবনটা দিয়ে যান।

আমৃত্যু বাংলাদেশের পাশে ছিলেন প্রণব মুখার্জী ॥ শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী মুক্তিযুদ্ধ ও পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের প্রতি ভারতের সদ্যপ্রয়াত সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জীর অবদান কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করে বলেন, তার মৃত্যু উপমহাদেশের রাজনীতিতে বিরাট শূন্যতা সৃষ্টি করবে। একে একে সবাই চলে যাচ্ছেন।

স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তার মৃত্যু উপমহাদেশের রাজনীতিতে বিরাট শূন্যতা সৃষ্টি করবে।

উপমহাদেশের বর্ষীয়ান এই অসাম্প্রদায়িক নেতার আত্মার শান্তি কামনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভারতের প্রয়াত রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জীর কথা আমি সব সময় স্মরণ করি। তিনি বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু ছিলেন। সেই ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় যেমন আমাদের পাশে ছিলেন, ১৯৭৫-এ আমাদের পাশে ছিলেন এবং এর পরবর্তীতেও যখন ২০০৭ এ আমি বন্দী তখনও তিনি আন্তর্জাতিকভাবে আমাদের পক্ষে দাঁড়িয়েছেন, কথা বলেছেন। এমনকি বিশ্বব্যাংক যখন পদ্মা সেতু নিয়ে আমার উপর দোষারোপ চাপাল তখনও তিনি সেই আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে প্রতিবাদ করেছেন। সব সময় তিনি বাংলাদেশের মানুষের পাশে এবং মানুষের কল্যাণে চিন্তা করতেন।

সদ্য প্রয়াত দুই সেক্টর কমান্ডারসহ প্রয়াতদের কথা স্মরণ করতে গিয়ে সংসদ নেতা বলেন, একে একে সবাই চলে যাচ্ছেন। মৃত্যু অবধারিত, এতে কোন সন্দেহ নেই। কিন্তু মৃত্যু যে ক্ষত চিহ্নটা রেখে যায় সেটাই খুব কষ্টকর। সত্যিই এটা দুঃখজনক যে আমাদের একের পর এক অনেক সংসদ সদস্যকে হারাচ্ছি। আর প্রতিবারই শোক প্রস্তাব গ্রহণ করতে হয়েছে। করোনাভাইরাসের পর এটি আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।

তিনি বলেন, স্বাধীনতার ৪৯ বছর চলছে। মুক্তিযোদ্ধারা আস্তে আস্তে সবাই আমাদের ছেড়ে চলে যাচ্ছেন, হারিয়ে যাচ্ছেন। আমাদের সি আর দত্ত তিনি মুক্তিযোদ্ধা, সেক্টর কমান্ডার। যখন জাতির পিতার ৭ মার্চের ভাষণ দেন এবং ২৫ মার্চ যখন গণহত্যা শুরু হয়, যে মুহূর্তে জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতা ঘোষণা করেন- তখনই আমাদের সেনা অফিসাররা সাহসী ভূমিকা নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন। ঠিক সেইভাবে আবু ওসমান চৌধুরী তিনি চুয়াডাঙ্গা তখন কর্মরত ছিলেন। তিনিও সঙ্গে সঙ্গে অস্ত্র নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। ওসমান চৌধুরী আর সি আর দত্ত তারাও আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন। সেই সময় যে সাহসী ভূমিকা নিয়ে মুক্তিযুদ্ধ করে আমাদের বিজয় এনে দিয়েছিলেন, সেজন্য আজকে আমরা বিজয়ের জাতি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু প্রণব মুখার্জীকে হারিয়েছি। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পর আমরা ভারতে ছিলাম রিফিউজি হিসেবে। নিজেদের নামটা ব্যবহার করতে পারতাম না। নিরাপত্তার কারণে আমাদের ভিন্ন নামে থাকতে হতো। আমরা দুটি বোন নিঃস্ব-রিক্ত অবস্থায় যখন, তখন প্রণব মুখার্জী ও তার পরিবার, আসলে পারিবারিকভাবে আপনজন হিসেবে তাদেরই পেয়েছিলাম সব সময়। সেটা আমৃত্যু ধারাবাহিকভাবে বজায় ছিল।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রয়াত রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জী অত্যন্ত জ্ঞানী একজন রাজনীতিবিদ ছিলেন। আমাদের এই উপমহাদেশে এই ধরনের জ্ঞানী রাজনীতিবিদ পাওয়া খুব মুশকিল। তিনি অত্যন্ত মেধাবী ছিলেন। প্রতিটি বিষয়ের ওপর তার যে দক্ষতা সব সময় সেটা আমরা দেখেছি। যে কোন বিষয়ে ভূমিকা রাখতে পারতেন। ভারতে আসলে তিনি কংগ্রেস করলেও সব রাজনৈতিক দল কিন্তু তাকে সম্মান করতেন। সবাই তাকে দাদা বলেই ডাকতেন। তার মৃত্যু এই উপমহাদেশে রাজনীতির ক্ষেত্রে একটা বিরাট শূন্যতা। আবার সে কিন্তু আমাদের দেশের জামাই এটাও কিন্তু ঠিক। তার আত্মার শান্তি কামনা করি।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক গণঅধিকার'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyganoadhikar@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

দৈনিক গণঅধিকার'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। দৈনিক গণঅধিকার | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT