ঢাকা, বৃহস্পতিবার ১৩ মে ২০২১, ৩০শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

পিআইডি এর নিয়ম অনুসারে আবেদিত

বায়ান্ন বাজার তিপ্পান্ন গলি

প্রকাশিত : 11:45 AM, 16 April 2021 Friday

গণঅধিকার নিউজ ডেস্কঃ

সিয়াম সাধনার মাস রমজান শুরু হলো। আজ শুক্রবার তৃতীয় রোজা। এরই মাঝে বদলে গেছে রাজধানীবাসীর রুটিন। বায়ান্ন বাজার তিপ্পান্ন গলির শহরে ভোর রাতে ঘুম থেকে জেগে উঠছে মানুষ। যখন গভীর ঘুমে অচেতন থাকার কথা তখন বাসা বাড়ির লাইট জ্বলছে। মুসলিম সম্প্রদায়ের কাছে সময়টি খুব প্রিয়। এ সময় দিনের মতোই কলরব করে সেহরি সারছেন তারা। এর পর সারাদিনের উপোস। পানাহার থেকে সম্পূর্ণরূপে বিরত থাকা। অভুক্ত মানুষের যে কষ্ট, উপলব্ধির সুযোগ করে দেয় রোজা। তবে এও সত্য, সারাদিন রোজা রাখার পর সন্ধ্যায় একটু ভাল কিছু, সুস্বাদু কিছু মুখে দেয়ার ইচ্ছে হয়। এ ইচ্ছেকে মূল্য দিতে গিয়ে পুরান ঢাকার চকবাজারে গড়ে উঠেছে বিশাল ইফতার বাজার। বিপুল খাবারের আয়োজন এখন ঐতিহ্যেরও অংশ বটে। পরেছ মোঘলের হাতে/খানা খেতে হবে সাথে। মোঘলদের ভোজন বিলাসের সংস্কৃতি এখনও ধরে রেখেছে চক। ঘরে ইফতারের যত আয়োজনই থাকুক না কেন, পুরান ঢাকার চকবাজার থেকে পছন্দের দু’ এক আইটেম না হলে কী যেন বাকি থেকে যায়। বিশেষ করে রোজার প্রথম কয়েকদিন চকের ইফতার যেন না হলেই নয়। পুরান ঢাকার মানুষ বাজারে ঢুঁ না মেরে থাকতে পারেন না। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে আসেন। ইফতারসামগ্রী কিনে বাড়ি ফেরেন রোজাদাররা। কিন্তু হায়! এবার ছবিটা ভিন্ন। রোজার দ্বিতীয় দিনেও প্রায় জনশূন্য চকবাজার। হাতেগোনা কয়েকটি দোকান বসছে। কিন্তু সেখানে ভিড় করার সুযোগ নেই। যতটা সম্ভব শারীরিক দূরত্ব মেনে কেনাকাটা করতে হচ্ছে। পুলিশও তৎপর। কারণটি আর কিছু নয়, করোনা। সংক্রমণ মারাত্মক বেড়ে যাওয়ায় সব কিছুতেই বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। একই কারণে সীমিত পরিসরে বিক্রি হচ্ছে চকের ইফতার। এখানে কাবাবের চাহিদা সবসময়ই বেশি। বৃহস্পতিবার সেখানে গিয়ে দেখা গেল, স্থানীয় বিক্রেতারা অনেকেই বাসা থেকে গরুর কাবাব মুরগি বা কোয়েল পাখির রোস্ট বানিয়ে নিয়ে এসেছেন। সেই হাঁক-ডাক নেই। হুলস্থূল অবস্থা তৈরি হচ্ছে না। তবে কিছু সময় দেখে মনে হয়েছে, বিক্রি ভাল। দূর থেকে খুব কেউ আসতে পারছেন না। স্থানীয়রাই কিনে নিচ্ছেন ইফতারসামগ্রী। একইভাবে ছোট হয়েছে বেইলি রোডের ইফতার বাজার। রেস্তরাঁগুলোতে মুখরোচক অনেক খাবার পাওয়া যাচ্ছে। ক্রেতা কম হলেও, আয়োজনের কমতি নেই। ঢাকার অলিগলি বা ফুটপাথে যেসব দোকান বসত সেগুলো আর বসছে না। সব মিলিয়ে ইফতার ঘিরে রাজধানীতে যে ছবিটা সচরাচর দেখা যেত সেটি অনেকাংশেই অনুপস্থিত।

ঘরের বাইরে বের হলেই জেরা ॥ করোনাভাইরাসের সংক্রমণ মারাত্মক উর্ধমুখী হওয়ায় গোটা দেশই লকডাউন করা হয়েছে। সর্বাত্মক লকডাউন চলছে ঢাকায়ও। প্রথম দিনে ঢাকার রাস্তাঘাট আক্ষরিক অর্থেই ফাঁকা ছিল। বাসা বা পাড়া-মহল্লা থেকে কেউ তেমন বের হয়নি। দ্বিতীয় দিনে বৃহস্পতিবারও প্রায় অভিন্ন চেহারা দেখা গেছে। তবে বেড়েছে রিক্সা চলাচল। কিছু সিএনজিচালিত অটোরিক্সাও দেখা গেছে রাস্তায়। এর বাইরে চলছে ব্যক্তিগত গাড়িও। যান এবং পথচারী চলাচল নিয়ন্ত্রণে খুবই তৎপর পুলিশ। বিভিন্ন সড়কে বেষ্টনী দিয়ে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। তল্লাশি চৌকিতে থামতে হচ্ছে সব গাড়িকেই। প্রত্যেকটি যানবাহন থামিয়ে মুভমেন্ট পাস আছে কিনা জানতে চাইছেন পুলিশ সদস্যরা। যারা পাস দেখাতে ব্যর্থ হচ্ছেন তাদের জরিমানা করা হচ্ছে। যথাযথ কারণ না দেখাতে পারলে সিএনজি অটোরিক্সা, এমনকি রিক্সা আটক করছে পুলিশকে। জনগণকে সচেতন করতে চলছে মাইকিংও। তবে শহর ঘুরে মনে হয়েছে, অনেকেই এ সঙ্কটের গভীরে যেতে পারছেন না এখনও। এখনও নানা ছুতোয় ঘর থেকে বের হওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। এ অবস্থায় ঢাকার পুলিশ ও প্রশাসনকেই মূল দায়িত্ব পালন করতে হবে।

স্বাগত ১৪২৮ বঙ্গাব্দ ॥ মুক্ত করো ভয়,/আপনা-মাঝে শক্তি ধরো, নিজেরে করো জয়…। ভয়কে জয় করার শক্তি নিয়ে বৈশাখ এসেছে। বুধবার সারাদেশের মতো ঢাকাবাসীও নতুন বছরকে বরণ করে নিয়েছে। উৎসব অনুষ্ঠান না থাকলেও, মনের আনন্দ ধরে রাখার চেষ্টা করেছেন সবাই। গানে কথায় কবিতায় ঘুরে দাঁড়ানোর, সুদিনে ফেরার প্রত্যয় ঘোষণা করেছেন।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক গণঅধিকার'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyganoadhikar@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

দৈনিক গণঅধিকার'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। দৈনিক গণঅধিকার | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT