ঢাকা, সোমবার ০৮ মার্চ ২০২১, ২৪শে ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

পিআইডি এর নিয়ম অনুসারে আবেদিত

পেঁয়াজের বাজার অস্থির

প্রকাশিত : 01:39 PM, 12 September 2020 Saturday

গণঅধিকার নিউজ ডেস্কঃ

নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে পেঁয়াজের দাম। কয়েক দিনের ব্যবধানে দ্বিগুণ দাম বাড়ায় অস্থির পেঁয়াজের বাজার। দাম কমাতে আগামীকাল রবিবার থেকে প্রতিকেজি পেঁয়াজ ৩০ টাকায় বিক্রি করবে সরকারী বাজার নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা টিসিবি। শুক্রবার ঢাকার খুচরা বাজারে দেশী পেঁয়াজ ৬৫-৭৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এছাড়া আমদানিকৃত ভারতীয় পেঁয়াজ ৫৫-৬০ টাকায় বিক্রি হয়েছে প্রতিকেজি। অথচ কয়েকদিন আগেও ৩০-৪৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে। গত বছরের এই সময়ে হঠাৎ করেই পেঁয়াজের বাজার অস্থির হয়ে পড়েছিল। পরবর্তীতে প্রতিকেজি পেঁয়াজ ৩০০ টাকায় বিক্রি হয় খুচরা বাজারে। বাজার সামাল দিতে সেই সময় উড়োজাহাজে করে পেঁয়াজ আমদানি করে টিসিবি। এবারও সেই আতঙ্ক বিরাজ করছে বাজারে। এ কারণে রবিবার থেকে বর্তমান বাজার মূল্যের অর্ধেকেরও কম দামে পেঁয়াজ বিক্রি করবে সরকার।

জানা গেছে, পেঁয়াজের কোন সঙ্কট নেই দেশে। সরকারী ভাষ্যমতে, দেশে পর্যাপ্ত পেঁয়াজের মজুদ রয়েছে। দেশী উৎপাদনের পাশাপাশি আমদানি ভাল। এ অবস্থায় পেঁয়াজের দাম বাড়ানো হলে দায়ী ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার হুঁশিয়ার দেয়া হয়েছে। কিন্তু তারপরও বাজার সামাল দেয়া যাচ্ছে না। এ অবস্থায় পেঁয়াজ আমদানিতে ৫ শতাংশ শুল্ক প্রত্যাহারের জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) অনুরোধ জানিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে ভারতের পাশাপাশি বিকল্প উৎস তুরস্ক ও মিসর থেকে দ্রুত পেঁয়াজ আমদানির সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এ প্রসঙ্গে বাণিজ্য সচিব ড. মোঃ জাফর উদ্দীন জনকণ্ঠকে বলেন, পেঁয়াজ আমদানির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এছাড়া সরকার কমদামে টিসিবির মাধ্যমে পেঁয়াজ বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমদানি বাড়াতে ৫ শতাংশ শুল্ক প্রত্যাহার হবে বলে আশা করছি। এর পাশাপাশি বাজার মনিটরিং করা হচ্ছে। পেঁয়াজ নিয়ে কারসাজি করা হলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি বলেন, দেশে মজুত ভাল, সঙ্কটের কোন কারণ নেই। তবে এটা ঠিক পেঁয়াজের প্রধান উৎস ভারতে বন্যা ও বৃষ্টির কারণে উৎপাদন কম হয়েছে। এ কারণে সেখানে দাম কিছুটা বাড়তি।

জানা গেছে, টিসিবির পেঁয়াজ প্রতিকেজি ৩০ টাকায় বিক্রি করা হবে। এতে করে স্বল্প আয়ের মানুষ কম দামে পেঁয়াজ কেনার সুযোগ পাবেন। বাজারে এখন চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে মসলা জাতীয় এই পণ্যটি। দাম নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব না হলে তিন অঙ্কের ঘরে পৌঁছবে পেঁয়াজের দাম। এছাড়া বাজারে সরববরাহ ঠিক রাখতে আমদানি বাড়ানো হবে। তবে টিসিবি বিক্রি কার্যক্রম শুরু করলে এর একটি ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বাজারে। এ প্রসঙ্গে টিসিবির প্রধান তথ্য কর্মকর্তা হুমায়ূন কবির জনকণ্ঠকে বলেন, প্রতিকেজি পেঁয়াজ ৩০ টাকায় বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে, যা বাজার মূল্যের অর্ধেকেরও কম। এতে স্বল্প আয়ের মানুষ সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবেন। এছাড়া বাজারেও এর একটি প্রভাব পড়বে। দাম না কমা পর্যন্ত টিসিবি খোলা ট্রাকে করে পেঁয়াজ বিক্রি কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।

এদিকে দেশে পেঁয়াজের চাহিদা ও উৎপাদন তথ্যের বিস্তর ফারাক রযেছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের একটি সাম্প্রতিক গবেষণা প্রতিবেদন বলছে, এ বছর ২৩ লাখ ৩০ হাজার ৫০০ টন পেঁয়াজ উৎপাদিত হয়েছে। আর দেশে চাহিদা রয়েছে ২৪ থেকে ২৫ লাখ টনের। কিন্তু এই হিসাবটি নিয়ে বিভ্রান্তি রয়েছে। কারণ প্রতি বছর বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয় প্রায় ১১-১২ লাখ টন পেঁয়াজ। দেশে উৎপাদিত ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ পেঁয়াজ সংরক্ষণের অভাবে নষ্ট হয়। পেঁয়াজ সংরক্ষণের জন্য যে আধুনিক তাপ নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা থাকা দরকার, তা সরকারী-বেসরকারী কোন পর্যায়ে নেই। ফলে পেঁয়াজ নিয়ে প্রতিবছর সঙ্কট তৈরি হচ্ছে।

এদিকে করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় সম্প্রতি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের টাস্কফোর্স কমিটির বৈঠকে দেশের চলমান ব্যবসা-বাণিজ্য নিয়ে আলোচনা করা হয়। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মজুত, সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতি নিয়ে ওই সভায় পর্যালোচনা করা হয়। এছাড়া পেঁয়াজের মজুত, আমদানি ও সরবরাহ এবং মূল্য পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। তবে পেঁয়াজের সঙ্কট বা মূল্য বৃদ্ধির কোন সঙ্গত কারণ নেই বলে মনে করে টাস্কফোর্স। পেঁয়াজের অবৈধ মজুত বা কৃত্রিম সঙ্কট সৃষ্টির মাধ্যমে মূল্য বৃদ্ধিও চেষ্টা করা হলে সরকার আইন মোতাবেক কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। এছাড়া দাম কমাতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মনিটরিং টিম এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর বাজার মনিটরিং আরও জোরদার করা হয়েছে। এছাড়া নতুন পেঁয়াজ বাজারে না আসা পর্যন্ত বিক্রি কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে টিসিবি।

প্রসঙ্গত, পেঁয়াজ বিক্রি করে দেশীয় চাষীরা যাতে ন্যায্যমূল্য পান, চলতি বাজেটে আমদানিতে কিছুটা শুল্কারোপ করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। এতে পেঁয়াজ আমদানিতে ৫ শতাংশ শুল্কারোপ করা হয়েছে। অর্থমন্ত্রী বাজেট বক্তৃতায় বলেন, দেশে বর্তমানে প্রচুর পেঁয়াজের চাষ হচ্ছে। কিন্তু আমদানিকৃত পেঁয়াজে শূন্য শুল্কহার বিদ্যমান থাকায় দেশীয় পেঁয়াজ চাষীরা উৎপাদন ব্যয়ের তুলনায় ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তি হতে বঞ্চিত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। এতে ভবিষ্যতে পেঁয়াজ চাষের ক্ষেত্রে চাষীরা নিরুৎসাহিত হতে পারে। তাই দেশীয় পেঁয়াজ চাষীদের ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তি নিশ্চিতকরণ, পেঁয়াজ চাষে উৎসাহ প্রদান এবং আমদানির ওপর নির্ভরশীলতা হ্রাসের লক্ষ্যে পেঁয়াজ আমদানিতে কিছুটা শুল্কারোপ করা হয়েছে। আমদানি পর্যায়ে পেঁয়াজের ওপর শুল্কহার ধার্য হলেও স্থানীয় পর্যায়ে এই পণ্যের সরবরাহের ওপর উৎসে কর ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২ শতাংশ করা হয়েছে।

খাতুনগঞ্জে বিক্রি কমেছে ॥ স্টাফ রিপোর্টার, চট্টগ্রাম অফিস থেকে জানান, পেঁয়াজের বাজারে অস্থিরতার আলামত স্পষ্ট হওয়ায় ভোগ্য পণ্যের বৃহত্তম পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জে বিক্রি কমে গেছে। প্রশাসন এবং ব্যবসায়ীরা বলছেন, সরবরাহ ঠিক রয়েছে। তবে আমদানিতে দাম বেশি পড়ছে বিধায় প্রভাব পড়ছে পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে। আড়তদারদের অভিমত, আমদানিকারকরা স্থলবন্দর থেকে মূল্য বেঁধে দেয়ায় এক্ষেত্রে তাদের হাত নেই। তবে আমদানি পর্যায়ে মূল্য কত পড়ছে তা তাদের অজানা। মূল্য স্থিতিশীল রাখতে সীমান্তেই মনিটরিং বাড়ানো প্রয়োজন। তবে খাতুনগঞ্জের পাইকাররাও নির্ধারিত কমিশনের চেয়ে বেশি আদায় করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে শুক্রবার ছিল সাপ্তাহিক ছুটি। তবে পেঁয়াজের মোকামগুলো যথারীতি খোলা ছিল। ব্যবসায়ীরা বলছেন, মূল্য নিয়ে এক ধরনের অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হওয়ায় খুচরা কারবারিরা পেঁয়াজ কম কিনছেন। সপ্তাহের শেষদিন বৃহস্পতিবার বাজার খোলা থাকলেও পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে খুবই কম। এক্ষেত্রে বাজারের অস্থিরতাকেই প্রধান কারণ হিসেবে দেখছেন তারা।

খাতুনগঞ্জ হাবিবুল্লাহ খান কাঁচাবাজার আড়তদার সমিতির সভাপতি মোঃ ইদ্রিস জনকণ্ঠকে জানান, পেঁয়াজের দাম এখন পাইকারিতে মানভেদে ৪০ থেকে ৪২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। শুক্রবার গড়পরতা দাম ছিল প্রতি কেজি ৪০ টাকা। মূল্য বৃদ্ধি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ভারতেই পেঁয়াজের দাম বেড়েছে। ফলে আমদানিকারকরা জানাচ্ছেন তাদের কেনা দাম বেশি পড়ছে। স্থলবন্দর থেকেই মূল্য নির্ধারণ করে দেয়া হয় জানিয়ে এ ব্যবসায়ী বলেন, আমরা যে মূল্যে পেঁয়াজ পেয়ে থাকি সেখান থেকে প্রতি কেজিতে ৫০ পয়সা কমিশনে তা বিক্রি করি। যারা স্থলবন্দর থেকে সরাসরি পেঁয়াজ কিনে থাকেন তাদের দাম পড়ে প্রতি কেজি গড়ে ৩৮ টাকা। এর সঙ্গে পরিবহন ও লেবার খরচসহ যুক্ত হয় সাড়ে ৩ টাকা করে। বর্ডারেই পেঁয়াজের দাম ঠিক করে দেয়া হয় বিধায় তাদের পক্ষে কারসাজির সুযোগ নেই বলে জানান এ ব্যবসায়ী।

এদিকে, জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত অতিসম্প্রতি খাতুনগঞ্জে অভিযান চালিয়ে প্রতি কেজিতে ২০ টাকা পর্যন্ত মূল্যবৃদ্ধির প্রমাণ পেয়েছেন। এ জন্য বেশকটি আড়তদার প্রতিষ্ঠানকে জরিমানাও করা হয়। এর প্রতিবাদে ব্যবসায়ীরা ক্ষুব্ধ হয়ে এক ধরনের ধর্মঘট পরিস্থিতির সৃষ্টি করেন। বন্ধ হয়ে যায় পেঁয়াজ বিকিকিনি। একপর্যায়ে চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স এ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মাহবুবুল আলমের সঙ্গে বৈঠকে আশ^স্ত হন আড়তদাররা। ভুল বুঝাবুঝির অবসান হবে এ আশ্বাসে ৮ সেপ্টেম্বর পুনরায় পেঁয়াজ বিক্রি শুরু হয়।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক গণঅধিকার'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyganoadhikar@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

দৈনিক গণঅধিকার'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। দৈনিক গণঅধিকার | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT