ঢাকা, সোমবার ১২ এপ্রিল ২০২১, ২৯শে চৈত্র, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

পিআইডি এর নিয়ম অনুসারে আবেদিত

বিএনপি ইসিকে বিতর্কিত করার অপপ্রয়াস চালাচ্ছে ॥ কাদের

প্রকাশিত : 08:22 AM, 22 December 2020 Tuesday

গণঅধিকার নিউজ ডেস্কঃ

বিএনপি সর্বক্ষেত্রে ব্যর্থ হয়ে এখন নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) বিতর্কিত করার অপপ্রয়াস চালাচ্ছে মন্তব্য করে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, নেতিবাচক রাজনীতির কারণে জনগণ বিএনপিকে বার বার প্রত্যাখ্যান করেছে। ভোটের দিন জনরায় প্রত্যাখ্যান করা তাদের অপকৌশলের অংশ। নানান অনিয়ম ও অসদাচরণের অভিযোগ এনে মূলত বিএনপি নির্বাচন কমিশনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চায়, তাদের এই চেষ্টা হালে পানি পাবে না।

সোমবার রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটশন মিলনায়তনে আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ আয়োজিত মহান বিজয় দিবসের আলোচনা সভা ও অসহায় মানুষের মাঝে করোনা প্রতিরোধ সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। ওবায়দুল কাদের তার সরকারী বাসভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অনুষ্ঠানে যুক্ত হন।

গণতন্ত্রের এগিয়ে যাওয়ার পথকে মসৃণ করতে দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দলের ভূমিকা পালনের জন্য বিএনপির প্রতি আহ্বান জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার বিএনপির সকল অপকৌশল এখন ভোঁতা হয়ে গেছে। বিএনপি ভোটারদের ওপর আস্থা হারিয়ে এখন প্রতিশোধ নিতে আগুন সন্ত্রাসের পথ বেছে নিয়েছে। তিনি বলেন, বিএনপি জনগণের পক্ষে রাজনৈতিক কর্মসূচী দিতে ভুলে গেছে। বিএনপি দোটানায় রয়েছে। বিএনপির ভেতরে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ ও বিপক্ষ তৈরি হয়েছে। এমন সময় দেশ ও জনগণের কথা ভাবার সময় নেই তাদের।

বিএনপির সমালোচনা করে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক আরও বলেন, বিএনপি এখন রাজনীতিতে উভয় সঙ্কটে রয়েছে। একদিকে অপরাজনীতির জন্য জনগণের কাছে তারা নিন্দিত, অপরদিকে দলের ভেতরেও রয়েছে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ-বিপক্ষ সঙ্কট। তিনি বলেন, দেশ এখন উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। প্রতিটি জনপদে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগতে শুরু করেছে। বিএনপি নেতারা দেখতে না পেলেও জনগণ ঠিকই তা দেখতে পাচ্ছে।

নির্বাচনের নামে বিএনপির ষড়যন্ত্র সম্পর্কে ওবায়দুল কাদের বলেন, যে কোন নির্বাচনে পোলিং এজেন্ট না দিয়ে নির্বাচনে যোগ দিয়ে দুপুর বেলা তারা নির্বাচন বর্জন করে। মূলত নির্বাচন কমিশনকে বিতর্কিত করতে তারা নির্বাচন বর্জন করে। তিনি বলেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ সবাই যদি বিএনপির লোক হয়, তাতেও কোন লাভ হবে না। কমিশন তো ভোট দেবে না, ভোট দেবে জনগণ। সেই জনগণই বিএনপিকে প্রত্যাখ্যান করেছে। সেই জনগণের ওপর প্রতিশোধ নিতেই বিএনপি আগুন সন্ত্রাসের পথ বেছে নিয়েছে। তাদের এ অপচেষ্টা হালে পানি পাবে না।

বিএনপিসহ সকল ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকতে দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ষড়যন্ত্রকারীদের সকল অপচেষ্টা রুখতে হবে। দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতি অনেকের পছন্দ হয় না। এদেশ সমৃদ্ধ হলে, অর্থনীতির ভিত মজবুত হলে তাতে অনেকের গায়ে জ্বালা ধরে। তারা আজও সক্রিয় নানান অপকৌশলে। তাই সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। বিএনপির মহাসচিবের উদ্দেশ করে তিনি বলেন, আপনারা দিনের আলোয় রাতের অন্ধকার দেখতে পান। আসুন, শেখ হাসিনার সুশাসনের অভিযাত্রায় সহযাত্রী হন।

সেতুমন্ত্রী বলেন, এ দেশের দুটি লিগ্যাসি রয়েছে। একটি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের, অন্যটি শেখ হাসিনার। যতদিন এ জনপদ থাকবে, ততদিন এই লিগ্যাসি থাকবে। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে বাংলাদেশ আর্থ-সামাজিক সকল সূচকে পাকিস্তানকে ছাড়িয়ে গেছে। এখন পাকিস্তানের সংসদে বাংলাদেশকে নিয়ে আলোচনা হয়। সে বাংলাদেশকে তারা ২৪ বছর শোষণ করেছে, সোনার বাংলাকে শ্মশানে পরিণত করেছে- সেই পাকিস্তান এখন বাংলাদেশ হতে চায়!

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ বলেন, পৃথিবীর সকল মুসলিম দেশে ভাস্কর্য আছে। সেই ক্ষেত্রে ভাস্কর্য যদি ইসলামের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতো, তাহলে ভাস্কর্য সেখানে থাকত না। আমাদের দেশের কিছু ব্যক্তি ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করছেন, তারা মানুষের মাঝে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন। আমরা অবশ্যই আলেমদের সন্মান করি। কিন্তু সন্মান নিজেদের অর্জন করতে হয়, ধরে রাখতে হয়। ওয়াজ মাহফিলের নামে যা করছেন তাতে কি আপনাদের সম্মান ধরে রাখতে পারছেন? ধর্মের নাম দিয়ে কি বলছেন আপনারা? আপনারাই একে অপরে চিটার-বাটপার বলছেন। ধর্মের নানা রকম অপব্যাখা দিচ্ছেন।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, অপশক্তির বিরুদ্ধে লড়াই সংগ্রামের চূড়ান্ত পর্যায়ে এসে দাঁড়িয়েছি। যারা বাংলাদেশকে মেনে নিতে পারেনি, বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে মেনে নিতে পারেনি, মহান মুক্তিযুদ্ধ বিশ্বাস করে না, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বগাথাকে বিশ্বাস করে না সেই অপশক্তি হলো স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি। সেই অশক্তি হচ্ছে জামায়াত-বিএনপি। যাদের কোন আদর্শ ও নীতি নেই। দেশের প্রতি ভালবাসা নেই। মুক্তিযুদ্ধের প্রতি ন্যূনতম চেতনা বোধ নেই।

স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি নির্মল রঞ্জন গুহের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য দেন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক আফজালুর রহমান বাবু, সহ-সভাপতি গাজী মেজবাউল হক সাচ্ছু, ম. আব্দুর রাজ্জাক, প্রকৌশলী তানভীর শাকিল জয় এমপি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খায়রুল হাসান জুয়েল, গ্রন্থনা ও প্রকাশনা সম্পাদক কে এম মনোয়ারুল ইসলাম বিপুল, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিষয়ক সম্পাদক ওবায়দুল হক খান, সাংগঠনিক সম্পাদক নাফিউল করিম নাফা, দফতর সম্পাদক আজিজুল হক আজিজ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি কামরুল হাসান রিপন, সাধারণ সম্পাদক তারিক সাঈদ প্রমুখ।

কোন জেনারেলের বাঁশিতে স্বাধীনতা আসেনি- তথ্য প্রতিমন্ত্রী ॥ তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডাঃ মুরাদ হাসান বলেছেন, কোন জেনারেলের বাঁশির হুইসেলে আচমকা জাতি মহান মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েনি। মুক্তিযুদ্ধ ছিল দীর্ঘ শোষণ, বঞ্চনা, বৈষম্যের বিরুদ্ধে জনগণকে ধীরে ধীরে সংগঠিত করার চূড়ান্ত ফসল। যা করেছেন, বাঙালীর স্বপ্ন সারথি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে বঙ্গবন্ধু একাডেমি আয়োজিত বিজয় দিবসের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় ডাঃ মুরাদ হাসান আরও বলেন, বাংলাদেশে সামরিক শাসনের অধীনে বিএনপি গড়ে তুলেছিলেন জেনারেল জিয়াউর রহমান। যে দলের জন্ম হয় ক্যান্টনমেন্টের অস্ত্রশস্ত্রের সঙ্গে, যাদের রাজনীতি মানুষ পোড়ানোর- তাদের দল রাজনৈতিক দল হতে পারে না।

তিনি বলেন, ভাস্কর্য অপসারণের নামে উগ্র সাম্প্রদায়িক জঙ্গীগোষ্ঠী দেশকে পরিকল্পিতভাবে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। তাদের প্রতিহত করতে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ যখন উন্নয়ন অগ্রগতিতে এগিয়ে যাচ্ছে, বাংলাদেশের উন্নয়ন জাতীয়-আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত হচ্ছে। এমন সময় উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করার জন্য কতিপয় ধর্ম ব্যবসায়ী উগ্র সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী নৈরাজ্যের পথ বেছে নিয়েছে। এসকল অপশক্তির মুখোশ উন্মোচন করতে হবে।

তথ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ এক ও অভিন্ন সত্তা। বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ৫৬ হাজার বর্গমাইলের প্রিয় স্বদেশের স্বাধীনতা অর্জনের স্মারক। কোন অপশক্তি সাম্প্রদায়িকতা এবং ঘৃণা ছড়িয়ে এ ভাস্কর্যের প্রয়োজন ও আবেদন এতটুকু ম্লান করতে পারবে না। বঙ্গবন্ধু আছেন জাতির চেতনায় ও প্রেরণায়। বরং যারা জাতির পিতাকে অস্বীকার করতে চেয়েছে তারাই ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হয়েছে।

সংগঠনের সভাপতি মোহাম্মদ নাজমুল হকের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও বক্তৃতা করেন আওয়ামী লীগ নেতা শাহে আলম মুরাদ, এ্যাডভোকেট খন্দকার শামসুল হক, কামাল চৌধুরী, বঙ্গবন্ধু গবেষণা পরিষদের সভাপতি লায়ন গণি মিয়া বাবুল, সাংবাদিক মানিক লাল ঘোষ, সংগঠনের মহাসচিব হুমায়ূন কবির মিজি প্রমুখ।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক গণঅধিকার'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyganoadhikar@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

দৈনিক গণঅধিকার'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

এই বিভাগের জনপ্রিয়

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। দৈনিক গণঅধিকার | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT