ঢাকা, বৃহস্পতিবার ২৮ অক্টোবর ২০২১, ১৩ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

পিআইডি এর নিয়ম অনুসারে আবেদিত

বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যের ওপর হামলার চরম মূল্য দিতে হবে

প্রকাশিত : 11:05 AM, 8 December 2020 Tuesday

গণঅধিকার নিউজ ডেস্কঃ

রাজধানীর ধোলাইপাড়ে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্মাণাধীন ভাস্কর্য নিয়ে সাম্প্রদায়িক সংগঠন হেফাজতের বিরোধিতার মধ্যেই কুষ্টিয়ায় জাতির পিতার ভাস্কর্য ভেঙ্গে দেয়া হয়েছে। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে চারজনকে গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। অপরাধীরা বলছে, মামুনুল ও বাবুনগরীর বক্তব্যে উদ্বুদ্ধ হয়েই তারা বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভেঙ্গেছে। এই ঘটনার প্রতিবাদে সারাদেশ এখন উত্তাল। এমন বাস্তবতায় সোমবার সরকারের পক্ষ থেকে অবস্থান পরিষ্কার করা হয়েছে। সচিবালয়ে সমসাময়িক বিষয় নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সড়ক পরিবহন সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যের ওপর হামলার মতো ধৃষ্টতা যারা দেখাবে, তাদের চরম মূল্য দিতে। তিনি বলেন, দেশের স্থিতিশীলতা যাতে নষ্ট হয় সে উস্কানি দিচ্ছে বিএনপি।

ভাস্কর্যের বিকল্প হিসেবে ‘মুজিব মিনার’ নির্মাণের যে প্রস্তাব হেফাজতে ইসলামসহ বিরোধীরা দিয়েছে, তা নাকচ করে দিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ভাস্কর্য নির্মাণকাজ, যেটা নির্মাণাধীন, নির্মাণকাজ চলবে। আমরা ভাস্কর্য নির্মাণ করব। তারা যে প্রস্তাব দিয়েছে, এটি তারা দেখুক এটি তাদের বিষয়। তাদের সঙ্গে সরকারের কোন সম্পর্ক নেই বলেও উল্লেখ করেন মন্ত্রী।

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, ভাস্কর্য ভাঙ্গা বা ভেঙ্গে ফেলার হুমকির মতো ঘটনা যারা ঘটাবে সেটিতো অবশ্যই সংবিধান ও রাষ্ট্রদ্রোহের শামিল। কারণ বঙ্গবন্ধু তো আমাদের জাতির পিতা সাংবিধানিকভাবে।

তিনি বলেন, আমি মনে করি, বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যের ওপর হামলা যারাই করবে, এ ধৃষ্টতা যারাই দেখাবে, তাদের চরম মূল্য দিতে হবে। কোন অবস্থাতেই এ প্রশ্নে আপোস করা যায় না। এটা অযৌক্তিক, অগ্রহণযোগ্য।

ধর্ম অবমাননার অভিযোগে নীলফামারীতে মানুষ পুড়িয়ে ফেলা ও বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙ্গার মাধ্যমে দেশে মৌলবাদের উত্থান হচ্ছে কিনা জানতে চাইলে সড়ক পরিবহনমন্ত্রী বলেন, শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের ব্যানারে একটা আন্দোলন হয়েছিল, সেটাও তো দীর্ঘস্থায়ী হয়নি, মুসলিম দেশগুলোতে এ বিষয়গুলো থাকে মাঝে মাঝে ধর্মীয় ইস্যু চলে আসে এর পেছনে রাজনৈতিক কারণও আছে। আমরা এটা অবজার্ভ করছি, এখন তো সারাদেশে রাজনৈতিক না স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনও প্রতিবাদ করছে। আমি মনে করি কিছু কিছু বিষয় আছে, যেগুলো রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা করা উচিত।

হেফাজতের সঙ্গে সরকার ‘সুসম্পর্ক’ গড়ায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে কারও কারও মন্তব্যের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, এ কথাটা মোটেও সঠিক নয়। কারণ তারা ১৪ লাখ কওমি মাদ্রাসার স্টুডেন্ট, এদের মেইন স্ট্রিম থেকে নিয়ে আসতে তাদের দাবি মেনে নেয়া হয়েছে। এর মানে এই নয় যে তাদের সঙ্গে রাজনৈতিক সম্পর্ক করা হয়েছে। হেফাজত কোন রাজনৈতিক সংগঠনও নয়, কোন সমঝোতার বিষয় নেই।

জাতির জনকের ভাস্কর্যের বিরোধিতায় বক্তব্য দেয়ায় রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে সোমবার দুটি মামলার আবেদন জমা পড়েছে ঢাকার আদালতে। ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম সত্যব্রত শিকদারের আদালতে এ মামলাটি করেন মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের কেন্দ্রীয় সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল রাষ্ট্রদ্রোহের মামলাটি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। আদালত বাদীর জবানবন্দী গ্রহণ করে পিবিআই ডিআইজিকে আগামী ৭ জানুয়ারির মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেয়।

আওয়ামী লীগ বা যুবলীগ মামলা করল না কেন জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, বঙ্গবন্ধু কি কোন দলের, নন পলিটিক্যাল মঞ্চ থেকে করা ভাল বলে আমি মনে করি। ভাস্কর্য ভাংচুরে কাউকে হুকুমের আসামি করা হবে কিনা জানতে চাইলে কাদের বলেন, আমরা যদি সেরকম প্রমাণ পাই কারও বিরুদ্ধে হুকুম দিয়েছে সাক্ষ্য প্রমাণ থাকে তাহলে আমরা ব্যবস্থা নেব।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নেতা এবং হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হক রাজধানীর ধোলাইরপাড়ে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নির্মাণে আপত্তি জানিয়েছেন। ভাস্কর্য নির্মাণ করা হলে তা বুড়িগঙ্গায় ফেলে দেয়ার হুমকি দিয়ে বলেছেন, মসজিদের নগরীতে কোন ভাস্কর্য বা মূর্তি থাকতে পারবে না।

এ বিষয়ে সরকার কোন পদক্ষেপ নেবে কিনা জানতে চাইলে সড়কমন্ত্রী বলেন, আমরা সরকারে আছি ক্ষমতায় আছি আমাদের ঠাণ্ডা মাথায় থাকতে হবে। কথায় কথায় মাথা গরম করলে চলবে না, বুঝে শুনে পরিস্থিতি ট্যাকেল করতে হবে।

কাদের বলেন, কারও বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গিয়ে এখানে আবার আমাদের দেশে ধর্ম একটি গুরুত্বপূর্ণ ও সেনসিটিভ ইস্যু। কাজেই এখানে প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং বিষয়গুলো দেখছেন এবং এটা ট্যাকেল করছেন সেভাবে, আমরা অহেতুক দেশে একটা অশান্তি-বিশৃঙ্খল পরিবেশের উস্কানি দিতে চাই না। আমরা যুক্তি দিয়ে বলতে চাই, তারা যা বলছে তা সঠিক না।

পরিস্থিতি যে পর্যায়ে রয়েছে তাতে যুক্তি দিয়ে সমাধান সম্ভব কিনা জানতে চাইলে কাদের বলেন, সরকার প্রধান যদি মনে করেন, তাহলে হতে পারে, তার সিদ্ধান্তের ব্যাপার।

হেফাজতে ইসলামের নেতারা এখন তাদের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করতে চাইছেন, প্রধানমন্ত্রী সাক্ষাত দেবেন কিনা সেই প্রশ্নে কাদের বলেন, প্রধানমন্ত্রী সাক্ষাত দেবেন কিনা বা কবে দেবেন- এটা আমার জানা নেই।

ভাস্কর্য বিরোধিতায় বিএনপি-জামায়াতের উস্কানি আছে কিনা জানতে চাইলে কাদের বলেন, বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি। কুষ্টিয়ার ঘটনা সরকার নিজে ঘটিয়েছে বলে বিএনপি নেতাদের দাবির বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, আমি যদি বলি, বিএনপি নিজেই তৈরি করেছে, ঘটনাটি বিএনপি ঘটিয়েছে। বিএনপি এখানে উস্কানিতে আছে কিনা আমরা তা দেখছি।

তারা তো একটা আন্দোলন নিজেরা করতে পারেনি। তারা আজকে বড় বড় কথা বলে এক হাজার লোক নিয়ে একটা বিক্ষোভ মিছিল করতে পারেনি নিজেদের নেতার জন্য তাদের যে অক্ষমতা-দুর্বলতা তারা এটা ঢাকবে কীভাবে।

দেশের স্থিতিশীলতা যাতে নষ্ট হয় সে উস্কানি দিচ্ছে বিএনপি ॥ কুষ্টিয়ায় বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙ্গার পেছনে বিএনপি-জামায়াতের উস্কানি আছে কিনা সেটা খতিয়ে দেখা হচ্ছে জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, দেশের স্থিতিশীলতা যাতে নষ্ট হয় সে উস্কানি দিচ্ছে বিএনপি।

তারা তো ভর করে বিভিন্ন আন্দোলনের ওপর। এখন তারা আর কিছু না পেয়ে হেফাজতের ইস্যুতে ভর করছে কিনা সেটা খতিয়ে দেখার বিষয়। কারণ নিজেদের তো কিছু করার সামর্থ্য নেই, সেটা প্রমাণিত।

কাদের বলেন, বিএনপি মুখে মুখে গণতন্ত্র নষ্ট হয়ে যাচ্ছে বলে। সরকার নাকি দেশের স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে চায়। ২১ আগস্ট ভ্যানিটি ব্যাগ নিয়ে শেখ হাসিনা আত্মহত্যা করতে গিয়েছিলেন- তাদের বক্তব্যের অর্থ তো এরকম দাঁড়ায়। দেশে স্থিতিশীলতা না থাকলে ক্ষতি তো আমাদের। আমরা কেন স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে যাব।

বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙ্গার পেছনে বিএনপি-জামায়াতের উস্কানি আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিএনপি-জামায়াতের উস্কানি আছে কিনা সেটি আমরা খতিয়ে দেখছি।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন কুষ্টিয়ায় বঙ্গবন্ধু ভাস্কর্য ভাঙ্গার ঘটনাটি সরকার নিজেই ঘটিয়েছে। এমন প্রশ্নের জবাবে কাদের বলেন, আমি যদি বলি, বিএনপি তৈরি করেছে? ঘটনাটি বিএনপিই ঘটিয়েছে। বিএনপি এখানে উস্কানিতে আছে কিনা আমরা দেখছি। তারাতো কোন আন্দোলন নিজেরা করতে পারে না। তাদের নেত্রীর জন্য কোন একটি বিক্ষোভ মিছিলও আজ পর্যন্ত করতে পারেনি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মহানুভবতা দিয়ে খালেদা জিয়াকে প্রথমে ছয় মাস, পরে আরও ছয় মাস তার সাজা স্থগিত করে তাকে মুক্তি দিয়েছেন শারীরিক বা মানবিক কারণে। এখানে তো বিএনপি আন্দোলন করে চাপ দিয়ে সরকারকে বাধ্য করেছে- এ কথাটা মির্জা ফখরুলের বলার কোন সুযোগ নেই।

সেতুমন্ত্রী বলেন, গণতন্ত্র এভাবে আসে না। গণতন্ত্রের নানা দিক আছে। গণতন্ত্র শৃঙ্খলমুক্ত, কিন্তু গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়াটা এখন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। গণতন্ত্রে বিরোধীদল অপরিহার্য। কিন্তু মির্জা ফখরুল সাহেব নির্বাচন করে নির্বাচিত হয়ে তিনি পদত্যাগ করলেন। অথচ তাদের দলের আর একজনকে মনোনয়ন দিলেন। এটা কেমন গণতন্ত্র? আজ মির্জা ফখরুল যদি সংসদে থাকতেন তাহলে বিরোধীদলের কণ্ঠস্বর আরও উঁচু ও জোরালো হতো, আরও বার্তা যেত ভালভাবে। তিনি পার্লামেন্টে গেলে আরও অনেক ভূমিকা রাখতে পারতেন বলেও মনে করেন আওয়ামী লীগের এই শীর্ষ নেতা।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক গণঅধিকার'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyganoadhikar@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

দৈনিক গণঅধিকার'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। দৈনিক গণঅধিকার | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT