ঢাকা, সোমবার ১২ এপ্রিল ২০২১, ২৯শে চৈত্র, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

পিআইডি এর নিয়ম অনুসারে আবেদিত

‘পূর্ব পাকিস্তানের স্বাধীনতা লাভ অবশ্যম্ভাবী’

প্রকাশিত : 10:04 AM, 27 December 2020 Sunday

গণঅধিকার নিউজ ডেস্কঃ

মুক্তিযুদ্ধকালে বিদেশী কূটনৈতিক মিশনগুলোর লোকদের বেশ তৎপরতা ছিল। কেউ পক্ষে কেউবা বিপক্ষে অবস্থান নেয়। বিভিন্ন মিশন ও দূতাবাসগুলো নিজেদের মতো করে নিজ রাষ্ট্রের ফরমাইশ অনুযায়ী কাজ করেছে। যুদ্ধের সর্বশেষ অবস্থাসহ চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে নিয়মিত বার্তা দেয়া হতো সদর দফতরে। এরমধ্যে মার্কিন সরকারের পক্ষ থেকেও একটি গোপনীয় প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছিল। প্রতিবেদনটি মূলত বাংলাদেশের পক্ষেই হয়েছিল। যা পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। সেইসঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক বার্তা ও আর টি টি ফাইলসহ এম কেনেডির ভাষণও স্থান পায় বিভিন্ন দেশের পত্রিকায়। কেনেডি পাকিস্তানের জন্য সামরিক ও অর্থনৈতিক সাহায্য বন্ধ করতে আবারও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আবেদন জানান।

এটা এখন অনিবার্যভাবে স্বাধীনতা আন্দোলনে রূপ নিয়েছে ॥ ১৯৭১ সালে লন্ডনে সাপ্তাহিক ইকোনমিস্টে প্রকাশিত হয় ‘মার্কিন সরকারের অতি গোপনীয় প্রতিবেদন’ শীর্ষক লেখা। শিরোনাম ছিল, ‘পূর্ব পাকিস্তানের সংঘাত : পটভূমি ও ভবিষ্যৎ।’ সম্পাদকের টিকা : ‘ঢাকাস্থ মার্কিন কনস্যুলেটের কনসাল জেনারেল আর্থার কে ব্লাড এ প্রতিবেদন তৈরি করেন। এ কাজে হার্ভার্ড বিশ^বিদ্যালয়ের প্রথিতযশা তিনজন পণ্ডিত এডওয়ার্ড এ. ম্যাসন, রবার্ট ডর্ফম্যান এবং স্টিফেন এ. মার্গলিন তাকে সহায়তা করেন। প্রতিবেদন তৈরি করে ব্লাড তা প্রয়োজনীয় বিচার বিশ্লেষণের জন্য মার্কিন সিনেটে পাঠিয়ে দেন। পরে জানা যায়, ঐ সংঘাত সম্পর্কে মার্কিন সরকারের মতো একই দৃষ্টিতে বিষয়টি বিচার বিশ্লেষণ না করার কারণে ব্লাডকে ওয়াশিংটনে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। এ বিষয়টি অবগত হওয়া মাত্রই আমরা এ গোপন প্রতিবেদন পেতে আকুল হয়ে পড়ি। ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসের একজন বাঙালী কর্মকর্তা এ প্রতিবেদনটি হস্তগত করে সেখান থেকে গোপনে বাইরে নিয়ে আসেন। পাঠকের সামনে আমরা তা পেশ করছি।’

প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘পূর্ব পাকিস্তানের স্বাধীনতা লাভ অবশ্যম্ভাবী। অখণ্ড পাকিস্তানের কাঠামোর মধ্যে অর্থনৈতিক স্বায়ত্তশাসনের জন্য যে আন্দোলন শুরু হয়েছিল, পূর্ব পাকিস্তানের বেসামরিক লোকদের ব্যাপক হত্যাকাণ্ড তাকে পুরোপুরি বদলে দিয়েছে। এটা এখন অনিবার্যভাবে একটি স্বাধীনতা আন্দোলনে রূপ নিয়েছে। দু’দিন আগে হোক বা পরে হোক পূর্ব পাকিস্তানের স্বাধীন বাংলাদেশে পরিণত হওয়াটা এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র’।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ এ সংঘাত নিয়ে আলোচনা করতে হলে তার সাংস্কৃতিক, ভাষাগত এবং সামাজিক সমস্যাদি নিয়ে আলোচনা অপরিহার্য। আর বর্তমান সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে দেশটির অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতা। তবে বর্তমান প্রতিবেদনের লক্ষ অনেক সীমিত। আর তা হচ্ছে- পূর্ব পাকিস্তানের অসন্তোষের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ভিত্তির বিশ্লেষণ এবং পাকিস্তানের ভঙ্গে যাওয়া নিয়ে আন্তর্জাতিক জটিলতার পরিধি নিরূপণ।’

‘সংক্ষেপে বলতে গেলে দেশটির দুই অঞ্চলের জীবনযাত্রার মাঝে ব্যাপক এবং দুস্তর ব্যবধান রয়েছে। এমনকি পশ্চিম পাকিস্তানীদের নিয়ন্ত্রিত সরকারও স্বীকার করে যে, পূর্ব পাকিস্তানের গড় আয় পশ্চিম পাকিস্তানের গড় আয়ের দুই তৃতীয়াংশেরও সমান নয়। এছাড়া পূর্ব পাকিস্তানে পশ্চিম পাকিস্তানের চেয়ে দ্রব্যমূল্য অনেক বেশি। এক্ষেত্রে পূর্ব পাকিস্তানীদের ভাষ্য হচ্ছে, দেশের দুই অংশের মধ্যকার এ ব্যবধান পশ্চিমাদের সুপরিকল্পিত আধিপত্যেরেই ফল। বিশেষ করে পূর্ব পাকিস্তানের পাট রফতানি থেকে যে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা আয় হয় তা এবং বৈদেশিক সাহায্য থেকে পাওয়া সম্পদ বণ্টনে বৈষম্য করা হয়ে থাকে। তাতে পশ্চিমাদের স্বার্থই বেশি রক্ষিত হয়। তাছাড়া অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগ বরাদ্দের ক্ষেত্রেও যে বৈষম্য তাতে আয় বৈষম্য আরও ব্যাপকতা লাভ করে। এমনকি পূর্ব পাকিস্তানের ক্ষেত্রে উচ্চ শুল্ক ও আমদানি কোটার ক্ষেত্রেও পশ্চিম পাকিস্তানীদের কর্মসংস্থান ও মুনাফার দিকে নজর দেয়া হয়ে থাকে’।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ‘এ পরিপ্রেক্ষিতে শেখ মুজিবের আওয়ামী লীগ যে রাজনৈতিক কর্মসূচী দেয়, সাম্প্রতিক নির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তানের জনসাধারণ তা সর্বসম্মতভাবে অনুমোদন করেছে। পূর্ব পাকিস্তানের জনসাধারণ দেশের দুই অংশের ম্যধকার বৈষম্য ঘোচাতে অর্থনৈতিক নীতিমালার কর্তৃত্ব কেন্দ্রীয় সরকারের হাত থেকে প্রাদেশিক সরকারের হাতে ন্যস্ত করার পক্ষে রায় দিয়েছে। এক্ষেত্রে ইয়াহিয়া খানের সরকার পূর্ব পাকিস্তানের জনসাধারণের ওপর সন্ত্রাস ও দমনপীড়নের ভয়াবহ নীতি গ্রহণ করেছে, যার স্বরূপ ক্রমান্বয়ে প্রকাশিত হচ্ছে।’

মুক্তিযুদ্ধের সময় আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমে স্থান পায় এ ধরনের প্রতিবেদন। কোন কোন পত্রিকা সরাসরি বিষয়টি নিয়ে না লিখলেও ঈঙ্গিত দিয়েছে। সে সময়ের পত্রিকা গবেষণায় দেখা গেছে, ‘পশ্চিম পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর এ পদক্ষেপের কারণে পূর্ব পাকিস্তানের স্বাধীনতা বিলম্বিত হতে পারে মাত্র। পূর্ব পাকিস্তানের কাছে এ সেনা অভিযান বিদেশী আধিপত্যের নামান্তর। তারা তাই তাদের সামর্থের সর্বস্ব দিয়ে পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর বিপক্ষে এবং স্বাধীনতাকামীদের পক্ষে সর্বত্মক সমর্থন দিচ্ছে। আর তা বাংলাদেশেরও অনুকূলে। এ ভূখণ্ডটিতে চলমান ব্যাপক রক্তপাত বন্ধের মানবিক স্বার্থ ছাড়াও ধীরে সুস্থে স্বাধীনতা অর্জনের চেয়ে দ্রুত সাড়া দেয়াটাই বরং মার্কিন স্বার্থের অনুকূলে। কেননা এতে দক্ষিণ এশিয়ার উত্তেজনা হ্রাস পাবে, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে এটাই। তাছাড়া বাংলাদেশ ও ভারতের পারস্পারিক সমঝোতার ভিত্তিতে সুবিধাজনক অর্থনীতিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক গড়ে তুলবে। এ বিষয়টি উভয়ের কাছেই দীর্ঘ প্রতীক্ষিত হলেও পশ্চিম পাকিস্তানীরা তাতে বাগড়া দিচ্ছে। তাদের ভাষ্য যতদিন পর্যন্ত কাশ্মীর ইস্যু অমীমাংসিত থাকবে, ততদিন পর্যন্ত পূর্ব পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যকার সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ক্ষেত্রে পশ্চিম পাকিস্তানের আপত্তি প্রবলভাবে বিরাজমান থাকবে।

খবরে বলা হয়, ‘অথচ বর্তমান কাশ্মীর ইস্যুর গুরুত্ব চাপা পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর কারণ এটা নয় যে, পশ্চিম পাকিস্তান উত্তেজনা কমিয়ে আনবে। বরং এক্ষেত্রে সত্য হচ্ছে, কাশ্মীর ইস্যু পূর্ব পাকিস্তানে তেমন সাড়া জাগাতে পারেনি। সে ক্ষেত্রে পশ্চিম পাকিস্তান দেশের পূর্ববঙ্গের জন্য অথনৈতিক সহযোগিতা না বাড়ালেও এখন পর্যন্ত তারা যে চাপ দিচ্ছে তাও তারা বহাল রাখতে সামর্থ হবে না। তাই অচিরেই বাংলাদেশ একটি সত্যিকার স্বাধীন রাষ্ট্রে পরিণত হবে এবং তারা প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তোলা ও বজায় রাখতে প্রস্তুত ও সমর্থ। এমনকি বাংলাদেশ বিশে^র বর্তমান দুই ব্লকের কোন একটির গলগ্রহ বা গুটি হিসেবে নয়, বরং শক্তিশালী জাতি হিসেবে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে সমর্থ হবে। কাজেই মার্কিন সাহায্য বাংলাদেশে অনিবার্য স্বাধীনতাকে বিলম্বিত করার কাজে ব্যবহৃত হলে তা মার্কিন স্বার্থের জন্য প্রতিকূল হবে’।

যুদ্ধরত একটি সরকারের কাছে মার্কিন অস্ত্র সরবরাহ করা অবশ্যই বন্ধ করতে হবে ॥ গোপনীয় প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ‘পাকিস্তান সরকারের দেয়া মার্কিন অর্থনৈতিক সাহায্য অবিলম্বে স্থগিত করা উচিত উল্লেখ করে গোপন প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ‘১৯৬৫ খ্রিস্টাব্দের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের পর পাকিস্তানের কাছে অস্ত্র বিক্রি ও সামরিক সহায়তার ব্যাপারে আরোপিত নিষেধাজ্ঞা গত বছর প্রত্যাহার করা হলেও তাও পুনরায় বহাল করা উচিত। অসহায় বেসামরিক লোকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধরত একটি সরকারের কাছে মার্কিন অস্ত্র সরবরাহ করা অবশ্যই বন্ধ করতে হবে।’ ফজলুল কাদের কাদেরীর মূল সংগ্রহ ও সম্পাদনায় প্রকাশিত বাংলাদেশ জেনোসাইড এ্যান্ড ওয়ার্ল্ড প্রেস বইতে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক বার্তা আর টি টি ফাইল ॥ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক বার্তা আর টি টি ফাইল, ২৬ আগস্ট ১৯৭১। যা নিউজইউক পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল।

প্রেসক্লাবে কেনেডির ভাষণ ॥ সিনেটর এডওয়ার্ড এম কেনেডি পাকিস্তানের জন্য সামরিক ও অর্থনৈতিক সাহায্য বন্ধ করতে আবারও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আবেদন করেছেন। বৃহত্তর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা দাবির প্রেক্ষিতে সামরিক দখলদারিত্বে থাকা পূর্ব পাকিস্তানের সঙ্গে একটি রাজনৈতিক সমঝোতায় আসার আগ পর্যন্ত জাতীয় প্রেসক্লাবে দেয়া এক বক্তব্যে সিনেটর কেনেডি বলেছেন, পূর্ব পাকিস্তানের জনগণকে আশ্রয়দানকারী ভারতের প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মানবিক সাহায্যের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়া উচিত।

তিনি বলেছেন, যদিও উদ্বাস্তুদের জন্য জাতিসংঘের সংগৃহীত ১৫ কোটি ডলারের মধ্যে সর্বোচ্চ সাহার্য প্রদানকারী একক দেশ যুক্তরাষ্ট্রের প্রদত্ত সাহায্যের পরিমাণ প্রায় আট কোটি ডলার। সিনেটর কেনেডি বলছেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী সিনেট অধিবেশনে এই সাহায্য বাড়ানোর জন্য প্রস্তাব উত্থাপন করবেন। সিনেটর ধারণা করছেন এ বছর উদ্বাস্তুদের পুনর্বাসনের জন্য ভারতের ৫০ কোটি থেকে ১০০ কোটি ডলার ব্যয় হতে পারে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সিনেটর কেনেডি বলেন, সম্প্রতি ভারতের উদ্বাস্তু শিবিরগুলোতে যে অনুসন্ধানী ভ্রমণ করেছেন সে সংক্রান্ত একটি বিশেষ প্রতিবেদনও তিনি সিনেটে উপস্থাপন করবেন এবং সিনেটের উদ্বাস্তু বিষয়ক উপকমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে, তিনি ওই উদ্বাস্তুদের ব্যাপারে আরও অনুসন্ধানের পরিকল্পনা করছেন। তিনি বলেছেন, ভারতের উদ্বাস্তু শিবিরগুলোতে তার দেখা পরিস্থিতিতে তিনি আতঙ্কিত।

উদ্বাস্তুদের মধ্যকার প্রবীণ ও তরুণদের নাজুক পরিস্থিতির বর্ণনা দিতে গিয়ে সিনেটর কেনেডি বলেছেন, ‘যতক্ষণ না আপনি স্বচক্ষে দেখছেন ততক্ষণ পর্যন্ত আপনি তা উপলব্ধি করতে পারবেন না।’

সিনটের কেনেডি আরও বলেছেন, যখন ভারত তার নিজের তীব্র অভাব মোকাবেলা করতে পারছে না তখন উদ্বাস্তুদের জন্য তার সীমান্ত বন্ধ করে দেয়ার বদলে তারা তাদের প্রতি ‘সহানুভূতির পথ’ বেছে নিয়েছে এটা অবিস্মরণীয় এক কৃতিত্ব।

তিনি বলেছেন, যদিও উদ্বাস্তুদের জন্য ভারতের উদ্যোগ বিশাল তবে এই ভার এককভাবে বহন করা তার অর্থনৈতিক ও নৈতিক সামর্থের অতীত। তিনি সব দেশের প্রতি দায়ভার ভাগ করে দেয়ার আবেদন করেন। কেননা তা সত্যি সত্যিই একটি আন্তর্জাতিক সমস্যা। সিনেটর কেনেডি যুক্তরাষ্ট্রের পাকিস্তানকে সাহায্য প্রদান অব্যাহত রাখার সমালোচনা করে বলেন, এটা যুক্তরাষ্ট্র সরকারের এক ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘন যা পূর্ব পাকিস্তানের পরিস্থিতির উন্নয়নে একটি কৌশল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।’

পূর্ব পাকিস্তানের বিরুদ্ধে মার্কিন সমরাস্ত্র বা অর্থনৈতিক সহযোগিতা ব্যবহার বন্ধ করতে কিংবা পূর্ব পাকিস্তানের নেতা শেখ মুজিবের গোপন বিচার বন্ধের ক্ষেত্রে এ ধরনের চাপ প্রয়োগ এর আগে কখনও করা হয়নি বলে সিনেটর কেনেডি মন্তব্য করেন।

পাকিস্তানে অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য সহায়ক নৌপরিবহন শিল্প খাতে প্রদেয় মার্কিন সাহায্য পূর্ব পাকিস্তানের ওপর সামরিক হামলার খাতে সরিয়ে নেয়ার একটি প্রসঙ্গও তিনি উল্লেখ করেন। সিনেটর কেনেডি বলেন, পূর্ব পাকিস্তানের অধিকতর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যের ব্যাপারে পশ্চিম পাকিস্তান রাজনৈতিক নিষ্পত্তি না করা পর্যন্ত চলমান সঙ্কটের কোন চূড়ান্ত সমাধান সম্ভব নয়। চলমান এ সঙ্কট শুধুমাত্র ভারত বা পাকিস্তানের জন্যই নয় বরং তা গোটা বিশে^র জন্য একটি ট্র্যাজেডি। যদি এই মুহূর্তে সমস্যার যৌক্তিক এবং স্থায়ী সমাধান না হয় তাহলে তা ভারত এবং পাকিস্তান উভয়ের জন্য একটি ‘ঘাতক ক্যান্সারে’ পরিণত হবে।

তার বক্তৃতায় এবং প্রশ্নোত্তর পর্বে পাকিস্তানের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে তার পাকিস্তানে প্রবেশে অনুমতি না দেয়া এবং পাকিস্তানী নেতাদের সঙ্গে তার আলোচনার ব্যাপারে অস্বীকৃতি, এসব প্রসঙ্গ তিনি উল্লেখ করেননি।

এর আগে ভারতে সিনেটর কেনেডির সহকারী নয়াদিল্লীস্থ মার্কিন দূতাবাসে সহযোগিতা প্রত্যাহারের যে অভিযোগ করেছিলেন এ প্রসঙ্গটিও তার বক্তৃতা ও প্রশ্নোত্তর পর্বে অনুপস্থিত ছিল। উল্লেখ্য, নয়াদিল্লীর মার্কিন দূতাবাস সিনেটর কেনেডির ব্যক্তিগত সহকারীদের অভিযোগ আগেভাগেই নাকোচ করে দিয়েছিল।

বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে সিনেটর কেনেডি বলেন, মধ্যপ্রাচ্য এবং ভারতীয় উদ্বাস্তুশিবিরের পরিস্থিতি বিপর্যয় উন্মুখ হলেও ভারতের পরিস্থিতি অধিকতর বিব্রতকর। কেননা এর ব্যাপ্তি ভয়াবহ। তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্য এবং ভারত উভয় এলাকার শরণার্থী পরিস্থিতি কেবলমাত্র রাজনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমেই নিরসন সম্ভব।

তিনি আরও বলেন, এই মুহূর্তে পাকিস্তানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার পক্ষপাতি নন, তবে মার্কিন চাপ অব্যাহতভাবে অকার্যকর হয়ে পড়লে পরবর্তীতে এ ধরনের সম্ভাব্য পদক্ষেপ গ্রহণের কথা আগেভাগেই বিবেচনা করা উচিত।

তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর ক্ষেত্রে ‘বামপন্থী সমাজবাদী’ এ তকমা এঁটে দিতে অসম্মতি জানিয়ে বলেন, তিনি পুরোপুরি মার্কিন স্বার্থের অনুকূলে এবং ভারতের জন্য সর্বোত্তম নীতি অনুসরণ করেছেন। এতে তার উপর যে তকমাই এঁটে দেয়া হোক না কেন।’ সিনেটর কেনেডি ১৯৭২ খ্রিস্টাব্দে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী না হওয়ায় পূর্ববর্তী সিদ্ধান্তে অটল থেকে বলেন, তিনি অভ্যন্তরীণ ও পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনের প্রত্যাশা করছেন যার উপর ভিত্তি করে ডেমোক্র্যাটিক পার্টি নির্বাচনে নিজস্ব অবস্থায় দাঁড়াতে সক্ষম হবে।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক গণঅধিকার'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyganoadhikar@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

দৈনিক গণঅধিকার'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। দৈনিক গণঅধিকার | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT