ঢাকা, সোমবার ২৫ অক্টোবর ২০২১, ১০ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

পিআইডি এর নিয়ম অনুসারে আবেদিত

বাইডেনই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ॥ পেনসিলভানিয়ার ২০ ইলেক্টোরাল ভোটে ২৭৩ পেয়ে নির্বাচিত

প্রকাশিত : 08:37 AM, 8 November 2020 Sunday

গণঅধিকার নিউজ ডেস্কঃ

বহু নাটকীয়তার পর অবশেষে ঘোষণা করা হলো যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফল। তুমুল লড়াই আর অনেক তিক্ততা শেষে ব্যাটল গ্রাউন্ড রাজ্য পেনসিলভানিয়ায় জয়ের মধ্য দিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হারিয়ে দেশটির ৪৬তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেন। সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, পেনসিলভানিয়ার সবক’টি ইলেক্টোরাল কলেজ ভোটে জিতে এ পর্যন্ত ২৭৩টি ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন ৭৭ বছর বয়সী বাইডেন। এর মধ্য দিয়ে দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে বয়স্ক প্রেসিডেন্ট হিসেবেও জয়ী হওয়ার রেকর্ড গড়েছেন তিনি। আর প্রতিদ্বন্দ্বী রিপাবলিকান প্রার্থী বর্তমান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পেয়েছেন ২১৪ ইলেক্টোরাল ভোট। এছাড়া বাইডেনের রানিং মেট কমলা হ্যারিস প্রথম নারী ও কৃষ্ণাঙ্গ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন। একই সঙ্গে প্রথম ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক হিসেবেও এই পদে জয় পেয়েছেন তিনি। খবর বিবিসি, সিএনএন, আলজাজিরা, রয়টার্স, গার্ডিয়ান, ফক্স নিউজ ও নিউইয়র্ক টাইমসের।

নিজের জন্মস্থান পেনসিলভানিয়ায় ২০ ইলেক্টোরাল ভোটে জয়ের পর আর কোন সংশয় রইল না। বাইডেন পৌঁছে গেছেন ম্যাজিক ফিগারে। ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থী হওয়ার আগে বারাক ওবামা আমলে ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে কাজ করেছেন তিনি। ডেলাওয়্যারের সবচেয়ে দীর্ঘ আমলের সিনেটরও তিনি। নির্বাচনী প্রচারের সময় থেকেই বাইডেন বলে আসছেন ট্রাম্পের আমলে ক্ষয়ে যাওয়া দেশ পুনর্গঠন করবেন। পেনসিলভানিয়ায় জয়ের পরপরই এক টুইট বার্তায় তিনি বলেন, আমেরিকা, মহান এই রাষ্ট্রের নেতৃত্ব দেয়ার জন্য আমাকে বেছে নেয়ায় আমি সম্মানিত। আমাদের সামনে যে কাজ রয়েছে, তা কঠিন হবে। তবে এই প্রতিশ্রুতি আমি আপনাদের দিচ্ছি, আপনি আমাকে ভোট দিন বা না দিন, আমি হব সব আমেরিকানের প্রেসিডেন্ট। আমার ওপর যে আস্থা আপনারা রেখেছেন, তার প্রতিদান আমি দেব। বাইডেন এখন পর্যন্ত ভোট পেয়েছেন সাত কোটি ৩০ লাখেরও বেশি। দেশটির আর কোন প্রেসিডেন্ট এর আগে এত ভোট পেয়ে নির্বাচিত হননি। এদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প পেয়েছেন প্রায় সাত কোটি ভোট। সেটাও যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দ্বিতীয় সর্বাধিক ভোট। উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হতে হলে ৫৩৮ ইলেক্টোরাল কলেজ ভোটের মধ্যে অন্তত পেতে হয় ২৭০টি।

এদিকে জাতির উদ্দেশে দেয়া এক ভাষণে বাইডেন এবারের বিজয়কে ঐতিহাসিক বলে অভিহিত করেছেন। ভাষণে তিনি ঐতিহাসিক বিজয় পেতে যাচ্ছেন বলে জানান। অন্যদিকে ট্রাম্পের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারা একের পর এক তাকে ছেড়ে চুপিসারে সরে পড়ছেন বলে জানা গেছে। আইনী লড়াই চালানোর প্রস্তুতিও নিচ্ছে রিপাবলিকান শিবির। সেজন্য তারা মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন অর্থ সংগ্রহের জন্য। নির্বাচন পরবর্তী তৃতীয় দিন পার হলেও মানুষ বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ দেখাচ্ছে। একদিকে যেমন ট্রাম্প সমর্থকরা ভোট গণনা বন্ধের দাবিতে বিক্ষোভ করছে। অপরদিকে বাইডেন সমর্থকরা প্রতিটি ভোট গণনার দাবিতে রাস্তায় সমাবেশ করছে। শুধু তাই নয়, তারা বিজয় অনুষ্ঠানেরও প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে।

নির্বাচনে জয়ী হওয়ার স্বপ্ন একটু একটু করে মিলিয়ে গেলেও ট্রাম্পের মধ্যে পরাজয় মেনে নেয়ার বিন্দুমাত্র প্রস্তুতি দেখা যাচ্ছে না। স্থানীয় সময় শুক্রবার দেয়া তার বিবৃতিতে ভোট নিয়ে দীর্ঘ আইনী লড়াইয়ের পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়েছে। হোয়াইট হাউস ছেড়ে যাওয়ার চিন্তা মনে স্থান না দেয়া প্রেসিডেন্টের এই ‘গোয়ার্তুমি’ ছাড়িয়ে তাকে বাস্তব পরিস্থিতি বোঝাতে পারবে, ট্রাম্পের আশপাশের অনেকেই এখন এমন ‘একজনের’ খোঁজ করছে। বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গুরুত্বপূর্ণ ‘ব্যাটল গ্রাউন্ড’গুলোতে মার্কিন সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট বাইডেনের কাছ থেকে ক্রমশ পিছিয়ে পড়লেও ট্রাম্প এখনও পরাজয় মেনে নেয়ার বক্তৃতা প্রস্তুত করেননি। কেবল তাই নয়, গত কয়েকদিন ধরে তিনি তার মিত্রদের সঙ্গে আলোচনাতেও নির্বাচনে পরাজয় মেনে নেয়ার বিন্দুমাত্র ইচ্ছা নেই বলে জানিয়েছেন। এখন পর্যন্ত তিনি তার জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা ও প্রাপ্তবয়স্ক দুই ছেলেসহ সবচেয়ে কাছের লোকদের পরামর্শে ভোটে জালিয়াতির অভিযোগ নিয়ে অবস্থান আরও দৃঢ় করেছেন। ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র ও ওই উপদেষ্টারা আদালতে ভোটের ফল চ্যালেঞ্জ করতে আগ্রাসী চেষ্টা চালাচ্ছেন এবং অন্যান্য রিপাবলিকান সদস্যকে ট্রাম্পের পক্ষ নেয়ার জন্য চাপ দিচ্ছেন। চীফ অব স্টাফ মার্ক মিডৌসসহ ট্রাম্পের শীর্ষ উপদেষ্টারা প্রেসিডেন্টকে বাস্তব পরিস্থিতি না বুঝিয়ে উল্টো তার হাতের মুঠো থেকে নির্বাচন চুরি করে নিয়ে যাওয়ার ভিত্তিহীন অভিযোগকে আরও শক্ত করে আঁকড়ে ধরে রিপাবলিকান প্রার্থীর মন যুগিয়ে চলছেন। বুধবার যুক্তরাষ্ট্র সময় ভোরের আগে আগে সর্বশেষ জনসম্মুখে আসা ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্সও ট্রাম্পের আইনী লড়াইয়ের জন্য অর্থ যোগাড়ে নেমে প্রেসিডেন্টকে শান্ত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। শুক্রবার সকালে ক্ষুব্ধ ও হতাশ ট্রাম্প টেলিভিশন দেখতে দেখতে তার পক্ষে খুব বেশি মানুষকে না দেখে আরও মুষড়ে পড়েন। সেদিন বিকেলে দেয়া লিখিত বিবৃতিতে ট্রাম্প আইনী লড়াই চালিয়ে যাওয়ারও ইঙ্গিত দিয়েছেন। বিবৃতিতে তিনি বলেন, এটা আর কেবল একটি একক নির্বাচনের বিষয় নয়। এটা আমাদের সমগ্র নির্বাচনী প্রক্রিয়ার শুদ্ধতার বিষয়। যুক্তরাষ্ট্রের জনগণ যেন আমাদের সরকারের ওপর আস্থা পায় তা নিশ্চিত করতে আমরা এই প্রক্রিয়াকে আইনের যত দিক আছে সবগুলোর ভেতর দিয়ে নিয়ে যাব।

এখন পর্যন্ত ফল নির্ধারিত না হওয়া দোদুল্যমান অঙ্গরাজ্যগুলোতে বাইডেন ট্রাম্পের তুলনায় এগিয়ে আছেন। সব ভোট গণনা শেষে ২-১ দিনের ভেতর তার জয় নিশ্চিত হয়ে গেলে সোমবার থেকেই তার নির্ধারিত টিমের সদস্যরা ট্রাম্পের হাত থেকে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু করবেন।

জাতির উদ্দেশে বাইডেনের ভাষণ ॥ ‘আমরা ঐতিহাসিক জয় পেতে যাচ্ছি’ বলে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে এগিয়ে থাকা ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেন। তিনি বলেছেন, স্পষ্টত আমাদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। এ নির্বাচনে আমরা জয়ী হতে চলেছি। বিজয় ঘোষণা শুধু সময়ের ব্যাপার। স্থানীয় সময় শুক্রবার ডেলাওয়্যারের উইলমিংটন থেকে দেয়া জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে এ কথা বলেন বাইডেন। ভাষণে বাইডেন বলেন, এটি স্পষ্ট, আমরা জয়ী হতে চলেছি। আমার রানিং মেট কমলা হ্যারিস এরইমধ্যে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে মিটিংও করেছেন। তারা হোয়াইট হাউসের জন্য প্রস্তুত রয়েছেন। আমরা সাত কোটি ৪০ লাখের বেশি ভোট পেয়েছি। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এত বেশি ভোট আর কোন প্রেসিডেন্ট পাননি। ভাষণে তিনি যুক্তরাষ্ট্রবাসীকে আহ্বান জানিয়েছেন ঐক্যবদ্ধ হয়ে তার পেছনে দাঁড়াতে; বলেছেন, ভোট ঘিরে তিক্ততা ভুলে সামনের দিকে তাকাতে। জর্জিয়া, আরিজোনা, পেনসিলভানিয়া ও নেভাডায় সর্বশেষ ফল বাইডেনের ২৭০ ইলেক্টোরাল ভোট জয় প্রায় স্পষ্ট করে তুলেছে; যদিও এই গণনা নিয়ে আদালতে যাচ্ছে ট্রাম্প শিবির। এই পরিস্থিতিতে উচ্ছ্বসিত সমর্থকদের সামনে ভাষণ দিতে দাঁড়িয়ে বাইডেন বলেন, সংখ্যাগুলো বলে দিচ্ছে … এটা এখন স্পষ্ট এবং বলাই যায়, আমরা জিততে চলছি। ব্যাটল গ্রাউন্ড অঙ্গরাজ্যগুলোর সবশেষ ফল দেখিয়ে তিনি বলেন, ২৪ ঘণ্টা আগে আমরা পেনসিলভানিয়ায় পিছিয়ে ছিলাম আর এখন আমরা পেনসিলভানিয়া জয় করতে যাচ্ছি। আমরা আরিজোনায় জয়ী হচ্ছি, নেভাডায় জয়ী হচ্ছি, নেভাডায় দ্বিগুণ ভোটে এগিয়ে গেছি আমরা। গতকাল স্থানীয় মার্কিন সময় থেকে কী ঘটেছে, শুধু তার দিকে তাকান। ২৪ ঘণ্টা ধরে জর্জিয়ায় আমরা পিছিয়ে ছিলাম, এখন আমরা এগিয়ে জয় পেতে যাচ্ছি। আমরা ৩০০ ইলেক্টোরাল ভোটের পথে আছি। জাতি আমাদের সঙ্গে আছে। বাইডেন বলেছেন, এই ভোট তাকে করোনাভাইরাস মহামারী, অর্থনীতি, জলবায়ু পরিবর্তন ও বর্ণবাদ নিয়ে কথা বলার ‘নির্দেশ দিয়েছে’। জাতির মধ্যে যে বিভেদ দেখা দিয়েছে স্বীকার করে নিয়ে ভোটের শেষে তিক্ত অতীত ভুলে সামনে তাকাতে যুক্তরাষ্ট্রবাসীকে আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি রিপাবলিকানদের উদ্দেশে বলেন, কঠিন একটা নির্বাচনের পরও উত্তেজনা চলছে। তবে আমি বলব, রাগবিরাগ পেছনে ফেলে রাখতে। আমাদের সামনে বড় সমস্যা, এখন দলাদলি করে নষ্ট করার সময় নেই। আর আমরা প্রতিপক্ষ হতে পারি, তবে পরস্পরের শত্রু নই। সবশেষে তিনি যুক্তরাষ্ট্রবাসীকে গণতন্ত্রের ওপর আস্থা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, আমরা আবার প্রমাণ করছি, যুক্তরাষ্ট্রে আমরা ২৪৪ বছর ধরে প্রমাণ করে আসছি, গণতন্ত্র এখানে কার্যকর। আপনার ভোট অবশ্যই গোনা হবে। এটি বন্ধ করার জন্য লোকজন কত চেষ্টা করল, তা গ্রাহ্য করি না আমি। ঈশ্বর আপনাদের মঙ্গল করুন, ঈশ্বর আমাদের সেনাদের মঙ্গল করুন।

বাইডেনের বাড়ির ওপর নো ফ্লাই জোন ঘোষণা ॥ নির্বাচনের সবশেষ ফল অনুযায়ী প্রেসিডেন্ট পদে বর্তমান প্রেসিডেন্ট ও রিপাবলিকান প্রার্থী ট্রাম্পের চেয়ে এগিয়ে আছে বাইডেন। এ অবস্থায় বাইডেনের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বাড়িয়েছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা। এরই অংশ হিসেবে বাইডেনের ডেলাওয়্যার অঙ্গরাজ্যের উইলমিংটনের বাড়ি ও আশপাশের এলাকায় সাময়িকভাবে প্লেন চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে ‘নো ফ্লাইং জোন’ ঘোষণা করেছে মার্কিন ফেডারেল এ্যাভিয়েশন এ্যাডমিনিস্ট্রেশন। সেখানে মোতায়ন করা হয়েছে অতিরিক্ত সিক্রেট সার্ভিস সদস্য। নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল এখনও ঘোষণা করা না হলেও বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের ফলে দেখা যাচ্ছে যে বাইডেনই হতে যাচ্ছেন ৪৬তম মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এ পর্যন্ত তিনি ২৬৪ ইলেক্টোরাল কলেজ ভোট পেয়েছেন। যেখানে ট্রাম্প পেয়েছেন ২১৪টি ইলেক্টোরাল ভোট। ফলে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা শুক্রবার থেকে সম্ভাব্য প্রেসিডেন্ট বাইডেনের নিরাপত্তা জোরদার করেছে। ডেলাওয়্যারে থাকা বাইডেনের নিরাপত্তা জোরদারে এরইমধ্যে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো উদ্যোগী হয়েছে। উইলমিংটনের আকাশে বিমান চলাচল সীমিত করা হয়েছে।

জর্জিয়ায় পুনরায় ভোট গণনা ॥ প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যেও সেক্রেটারি অব স্টেট ব্র্যাড রাফেন্সপার্গার আবার জর্জিয়ায় ভোট গণনার ঘোষণা দিয়েছেন। এ পর্যন্ত পাওয়া ফল অনুযায়ী এ অঙ্গরাজ্যটিতেও রিপাবলিকান প্রার্থী ট্রাম্পের চেয়ে এগিয়ে আছেন ডেমোক্র্যাট বাইডেন। জর্জিয়ায় এখন মাত্র চার হাজার ১৬৯ ভোট গণনা বাকি আছে। আট হাজারের মতো সামরিক ভোট মেইলে রয়েছে। সেগুলো আজকের মধ্যে পৌঁছালে তা গণনা করা হবে। ভোট পুনরায় গণনার বিষয়টি নিশ্চিত করে জর্জিয়ার গবর্নর ব্র্যাড রাফেন্সপার্গার জানিয়েছেন, দুই প্রার্থীর মধ্যে ভোটের ব্যবধান খুবই কম থাকায় ভোট পুনরায় গণনা করা হবে। এ মুহূর্তে জর্জিয়ায় ফল ঘোষণা করা কঠিন। ভোটের ব্যবধান এতই কম যে নতুন করে গণনা করতে হবে। এ অঙ্গরাজ্যটিতে ইলেক্টোরাল ভোট রয়েছে ১৬টি। ট্রাম্পের চেয়ে দেড় হাজারের কিছু বেশি ভোটে এগিয়ে আছেন বাইডেন। ৯৯ শতাংশ ভোট গণনা শেষে বাইডেন রিপাবলিকান ট্র্যাম্পের চেয়ে ১ হাজার ৫৭৯ ভোটে এগিয়ে আছেন। দুজনেই পেয়েছেন ৪৯ দশমিক ৪ শতাংশ ভোট। পুনঃগণনার বিষয়টি নিশ্চিত করে জর্জিয়ার সেক্রেটারি অব স্টেট ব্র্যাড র‌্যাফেনস্পের্জার শুক্রবার আটলান্টায় বলেন, পুরো স্বচ্ছতার সঙ্গেই কাজটি করা হবে।

২৮ বছর পর জর্জিয়া-আরিজোনা ডেমোক্র্যাটদের দখলে ॥ রিপাবলিকানদের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত জর্জিয়া ও আরিজোনা অঙ্গরাজ্য দীর্ঘ ২৮ বছর পর ডেমোক্র্যাটদের দখলে যাচ্ছে। এ দুই অঙ্গরাজ্যে বাইডেন এগিয়ে রয়েছেন। জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে বাইডেন বলেছেন, আমরা জিতব, আপনারা ধৈর্য ধরুন। এখনও ভোট গণনা চলছে। আমি অনুরোধ করব, আপনারা ধৈর্যহারা হবেন না, আমরা ঐতিহাসিক জয় পেতে যাচ্ছি। ২৮ বছর পর জর্জিয়া ও ২৪ বছর পর আরিজোনা অঙ্গরাজ্য আমাদের দখলে আসতে যাচ্ছে। আমরা এ প্রতিযোগিতায় জিততে যাচ্ছি। ২৪ ঘণ্টা আগেও আমরা জর্জিয়ায় পিছিয়ে ছিলাম। কিন্তু এখন আমরা এগিয়ে এবং আমরা সেখানে জিততে যাচ্ছি। ২৪ ঘণ্টা আগে আমরা পেনসিলভানিয়াতেও পিছিয়ে ছিলাম। সেখানেও আমরা জিততে যাচ্ছি। আরিজোনাতেই একই অবস্থা। পিছিয়ে থাকার পর আমরা এগিয়ে গেছি।

চুপিসারে ট্রাম্পের কাছ থেকে সরছেন কর্মকর্তারা ॥ ভোটে হেরে যাওয়ার আভাস পেয়ে নির্বাচনী প্রচার শিবির ও হোয়াইট হাউসের বেশ কয়েক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা চুপিসারে ট্রাম্পের কাছ থেকে সরে যেতে শুরু করেছেন। বাইডেন ভোটের হিসাবে পেনসিলভানিয়া ও জর্জিয়ায় ট্রাম্পকে টপকে যাওয়ার পর ওই কর্মকর্তারা সরতে শুরু করেন। পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে ট্রাম্প প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ এক উপদেষ্টা প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিয়ে বলেন, এটা শেষ হয়ে গেছে। ট্রাম্প কী করবেন, তিনি পরাজয় মেনে নেবেন কিনা তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। ট্রাম্প কী করতে পারেন প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ঈশ্বর, কে জানে? ভোটের ফল নিয়ে ট্রাম্পের লড়াইয়ের অধিকার থাকলেও যে প্রক্রিয়ায় বিষয়টি নিয়ে আগানো হচ্ছে, তা ঠিক নয় বলে মনে করেন তিনি। এ নিয়ে ট্রাম্পের প্রচার শিবিরেও প্রশ্ন উঠেছে বলে জানান তিনি। ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারের আরেক উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচন ‘চুরি হয়ে যাওয়ার’ যে অভিযোগ ট্রাম্প করেছেন, সে বিষয়ে তিনি ক্রমশ একা হয়ে পড়ছেন। দুই উপদেষ্টার ভাষ্যমতে, এখনও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের আশপাশে এমন কিছু পরামর্শক ও সহযোগী রয়েছেন যারা সেটাই বলেন যেটা তিনি শুনতে চান। এই বিষয়টিই নাটক দীর্ঘায়িত করবে বলে তাদের ধারণা।

বিক্ষোভ ও সমাবেশ অব্যাহত ॥ যুক্তরাষ্ট্রের এবারের নির্বাচনকে ঘিরে ব্যাপক নাটকীয়তা ও উত্তেজনা এখনও বিরাজ করছে। ৫১ অঙ্গরাজ্যের অনেক শহরে ট্রাম্প সমর্থকরা ভোট কেন্দ্রের বাইরে সশস্ত্র অবস্থায় বিক্ষোভ করছে। তারা ভোট গণনা বন্ধ করার দাবি জানিয়েছে। পাশাপাশি বাইডেনের সমর্থকরাও বিভিন্ন শহরে জড়ো হয়ে প্রতিটি ভোট গণনা করতে হবে দাবি জানিয়ে যাচ্ছে। তারা সারারাত ধরে রাস্তায় অবস্থান করছে। সবাই বিজয় দেখে বাড়ি ফিরতে চান।

বাইডেনের প্রচার শিবিরে উৎসব ॥ ডেলাওয়্যারের উইলমিংটন থেকে এবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু করেছিলেন বাইডেন; সেখানেই তার সমর্থকরা উৎসবে মেতে ওঠে। শুক্রবার বাইডেনের সমর্থকদের দিন শুরু হয়েছিল কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্যের চূড়ান্ত ফলের ভাবনা নিয়ে; বেলা গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে তা অনেকটা লাঘব হয়েছে। এর মধ্যে ২০ ইলেক্টোরাল ভোটের অঙ্গরাজ্য পেনসিলভানিয়ায় বিজয়ের চূড়ান্ত ঘোষণাই বাইডেনের হোয়াইট হাউস নিশ্চিত করে দিতে পারে। ভোট গণনা শেষ না হওয়ায় সেই ঘোষণা পেতে অপেক্ষা করতে হবে আরও; তবে উইলমিংটনে বাইডেনের বাড়ির কাছে ওয়েস্টিন হোটেলের বাইরে এরই মধ্যে সমর্থকদের উৎসব শুরু হয়ে গেছে। সিকিউরিটি ব্যারিয়ার আর বাইডেন-হ্যারিস লেখা ক্যাম্পেন সাইন বসিয়ে ইতোমধ্যে একটি জায়গা ঘিরে ফেলা হয়েছে, সেখানেই স্থানীয় সময় শুক্রবার সন্ধ্যায় ভাষণ দেন বাইডেন। পার্কিং লটের বাইরে বহু মানুষ খবরের আশায় অপেক্ষা করছে। বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তার আয়োজন।

ফল প্রত্যাখ্যান ট্রাম্পের ॥ ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেনের নির্বাচনে বেসরকারীভাবে বিজয়ের ফল প্রত্যাখ্যান করেছে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তুলে ফল প্রত্যাখ্যান করে আইনী লড়াইয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ট্রাম্প। ক্ষমতা হস্তান্তরে ট্রাম্প প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করলে সেটি হবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী সংস্কৃতিতে এক বিরল ঘটনা। সাধারণত পরাজিত প্রার্থীদের ফল মেনে নিতেই দেখা যায় যুক্তরাষ্ট্রে। গেল ২০১৬ প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ফল ঘোষণার পর দায়িত্ব গ্রহণের আগেই বিজয়ী প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হোয়াইট হাউসে অভ্যর্থনা জানিয়েছিলেন সে সময়ের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। তবে ইতোমধ্যে ফল প্রত্যাখ্যান করে ট্রাম্প গণমাধ্যমগুলোকে বলেন, আমরা সবাই জানি যে কেন বাইডেন তাড়াহুড়ো করে বিজয়ী হিসেবে মিথ্যাচার করছেন এবং তার মিডিয়া সহযোগীরা তাকে সহযোগিতা করছেন। আর সেটি হচ্ছে তারা চায় না যে, সত্য উন্মোচিত হোক। কিন্তু সত্য কথা হচ্ছে নির্বাচন এখনও শেষ হয়নি।

ট্রুডোর অভিনন্দন ॥ দেশটির বর্তমান এবং পরাজিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফল মানুক আর নাই মানুক বিভিন্ন রাষ্ট্রপ্রধান এবং বিশ্ব নেতাদের কাছ থেকে শুভেচ্ছা বার্তা পেতে শুরু করেছেন বাইডেন ও কমলা। এরই মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট পদে জো বাইডেন এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে কমলা হ্যারিসের বিজয় উপলক্ষে অভিনন্দন জানিয়ে শুভেচ্ছা বার্তা দিয়েছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক গণঅধিকার'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyganoadhikar@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

দৈনিক গণঅধিকার'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। দৈনিক গণঅধিকার | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT