ঢাকা, শুক্রবার ০৪ ডিসেম্বর ২০২০, ২০শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

পিআইডি এর নিয়ম অনুসারে আবেদিত

শিরোনাম

বিএনপির সেই নির্যাতনের কথা দেশবাসী ভুলে যায়নি ॥ কাদের

প্রকাশিত : 11:22 AM, 21 November 2020 Saturday

গণঅধিকার নিউজ ডেস্কঃ

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপি মহাসচিব বলেছেন, সরকার জনগণের মনের ভাষা বোঝে না। আমি বলতে চাই, বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা জনগণের মনের ভাষা ও চোখের ভাষা বুঝতে পারেন বলেই এত জনপ্রিয়। বাস্তবে বিএনপি জনগণের ভাষা তো বুঝতে পারা তো দূরের কথা, তাদের কর্মীদের মনের কথাই তো বোঝে না। এরা নির্বাচন, আন্দোলন সব ক্ষেত্রে ব্যর্থ, কারণ দেশবাসী বিএনপির ক্ষমতায় থাকার সময় সেই দুঃসহ নির্যাতনের কথা ভুলে যায়নি।

শুক্রবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) মিট দ্য রিপোর্টার্স অনুষ্ঠানে সংসদ ভবন এলাকার সরকারী বাসভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অংশ নিয়ে ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, বিএনপি তাদের দলীয় চেয়ারপার্সনের মুক্তির দাবিতে কোন বিক্ষোভই দেখাতে পারেনি। তারা নির্বাচনে নিয়েও আন্দোলনে ব্যর্থ। তাদের রাজনীতি ঘরে বসার রাজনীতি। আন্দোলনের ডাক দিয়ে বিএনপির নেতারা ঘরে বসে থাকেন, কর্মীদের পাশে দাঁড়ান না- এজন্য কোন কর্মী আন্দোলনে সাড়া দেয় না। কিন্তু আমরা অনেক নির্যাতন সহ্য করেই রাজনীতি করেছি।

সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, আমেরিকার নির্বাচনে শুধু নির্বাচন কমিশন (ইসি) নয়, বিরোধী দলেরও শেখার অনেক কিছু আছে। বিএনপি মহাসচিবকে বলতে চাই- দেশের নির্বাচন কমিশন একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার আওতায় থেকে কমিশন কাজ করছে। তারা নিজস্ব বিধিবিধান অনুসরণ করবে। অন্য দেশে কী হলো, সেটি অনুসরণ করার কিছু নয়। দেশের অবস্থা এমন হয়েছে যে, নির্বাচনে বিএনপিকে জয়লাভের নিশ্চয়তা দিতে হবে নির্বাচন কমিশনকে, তাহলেই সব কিছু ভাল!

তিনি আরও বলেন, বিএনপি যেকোন নির্বাচনে পরাজিত হলেই দায় চাপায় সরকার, নির্বাচন কমিশনার আর নির্বাচন ব্যবস্থার ওপর। আর জয়ী হলে বলে- সরকার হস্তক্ষেপ না করলে আরও বেশি ভোটে জিততে পারত। গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো শক্তিশালী করতে তাদের যে দলগত ভূমিকা জনগণ প্রত্যাশা করে, তা থেকে বিএনপি অনেক দূরে অবস্থান করছে। সার্চ কমিটি গঠনের মাধ্যমে মহামান্য রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কমিশন গঠন করেন, যেখানে বিএনপি প্রস্তাবিত একজন সদস্যও রয়েছেন।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলামের বক্তব্যের জবাবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, আমরা বলতে চাই- শেখ হাসিনার অবস্থান জনগণের মনের মণিকোঠায়। এ দেশের রাজনীতিতে পঁচাত্তর পরবর্তী সবচেয়ে জনপ্রিয় ও জনঘনিষ্ঠ রাজনীতিবিদের নাম শেখ হাসিনা। জনগণের মনের ভাষা ও চোখের ভাষা বুঝতে পারেন বলেই তিনি আজ এত জনপ্রিয়। দেশের জনগণের কোন ইস্যুতে সবার আগে তিনি রেসপন্স করেন। তাই তো একজন শিশু তার কাছে চিঠি লিখতে পারে, জবাবও পায়। একজন প্রতিবন্ধী টেলিফোনে কথা বলতে পারে। একজন ভিক্ষুক জমানো টাকা নিয়ে তাঁর কাছে হাজির হতে চায়। গৃহহীন অসহায় মানুষকে তিনি বুকে জড়িয়ে ধরে স্বস্তি পান। আওয়ামী লীগ মাটি ও মানুষের রাজনীতি করে বলেই এমনটি সম্ভব। অন্যদিকে বিএনপি জনগণের মনের ভাষা বুঝতে পারা তো দূরের কথা, নিজ দলের নেতাকর্মীদের মনের ভাষাই বুঝতে পারছে না।

গণমাধ্যম আর মতপ্রকাশের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে সেতুমন্ত্রী বলেন, দেশে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নেই বলে একটি দল মিথ্যা অভিযোগ করে। সরকার না কি ভিন্নমত সহ্য করতে পারে না! প্রকৃতপক্ষে, এদেশে আওয়ামী লীগের মাঝেই পরমতসহিষ্ণুতা আছে। আর আছে বলেই, বিএনপি অনবরত মিথ্যাচার করে যেতে পারছেন। গণমাধ্যমেও সরকারের সমালোচনা করে সম্পাদকীয়, উপসম্পাদকীয়, কলাম ছাপা হচ্ছে। টকশোতে সমালোচনা হচ্ছে। এজন্য তো সরকার কারও বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়নি। বরং আমরা গঠনমূলক সমালোচনা থেকে শিক্ষা নিতে চাই। গণমাধ্যম জাতির দর্পণ। এখান থেকে ফিডব্যাক পাওয়া যায়।

ওবায়দুল কাদের প্রশ্ন রেখে বলেন, আমরা জানতে চাই- সোশ্যাল মিডিয়ায় অনবরত রাষ্ট্রবিরোধী অপপ্রচার কী ভিন্নমত? না কি রাষ্ট্রকে দুর্বল করা, রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি নষ্ট করা? জানতে চাই, দিনরাত দেশ-বিদেশে বসে অবিরাম দেশের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার আর গুজব ছড়ানো কী মতপ্রকাশের স্বাধীনতা? না কি প্রবাসে অবস্থানকারী লাখ লাখ বাংলাদেশীর জীবন-জীবিকাকে নড়বড়ে করে তোলা?

বিএনপির সমালোচনা করে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, খুলনার সাংবাদিক মানিক সাহাকে কারা হত্যা করেছিল? হুমায়ুন কবির বালুর হত্যাকাণ্ডের কথা ভুলে গেছেন? শামসুর রহমান, দীপংকর চক্রবর্তীসহ অসংখ্য সাংবাদিককে হত্যা করা হয়েছিল। সাংবাদিক হত্যা ও নির্যাতনের বিচার হয়নি বরং বিচারের নামে হত্যাকারীদের রক্ষা করা হয়েছে। বিএনপির মতপ্রকাশের স্বাধীনতার কথা ভূতের মুখে রাম নাম ধ্বনির মতোই!

বিচার বিভাগ নিয়ে বিএনপি মহাসচিবের বক্তব্যের জবাবে তিনি বলেন, বিচার বিভাগ সম্পূর্ণ স্বাধীন ও চাপমুক্ত হয়ে কাজ করছে। সম্প্রতি নানা ঘটনায় এ দেশের জনগণ দেখেছে, আমাদের দলীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে রায় এসেছে এবং শাস্তি ভোগ করছে। সরকার হস্তক্ষেপ করলে তো এমন হওয়ার কথা নয়। এ থেকে প্রমাণ হয় বিচার বিভাগ স্বাধীনভাবেই কাজ করছে। বিএনপি তার দলের পক্ষে রায় এলে বিচার বিভাগকে ধন্যবাদ জানায়, আর বিপক্ষে গেলে বলে সরকার হস্তক্ষেপ করছে। এমন দ্বিচারিতা বিএনপির সবসময়ের রাজনৈতিক সঙ্গী।

ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, বিএনপি যখন ক্ষমতায় ছিল তখন কি দেশে দুর্নীতি হয়নি? তাদের কয়জন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে? একজনও দেখাতে পারবে না। তারা নিজেদের নেত্রীর মুক্তির দাবিতে একটা বড় মিছিল পর্যন্ত করতে পারেনি। তারা আন্দোলনেও ব্যর্থ। আন্দোলনে ব্যর্থ হয়ে তারা নালিশ আর প্রেস ব্রিফিংয়ের রাজনীতি শুরু করেছে।

তিনি বলেন, বিরোধী দল শক্তিশালী হলে গণতন্ত্র শক্তিশালী হয়। আমাদের পারস্পরিক বিরোধী রাজনীতির কারণে বিদ্বেষের দেয়াল উঁচু হয়েছে। কোকোর মৃত্যুর পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সহমর্মিতা জানাতে খালেদা জিয়ার কাছে গিয়েছিলেন। কিন্তু দেখা করা তো দূরের কথা বাসার গেট পর্যন্ত খোলেননি। সম্প্রীতি গড়তে তারা দেন না। ডিআইইউ সভাপতি রফিকুল ইসলাম আজাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ চৌধুরী।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক গণঅধিকার'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyganoadhikar@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

দৈনিক গণঅধিকার'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

এই বিভাগের জনপ্রিয়

© ২০২০ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। দৈনিক গণঅধিকার | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT