ঢাকা, মঙ্গলবার ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১, ৬ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

পিআইডি এর নিয়ম অনুসারে আবেদিত

পলিথিন ব্যবহার বেপরোয়াভাবে বাড়ছে

প্রকাশিত : 04:14 PM, 15 September 2020 Tuesday

গণঅধিকার নিউজ ডেস্কঃ

সপ্তাহের প্রায় তিন থেকে চারদিন বাজারে যেতে হয় মিরপুরের সাইফুল্লাহ মাহমুদের। কিন্তু হাতে কোন ব্যাগ নেই। একগাদা পলিথিনে বাজার ভরেই বাসায় ফেরেন। শুধু সাইফুল্লাহ মাহমুদ নন রাজধানীর অধিকাংশ লোকই এখন পলিথিনের ব্যাগে বাসার বাজার করতে বেশ অভ্যস্ত। নিত্যপণ্যে বাজার ছাড়াও অন্যান্য কাজে এখন মুখ্য হয়ে উঠেছে পলিথিনের ব্যাগ। অথচ এই ব্যাগ ব্যবহারে আইনের কঠোর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন পলিথিনের ব্যবহার দেখে মনে হয় না এটা বন্ধে দেশে কোন আইন রয়েছে।

তিনি সাইফুল্লাহ জানান, দোকানিরা বিনা পয়সায় পলিথিন দিয়ে দেন। না চাইলেও পলিথিনে বাজার ভরে দেন দোকানিরা। এক দুটি নয় যতগুলো আইটেমে পণ্য নেয়া হয়, ততগুলো পলিথিন সঙ্গে দেয়া হয়। না করলেও পলিথিন দিয়ে দেয়া হয়। অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে প্রাত্যহিক জীবনের অপরিহার্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে এই পলিথিনের ব্যবহার। বিশেষজ্ঞরা বলছেন নিষিদ্ধ এই পলিথিনের ব্যবহার সম্প্রতি বাড়ছে বেপোরোয়াভাবে। নানা ধরনের রংয়ের এবং সব ধরনের সাইজের পলিথিন এখন বাজারে সয়লাব। এর ব্যবহার বন্ধে কর্তৃপক্ষের কোন উদ্যোগ নেই। পরিবেশ অধিদফতর জানিয়েছে এর বিরুদ্ধে মাঝে মাঝে অভিযান চালানো হয়। পুরান ঢাকাকেন্দ্রিক অবৈধ কারখানায়ও অভিযান চালানো হয়েছে। কিন্তু কিছুতেই বন্ধ করা যাচ্ছে না।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে রাজধানীর সব মার্কেটেই পলিথিন পাইকারি বিক্রয় করা হয়। বিশেষ করে দোকানদার ও ব্যবসায়ীরা এসব পলিথিন পাইকারি দামে কিনে আনেন। পরে ক্রেতাদের কাছে পণ্য বিক্রির সময় এসব পলিথিনে বিনা পয়সায় পণ্য ভরে দেন। এর জন্য কোন ধরনের পয়সা নেয়া হয় না। মিরপুরের একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী রাজু আহমেদ বলেন, প্রতিমাসে পাইকারি দরে কিনে আনতে হয় এসব পলিথিন। প্রতিমাসে তার দোকানে পলিথিনের জন্য খরচ করতে হয় ২ হাজার টাকা। ক্রেতাদের কাছ থেকে পলিথিনের কোন খরচ নেয়া হয় না। এ তো গেল একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর পলিথিন ব্যবহারের হিসাব। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে বড় বড় দোকানগুলোতে কয়েকগুণ বেশি পলিথিন ব্যবহার করা হয় পণ্য দেয়া বাবদ।

সরেজমিনে দেখা গেছে শতকরা প্রায় এক শ’ ভাগ মানুষ বাজারে যাচ্ছে ব্যাগ ছাড়া। পলিথিনে করেই বাজার সারছেন। কাঁচাবাজার থেকে শুরেু করে মাছ-মাংস যে পণ্যই কেনা হোক না কেন, পলিথিনের ব্যবহার অবধারিত। অথচ পরিবেশের ক্ষতিক্ষর বিষয় বিবেচনায় এনে সরকার ২০০২ সালে পলিথিন উৎপাদন বিপণন নিষিদ্ধ করে। কিন্তু আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর নজরদারিতে সবার সামনে নিষিদ্ধ এই পণ্যের উৎপাদন ও বিপণন চলছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন পলিথিনের ব্যবহার যে হারে বাড়ছে তাতে অচিরেই পরিবেশের ওপর এর মারাত্মক প্রভাব পড়তে বাধ্য।

পরিবেশ অধিদফতরের হিসাবে, ২০১৫ সালের জুলাই থেকে ভ্রাম্যমাণ আদালত ৪ হাজার ৭৮৭টি মামলা দিয়েছে। এসব মামলায় ৮ জনকে দ- এবং ৫ কোটি ৩৪ লাখ ৩৫ হাজার ৩০০ টাকা আদায় করা হয়েছে। অভিযানগুলোতে ৮৪২ টন পলিথিন জব্দ করা হয়। এত অভিযানের পরেও পলিথিন ব্যবহার কমছে না। পবার সাধারণ সম্পাদক ও পরিবেশ অধিদফতরের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক প্রকৌশলী মোঃ আবদুস সোবহান বলেন, নিষিদ্ধঘোষিত পলিথিন উৎপাদন ও বিপণন করা হচ্ছে তা দেখভাল করার দায়িত্বও পরিবেশ অধিদফতরের। কিন্তু আইনের সঠিক প্রয়োগের অভাবেই পলিথিনের উৎপাদন বিপণন এবং ব্যবহার বন্ধ করা যাচ্ছে না।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক গণঅধিকার'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyganoadhikar@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

দৈনিক গণঅধিকার'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। দৈনিক গণঅধিকার | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT