ঢাকা, বৃহস্পতিবার ০৩ ডিসেম্বর ২০২০, ১৯শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

পিআইডি এর নিয়ম অনুসারে আবেদিত

বায়ান্ন বাজার তিপ্পান্ন গলি

প্রকাশিত : 10:46 AM, 6 November 2020 Friday

গণঅধিকার নিউজ ডেস্কঃ

মার্কিন মুলুকের দিকে এখন চোখ সবার। বিশ্ব অর্থনীতি, রাজনীতি ও কূটনীতিকে যারপর নাই প্রভাবিত করতে সক্ষম দেশটির নতুন প্রেসিডেন্ট কে হবেন? জানার জন্য অপেক্ষা করে আছে গোটা দুনিয়া। একই কারণে কৌতূহলী বাংলাদেশের জনগণ। রাজধানী ঢাকার অলিতে গলিতে মার্কিন নির্বাচনের আলোচনা। টেলিভিশনের পর্দায় চোখ রেখে নানামুখী বিশ্লেষণ চলছেই। বরাবরের মতো আড্ডা আলোচনার বড় অংশজুড়ে রয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাকে নিয়ে পৃথিবীর দেশে দেশে বহু রঙ্গ রসিকতা হয়েছে। হচ্ছে। ব্যতিক্রম নয় ঢাকার মানুষও। ট্রাম্পকে তারা রম্য চরিত্র হিসেবেই বেশি গ্রহণ করেছেন। আড্ডা জমানোর জন্য কেউ কেউ তো বলছেন, ‘ট্রাম্প মামাই বেস্ট!’ কেউবা ‘কাকু’ বলে সম্বোধন করছেন তাকে। বলছেন, ‘কাকু ছাড়া জমবে না। তাকে আবারও প্রেসিডেন্ট হিসেবে দেখতে চাই।’ ট্রাম্পের পক্ষে সিরিয়াস যুক্তি তুলে ধরার লোকও কম বেশি পাওয়া যাচ্ছে। তবে জো বাইডেনের কথা হচ্ছে সে তুলনায় সামান্যই। যারা জো বাইডেনের পক্ষে মত দিচ্ছেন তারা ঠিক বাইডেনের পক্ষের বলে মনে হচ্ছে না। বরং ট্রাম্প বিরোধী! এভাবে পক্ষ বিপক্ষ দুটো মতই মূলত ট্রাম্পকে ঘিরে গড়ে উঠছে। নিজ দেশেও বিভিন্ন সময় সমালোচনার মুখে পড়েছেন আমেরিকার বর্তমান প্রেসিডেন্ট। নির্বাচনের আগের পরিস্থিতি তার একদমই অনুকূলে ছিল না। বলা চলে সমালোচনায় আকণ্ঠ ডুবে ছিলেন। সর্বশেষ করোনা মোকাবেলায় চরম ব্যর্থতার পরিচয় দেয় ট্রাম্প প্রশাসন। বহু মানুষের মৃত্যু হয় দেশটিতে। নির্বাচনপূর্ব সব জরিপেও পিছিয়ে ছিলেন ট্রাম্প। এবং অতঃপর কী কা-! ভোটযুদ্ধে নেমে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন তিনি। রিপাবলিকান প্রার্থীকে ভোট দেয়ার লোকের তেমন অভাব হয়নি। প্রায়শই মনে হয়েছে জিতে যাচ্ছেন। হিলারির মতোই জরিপে এগিয়ে থেকে বাইডেন বিদায় নেবেন এমন আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল। অবশ্য পরক্ষণে এসেছে উল্টো খবর। এভাবে কখনও ট্রাম্প, কখনও বাইডেন বিশ্ব গণমাধ্যমের শীর্ষ সংবাদ হয়েছেন। হাড্ডাহাড্ডি লড়াই, চরম উত্তেজনা শেষে নতুন যে খবর তাতে দেখা যাচ্ছে হোয়াইট হাউসের দ্বারে পা প্রায় দিয়ে রেখেছেন জো বাইডেন। তাই বলে এখনই ট্রাম্প অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি ঘটেছে বলা যাবে না। আদালতে মামলা ঠুকে দিয়েছেন তিনি। মামলার পাশাপাশি হামলার ঘটনাও ঘটছে। সবমিলিয়ে মার্কিন মুলুক থেকে আপাতত চোখ সরানো দায়।

তথাপি বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ ভবনের লেকের পানে একবার তাকানো চাই। ঘিরে থাকা লেকে নৌকা চলছে এখন। পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী বৃহস্পতিবার দুটি অনিন্দ্য সুন্দর চারু নৌকা সেখানে ভাসানো হয়েছে। শান্ত জলরাশির ওপর এই প্রথম দেখা গেল এমন দৃশ্য। সবাই দেখার সুযোগ পেয়েছেন এমন নয়। তবে যারা পেয়েছেন তারা মুগ্ধ না হয়ে পারেননি। গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী গয়না নৌকা জলে ভাসানো উপলক্ষে সেখানে ছোট্ট করে অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করা হয়েছিল। অতিথি হয়ে এসেছিলেন চীফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী ও বেসামরিক বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী। উপস্থিত ছিলেন পর্যটন কর্পোরেশন ও জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তারা। লেকপাড়ে ফিতা কেটে নৌকা চলাচলের উদ্বোধন করেন চীফ হুইপ। বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও বিদেশী গুরুত্বপূর্ণ অতিথিরা এই নৌকায় চড়ে লুই আই কানের অনন্য স্থাপনা চারপাশ থেকে ঘুরে দেখতে পারবেন। সেভাবেই নৌকা দুটি তৈরি করা হয়েছে। নৌকার মূল কাঠামো গড়া হয়েছে গয়না নৌকার আদলে। লম্বায় ২৭ ফুট। পাঁচ ফুট চওড়া। নৌকা দুটি তৈরিতে খরচ হয়েছে ৪০ লাখ টাকা। এত টাকা খরচ হওয়ার কারণও আছে। নৌকা দুটি বিশেষ বৈশিষ্ট্যম-িত। শুধু নৌকা নয়, অপরূপ কারুকৃতি। অনেকদিন ধরে তৈরি ও সাজানো হয়। নৌকা দুটির ছই বা ছাউনিকে সবচেয়ে বেশি আকর্ষণীয় করা হয়েছে। ছাউনি হলেও একে বর্গাকার বেশ কিছু ফ্রেমে ভাগ করে চিত্রিত করা হয়েছে। সেখানে আবহমান বাংলার নানা ছবি। ফোকফর্ম হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে বাঙালীর ঐতিহ্যবাহী শখের হাঁড়ি, কাঠের চাকাওয়ালা ঘোড়া, কাগুজে বাঘ, কুঁড়ে ঘর, দোয়েল শাপলা- আরও কত কী! ছইয়ের শেষ সীমানায় আবার জামদানির ফর্ম। নৌকার পাটাতন ও বৈঠাতেও কারুকাজ করা হয়েছে। শৈল্পিক নৌকা দুটি নগরবাসীকে কাছ থেকে দেখার অন্তত সুযোগ করে দেয়া উচিত। দেয়া হবে কী?

শীতের আলোচনায় আসা যাক। শীত ঠিক পড়েনি। তবে শীত শীত ব্যাপারটা শুরু হয়ে গেছে। রাজধানী শহরের তাপমাত্রা কমছে প্রতিদিন। গরমও পুরোপুরি বিদায় নেয়নি। রোদ ওঠছে সময়মতো। চিকিৎসকরা বলছেন, এই রোদটা খুবই কাজের। করোনার কালে ভিটামিন ডি ভীষণ জরুরী। সেই ডি পাওয়া যাচ্ছে হেমন্তের রোদ থেকে। রোদটুকু গ্রহণ করছেন তো?

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক গণঅধিকার'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyganoadhikar@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

দৈনিক গণঅধিকার'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০২০ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। দৈনিক গণঅধিকার | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT