ঢাকা, শনিবার ২৩ অক্টোবর ২০২১, ৮ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

পিআইডি এর নিয়ম অনুসারে আবেদিত

পর্যাপ্ত মজুত সত্ত্বেও চট্টগ্রামে অস্থির পেঁয়াজের বাজার

প্রকাশিত : 10:35 AM, 13 October 2021 Wednesday

গণঅধিকার নিউজ ডেস্কঃ

পর্যাপ্ত মজুত থাকা সত্ত্বেও চট্টগ্রামে দুই সপ্তাহ ধরে অস্থির পেঁয়াজের বাজার। ভারতে দাম বৃদ্ধির কথা বলে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা কয়েক দফায় দাম বাড়িয়েছেন। বর্তমানে তারা প্রায় দ্বিগুণ দরে নিত্যপ্রয়োজনীয় এই ভোগ্যপণ্যটি বিক্রি করছেন।

দামের এই অস্থিরতার সুযোগ নিয়ে দেশি ও মিয়ানমারের পেঁয়াজের দামও অযৌক্তিকভাবে বাড়িয়ে বিপুল অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে অসাধু ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশে পেঁয়াজ উঠেছে আরও কয়েক মাস আগে। বৃষ্টিতে এই ফসলের ক্ষতিও হয়নি। তার পরও দাম বেড়েছে শুধু অসাধু ব্যবসায়ীদের কারসাজিতে। মিয়ানমারের পেঁয়াজের দামও বাড়ানো হয়েছে। অথচ সেখানকার ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কিংবা তাদের অভ্যন্তরীণ বাজারে দাম বেড়েছে-এমন কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য নেই। বর্তমানে চট্টগ্রামের বাজারের প্রায় ৬০ শতাংশই মিয়ানমারের পেঁয়াজের দখলে।

অথচ দাম বৃদ্ধির ক্ষেত্রে ভারতের অজুহাত দেখানো হচ্ছে। আড়তদাররা বলছেন, অতিবৃষ্টিতে ভারতে পেঁয়াজের ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সেখানকার ব্যবসায়ীরা দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। তবে পেঁয়াজের সংকট নেই। দেশের বিভিন্ন মোকামে পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। ভারতীয় পেঁয়াজের দাম ওঠা-নামার মধ্যে অনেক আমদানিকারক দ্বিধাদ্বন্দ্বের মধ্যে পড়ে গেছেন। লাভ হবে না লোকসান হবে, বুঝে উঠতে না পারায় তারা আমদানি বন্ধ রেখেছেন।

এ কারণে বাজারে ভারতীয় পেঁয়াজের সরবরাহ কিছুটা কম। সেই জায়গা দখল করে নিয়েছে মিয়ানমারের পেঁয়াজ। গত দেড় সপ্তাহ ধরে টেকনাফ হয়ে মিয়ানমারের বিপুল পরিমাণ পেঁয়াজ খাতুনগঞ্জের বিভিন্ন আড়তে প্রবেশ করছে। দেশের বিভিন্ন জেলার মোকামের ব্যবসায়ীরা তা কিনে ট্রাকে নিয়ে যাচ্ছেন।

মঙ্গলবার খাতুনগঞ্জের বিভিন্ন আড়তে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ভারতের নাসিক পেঁয়াজ প্রতিকেজি ৫৩-৫৫ টাকা, মিয়ানমারের পেঁয়াজ ৪৫-৪৭ টাকা ও দেশি পেঁয়াজ ৫৮ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দুই সপ্তাহ আগেও চট্টগ্রামের পাইকারি বাজারে এসব পেঁয়াজ ৩৫-৩৮ টাকায় বিক্রি হয়েছে। পাইকারি বাজার চড়তে থাকায় খুচরা বাজারেও বেড়েছে ঝাঁঝ। নগরীর বিভিন্ন কাঁচাবাজার ও মুদি দোকানে প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৬৫-৭০ টাকায়।

পাইকারি ব্যবসায়ীরা জানান, ভারত থেকে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৩৩ রুপি দরে কিনতে হচ্ছে। এর সঙ্গে ৭ রুপি যোগ হচ্ছে ট্রাক ভাড়া। অর্থাৎ স্থলবন্দর পর্যন্ত আনতে খরচ হচ্ছে ৪০ রুপি বা ৪৭ টাকা। এরপর শুল্ক, লেবার খরচ ও দেশীয় বাজারে পরিবহণ ব্যয় মিলিয়ে আরও পাঁচ টাকা খরচ পড়ছে। সব মিলিয়ে এক কেজি পেঁয়াজের আমদানি মূল্য দাঁড়াচ্ছে ৫২ টাকা।

খাতুনগঞ্জ হামিদ উল্যাহ মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. ইদ্রিস বলেন, আমদানিকারকরা বেনাপোলসহ বিভিন্ন স্থলবন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আনেন। আমরা শুধু কমিশনের ভিত্তিতে বিক্রি করি। দাম ঠিক করে দেন আমদানিকারকরা। দাম বাড়া-কমার পেছনে আমাদের হাত নেই। তিনি বলেন, ঘূর্ণিঝড় গুলাব ও এর আগে পরে অতিবৃষ্টিতে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে পেঁয়াজের ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সেখানে দাম বেড়ে গেছে।

এ কারণে আমদানি ব্যয় বেশি পড়ছে। এর প্রভাবে দেশি বাজারে পাইকারিতে দাম বেড়েছে। তবে পেঁয়াজের কোনো সংকট নেই। ভারত থেকে এখনো আমদানি হচ্ছে। মিয়ানমার থেকেও আসছে। দেশে বর্তমানে যে পরিমাণ পেঁয়াজ রয়েছে, তা দিয়ে এক মাস চলে যাবে। আর এক মাসের মধ্যে ভারতের নাসিক জেলায় পেঁয়াজের নতুন একটি ফসল তুলবেন চাষিরা। আশা করছি তখন দাম কমবে। নাসিক থেকেই আমাদের দেশে বেশির ভাগ পেঁয়াজ আসে যা নাসিক পেঁয়াজ নামে পরিচিত।

এই ব্যবসায়ী আরও জানান, বর্তমানে খাতুনগঞ্জে মিয়ানমারের পেঁয়াজ রয়েছে ৬০ শতাংশ। আর ৪০ শতাংশ ভারতীয়। এখানে দেশি পেঁয়াজ নেই বললেই চলে।

খাতুনগঞ্জের একাধিক ব্যবসায়ী জানান, ভারতীয় পেঁয়াজের দাম বাড়ায় আমদানিকারকরা মিয়ানমারের বাজারে ঝুঁকেছেন। সেখানকার অভ্যন্তরীণ বাজারে দাম তুলনামূলক কম। তাই আমদানিতে লাভও বেশি। প্রথম দিকে মিয়ানমার থেকে কম দামে এনে অনেকে ভারতীয় পেঁয়াজের কাছাকাছি দামে বিক্রি করে প্রচুর লাভ করেছেন। কিন্তু ভারতে দাম বৃদ্ধির খবর জানাজানি হওয়ার পর মিয়ানমারের ব্যবসায়ীরাও দাম বাড়াচ্ছেন। এর পরও মিয়ানমারের বাজার থেকে পেঁয়াজ আমদানি এখনো বেশ লাভজনক।

দেশি পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি প্রসঙ্গে পাইকাররা জানান, ভারতীয় পেঁয়াজের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে দেশি পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। পাবনা, কুষ্টিয়া, ফরিদপুর, রাজশাহীর তাহেরপুরসহ কিছু এলাকায় পেঁয়াজ বেশি হয়। কিছু বড় ব্যবসায়ী এসব এলাকার বিভিন্ন গুদামে বিশেষ কায়দায় পণ্যটি সংরক্ষণ করেন। তারাই দাম বাড়িয়েছেন। হাতিয়ে নিচ্ছেন কোটি কোটি টাকা। প্রশাসনের উচিত সেসব গুদাম ও মোকামে অভিযান চালানো। তাহলে দেশি পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা যাবে।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক গণঅধিকার'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyganoadhikar@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

দৈনিক গণঅধিকার'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। দৈনিক গণঅধিকার | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT