ঢাকা, শনিবার ২৩ অক্টোবর ২০২১, ৮ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

পিআইডি এর নিয়ম অনুসারে আবেদিত

বাজারে স্বস্তির চেষ্টা ॥ নিত্যপণ্য নিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে বৈঠক

প্রকাশিত : 09:28 AM, 12 October 2021 Tuesday

গণঅধিকার নিউজ ডেস্কঃ

বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পেঁয়াজ, চিনি ও ভোজ্যতেলের সব ধরনের আমদানি শুল্ক আপাতত স্থগিত রাখতে এনবিআরকে চিঠি দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এর মধ্যে চিনি আমদানিতে সম্পূরক শুল্ক এবং অগ্রিম শুল্ক রয়েছে। দুটোই প্রত্যাহারের আবেদন করা হয়েছে। ভোজ্যতেল আমদানিতে ভ্যাট ও অগ্রিম শুল্ক রয়েছে, এক্ষেত্রে অগ্রিম শুল্ক প্রত্যাহারের আবেদন করা হয়েছে। এছাড়া পেঁয়াজের শুল্ক চার মাসের জন্য প্রত্যাহারের আবেদন করা হয়েছে। সোমবার দুপুরে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মজুদ, সরবরাহ, আমদানি, মূল্য পরিস্থিতি পর্যালোচনা বৈঠকে এসব তথ্য জানানো হয়। সভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, ‘আমরা চারদিক থেকে চেষ্টা করছি যতটা নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। এক মাস ধরে বাড়তি দাম থাকার কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু আমাদের দেশে ৫ লাখ টন পেঁয়াজ মজুদ আছে, যা দিয়ে আগামী আড়াই থেকে তিন মাস চলা যাবে। তারপরও আমরা বিভিন্ন রকম শুল্ক প্রত্যাহার করার জন্য এনবিআরকে চিঠি দিয়েছি।’

টিপু মুনশি বলেন, ভারত ছাড়া মিয়ানমার থেকে যদি পেঁয়াজ আনা যায়, তাহলে কিন্তু এত প্রেসার (চাপ) পড়ার কথা না। তবে বৃষ্টির কারণে কিছুটা দাম বেড়েছে। তারপরও আমরা চেষ্টা করব, যেন দাম সহনীয় মাত্রায় রাখা যায়। নিত্যপ্রয়োজনীয় সব পণ্যের মূল্য বেড়ে যাচ্ছে অথচ শুধু চারটি পণ্য নিয়ে আলোচনা হচ্ছে কেন- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমাদের আইনে তেল, চিনি, পেঁয়াজ, আদা, রসুন, মসলাসহ ১৭টি পণ্যের মূল্য নির্ধারণের ক্ষমতা দেয়া আছে। বাকিগুলোর মূল্য নির্ধারণের ক্ষমতা নেই। উৎপাদনসহ পরিস্থিতি অন্যান্য মন্ত্রণালয় দেখে জানিয়ে তিনি বলেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে যেসব পণ্য রয়েছে, আমরা সেগুলোর মনিটর করার চেষ্টা করব। এর বাইরে অন্যান্য পণ্যে আমরা হস্তক্ষেপ করতে গেলে সমস্যার সৃষ্টি হবে। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আমরা চারদিক থেকে চেষ্টা করছি যাতে পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। যতদিন পর্যন্ত আমরা স্বয়ংসম্পূর্ণ না হব, ততদিন পর্যন্ত কখনও কখনও আমাদের মূল্য নিয়ে ক্রাইসিসে পড়তে হবে। আশার কথা হলো, গত বছরের তুলনায় এ বছর আমাদের উৎপাদন ভাল আছে। অন্তত এক লাখ টন পেঁয়াজ বেশি উৎপাদন হয়েছে। তারপরও এ সময়ে কিছুটা চাপ পড়ে চারদিক থেকে। আমরা চেষ্টার কোন ত্রæটি করব না। বাণিজ্য সচিব তপন কান্তি ঘোষ জানান, চিনি আমদানিতে সম্পূরক শুল্ক এবং অগ্রিম শুল্ক রয়েছে। দুটোই প্রত্যাহারের আবেদন করা হয়েছে। ভোজ্য তেল আমদানিতে ভ্যাট ও অগ্রিম শুল্ক রয়েছে, এক্ষেত্রে অগ্রিম শুল্ক প্রত্যাহারের আবেদন করা হয়েছে। সচিব জানান, পেঁয়াজের শুল্ক চার মাসের জন্য প্রত্যাহারের আবেদন করা হয়েছে। বাকিগুলোর ক্ষেত্রে সময়ের কথা উল্লেখ করা হয়নি। পেঁয়াজ আমদানিতে ৫ শতাংশ শুল্ক প্রত্যাহারের বিষয়ে তিনি বলেন, গত বছর চার মাসের জন্য শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়েছিল। এনবিআরের কর্মকর্তাদের ইতিবাচক মনে হয়েছে। আশা করছি এবারও তিন মাসের জন্য শুল্ক প্রত্যাহার করা হবে। দেশের বাজারে পেঁয়াজ, চিনি ও ভোজ্যতেলসহ বিভিন্ন নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কিছুদিন ধরেই বাড়তি। দেশী পেঁয়াজের দাম বাড়তে বাড়তে গত এক সপ্তাহের মধ্যে প্রতিকেজি ৭৫ টাকা পর্যন্ত উঠেছে। সরকার দাম বেঁধে দিলেও বেসরকারী যোগান থেকে আসা ভোজ্যতেল ও চিনির দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা যাচ্ছে না।

বাণিজ্য সচিব বলেন, দেখা গেছে ভারতের বেঙ্গালুরুতে অতিবৃষ্টির কারণে সেখানকার বাজারে পেঁয়াজের দাম বেড়ে গেছে, সেটার প্রভাবে বাংলাদেশে পেঁয়াজের দাম ব্যবসায়ীরা বাড়িয়ে দিয়েছেন। কিছু ভারতের দাম বাড়ার জন্য এবং কিছু দাম বাড়ার আশঙ্কা থেকে ব্যবসায়ীরা দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ইতোমধ্যে চিঠি দিয়েছি। এনবিআরকে শুল্ক প্রত্যাহারের জন্য বলা হয়েছে। মিয়ানমার থেকে পেঁয়াজ আনার জন্য পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। চলতি মাসের মধ্যে আরও দুটি দরপত্র আহŸান করা হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, দেশের পেঁয়াজের চাহিদার ৮০ শতাংশ এখন দেশেই উৎপাদিত হয়, বাকি ২০ শতাংশ আমদানি করতে হয়। এর বেশিরভাগটা আসে ভারত থেকে, মিয়ানমার থেকেও কিছু আসে। ইতোমধ্যে তুরস্ক থেকে ১৫ হাজার টন পেঁয়াজ আনা হয়েছে। নবেম্বরের শেষে বাজারে নতুন পেঁয়াজ আসতে শুরু করবে জানিয়ে বাণিজ্য সচিব বলেন, ৫ লাখ টন পেঁয়াজের মজুদ আছে। এই পেঁয়াজ দিয়ে আগামী তিন মাস চলে যাওয়ার কথা। এর বাইরে নবেম্বর মাসের মাঝামাঝি বা শেষের দিকে নতুন পেঁয়াজ আসবে। এর আগের একটি মাস হয়তো পেঁয়াজের দাম বেশি থাকার আশঙ্কা রয়েছে। এর মধ্যে আমাদের চেষ্টা থাকবে যৌক্তিক মূল্য যতটুকু বাড়া দরকার ততটুকুই যেন বাড়ে, এর মধ্যেই যেন সীমাবদ্ধ থাকে। আমরা আশা করছি, পরিস্থিতি এখন যেমন আছে এর চেয়ে আর খারাপ হবে না। তবে এখনকার এই নাজুক পরিস্থিতি হয়তো আগামী এক মাস ধরে চলবে। চিনি ও ভোজ্যতেলের দাম বেঁধে দেয়ার বিষয়টি মনে করিয়ে দিয়ে বাণিজ্য সচিব বলেন, তেলের বাজার স্বাভাবিক আছে। তবে চিনির দাম যেহেতু ৪/৫ টাকা কমিয়ে আনা হয়েছিল তা এখনও পুরোপুরি বাস্তবায়ন হয়নি। প্রশাসনের কর্মকর্তারা মাঠে নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছেন। ডাল আমদানিতে বর্তমানে কোন শুল্ক নেই বলে অনুষ্ঠানে জানানো হয়। বাজারে চাল, মুরগির দাম বাড়লেও এসব পণ্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আওতায় না থাকায় মূল্য পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেন বাণিজ্যমন্ত্রী।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক গণঅধিকার'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyganoadhikar@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

দৈনিক গণঅধিকার'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। দৈনিক গণঅধিকার | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT