ঢাকা, বৃহস্পতিবার ২৪ জুন ২০২১, ১০ই আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

পিআইডি এর নিয়ম অনুসারে আবেদিত

নেক সন্তান চেয়ে হজরত জাকারিয়া যে দোয়া করেছিলেন

প্রকাশিত : 05:10 PM, 20 August 2020 Thursday

গণঅধিকার নিউজ ডেস্কঃ

হজরত জাকারিয়া আলাইহিস সালাম যখন বায়তুল মুকাদ্দাসে মারইয়ামের লালন-পালন করছিলেন, তখন তার প্রতি মহান আল্লাহর অসাধারণ নিদর্শন দেখে নিজের জন্যও দোয়া করেছিলেন। কুরআনুল কারিমে তার সে আবেদন এভাবে উঠে এসেছে-
هُنَالِكَ دَعَا زَكَرِيَّا رَبَّهُ قَالَ رَبِّ هَبْ لِي مِن لَّدُنْكَ ذُرِّيَّةً طَيِّبَةً إِنَّكَ سَمِيعُ الدُّعَاء
‘সেখানেই জাকারিয়া (আলাইহিস সালাম) তাঁর পালনকর্তার কাছে (এভাবে) প্রার্থনা করলেন। বললেন- হে আমার পালনকর্তা! তোমার কাছ থেকে আমাকে পুত-পবিত্র সন্তান দান কর। নিশ্চয়ই তুমি প্রার্থনা শ্রবণকারী।’ (সুরা ইমরান : আয়াত ৩৮)

আয়াতের ব্যাখ্যামূলক অনুবাদ
সে স্থানেই হজরত জাকারিয়া আলাইহিস সালাম যখন দেখলেন এবং তাঁর দৃঢ় প্রত্যয় ও জ্ঞান হলো যে, অসময়ে যিনি কোনো দ্রব্য আনয়নে সক্ষম নিশ্চয়ই তিনি অসময়ে এ বৃদ্ধাবস্থায়ও সন্তান দানের ক্ষমতা রাখেন। তাঁর বংশের সবাই তখন শেষ হয়ে গিয়েছিল।
হজরত জাকারিয়া তাঁর প্রতিপালকের কাছে যখন মধ্যরাতে নামাজের জন্য মেহরাবে প্রবেশ করেছিল তখন প্রার্থনা করে বলল-
رَبِّ هَبْ لِي مِن لَّدُنْكَ ذُرِّيَّةً طَيِّبَةً إِنَّكَ سَمِيعُ الدُّعَاء
উচ্চারণ : রাব্বি হাবলি মিল্লাদুংকা জুররিয়্যাতান ত্বাইয়্যেবাতান ইন্নাকা সামিউদ দোআ।’
‘হে আমার প্রভু! আমাকে তুমি তোমার কাছ থেকে পবিত্র বংশধ্র সৎ সন্তান দান কর। তুমিই প্রার্থনা শ্রবণকারী, কবুলকারী।’ (তাফসিরে জালালাইন)

হজরত জাকারিয়ার দোয়া করার অনুপ্রেরণা
হজরত জাকারিয়া আলাইহিস সালাম ছিলেন তখনও নিঃসন্তান ছিলেন। সময়টিও ছিল বাধ্যক্যের- যে বয়সে স্বাভাবিকভাবে সন্তান হয় না। তবে মহান আল্লাহর শক্তি সামর্থে্যর প্রতি তাঁর অগাধ বিশ্বাস ছিল যে, অলৌকিকভাবে এ বার্ধক্যের মধ্যেও তিনি সন্তান দিতে পারেন।

তবে অসময়ে ও অঞ্চলের বাইরে আল্লাহর মহিমা ইতিপূর্বে তিনি কখনো দেখেননি। তাই সাহস করে আল্লাহর কাছে দোয়া করেনি। কিন্তু এ সময় যখন তিনি দেখতে পেলেন যে, আল্লাহ তাআলা ফলের মৌসুম ছাড়াই মারইয়ামকে ফল-ফলাদি দান করেছেন; তখনই তার মনে মধ্যে সুপ্ত আকাঙ্ক্ষা জেড়ে উঠে আর তিনি দোয়া করার সাহস পেলেন।

যে সর্বশক্তিমান আল্লাহ মৌসুম ছাড়াই ফল দিতে পারেন, তিনি বৃদ্ধ দম্পতিকে হয়ত সন্তানও দেবেন। (তাই তিনি মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করলেন।)

এ আয়াত থেকে বুঝা যায় যে, সন্তান হওয়ার জন্য দোয়া করা নবি/পয়গম্বর ও তাদের সজ্জনদের সুন্নাত। কুরআনুল কারিমে অনেক দোয়া ও আবেদন রয়েছে। যা অন্যান্য নবি/পয়গম্বররাও করেছিলেন। (তাফসিরে মারেফুল কুরআন)

এ দোয়া কুরআনুল কারিমে তুলে ধরে আল্লাহ তাআলা বান্দাকে এ আহ্বানই করছেন যে, সন্তান প্রয়োজন? আমার কাছে চাও। আমিই পারি বান্দাকে সন্তান দিতে।
নিঃসন্তান দম্পতির জন্য মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে সৎ সন্তান লাভের এক উপযুক্ত দোয়াও এটি।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক গণঅধিকার'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyganoadhikar@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

দৈনিক গণঅধিকার'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। দৈনিক গণঅধিকার | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT