ঢাকা, সোমবার ২৫ অক্টোবর ২০২১, ১০ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

পিআইডি এর নিয়ম অনুসারে আবেদিত

বঙ্গবন্ধুর প্রতি অবমাননা বেসরকারি খাত মেনে নেবে না : এফবিসিসিআই

প্রকাশিত : 08:34 AM, 13 December 2020 Sunday

গণঅধিকার নিউজ ডেস্কঃ

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য ভাঙ্গার প্রতিবাদে রাজপথে নেমে এলেন দেশের ব্যবসায়ী ও শিল্পোদ্যোক্তারা। ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের আহ্বানে সারাদেশে প্রতিবাদ সরূপ ব্যবসায়ীরা একঘণ্টা মানবন্ধন কর্মসূচী পালন করে। ওই মানববন্ধনে এফবিসিসিআই সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম বলেন, জাতির জনকের প্রতি অবমাননা বাংলাদেশের বেসরকারি খাত কখনো মেনে নেবে না।

শনিবার ঢাকাসহ সারাদেশে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙ্গার প্রতিবাদে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন ব্যবসায়ীরা। রাজধানীর মতিঝিলে শাপলা চত্বরে এফবিসিসিআইয়ের প্রেসিডেন্ট শেখ ফজলে ফাহিমের নেতৃত্বে সকাল সাড়ে ১১ থেকে বেলা সাড়ে ১২ পর্যন্ত আয়োজিত মানবন্ধন পালিত হয়। ওই মানব বন্ধনে এফবিসিসিআইয়ের ভাইস প্রেসিডেন্ট, ডিরেক্টর, সদস্য সংগঠন ও চেম্বারের নেতাসহ সর্বস্তরের ব্যবসায়ীরা অংশ নেন। এছাড়া একই সময়ে দেশের সব মহানগর ও জেলা শহরগুলোয় একসঙ্গে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়।

মানববন্ধন কর্মসূচি পালনকালে এফবিসিসিআইয়ের প্রেসিডেন্ট শেখ ফজলে ফাহিম বলেন, বাংলাদেশের ব্যবসায়ী খাতের সকল সংগঠন আজ সমাবেত হয়েছে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য ভাঙা ও অবমাননার প্রতিবাদ জানানোর জন্য। জাতির জনকের প্রতি অবমাননা বাংলাদেশের বেসরকারি খাত কখনো মেনে নেবে না।

তিনি বলেন, ৩০ লাখ শহীদ ও দুই লাখ মা-বোনের ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে স্বাধীনতা। দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রামের মাধ্যমে মুজিব ভাই বঙ্গবন্ধু হয়ে উঠেছিলেন। অথচ ১৯৭৫ সালের ১৫ আগেস্টের পর বঙ্গবন্ধুর নামটাই বাংলাদেশ থেকে মুছে দেয়ার অপপ্রয়াস চালানো হয়েছিল। কিন্তু এসব অপচেষ্টা কখনো সফল হয়নি, হবে না।

তিনি আরো বলেন, স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীর প্রাক্কালে একটি শ্রেণী বাংলাদেশের যুবসমাজকে ভুল পথে পরিচালিত করার জন্য, ভুল শিক্ষা দেয়ার জন্য অপপ্রয়াস চালাচ্ছে। তাদের সেই দুরাভিসন্ধি কখনো সফল হবে না। এফবিসিসিআই প্রেসিডেন্ট বলেন, বঙ্গবন্ধু মানেই বাংলাদেশ। উনার রোপন করা সোনার বাংলা আজ বিস্তার লাভ করেছে। তারই ধারাবাহিকতায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ২০০৮ সাল থেকে উন্নয়নের পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়েছে।

সারা দেশ থেকে বেসরকারি খাতের যারা এখানে সমাবেত হয়েছে, তারা এই অগ্রযাত্রাকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। এই অগ্রগতির পথে যারা বাধা হয়ে দাঁড়াবে, স্বাধীনতার বিপক্ষে অবস্থান নেবে, তাদের সবার জন্য আজকের এই মানববন্ধন একটি সতর্কবাণী।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের ধর্মপ্রাণ জনগণের চেষ্টায় আল্লাহু সুবহানাল্লাহ তায়ালার রহমতে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, আমরা সম্মানিত আলেমদের শ্রদ্ধা করি। কিন্তু তাদের লেবাস পড়ে কোন স্বার্থান্বেষী মহলকে বঙ্গবন্ধুকে অবমানননা, ধর্মকে ব্যবহার করে তাদের ব্যক্তিগত বা গোষ্ঠীগত স্বার্থ হাসিল করতে দেয়া হবে না। শেখ ফজলে ফাহিম বলেন, জাতির জনককে যারা অবমাননা করবে, তাদের চাল-ডালসহ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য সরবরাহ বন্ধ করে দেয়ার ক্ষমতা বাংলাদেশের বেসরকারি খাতের আছে। তবে আমরা বিশ্বাস করি যারা বঙ্গবন্ধুকে অবমাননার ধৃষ্টতা দেখাবে, রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডের দুঃসাহস দেখাবে নিশ্চয় সরকার তাদের বিরুদ্ধে সংবিধান ও আইনানুয়ায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেবে।

ওই অনুষ্ঠানে রিহ্যাবের সভাপতি আলমগীর শামসুল আলামিন, বঙ্গবন্ধুতে আঘাত করা মানে স্বাধীনতাকে আঘাত করা, দেশকে আঘাত করা। যারা এ ধরনের কর্মকাণ্ড করে, আমরা অবশ্যই তাদের খুঁজে বের করব। বায়রার প্রেসিডেন্ট বেনজীর আহমেদ বলেন, একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে এ ধরনের উদ্যোগ নেয়ার জন্য এফবিসিসিআইকে ধন্যবাদ জানাই। পাকিস্তানী দোসরদের বিরুদ্ধে বঙ্গবন্ধু কন্যার নেতৃত্বে আমরা লড়ে যাব।

বিজিএমইএ’র সহ-সভাপতি এস এম মান্নান কচি বলেন, যারা একদিন স্বাধীনতা চাইনি, যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছে, তারাই ষড়যন্ত্র করে ১৯৭৫ সালে বাঙ্গালী জাতির মহানায়ককে হত্যা করেছিল। স্বাধীন বাংলাদেশে দাঁড়িয়ে তারা আজো ধর্মের নামে ষড়যন্ত্র করছে। আমরা যারা স্বাধীনতার চেতনায় বিশ্বাসী তারা কখনো এটা সহ্য করবো না।

এফবিসিসিআইয়ের ডিরেক্টর সালাউদ্দিন আলমগীর বলেন, বাংলাদেশ একটি ছোট দেশ হয়েও দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। এরই মধ্যে আমাদের রিজার্ভ ৪২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। আর কিছুদিনের মধ্যেই তা ৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের মাইলফলক স্পর্শ করবে।

সেই দেশে কোন অপশক্তির অপপ্রয়াস গ্রহণযোগ্য নয়। যদি ব্যবসায়ীরা চায়, তাহলে কালকে থেকে আপনার ঘরে লবণ পৌঁছাবে না, চিনি পৌঁছাবে না।এফবসিসিআই প্রেসিডেন্ট শেখ ফজলে ফাহিমের নেতৃত্বে ব্যবসায়ীরা দেশবাসীর পক্ষ থেকে সকল অপশক্তিকে প্রতিরোধ করবে।

ঢাকা মেট্রোপলিটন চেম্বারের সভাপতি নিহাদ কবির বলেন, যারা বঙ্গবন্ধুকে অবমাননা করে তাদের সতর্ক করে বলছি, এ ধরনের ধৃষ্টতা দেখাবেন না। আমরা তা মেনে নেব না। বাংলাদেশ স্টিল ম্যানুফাকচারারস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মনোয়ার হোসেন বলেন, আমি বঙ্গবন্ধুকে অবমাননার তীব্র প্রতিবাদ জানাই।

যাদের সন্তানরা এই ঘটনা ঘটিয়েছে, তাদেরকে বলতে চাই, আপনার যে সন্তান জাতির পিতাকে সম্মান দিতে জানে না, সে সন্তান আপনাকেও সম্মান দেবে না। প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের চেয়ারম্যান আহসান খান চৌধুরী বলেন, আমাদের একমাত্র এজেন্ডা হওয়া উচিত বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধুকে অবমাননার কোন স্থান হবে না। বাংলাদেশ ডাইড ইয়ার্ন এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশননের সভাপতি মোহাম্মদ আলী খোকন বলেন, ধর্মকে পুঁজি করে একটি মহল বাংলাদেশে অরাজকতা সৃষ্টি করতে চাইছে। আমার ব্যবসায়ী মহল তা হতে দেব না। ঢাকা চেম্বারের সভাপতি শামস মাহমুদ, বঙ্গবন্ধুকে অবমাননার তীব্র নিন্দা জানাই।

বিজিএমইএর সভাপতি পদপ্রার্থী ফারুক হোসেন বলেন, বাংলাদেশ যখন এগিয়ে যাচ্ছে, তখন একটি মহল তাতে বাধা হয়ে দাঁড়াতে চাইছে। আমরা তা মেনে নেব না। এফবিসিসিআইয়ের ভাইস-প্রেসিডেন্ট রেজাউল করিম রেজনুর সঞ্চালনায় মানববন্ধনে চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি মাহবুবুল আলম ও রাজশাহী চেম্বারের সভাপতি মনিরুজ্জামন মনি ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে বক্তব্য রাখেন।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক গণঅধিকার'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyganoadhikar@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

দৈনিক গণঅধিকার'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। দৈনিক গণঅধিকার | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT