ঢাকা, মঙ্গলবার ১৩ এপ্রিল ২০২১, ৩০শে চৈত্র, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

পিআইডি এর নিয়ম অনুসারে আবেদিত

পিকে হালদারের দেশী বান্ধবীরা আতঙ্কে

প্রকাশিত : 09:12 AM, 26 December 2020 Saturday

গণঅধিকার নিউজ ডেস্কঃ

বিদেশে অর্থ পাচারকারীদের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মোস্ট ওয়ান্টেডের তালিকায় বহুল আলোচিত নাম প্রশান্ত কুমার হালদার (পিকে হালদার)। আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা (ইন্টারপোল) রেড নোটিস জারির পর প্রতি সপ্তাহে দেশ পরিবর্তন করে ঘন ঘন অবস্থান বদল করছেন তিনি যাতে নিজেকে ধরাছোঁয়ার বাইরে রাখা যায়। দেশ-বিদেশে আছে তার ৮০ বান্ধবী, কারও কারও সঙ্গে আছে গোপনে নিবিড় যোগাযোগ। তার দেশে অবস্থানকারী বান্ধবীদের নাম, ঠিাকানা, মোবাইল নম্বর, অবস্থান সংগ্রহ করে গোয়েন্দা নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে। পিকে হালদারের দেশে অবস্থানকারী বান্ধবীরা এখন আতঙ্কে আছেন বলে জানা গেছে। তদন্তকারী সংস্থা দুদক ও গোয়েন্দা সংস্থার সূত্রে এ খবর জানা গেছে।

এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংক ও রিলায়েন্স ফাইন্যান্স লিমিটেডের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ছিলেন প্রশান্ত কুমার (পিকে হালদার) হালদার। দেশে থাকা বান্ধবীদের সঙ্গে নিয়মিত গোপন যোগাযোগ আছে তার। এর মধ্যে কোন কোন বান্ধবীর সঙ্গে নিয়মিত কথার তথ্য পেয়েছে তদন্তকারী সংস্থা। বান্ধবীদের নাম, ঠিকান ও মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে গোয়েন্দা নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে। ইন্টারন্যাশনাল লিজিং থেকেই ১৫০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে পিকে হালদারের বিরুদ্ধে। এছাড়াও সব মিলিয়ে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা তিনি আত্মসাত করেছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে তার বিরুদ্ধে। অর্থ আত্মসাতের ঘটনার পর বিদেশে পালিয়ে যান পিকে হালদার।

তদন্তকারী সংস্থার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা পাচারের সঙ্গে জড়িত প্রশান্ত কুমার হালদার (পিকে) আছেন কানাডার বেগম পাড়ায়। সেখানে করছেন তিনি আয়েশি জীবন-যাপন। ওই পাচারের টাকার সন্ধানে গিয়ে এবার পিকে হালদারের ৮০ বান্ধবীর তথ্য পায় দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদক। এসব বান্ধবীর এ্যাকাউন্টে রয়েছে শত শত কোটি টাকা। তদন্তে তার বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাত, অর্থ পাচার, বান্ধবীর সন্ধান, বান্ধবীর এ্যাকাউন্টে টাকা রাখাসহ চাঞ্চল্যকর ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে আসে তদন্তে। তদন্তে পিকে হালদারের বিরুদ্ধে এসব তথ্য উঠে আসে দুর্নীতির মামলায়।

পিকে হালদারকে বিদেশ থেকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য দুর্নীতি দমন সংস্থার পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থার (ইন্টারপোল) সাহায্য কামনার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেয়া হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে ইন্টারপোলের রেড নোটিস পাঠানোর জন্য নির্দেশ দেয়া হয় পুলিশ সদর দফতরকে। পুলিশ সদর দফতরের পক্ষ থেকে ইন্টারপোলের রেড নোটিস পাঠানোর পর পিকে হালদারের অবস্থান সম্পর্কে খোঁজ খবর নেয়ার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তিনি বিদেশের কোন দেশে কোথায় অবস্থান করছেন তা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। কানাডার বেগম পাড়ায় তার অবস্থানের কথা জানা গেলেও এখন সেখানে তিনি নেই। কখনও সিঙ্গাপুর আবার কখনও দুবাইয়ে অবস্থান করছেন তিনি। ঘন ঘন দেশ বদলের মাধ্যমে অবস্থান পরিবর্তন করে তিনি ধরাছোঁয়ার বাইরে রাখার চেষ্টা করছেন।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দেশে থাকা বান্ধবীদের মধ্যে কারও কারও সঙ্গে গোপনে বিবিড় যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন পিকে হালদার। কারণ তার বান্ধবীদের অনেকের এ্যাকাউন্টে কোটি কোটি টাকা রক্ষিত। পিকে হালদারের যেসব বান্ধবীর এ্যাকাউন্টে পাচারের টাকা রয়েছে সেসব বান্ধবীও আসামি হবেন। রিলায়েন্স ফিন্যান্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক থাকা অবস্থায় আত্মীয়-স্বজনকে দিয়ে ৩৯টি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন পিকে হালদার। এসব প্রতিষ্ঠানের পরিচালক হিসেবে থাকা ৮৩ জনের ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে কৌশলে সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা আত্মসাত করেন তিনি ও তার সহযোগীরা। প্রশান্ত কুমার হালদারের বিরুদ্ধে ৩ হাজার ৬০০ কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ। ইন্টারন্যাশনাল লিজিং এ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেড, ফাস ফাইন্যান্স, পিপলস লিজিং ও রিলায়েন্স ফাইন্যান্সের টাকা আত্মসাত করে পাচার করেছেন তিনি। দুদক মামলা করলে দেশ থেকে পালিয়ে বিদেশে চলে যান পিকে হালদার।

অর্থ আত্মসাত ও অর্থ পাচারের ঘটনা ফাঁস হয়ে গেলে পিকে হালদার পাড়ি জমান কানাডায়। পরে অক্টোবর মাসে দেশে ফিরতে চান তিনি। এজন্য কানাডা থেকে দুবাইয়ে এসে অবস্থান করেন। যোগাযোগ রক্ষা করেন বান্ধবীসহ নিকটজনদের সঙ্গে। কিন্তু হাইকোর্ট নির্দেশ দেয় যে, দেশে ফিরলে যেন তাকে এয়ারপোর্টে গ্রেফতার করা হয়। এরপর তিনি দুবাই থেকে আবারে কানাডায় ফিরে যান। পিকে হালদারের পাচারকৃত টাকা কোথায় কোথায় রেখেছে তারা তা বিভিন্ন সোর্সের মাধ্যমে জেনে তদন্তে সহায়তা পাওয়া যাচ্ছে। আদালতের পূর্ব নির্দেশনা অনুসারে পিকে হালদারের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানার অগ্রগতি প্রতিবেদন, মামলার এফআইআর ও সম্পত্তি-অর্থ জব্দের আদেশ হাইকোর্টে উপস্থাপন করা হয়। পিকে হালদারের আত্মীয় পিপলস লিজিংয়ের সাবেক পরিচালক অমিতাভ অধিকারী এবং পিকে হালদারের সাবেক সহকর্মী ও পিপলস লিজিংয়ের সাবেক চেয়ারম্যান উজ্জ্বল কুমার নন্দীকে আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ মামলায় পক্ষভুক্ত করা হয়। এরপর আদালত মামলার পরবর্তী আদেশের জন্য আগামী ৩ জানুয়ারি শুনানির দিন নির্ধারণ করেন বলে তদন্ত সূত্রে জানা গেছে।

দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদক সূত্রে জানা গেছে, পিকে হালদারের বিরুদ্ধে যারা অভিযোগ নিয়ে এসেছেন তাদের মধ্যে আছেন সাবেক বিচারকের মেয়ে, সাবেক একজন পররাষ্ট্র সচিব, সাবেক আমলাসহ আরও সমাজের অনেক গণ্যমান্য ব্যক্তি আছেন। অভিযোগকারীরাই বলেছেন, পিকে হালদার অবিবাহিত এবং তার কমপক্ষে ৮০ জন বান্ধবী আছে। তাদের ব্যাংক এ্যাকাউন্টে পিকে হালদার টাকা জমা রাখতেন। পিকে হালদারের অর্থ আত্মসাত ও অর্থ পাচারের ঘটনার তদন্ত করতে গিয়ে অনেক রুই-কাতলা আর রাঘব-বোয়ালদের নাম বেরিয়ে আসছে যারা বিদেশে শত শত কোটি টাকার পাচার করেছেন।

দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান বলেছেন, পিকে হালদারের বিষয়ে আগামী শুনানিতে ওই বান্ধবীর বিষয়টি হাইকোর্টে শুনানির সময় উপস্থাপন করা হবে। পিকে হালদারের অর্থপাচারের অনুসন্ধানে তার একাধিক বান্ধবীর খোঁজ মিলেছে। সেই বান্ধবীদের ৭০-৮০টি এ্যাকাউন্টে কোটি কোটি টাকা লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। পিকে হালদার বর্তমানে সিঙ্গাপুর ও দুবাইয়ে থাকছেন। এক সপ্তাহ সিঙ্গাপুরে থাকলে পরের সপ্তাহে দুবাই থাকছেন। ঠিকানা যেন কেউ জানতে না পারে সেজন্য তিনি ঘনঘন বিদেশেও অবস্থান পরিবর্তন করছেন।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পিকে হালদার অবিবাহিত। অবিবাহিত থাকার সুবাদে সুযোগ নিয়েছে তার বান্ধবীরাও। পাচারের কোটি কোটি টাকা কিছু গার্লফ্রেন্ডের এ্যাকাউন্টে পাঠিয়েছেন পিকে হালদার। গার্লফ্রেন্ডদের সংখ্যা ৭০ থেকে ৮০ জন হতে পারে। এসব বান্ধবীর ব্যাংক এ্যাকাউন্টে কোটি কোটি টাকা লেনদেনের তথ্য পেয়েছে দুদক। এসব ব্যাংক হিসাব খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এর মধ্যে কয়েকজনের খোঁজ পাওয়া গেছে, যাদেরকে গোয়েন্দা নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে।

পুলিশ সদর দফতরের একজন কর্মকর্তা বলেন, প্রশান্ত কুমার হালদার-পিকে হালদারের ঘন ঘন বিদেশের অবস্থান পরিবর্তন করার কারনে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনাটা খুবই কঠিন। এমনকি তার পাচার করা টাকা ফেরত আনা বা বাজেয়াফত করাটা আরও বেশি কঠিন। তবে তার ৮০ জন বান্ধবী থাকার খবরটি খুবই চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। এর মধ্যে কোন কোন বান্ধবীর এ্যাকাউন্টসে কোটি কোটি টাকা থাকার তথ্য পাওয়ার খবরে বেশ চমক সৃষ্টি করেছে।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক গণঅধিকার'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyganoadhikar@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

দৈনিক গণঅধিকার'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। দৈনিক গণঅধিকার | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT