মঙ্গলবার ০৭ ডিসেম্বর ২০২১, ২৩শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

পিআইডি এর নিয়ম অনুসারে আবেদিত

বিকল্প উৎস থেকে পেঁয়াজ আমদানি করা হবে

প্রকাশিত : 01:45 PM, 9 September 2020 Wednesday

গণঅধিকার নিউজ ডেস্কঃ

দ্রুত দাম কমাতে পেঁয়াজ আমদানির বিকল্প উৎসের খোঁজ করছে সরকার। ভারতের পাশাপাশি মিসর, তুরস্ক, চীন, মিয়ানমার এবং থাইল্যান্ড থেকে পেঁয়াজ আমদানি করা হতে পারে। এলক্ষ্যে পেঁয়াজের ওপর আরোপিত ৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক দ্রুত প্রত্যাহারের অনুরোধ জানিয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যানের কাছে চিঠি দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, পেঁয়াজ আংশিক আমদানি নির্ভর একটি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য। নিকট অতীতে এই পণ্যটির বাজার কয়েকবার অস্থিতিশীল হয়েছে। বিগত ২০১৯-২০ অর্থবছরে এই সঙ্কট আরও মারাত্মক আকার ধারণ করেছিল। বর্তমান বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনায় দেখা যায়, পণ্যটির মূল্য সাম্প্রতিক সময়ে অনেকটা বৃদ্ধি পেয়েছে।

মূলত, আমদানি মূল্যবৃদ্ধি পাওয়া এর একটি অন্যতম কারণ। উল্লেখ্য, বিগত অর্থবছরের সেপ্টেম্বর ২০১৯ থেকে মার্চ ২০২০ সময়ে পেঁয়াজের ওপর কোন আমদানি শুল্ক আরোপিত ছিল না। তদুপরি আমদানির পরিমাণ হ্রাস পাওয়ায় এই সমস্যা দীর্ঘতর হয়েছে। চলতি ২০১০-২১ অর্থবছরে ৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক আরোপ করার প্রেক্ষিতে পেঁয়াজের অনুৎপাদনকালীন সময়ে হিসেবে পরিচিত সেপ্টেম্বর-মার্চ সময়ে বাজারে এর ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ অবস্থায় জাতীয় স্বার্থে পেঁয়াজের ওপর আরোপিত ৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক আপাতত প্রত্যাহারের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।

জানা গেছে, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের চিঠি পাওয়ার এ বিষয়ে কাজ শুরু করেছে এনবিআর। আগামী দু-একদিনের মধ্যে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে আমদানি শুল্ক প্রত্যাহার করে নেয়া হবে। এর পাশাপাশি বিকল্প বাজার থেকে পেঁয়াজ আনার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। এদিকে খুচরা বাজারে প্রতিদিন বাড়ছে পেঁয়াজের দাম। সর্বশেষ মঙ্গলবার দিনে ঢাকার খুচরা বাজারে প্রতিকেজি দেশী পেঁয়াজ ৬৫-৭০ এবং আমদানিকৃত ভারতীয় পেঁয়াজ ৫০-৫৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে। দ্রুত আমদানি বাড়ানো না হলে পেঁয়াজের দাম আর বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দ্রব্যমূল্য সংক্রান্ত টাস্কফোর্সেও সদস্যরা ঢাকার বাইরে বিভিন্ন স্থলবন্দর পরিদর্শনে বের হয়েছেন। এছাড়া বাজারে যাতে কোন কারসাজি না হয় সেজন্য ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে।

এছাড়া বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মনিটরিং টিম এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর বাজার মনিটরিং আরও জোরদার করা হয়েছে। পেঁয়াজের সরবরাহ ও মূল্য স্বাভাবিক রাখতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) অবিলম্বে খোলা বাজারে ট্রাক সেলের মাধ্যমে সাশ্রয়ী মূল্যে পেঁয়াজ বিক্রয় শুরু করবে। নতুন পেঁয়াজ বাজারে না আসা পর্যন্ত বিক্রি কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে টিসিবি। এদিকে বাজারে আমদানিকৃত ভারতীয় পেঁয়াজের দাম বেড়ে গেছে।

জানা গেছে, পেঁয়াজ আমদানির সবচেয়ে বড় উৎস প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারত। ওই দেশে এখন পেঁয়াজ বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে। প্রতি বছর সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে ভারতের বেঙ্গালুর থেকে নতুন পেঁয়াজ দেশে আমদানি করা হয়। কিন্তু এ বছর সেখানে অতিবৃষ্টি ও বন্যার কারণে পেঁয়াজের আবাদ মার খেয়েছে। কমেছে উৎপাদন। ফলে বেঙ্গালুরের সেই নতুন পেঁয়াজটা এবার আসবে না বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। মূলত এ কারণে পেঁয়াজের দাম বেড়ে গেছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। এছাড়া দাম বাড়ার পেছনে ব্যবসায়ীদের কারসাজি রয়েছে। এ কারণে বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান অব্যাহত রেখেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক গণঅধিকার'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyganoadhikar@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

দৈনিক গণঅধিকার'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। দৈনিক গণঅধিকার | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT