ঢাকা, শুক্রবার ৩০ জুলাই ২০২১, ১৫ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

পিআইডি এর নিয়ম অনুসারে আবেদিত

শিরোনাম
◈ রক্ষক যেনো ভক্ষকের ভুমিকায় না যায়! কুষ্টিয়ায় অবৈধ উপায়ে কাউন্সিলরের অফিস নির্মাণের অভিযোগ ◈ বিশ্বে করোনায় মৃত্যু ৪২ লাখ ছাড়াল ◈ জনগণের পাশে দাঁড়ানোর অক্ষমতা ঢাকতে বিএনপির মিথ্যাচার : ওবায়দুল কাদের ◈ যার হয়ে জেলে ছিলেন মিনু, অবশেষে গ্রেপ্তার সেই কুলসুমী ◈ মন্ত্রিপরিষদ সচিবের সঙ্গে বৈঠক কারখানা খুলে দিতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে ব্যবসায়ীদের আবেদন ◈ হকিতে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে কোয়ার্টারে ভারত ◈ টোকিও অলিম্পিক: সাঁতারে বিশ্ব রেকর্ড গড়ল চীন ◈ ঠিক সময়ে শুটিং শেষ না হলে পারিশ্রমিক দ্বিগুণ! ◈ মেরিলিন মনরোর বায়োপিক নিয়ে খারাপ খবর ◈ সিগারেট নয়, গাঁজায় ভবিষ্যৎ দেখছে ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো

পাপিয়া ও তার স্বামীর ২০ বছরের জেল

প্রকাশিত : 11:42 AM, 13 October 2020 Tuesday

গণঅধিকার নিউজ ডেস্কঃ

অবৈধ অস্ত্র রাখার দায়ে শামীমা নূর পাপিয়া ও তার স্বামী মফিজুর রহমান সুমনকে ২০ বছরের সশ্রম কারাদ- দিয়েছে আদালত। সোমবার ঢাকার ১ নম্বর বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক কে এম ইমরুল কায়েশ এই রায় ঘোষণা করেন। বিচারক তার পযর্বেক্ষণে বলেছেন, ‘শামিমা নূর পাপিয়া এবং তার স্বামী মফিজুর রহমান সুমন সজ্জন রাজনীতিবিদ ছিলেন না। তারা দেশ ও জনগণের কল্যাণে নিয়োজিত না থেকে নিজেদের প্রাপ্তি নিয়েই ব্যস্ত থাকেন এবং দেশের জন্য মারাত্মক বিপজ্জনক ছিলেন।’ বিতর্কিত এই দম্পতির বিরুদ্ধে এ পর্যন্ত চারটি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে অস্ত্র আইনের মামলাতে রায় এল, বাকিগুলো চলমান।

অস্ত্র আইনের ১৯ এর ‘এ’ ধরায় অবৈধ অস্ত্র রাখার দায়ে পাপিয়া ও সুমনকে ২০ বছরের সশ্রম কারাদ- দেয়া হয়েছে। এছাড়া ১৯ এর ‘এফ’ ধারায় অবৈধভাবে গুলি রাখার দায়ে দেয়া হয়েছে ৭ বছরের কারাদ-। দুই ধারার সাজা একসঙ্গে কার্যকর হবে। এ জন্য এই দম্পতিকে মোট ২০ বছেরের সাজা খাটতে হবে, ২৭ বছর নয়।

রায় উপলক্ষে পাপিয়া ও তার স্বামীকে কারাগার থেকে আদালতে নিয়ে আসা হয়। সাজা ঘোষণার পর তাদের মধ্যে তাৎক্ষণিকভাবে কোন ভাবান্তর দেখা যায়নি। অবশ্য পাপিয়ার আইনজীবী সাখাওয়াত উল্যাহ ভূইয়া ও সুমনের আইনজীবী এ এফ এম গোলাম ফাত্তাহ বলেছেন, এই রায়ের বিরুদ্ধে তারা উচ্চ আদালতে আপীল করবেন।

রাষ্ট্রপক্ষ এ মামলায় পাপিয়া ও সুমনের সর্বোচ্চ সাজা যাবজ্জীবন কারাদ- চেয়েছিল। তবে রায়ে বিচারক বলেছেন, পাপিয়া নারী বলে তাকে যাবজ্জীবন সাজা দেয়া হয়নি। তার স্বামীকেও একই শাস্তি দেয়া হয়েছে। বিচারক তার পযর্বেক্ষণে বলেছেন, ‘শামিমা নূর পাপিয়া এবং তার স্বামী মফিজুর রহমান সুমন সজ্জন রাজনীতিবিদ ছিলেন না। তাদের বাসা থেকে ৫৮ লাখ ৪১ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়, যার কোন বৈধতা থাকতে পারে না। এত টাকা থাকার কোন যুক্তিও থাকতে পারে না।’

বিচারক আরও বলেছেন, ‘তারা তথাকথিত রাজনীতিবিদ। নিজেদের প্রাপ্তি নিয়েই ব্যস্ত থাকেন। দেশ ও জনগণের কল্যাণে তারা তো নিয়োজিত ছিলেনই না বরং দেশের জন্য তারা মারাত্মক বিপজ্জনক ছিলেন। যে কোন অন্যায় কাজে লাগানোর জন্য তারা তাদের খাটের তোষকের তলায় একটি বিদেশী পিস্তল দুটি ম্যাগজিন, ২০ রাউন্ড গুলি রেখেছিলেন। এ অবৈধ অস্ত্র ও গুলি তাদের নিয়ন্ত্রণ, দখল ও জ্ঞানের মধ্যে ছিল।’

যুব মহিলা লীগের বহিষ্কৃত নেত্রী শামিমা নূর পাপিয়া ও তার স্বামী মফিজুর রহমানকে গত ২২ ফেব্রুয়ারি ঢাকার শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর পাপিয়া ও তার স্বামীর বিরুদ্ধে শেরেবাংলা নগর থানায় অস্ত্র ও মাদক আইনে দুটি মামলা করে র‌্যাব। বিমানবন্দর থানায় তাদের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইন-১৯৭৪ এর অধীনে একটি মামলা দায়ের করা হয়। আর মুদ্রা পাচার প্রতিরোধ আইনে সিআইডি আরেকটি মামলা করে। এরপর দুদকও পাপিয়ার অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধানে নামে। এর মধ্যে শেরেবাংলা নগর থানার অস্ত্র ও মাদক আইনের মামলায় গত ২৯ জুন আদালতে অভিযোগপত্র দেন র‌্যাবের দায়িত্বরত উপ-পরিদর্শক আরিফুজ্জামান।

গ্রেফতারের সময় দুজনের কাছ থেকে সাতটি পাসপোর্ট, দুই লাখ ১২ হাজার ২৭০ টাকা, ২৫ হাজার ৬০০ টাকার জাল নোট, ১১ হাজার ৪৮১ ডলার, শ্রীলঙ্কা ও ভারতের কিছু মুদ্রা এবং দুটি ডেবিট কার্ড জব্দ করা হয়। এরপর পাপিয়ার ফার্মগেটের ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে একটি বিদেশী পিস্তল, দুটি ম্যাগজিন, ২০টি গুলি, পাঁচ বোতল বিদেশী মদ, ৫৮ লাখ ৪১ হাজার টাকা এবং বিভিন্ন ব্যাংকের ক্রেডিট ও ডেবিট কার্ড উদ্ধারের কথা জানায় র‌্যাব। অভিযান চালানো হয় পাপিয়ার নরসিংদীর বাড়িতেও। র‌্যাবের পক্ষ থেকে সে সময় বলা হয়, পাপিয়া গুলশানের ওয়েস্টিন হোটেল ভাড়া নিয়ে ‘অসামাজিক কার্যকলাপ’ চালিয়ে যে আয় করতেন, তা দিয়ে হোটেলে বিল দিতেন কোটির টাকার উপরে।

গত ২৩ আগস্ট অস্ত্র মামলায় অভিযোগ গঠন করে ঢাকা মহানগরের এক নম্বর বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক কে এম ইমরুল কায়েশ পাপিয়া ও সুমনের বিচার শুরুর আদেশ দেন। দুই পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে গত ২৭ সেপ্টেম্বর বিচারক রায়ের জন্য ১২ অক্টোবর দিন ঠিক করে দেন। সে হিসেবেই আজ রায় দেয়া হল।

শামিমা নূর পাপিয়া এবং তার কথিত সহযোগীদের আটকের পর আদালতে দেয়া আবেদনে বিমানবন্দর থানা পুলিশ বলে, ‘আসামিগণ সংঘবদ্ধভাবে অবৈধ অস্ত্র ব্যবসা, মাদক ব্যবসা, চোরাচালান, জাল নোটের ব্যবসা, চাঁদাবাজি, তদবির বাণিজ্য, জায়গা জমির দখল বেদখল ও অনৈতিক ব্যবসা বাণিজ্যের মাধ্যমে বিপুল অপরাধলব্ধ অর্থ বিত্তের মালিক হয়েছে বলে স্বীকার করে।’ সে সময় সংবাদ সম্মেলন করে র‌্যাব-১ এর অধিনায়ক শাফিউল্লাহ বুলবুল দাবি করেছিলেন যে পাঁচতারা হোটেলে নারীদের দিয়ে অনৈতিক কর্মকা- চালাতেন যুব মহিলা লীগের এই বহিষ্কৃত নেত্রী। তিনি আরও জানিয়েছিলেন যে তারা বেশ কিছু নারীর ভিডিও ক্লিপ পেয়েছেন যেগুলো নারীর জন্য মর্যাদাকর নয়। শামিমা নূর পাপিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদের পর তাকে উদ্ধৃত করে র‌্যাব আরও বলেছিল যে মেয়েদের আপত্তিকর ছবি বিত্তবান ব্যক্তিদের মোবাইল ফোনে পাঠাতেন তিনি (পাপিয়া) এবং এরপর বিত্তবান কেউ আগ্রহী হয়ে এলে তাকে জিম্মি করা হতো।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক গণঅধিকার'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyganoadhikar@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

দৈনিক গণঅধিকার'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। দৈনিক গণঅধিকার | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT