ঢাকা, সোমবার ১৮ অক্টোবর ২০২১, ৩রা কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

পিআইডি এর নিয়ম অনুসারে আবেদিত

বাইডেন এগিয়ে ॥ হোয়াইট হাউসের পথে

প্রকাশিত : 09:14 AM, 6 November 2020 Friday

গণঅধিকার নিউজ ডেস্কঃ

আইনী বাগড়া ট্রাম্পের
বাইডেন পেলেন ২৬৪ ইলেক্টোরাল ভোট, ট্রাম্প ২১৪
সর্বাধিক পপুলার ভোট পেয়ে বাইডেনের রেকর্ড
যুক্তরাষ্ট্রে এবারের ঘটনাবহুল প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভোট গ্রহণ শেষে এখন হোয়াইট হাউসের পথে ধীরগতিতে এগোচ্ছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেন। নির্বাচনে বিজয়ী হতে হলে যেকোন প্রার্থীকে ২৭০ ইলেক্টোরাল কলেজ ভোট নিশ্চিত করতে হবে। বৃহস্পতিবার সর্বশেষ বুথ ফেরত জরিপ শেষে দেখা গেছে, ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেন পেয়েছেন ২৬৪ ইলেক্টোরাল ভোট। অন্যদিকে প্রতিদ্বন্দ্বী রিপাবলিকান প্রার্থী বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পেয়েছেন ২১৪ ইলেক্টোরাল ভোট। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সর্বাধিক সাত কোটি ২১ লাখ ১০ হাজার ৯৫১ পপুলার ভোট পাওয়ার রেকর্ড করেছেন জো বাইডেন। তবে নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ তুলে জর্জিয়া, পেনসিলভানিয়া, উইসকনসিন ও মিশিগান এই চারটি অঙ্গরাজ্যে ভোট গণনা বন্ধ করতে মামলা করেছে ট্রাম্পের প্রচার শিবির। এ পদক্ষেপকে বাইডেনের জয় ঠেকাতে ট্রাম্পের আইনী বাগড়ার চেষ্টা বলে বিবেচনা করা হচ্ছে। এদিকে দেশটির বিভিন্ন শহরে সংঘর্ষে জড়ায় ট্রাম্প ও বাইডেনের সমর্থকরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে দেশটির প্রশাসন। খবর এএফপি, বিবিসি, সিএনএন, নিউইয়র্ক টাইমস, ফক্স নিউজ, দ্য গার্ডিয়ান, আল-জাজিরা ও ইয়াহু নিউজের।

মার্কিন নির্বাচনে শুধু প্রেসিডেন্টকে নির্বাচিত করা নয় বরং এর পাশাপাশি সিনেট ও হাউস অব রিপ্রেজেনটেটিভ সদস্যদেরও ভোট দিয়ে নির্বাচিত করা হয়। সিনেটে ১০০ সিনেটর ও হাউস অব রিপ্রেজেনটেটিভে ৪৩৫ জন সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হন। অপর ছয়জন সংরক্ষিত নিয়ে ৪৪১ জন প্রতিনিধি পরিষদ সদস্য নির্বাচিত হন। এই নির্বাচনে এখন পর্যন্ত ডেমোক্র্যাটরা সিনেটে পেয়েছেন ৪৮ আসন এবং রিপাবলিকানরাও পেয়েছে ৪৮ আসন। অন্যদিকে হাউস অব রিপ্রেজেনটেটিভের প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটরা পেয়েছেন ২০৫ আসন এবং রিপাবলিকানরা পেয়েছেন ১৯০ আসন। এবারের নির্বাচনে করোনার কারণে দেশটিতে ১০ কোটির বেশি মানুষ আগাম ভোট দিয়েছেন। নিবন্ধিত ১৯ কোটি ভোটারের মধ্যে ৯ কোটি ভোটার সরাসরি ভোট কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেন। প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হতে হলে যেকোন প্রার্থীকে ৫৩৮ ইলেক্টোরাল কলেজ ভোটের মধ্যে ২৭০ পেতে হবে। ১৯০৮ সালের পর এবারই দেশটিতে সর্বাধিক সংখ্যক যোগ্য নাগরিক তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সর্বাধিক ভোট পেলেন বাইডেন ॥ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সর্বাধিক ভোট পাওয়ার রেকর্ড করেছেন জো বাইডেন। ২০০৮ সালে সর্বাধিক পপুলার ভোট পাওয়া বারাক ওবামার রেকর্ড ভেঙ্গে দিলেন তারই ডেমোক্র্যাট দলীয় সতীর্থ জো বাইডেন। বৃস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় ভোর ৫টা পর্যন্ত গণনা হওয়া ভোটের হিসাবে সাত কোটি ২১ লাখ ১০ হাজার ৯৫১ ভোট পেয়েছেন বাইডেন। এর আগে সর্বোচ্চ ভোটের রেকর্ডধারী বারাক ওবামা পেয়েছিলেন ছয় কোটি ৯৪ লাখ ৯৮ হাজার ৫১৬ ভোট। শুধু তাই নয়, চলতি নির্বাচনে পপুলার ভোটে নিজের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ইতোমধ্যে নিশ্চিত করেছেন জো বাইডেন। ৫০ শতাংশের বেশি পপুলার ভোট পেয়ে শীর্ষে আছেন বাইডেন। বাইডেনের প্রতিদ্বন্দ্বী দেশটির বর্তমান প্রেসিডেন্ট এবং রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন পর্যন্ত পেয়েছেন ছয় কোটি ৮৬ লাখ ৪৩ হাজার ৫৪৪ ভোট। দেশটিতে এখনও পাঁচটি রাজ্যের ভোট গণনা বাকি আছে। তবে সেই রাজ্যগুলোতে গণনার জন্য বাকি থাকা ভোটের সংখ্যা প্রায় ১৮ লাখ ২১ হাজার। এসব ভোট ট্রাম্প শিবিরে যোগ করলেও পপুলার ভোটে এগিয়ে থাকবেন জো বাইডেন। তবে নেভাদা রাজ্যে এগিয়ে আছেন জো বাইডেন। সেই হিসাব অটুট থাকলে আরও ভোট পাবেন বাইডেন। সবমিলে দেশটির ইতিহাসে সর্বাধিক পপুলার ভোটের অধিকারী এখন জো বাইডেন। এবারের নির্বাচন ভেঙ্গেছে আরও একটি রেকর্ড। ১৯০৮ সালের পর এবারই দেশটিতে সর্বাধিক সংখ্যক যোগ্য নাগরিক তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। ৬৭ শতাংশ অনুমান করা হলেও এবার সর্বোচ্চ ৬৫ শতাংশ ভোট জমা পড়েছে।

সরকার গঠনের প্রস্তুতি শুরু করলেন বাইডেন ॥ ২৭০ ইলেক্টোরাল ভোট পেয়ে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার কাছাকাছি রয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেন। তবে এরই মধ্যে সরকার গঠনের প্রস্তুতি হিসেবে ট্রানজিশন ওয়েবসাইট চালু করেছেন তিনি। সরকার পরিচালনায় দায়িত্বভার গ্রহণে ওয়াশিংটনে এ ট্রানজিশন টিমের অফিস থেকে হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে। আর এ প্রক্রিয়ার যাবতীয় আপডেট থাকবে ট্রানজিশন ওয়েবসাইটে। ট্রানজিশন ওয়েবসাইটে বলা হয়, মহামারী ও অর্থনৈতিক মন্দা, জলবায়ু পরিবর্তন, বর্ণবাদী কর্মকাণ্ডের মতো বিষয়গুলো মোকাবেলায় বাইডেন-হ্যারিস প্রশাসন প্রথম দিন থেকেই কাজ চালিয়ে যাবে। ট্রাম্প অবশ্য এখন পর্যন্ত পরাজয় মেনে নেননি। বরং নিজেকেই বিজয়ী দাবি করেছেন তিনি।

নির্বাচনপরবর্তী বিক্ষোভ ও সহিংসতার কবলে যুক্তরাষ্ট্র ॥ পূর্ব আশঙ্কাকে সত্যি করে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্থানে নির্বাচনকেন্দ্রিক সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে। নিউইয়র্কে ‘প্রতিটি ভোট গুনতে হবে’ দাবি নিয়ে একটি নির্বাচনী শোভাযাত্রা থেকে সহিংসতা শুরু হওয়ার পর অন্তত ৫০ জনকে আটক করা হয়েছে। বিক্ষোভ হয়েছে শিকাগো আর ফিলাডেলফিয়াতেও। এদিকে অ্যারিজোনায় গণনা বন্ধের দাবিতে বিক্ষোভ করেছে ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থকরা। পোর্টল্যান্ড, ওরেগনে প্রতিটি ভোট গণনার দাবিতে ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভ সহিংস হয়ে উঠলে ন্যাশনাল গার্ড সক্রিয় হয়। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, প্রতিটি ভোট গণনার দাবিতে আয়োজিত নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে হাজারও মানুষের নির্বাচনী শোভাযাত্রা সহিংস হয়ে ওঠে। অ্যারিজোনার মেরিকোপা কাউন্টির একটি ভোট গণনা কেন্দ্রের বাইরে রিপাবলিকান সমর্থক বিক্ষোভকারীরা অবস্থান নেয়ার পর ভোট গণনা বন্ধ করবে নাকি করবে না- এমন দ্বিধায় পড়ে কর্তৃপক্ষ। ট্রাম্পের পক্ষে পড়া ভোট গণনা করা হবে না – সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এমন দাবি ছড়িয়ে পড়ার পর ট্রাম্পের সমর্থকরা ভোট গণনা কেন্দ্রের বাইরে অবস্থান নেয়। কয়েকটি পূর্বাভাসে অ্যারিজোনায় বাইডেনকে জয়ী বলা হলেও ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বলছে, অ্যারিজোনার ফল কী হবে তা এখনও ধারণা করা যাচ্ছে না। বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত মেরিকোপা কাউন্টির ৮২% ভোট গণনা শেষ হয়েছে; যেখানে জো বাইডেন এগিয়ে রয়েছেন। এখনও ৪ লাখ ভোট গণনা বাকি রয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ফিনিক্স শহরটিও এই কাউন্টির অংশ। ঐহিত্যগতভাবে এটি রিপাবলিকান রাজ্য হলেও সম্প্রতি এটি দোদুল্যমান রাজ্যে পরিণত হয়েছে। পোর্টল্যান্ডে প্রতিটি ভোট গণনার দাবিতে ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভ সহিংস হয়ে উঠলে ন্যাশনাল গার্ড সক্রিয় হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, বিক্ষোভ থেকে কিছু মানুষ বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়ে সিটি সেন্টারে কিছু দোকানের জানালা ভাংচুর করেছে। একে দাঙ্গা বলে উল্লেখ করেছে পুলিশ। এদিকে মিনিয়াপোলিসে দুই শতাধিক বিক্ষোভকারী রাস্তা দখল করলে সেখান থেকে কয়েক জনকে আটক করে পুলিশ। মার্কিন গণমাধ্যমগুলো বলছে, বিক্ষোভকারীরা ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তার ভোট বন্ধের আহ্বানের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করছিলেন। ডেট্রয়েটে ট্রাম্প সমর্থকরা ভোট গণনা কেন্দ্রের বাইরে জড়ো হয়ে ‘ভোট গণনা বন্ধ করো’ বলে স্লোগান দিতে থাকে। সেসময় জানালা ভাংচুর করে তারা। অ্যারিজোনার ফিনিক্সেও একই ধরনের ছোটখাটো বিক্ষোভ হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাচনপরবর্তী অনিশ্চয়তায় উদ্বেগ, সন্দেহ ॥ যুক্তরাষ্ট্রে সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনের ফল জানতে নির্ঘুম রাত কাটানো রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট সমর্থকরা ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার একদিন পরও কে জয়ী তা জানতে না পারায় অত্যন্ত উদ্বেগজনক সময় কাটাচ্ছেন। বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যে ভোট গণনা চলার মধ্যেই রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প আগেভাগে নিজেকে বিজয়ী ঘোষণা করার পর তার ডেমোক্র্যাট প্রতিদ্বন্দ্বী জো বাইডেনের সমর্থকরা বেশ চটেছেন বলে জানিয়েছে রয়টার্স। বাইডেন সমর্থকদের আশঙ্কা, হেরে গেলে ট্রাম্প নির্বাচনের ফল নাও মেনে নিতে পারেন। রিপাবলিকান ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এলাকাগুলোর অনেক ভোটার প্রেসিডেন্টের মতোই নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপি হচ্ছে বলে প্রমাণ ছাড়াই অভিযোগ তুলেছেন।

কয়েকটি রাজ্যে ভোট গণনা বন্ধে মামলা ট্রাম্প শিবিরের ॥ গুরুত্বপূর্ণ চারটি রাজ্য জর্জিয়া, পেনসিলভানিয়া, উইসকনসিন ও মিশিগানে ভোট গণনা বন্ধ করতে মামলা করেছে ট্রাম্প শিবির। জর্জিয়ার চ্যাথাম কাউন্টির ব্যালটের স্তূপে নির্ধারিত সময়ের পর আসা ৫৩টি ব্যালট যুক্ত করেছেন একজন ভোট গণনা কর্মী, এমন অভিযোগ তুলে বুধবার রাজ্যটির কিছু এলাকায় ভোট গণনা স্থগিত করতে আবেদন করে তারা। রাজ্যটির নিয়ম অনুযায়ী ভোটের দিন সন্ধ্যা ৭টার আগে পোস্টাল ভোট নির্ধারিত স্থানে পৌঁছানোর কথা। গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটলগ্রাউন্ড রাজ্য জর্জিয়ায় ট্রাম্প ও বাইডেনের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলছে।

শেষ পর্যন্ত মার্কিন নির্বাচনের মীমাংসা কি আদালতে? ॥ যুক্তরাষ্ট্রে এবারের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে দৃশ্যত জয়ের পথ রয়েছেন ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রার্থী জো বাইডেন। তবে রিপাবলিকান প্রার্থী বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এরইমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ চার রাজ্যের ভোট গণনায় চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন। এর ফলাফল কী হতে পারে তা নিয়ে আইন বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলেছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম। নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফলে সুপ্রীমকোর্টের হস্তক্ষেপের নজির খুব বেশি নেই। তবে এবার দুই দলেরই প্রচার টিম থেকে জানানো হয়েছে, নির্বাচনের পর আইনী লড়াইয়ের জন্য তারা ইতোমধ্যে প্রস্তুতি শুরু করেছে। দুই দলই আইনজীবীদের বড় দল তৈরি রেখেছে ভোট গণনা নিয়ে আইনী চ্যালেঞ্জ লড়ার জন্য। এসব আইনী চ্যালেঞ্জ শেষ পর্যন্ত আমেরিকার সর্বোচ্চ আইনী কর্তৃপক্ষ সুপ্রীমকোর্ট পর্যন্ত গড়াতে পারে। এমনটা ঘটেছিল ২০০০ সালের নির্বাচনে। তখন রিপাবলিকান প্রার্থী ছিলেন জর্জ ডব্লিউ বুশ এবং ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ছিলেন আল গোর। পরে ফ্লোরিডায় ভোট পুনর্গণনা সংক্রান্ত সুপ্রীমকোর্টের রায়ের ভিত্তিতে বুশকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। তবে এবার শেষ পর্যন্ত কী হয়, সময়ই তা বলে দেবে।

উইসকনসিন ॥ ট্রাম্প শিবির বলছে, উইসকনসিনে ভোট গণনায় ‘অস্বাভাবিকতার ওপর ভিত্তি করে’ তারা সেখানে ভোট পুনর্নিরীক্ষণের অনুরোধ করেছে। তবে তাদের দাবি অনুযায়ী, সেখানে পুনরায় ভোট গণনা হবে কিনা তা এখনও স্পষ্ট নয়। সাধারণত কাউন্টি কর্মকর্তারা পর্যালোচনার আগে পুনরায় ভোট গণনা করা হয় না। এই রাজ্যে ভোট গণনা শেষ হওয়ার সময়সীমা আগামী ১৭ নবেম্বর।

মিশিগান ॥ ২০১৬ সালের নির্বাচনে মাত্র ১০ হাজার ৭০০ ভোটের ব্যবধানে মিশিগানে জয় পান ট্রাম্প। এবার নির্বাচনের পরদিন ৪ নবেম্বর সেখানে ভোটগণনা বন্ধের জন্য মামলার ঘোষণা দেয় ট্রাম্প শিবির। যদিও ততক্ষণে ৯৬ শতাংশ ভোট গণনা সম্পন্ন হয়ে গেছে। এরইমধ্যে সেখানে জয়ের দ্বারপ্রান্তে আছেন বাইডেন।

পেনসিলভানিয়া ॥ এখানে ট্রাম্প শিবিরের আপত্তির জায়গা মূলত পোস্টাল ভোট গণনাকে কেন্দ্র করে। রাজ্য সরকার তিনদিন পর্যন্ত এসব ভোট গণনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সেই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতের শরণাপন্ন হয়েছে ট্রাম্প শিবির।

জর্জিয়া ॥ জর্জিয়ার চ্যাথাম কাউন্টিতে ভোট গণনা বন্ধ করতে মামলা করেছে ট্রাম্প শিবির। তাদের অভিযোগ, সেখানে অনুপস্থিত ভোটারদের ব্যালটের ক্ষেত্রে সমস্যা রয়েছে। জর্জিয়ার রিপাবলিকান চেয়ারম্যান ডেভিড শফার টুইট করেছেন যে, তার দলীয় পর্যবেক্ষকরা একজন নারীকে ৫০টির বেশি ব্যালট অনুপস্থিত ভোটারদের ব্যালটের সঙ্গে মিশিয়ে ফেলতে দেখেছে। ফলে সেসব ভোট আর গণনার সুযোগ নেই।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক গণঅধিকার'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyganoadhikar@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

দৈনিক গণঅধিকার'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। দৈনিক গণঅধিকার | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT