ঢাকা, মঙ্গলবার ২২ জুন ২০২১, ৮ই আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

পিআইডি এর নিয়ম অনুসারে আবেদিত

পারস্পরিক আস্থা বিশ্বাসে দুই দেশের সম্পর্কের শিকড় অনেক গভীরে

প্রকাশিত : 06:23 PM, 15 September 2020 Tuesday

গণঅধিকার নিউজ ডেস্কঃ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তুরস্কের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারে গুরুত্বারোপ করে বলেছেন, দুই দেশের জনগণের সুবিধার জন্য বাংলাদেশ তুরস্কের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও এগিয়ে নিতে আগ্রহী। পারস্পরিক আস্থা-বিশ্বাসে, ইতিহাস-ঐতিহ্যের ওপর ভিত্তি করে দুই দেশের সম্পর্কের শিকড় অনেক গভীরে।

সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার সরকারী বাসভবন গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় বাংলাদেশ মিশনের চ্যান্সারি কমপ্লেক্সের উদ্বোধনকালে এসব কথা বলেন।

তুরস্কের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের শিকড় অনেক গভীরে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, প্রায় ৫০ বছর আগে ১৯৭৪ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের সঙ্গে তুরস্কের কূটনৈতিক সম্পর্কের শুরু হয়। তবে আমাদের সম্পর্কের শুরু ত্রয়োদশ শতাব্দীতে তুর্কি জেনারেল ইখতিয়ার উদ্দিন মুহাম্মদ বখতিয়ার খিলজির বাংলা জয়ের মধ্য দিয়ে। পারস্পরিক আস্থা-বিশ্বাসে, ইতিহাস-ঐতিহ্যের ওপর ভিত্তি করে দুই দেশের সম্পর্কের শিকড় অনেক গভীরে।

দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, দুই দেশের জনগণের দ্বিপক্ষীয় সুবিধার জন্য বাংলাদেশ তুরস্কের সঙ্গে সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিতে আগ্রহী। তুরস্কের সঙ্গে সম্পর্ককে বাংলাদেশ বিশেষ গুরুত্ব দেয়।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র নীতির কথা উল্লেখ করে অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা আরও বলেন, ‘সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়’ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দেয়া এই নীতিই আমাদের পররাষ্ট্র নীতির মূলনীতি। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শুধু সমৃদ্ধ বাংলাদেশের স্বপ্নই দেখেননি, তিনি ক্ষুধা, দারিদ্র্য, সংঘাতমুক্ত বিশ্বের স্বপ্নও দেখেছেন। মানব কল্যাণে বিশ্ব শান্তি ও নিরাপত্তার ওপরও গুরুত্বারোপ করে গেছেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু।

রোহিঙ্গা সঙ্কটসহ বিভিন্ন ইস্যুতে বাংলাদেশের পাশে থাকার জন্য তুর্কি জনগণ ও দেশটির সরকারকে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিশেষ করে তুর্কি প্রেসিডেন্ট ও তুর্কি ফার্স্ট লেডিকে ধন্যবাদ দেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা সঙ্কট সমাধানে সব ধরনের সহায়তার জন্য ধন্যবাদ। আমি মনে করি, প্রায় তিন বছর হতে চলেছে। রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর তাদের নিজ দেশে ফিরে যাওয়া উচিত। আমি মনে করি, এই ইস্যুতে তুরস্ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

করোনা মহামারী প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, করোনা মহামারীর কারণে বিশ্ব একটি কঠিন সময় পার করছে। এটি বিশ্বব্যাপী বেশিরভাগ দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা এবং অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলেছে। বাংলাদেশে আমরা করোনা ভাইরাসটির বিস্তার সফলভাবে রোধ করতে সক্ষম হয়েছি। একই সঙ্গে আমাদের সময়োপযোগী এবং যথাযথ ব্যবস্থা ও প্রণোদনা প্যাকেজগুলো মারাত্মক রোগের বিপর্যয়কর প্রভাব হ্রাস করেছে।

২০১২ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ও বর্তমান প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগানের আমন্ত্রণে আঙ্কারা সফরের কথা উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আঙ্কারায় বাংলাদেশ দূতাবাস ভবন নির্মাণে তুর্কি কর্তৃপক্ষের সহযোগিতার প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী। অত্যাধুনিক সুযোগ সুবিধা সম্বলিত বাংলাদেশ দূতাবাস ভবনের প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী।

চলমান করোনা মহামারী সঙ্কটের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, কোভিড-১৯ মহামারীতে বিশ্ব এক কঠিন সময় পার করছে। এই মহামারী বিশ্বের অধিকাংশ দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা এবং অর্থনীতিকে স্থবির করে দিয়েছে।

করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় বাংলাদেশের সফলতার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলদেশে আমরা সফলতার সঙ্গে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়া রোধ করতে পেরেছি। একই সময়ে আমাদের সময়োপযোগী এবং সঠিক পদক্ষেপ এবং বিভিন্ন প্রণোদনা প্যাকেজ নেয়ার মাধ্যমে এই প্রাণঘাতী ভাইরাসের ধ্বংসাত্মক প্রভাব কিছুটা মোকাবেলা করতে পেরেছি। প্রাণঘাতী করোনা মোকাবেলার সফলতার জন্য তুর্কি নেতৃত্বের প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, রূপকল্প ২০২১ ও ২০৪১ অর্জনে বাংলাদেশ বিশ্বব্যাপী আরও অনেকগুলো কূটনৈতিক অফিস স্থাপন করছে, আর এর মাধ্যমে বহির্বিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াচ্ছে। আঙ্কারায় এই স্থায়ী দূতাবাস কমপ্লেক্স তুরস্কের সঙ্গে বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদারে বাংলাদেশ যে অগ্রাধিকার দিচ্ছে, তার প্রমাণ। ঢাকায় সম্প্রতি নির্মিত তুর্কী দূতাবাসও বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে তুরস্কের আগ্রহের প্রমাণ। আমি আশা করছি, চলমান মুজিববর্ষে প্রেসিডেন্ট এরদোগানের সদয় উপস্থিতিতে শীঘ্রই ঢাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে তুরস্কের দূতাবাস ভবনের উদ্বোধন করা হবে।

প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও তুরস্কের সহায়তায় বাংলাদেশ দূতাবাসের এই কমপ্লেক্সটির নির্মাণ সম্পন্ন করতে দুই বছরেরও কম সময় লেগেছে। দূতাবাস কমপ্লেক্সে লাল রঙের ইট বাংলাদেশী স্থাপত্য ও ঐতিহ্যের স্বতন্ত্র বৈশ্বিষ্ট্যকে তুলে ধরবে।

এই ভবনটি অত্যন্ত গর্বের সঙ্গে বাংলাদেশের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একটি আবক্ষ ভাস্কর্য ও একটি শহীদ মিনার ধারণ করে আছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি এটা জানতে পেরে খুব খুশি যে এই কমপ্লেক্সের চমৎকার একটি মিলনায়তনসহ সব ধরনের সুবিধা রয়েছে। আমি আঙ্কারায় এই নতুন দূতাবাস কমপ্লেক্সটি ভার্চুয়ালি উদ্বোধন করতে পেরে অত্যন্ত আনন্দিত। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হওয়ায় আমি খুশি।’ অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন, তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত চাবুসগলু। স্বাগত বক্তব্য রাখেন তুরস্কে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এম আল্লামা সিদ্দীকী। অনুষ্ঠানে নির্মিত চ্যান্সারি কমপ্লেক্স নিয়ে নির্মিত একটি ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হয়। এ সময় গণভবন প্রান্তে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব ড. আহমদ কায়কাউস, প্রেস সচিব ইহসানুল করিম ও আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ। ২০১২ সালে বাংলাদেশ চ্যান্সারি কমপ্লেক্সের নির্মাণ শুরু হয়। সে সময় এ ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। চলতি বছরের ৩ সেপ্টেম্বর ভবন নির্মাণ শেষ হয়। বাংলাদেশ দূতাবাসের চ্যান্সেরি ভবন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেয়ার জন্য পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন গত রবিবার তুরস্কে যান।

তুরস্কের আঙ্কারার বাংলাদেশ মিশন জানায়, আঙ্কারার বাংলাদেশ দূতাবাসের নিজস্ব ভবন নির্মাণে বরাদ্দ ছিল ৪৫ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। ভবনটি নির্মাণে ২ কোটি ২৬ লাখ টাকা কম ব্যয় হয়েছে। ওই টাকা বাংলাদেশ সরকারের কোষাগারে ফেরত দেয়া হয়েছে।

জানা গেছে, চ্যান্সারি কমপ্লেক্সের মূল বৈশিষ্ট্যের মধ্যে রয়েছে- চ্যান্সারি ভবন, দূতাবাসের আবাস, ‘বিজয় ১৯৭১’ নামে ২২৯ আসনের হাই-টেক মিলনায়তন, স্বয়ংক্রিয় যান্ত্রিক ও বৈদ্যুতিক সিস্টেম, মসজিদ, জিমনেসিয়াম, বাংলাদেশী পণ্য প্রদর্শন কেন্দ্র, বঙ্গবন্ধুর রেফারেন্স সমৃদ্ধ বই, বাংলাদেশের স্বাধীনতার যুদ্ধ ও বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন সংক্রান্ত পাঠাগার। বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসের প্রতিচ্ছবি হিসেবে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আবক্ষ মূর্তি এবং শহীদ মিনারও রয়েছে কমপ্লেক্সে।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক গণঅধিকার'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyganoadhikar@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

দৈনিক গণঅধিকার'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। দৈনিক গণঅধিকার | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT