ঢাকা, শনিবার ২৩ জানুয়ারি ২০২১, ১০ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

পিআইডি এর নিয়ম অনুসারে আবেদিত

বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী মুন্নির রং তুলিতে বঙ্গবন্ধু, শেখ হাসিনা

প্রকাশিত : 11:33 AM, 3 November 2020 Tuesday

গণঅধিকার নিউজ ডেস্কঃ

জন্ম থেকেই বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার সুইটি আক্তার মুন্নি। মানুষের মুখে মুখে উচ্চারিত ’বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব’ নামটি শোনার সৌভাগ্য তার হয়নি। মুখ ফুটে বলতেও পারে না, হে জাতির পিতা তোমায় আমি ভালবাসি! তাই তো সে রং তুলির আঁচড়ে মনের মাধুরী মিশিয়ে এঁকে যাচ্ছে বঙ্গবন্ধুর ছবি। হৃদয়ে তার বাংলাদেশের স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাম। শুধু অপলক তাকিয়ে থাকে নিজের আঁকা ছবির দিকে। তার চাহনিতে ফুটে ওঠে মহান নেতার প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা আর ভালবাসার অস্ফুট ভাব।

সৃষ্টিকর্তা তাকে কথা বলার ক্ষমতা দেননি, কিন্তু দিয়েছেন সৃষ্টিশীল দুটি হাত। কথা বলতে না পারলেও, তার আঁকা ছবি ঠিকই কথা বলে। চোখের দেখা যে কোন দৃশ্য বা মানুষের ছবি অবলীলায় আঁকতে পারে সব ধরনের ছবি। এমনি এক প্রতিভাবান চিত্রশিল্পী শ্রবণ প্রতিবন্ধী সুইটি আক্তার মুন্নি (১৯)। বাবা পুলিশ কনস্টেবল আব্দুল মালেক ও গৃহিণী মা সুফিয়া বেগমের তিন মেয়ের মধ্যে বড় মুন্নি। বাবার চাকরির সুবাদে পুরো পরিবারের স্থায়ী নিবাস এখন ঘাটাইলের পৌর এলাকার সবুজবাগে। বাক ফোটার আগেই মাত্র ছয় মাস বয়সে মুন্নি আক্রান্ত হন নিউমোনিয়ায়। পরিবারের ধারণা হয়তবা এ রোগই চিরতরে কেড়ে নিয়েছে তার মুখের ভাষা। অন্য সাধারণ শিশুর মতোই পরিবারে সে বেড়ে ওঠে। সুস্থ স্বাভাবিক ছাত্র-ছাত্রীদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে ২০১৭ সালে সে এসএসসি এবং ২০১৯ সালে এইচএসসি পাস করে। এখন সে টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর সরকারী ইব্রাহিম খাঁ কলেজের ম্যানেজমেন্ট অনার্স প্রথম বর্ষের ছাত্রী। তার স্বপ্ন ছিল চারুকলায় পড়া। কিন্তু বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী হওয়ায় তার স্বপ্ন স্বপ্নই রয়ে যায়।

মুন্নির মা জানান, তৃতীয় শ্রেণী থেকে তার ছবি আঁকা শুরু। ছবি আঁকতে কোন প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা তার নেই। তবুও চোখের দেখায় নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় ফুটিয়ে তুলতে পারে মানুষ, প্রকৃতিসহ নানা ধরনের ছবি। যে কোন ছবি দেখে হুবহু ওই ছবিটিই আঁকতে পারে। সে বঙ্গবন্ধুর ছবি আঁকতে বেশি পছন্দ করে। হৃদয়ে তার মহান নেতা ছবি, রং তুলির প্রতিটি আঁচড়ে যেন তাই প্রকাশ পায়। তার আঁকা বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, জাতীয় কাজী নজরুল ইসলাম, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, স্মৃতিসৌধ, শহীদ মিনার ও অনেক প্রাকৃতিক দৃশ্য শোভা পাচ্ছে তার ড্রয়িং রুমে। মুন্নির অনেক ইচ্ছা একদিন ঢাকায় গিয়ে আর্ট প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে, বিজয়ী হয়ে খোদ প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে আনবে পুরস্কার।

বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী মেয়ের ছবি আঁকা দেখে এলাকার সবাই অভিভূত। এলাকার মানুষ থেকে শুরু করে তার শিক্ষক, ফুটফুটে এই মেয়েটিকে সবাই ভালবাসে। ভালবাসে তার সৃষ্টিশীল কাজকে।

টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অঞ্জন কুমার সরকার বলেন, প্রতিবন্ধীদের সার্বিক সুযোগ-সুবিধা দেয়ার ব্যাপারে সরকার আন্তরিক। মুন্নির জীবন বিকশিত করার জন্য তাকে প্রতিবন্ধী হিসেবে যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা দেয়ার কথা জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার। প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে এগিয়ে যাবে মুন্নি। পূরণ হবে তার স্বপ্ন।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক গণঅধিকার'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyganoadhikar@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

দৈনিক গণঅধিকার'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। দৈনিক গণঅধিকার | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT