শুক্রবার ২১ জানুয়ারি ২০২২, ৮ই মাঘ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
◈ ব্যাংকারদের সর্বনিম্ন বেতন বেঁধে দিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক, ১ মার্চ থেকে কার্যকর ◈ জমির ক্ষেত্রে পাওয়ার অব অ্যাটর্নি বন্ধ হচ্ছে ◈ মারধর করে যুবককে মেরে ফেলল বনভোজনের যাত্রীরা ◈ করোনায় শনাক্ত ১০ হাজার ছাড়াল ◈ এমন কোনো দেশ নাই যেখানে এনকাউন্টার ঘটে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ◈ শাবিতে অনশনরত দুইজন হাসপাতালে, চিকিৎসায় মেডিকেল টিম ◈ ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হলেই সাংবাদিককে গ্রেফতার নয়, ডিসিদের আইনমন্ত্রী ◈ পুলিশ সার্জেন্ট টাকা চাননি, ক্ষমা চেয়েছেন সেই চীনা নাগরিক ◈ অসহিষ্ণুতায় অনেক ছোট ঘটনা বড় রূপ পায় ◈ চালের কৃত্রিম সংকট অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিন

বগুড়ায় যমুনা নদীতে “অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন বন্ধের” দাবীতে মানববন্ধন

প্রকাশিত : 07:01 PM, 21 May 2021 Friday

গণঅধিকার নিউজ ডেস্কঃ

অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ এবং যমুনা নদী রক্ষায় ৭ দফা দাবীতে মানব বন্ধন করেছে ও প্রাণ প্রকৃতি নিরাপত্তার সামাজিক সংগঠন “নোংগর বাংলাদেশ-বগুড়া” শাখা। আজ বগুড়া জেলার শেহরাবাড়ি আওলাকান্দী যমুনা নদীর ঘাটে মানববন্ধনটি অনুষ্ঠিত হয়। নোংগর বগুড়া জেলার আহবায়ক আহসান হাবীব দিনারে সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মানব বন্ধনে স্থানীয় ইউপি সদস্য, শিক্ষক, সমজসেবক ও সচেতন নাগরিক বৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। নদী ভাংগনের শিকার শাহজাহান আলী বলেন আমাদের কয়েকশত বিঘা জায়গা জমি নদীতে বিলিন হয়ে গেছে। আজ আমরা ভূমিহীন কিন্তু কোন পুনর্বাসন সুবিধা পাইনি। আমাদের অনাহারে অর্ধাহারে দিন কাটে। নদীতে চর জেগে উঠার আগেই প্রতিদিন অবৈধভাবে বালু তোলে অসাধু মহল। সন্ত্রাসীরা অবৈধ ভাবে কোটি কোটি টাকার বালু বিক্রি করে অথচ আমারা নদী ভাংগুনি বাস্তুহারা মানুষেরা অসহায়। প্রকৃত ভূমিহীন মানুষদের পুনর্বাসনের আয়তায় আনার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমাদের আবেদন আকুল আবেদন। মাননবন্ধনে ইউপি সদস্য সাত্তার ও নোঙর সদস্য শরিফুল ইসলাম শরীফ, সৌরভ হোসাইন, মেহেদি হাসান, দিপু সহ আরো অনেকে উপস্থিত ছিলেন। নদী ও প্রাণ প্রকৃতি নিরাপত্তার সামাজিক সংগঠন “নোংগর বাংলাদেশ” নদী রক্ষায় দেশজুড়ে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলেছে। আমাদের লক্ষ ও উদ্দেশ্য হচ্ছে দেশের হারিয়ে যাওয়া সকল নদ-নদী, খাল দখল দূষণ মুক্ত করতে গণসচেতনতা সৃস্টি করা। বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের নদ-নদীতে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন করে নদীর তলদেশ ও নদী পাড়ের কার্যক্ষমতা কমিয়ে দিচ্ছে এবং নদীর স্বাভাবিক গতি প্রবাহ কমিয়ে দিচ্ছে। যখন নদীতে অতিরিক্ত বালু উত্তোলন করা হয়, তখন নদীর প্রবাহ কমতে থাকে। এর ফলে প্লাবন ভূমি আরও নিচে নামতে শুরু করে, যার কারণে বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়। নদী ভাংগনের কারনে অনেক মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়ে পড়ছে। বগুড়ার শতাধিক স্থানে অবাধে চলছে অবৈধ বালু উত্তোলন। শহরের ভেতর দিয়ে বয়ে যাওয়া যমুনা, করতোয়া বাঙ্গালী ও এর তীরবর্তী এলাকাই মূলত টার্গেট বালু ব্যবসায়ীদের।এছাড়া সদর উপজেলার মাদলা, রাজাপুর, শাখারিয়া, নামুজা, নিশিন্দারা ও লাহেরী পাড়া ইউনিয়নের শত শত বিঘা আবাদি জমিসহ জেলার শাজাহানপুর, শেরপুর, ধুনট, সারিয়াকান্দি, নন্দীগ্রাম, শিবগঞ্জ ও কাহালু উপজেলাতেও অবাধে বালু উত্তোলন চলছে।

এই বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করেই বিগত দু’বছরে প্রায় দেড় ডজন হত্যাকাণ্ড ঘটেছে জেলায়। এছাড়া বালু উত্তোলনের ফলে ভূমিহীন ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রায় ৫০০ পরিবার। নদী ভাঙ্গণের হুমকির মুখে রয়েছে আরো প্রায় এক হাজার পরিবার। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই তালিকাভ‍ুক্ত সন্ত্রাসী অথবা তাদের নিজস্ব/ঘনিষ্ঠ লোকজন এসব অবৈধ বালু উত্তোলন ও বালু ব্যবসায় জড়িত রয়েছেন। অবৈধ এসব বালু ব্যবসায়ীদের হাত থেকে রক্ষার জন্য মানববন্ধন কর্মসূচি পালনসহ বিভিন্ন সময়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) থেকে শুরু করে জেলা প্রশাসক (ডিসি) পর্যন্ত আবেদন ও স্মারকলিপি দিয়েছে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। একই সঙ্গে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেও রক্ষা পায়নি ভূমি মালিকরা। বরং অবৈধ বালু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে গিয়ে প্রাণনাশসহ লাঞ্ছনার স্বীকার হওয়াসহ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ। জেলার সদর উপজেলার শাখারিয়া পশ্চিম সীমানায় করতোয়া তীরবর্তী ও দক্ষিণ পাড়ার কাঁঠালতলা, বারাইপাড়া, বাউলাপাড়া, নামাবেলা, তিলেরপাড়া, মাদারতলা, মানিকচক উত্তর সীমানা, ফুলবাড়ী শ্মশ্মান এলাকায় অবৈধ ভাবে ড্রেজার মেশিন দিয়ে ভূগর্ভস্থ বালু উত্তোলনের ফলে বহু আবাদী জমি ও বসতবাড়ী হুমকির মুখে পড়েছে এবং এরই মধ্যেই অনেক আবাদি জমি চাষের অনুপোযোগী হয়ে পড়েছে।কিছু সময় ক্ষতিগস্ত এলাকাবাসীর অভিযোগ বা আবেদনের প্রেক্ষিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা অবৈধ এবং অপরিকল্পিত ভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগে বিভিন্ন ধরনের সরঞ্জামাদি জব্দ করাসহ জরিমানা করেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা আর কাজে আসেনি। পরবর্তীতে একই স্থানে অন্য কোনো মাধ্যমে বালু উত্তোলন শুরু করেন ওইসব অসৎ ব্যবসায়ী।আবার বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই প্রশাসনকে ম্যানেজ করে জেলা শহরসহ বিভিন্ন উপজেলা থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন চলছে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক নেতার আশীর্বাদ পুষ্ট ও প্রভাবশালী এসব বালু ব্যবসায়ী নিয়ম না মেনে আবাদি জমি কিনেও অপরিকল্পিত ভাবে বালু উত্তোলন অব্যাহত রেখেছেন। জেলা শহরের বাইরে অন্য যেসব স্থান থেকে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন করা হয় সেগুলো হলো- ধুনট উপজেলার শহড়াবাড়ী, বানিয়াজান, বড়ইতলী, বঙ্গালী নদীর ঝাঝর ঘাট, তারাকান্দী, নবীনগর, চৌকিবাড়ী, পেঁচিবাড়ী, বিলকাজুলী, শাকদহ, চকধুলী, নিমগাছি-বেড়েরবাড়ী বাঙ্গালী নদীর তীর, বথুয়াবাড়ী বাঙ্গালী নদীর তীর, শেরপুর উপজেলার সুঘাট ইউনিয়নের বাঙ্গালী নদীর চোমরপাথালিয়া গ্রাম এলাকা, খানপুর ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রাম, চান্দাইকোনা ফুলজোড়, কল্যাণী, বড়িতলী, জোরগাছা, বেলগাছী, আওলাকান্দি, সুত্রাপুর, সারিয়াকান্দি উপজেলার জোড়গাছার বাঙ্গালী নদীর উপর ব্রীজের উভয় পাশে, ছাগলধরা, বাঁশহাটা, নিজ বলাইল, হিন্দুকান্দি, আওলাকান্দি, চন্দনবাইশা, হাসনাপাড়া, কালিতলা, দড়িপাড়া, দুপচাঁচিয়া উপজেলার চৌমহনী ইরামতি খাড়ি, ধাপ সুলতানগঞ্জ হাটের অদূরে চামরুল ইউনিয়নের বলদমারা, হাট মাগুরা, ক্যাস্তা, সঞ্জয়পুর, পূর্ব ওলঅহালী, ভেলুরচরসহ প্রায় ১৪/১৫ টি স্পটে, কাহালু উপজেলার বীরকেদার, দুর্গাপুর, কালাইসহ ৪/৫ টি স্পট, সোনাতলা উপজেলার চারালকান্দি, নওদাবগা, রশিদপুর, আড়িসহ ৬/৭ টি স্পটে, শিবগঞ্জ উপজেলা সদর, রায় নগর ও অনন্তবালাসহ প্রায় ৪/৫ টি স্থানে, নন্দীগ্রাম উপজেলার গুলিয়া হাটের পাশে, আদমদীঘি উপজেলার কুন্দগ্রাম এলাকা থেকে প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ টাকার বালু উত্তোলন করা হয়। বগুড়ার শতাধিক স্থানে অবাধে বালু উত্তোলন বন্ধ এবং যমুনা নদী রক্ষায় ৭ দফা দাবীতে সোচ্চার নদী ও প্রাণ প্রকৃতি নিরাপত্তার সামাজিক সংগঠন “নোংগর বাংলাদেশ-বগুড়া” শাখার সামাজিক এই আন্দোলনে আপনাদের সকলের সহযোগীতা একান্ত ভাবে কাম্য।

 

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক গণঅধিকার'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyganoadhikar@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

দৈনিক গণঅধিকার'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

এই বিভাগের জনপ্রিয়

© ২০২২ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। দৈনিক গণঅধিকার | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT