সোমবার ২৩ মে ২০২২, ৯ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

পদ্মার ভাঙনে হুমকির মুখে গোদাগাড়ীর কয়েকটি গ্রাম

প্রকাশিত : 01:50 PM, 18 August 2021 Wednesday

গণঅধিকার নিউজ ডেস্কঃ

রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার নিমতলা, চাক পাড়া, খারিজাগাঁতি ও মোল্লাপাড়ায় পদ্মা নদীতে নতুন করে ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। এরই মধ্যে নদী গর্ভে তলিয়ে গেছে শত শত একর ফসলি জমি, আম বাগান। হুমকির মুখে রয়েছে বসতভিটা সহ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা।

প্রতিবছর বন্যার সময় পদ্মা নদী ভয়ালরূপ ধারণ করে। পদ্মার তীব্র ভাঙ্গনে আম বাগান, বিভিন্ন ফলের গাছ, ফসলী জমি যাচ্ছে নদীগর্ভে। গত ১৫ দিন ধরে উপজেলার নিমতলা চাক পাড়া, খারিজাগাঁতি ও মোল্লাপাড়া এলাকায় দেখা দিয়েছে এ ভাঙ্গন। হুমকির মুখে রয়েছে ফসলি জমি, পাশাপাশি বসতভিটা ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। ভাঙ্গন আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন পদ্মা নদী পাড়ের বাসিন্দারা। ভাঙ্গন রোধে দ্রুতই পদক্ষেপ নেয়ার দাবি স্থানীয়দের।

নিমতলা গ্রামের বৃদ্ধ কৃষক গোলাম রসুল চোঁখের পানি ঝড়াতে ঝড়াতে বলেন, ১ বছর আগে বহু কষ্টে বসতবাড়ী করেছিলাম, নদী ভাঙ্গতে ভাঙ্গতে বাড়ীর ধারে চলে এসেছে। বাড়ীর পাশে টিউবয়েলটি নদী গর্ভে চলে গেছে। বাড়ী থেকে সব মালামাল অসবাবপত্র বের করে নিয়ে পাশে অন্যর আম বাগানে খোলা আকাশের নিচে এখুন থাকছি। যে কোন মহূর্তে আমার বসত বাড়ী ও ভিটা নদীর গর্ভে চলে যাবে। আমার কোন আর জমি জায়গা নাই, অল্প একটু বাড়ী ভিটে ছিল নদী গর্ভে চলে গেল। বাড়ীটি চলে গেলে আমার আর কিছুই থাকবে না। এ কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন বৃদ্ধ কৃষক ও তার স্ত্রী।

নিমতলা গ্রামের মানিক বলেন, এ কয়েক দিনে শত শত একর আম বাগান, বিভিন্ন ফলের গাছ, ফসলী জমি পদ্মা নদী গর্ভে চলে গেছে। যে কোন সময় বসত বাড়ী নদীর ভাঙ্গনে তলিয়ে যাবে। ভাঙ্গন রোধে দ্রুতই কার্যকরী পদক্ষেপ না নিলে নদী গর্ভে চলে যাবে নিমতলা চাক পাড়া, খারিজাগাঁতি ও মোল্লাপাড়া এলাকার ফসলি জমি, আম বাগান, বসতবাড়ি, সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপন। পথে বসবে এলাকায় বসবাসকারী পরিবারগুলো।

এলাকাবাসী বলেন চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা পরিদর্শনে এসেছিলেন। কিন্তু ভাঙ্গন রোধে এখনো কোন পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। সংশ্লিষ্ট দেওপাড়া ইউপির চেয়ারম্যান আখতারুজ্জামান আখতার জানান, ভাঙ্গন কবলিত এলাকায় গোদাগাড়ী উপজেলা নির্ববাহী অফিসারের সাথে পরিদর্শনে গিয়েছিলাম। ইঞ্জিনিয়ারের সাথেও কথা হয়েছে। ভাঙ্গন রোধে উপজেলা নির্বাহী অফিসার উর্ধ্বাতন কর্মকর্তার কাছে রিপোর্ট পাঠিয়েছে। ভাঙ্গন রোধে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহনে সরকারের দ্রুত সহযোগিতা কামনা করছি আমরা।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক গণঅধিকার'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyganoadhikar@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

দৈনিক গণঅধিকার'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

এই বিভাগের জনপ্রিয়

© ২০২২ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। দৈনিক গণঅধিকার | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT