ঢাকা, সোমবার ১৮ অক্টোবর ২০২১, ৩রা কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

পিআইডি এর নিয়ম অনুসারে আবেদিত

নির্বাচনে জয়ের পথ খুঁজছেন ট্রাম্প

প্রকাশিত : 08:28 AM, 14 November 2020 Saturday

গণঅধিকার নিউজ ডেস্কঃ

দেশনেতৃত্ব ছেড়ে নির্বাচনে জয়ের পথ খুঁজছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর বিদেশী নেতাদের শুভেচ্ছা বার্তা নিতে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে বাধা দিচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন। যদিও বাইডেনের জয় মেনে নিতে শুরু করেছেন ট্রাম্পের দলের নেতারা। ট্রাম্পের জালিয়াতির অভিযোগ মার্কিন কর্মকর্তারা প্রত্যাখ্যান করেছেন। নির্বাচনে বিজয়ের ধারাবাহিকতায় এবার আরিজোনা অঙ্গরাজ্যে বাইডেন জয়ী হয়েছেন। অবশেষে বাইডেনকে অভিনন্দন জানিয়েছে চীন। এছাড়া পোপ ফ্রান্সিসও বাইডেনকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। ফোনে বাইডেনের সঙ্গে কথা বলেছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী। এদিকে রিপাবলিকান নেতারা গণতন্ত্রকে খাটো করছে বলে অভিযোগ করেছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। খবর বিবিসি, সিএনএন, আলজাজিরা, রয়টার্স, লস এ্যাঞ্জেলেস টাইমস, গার্ডিয়ান, ফক্স নিউজ, ওয়াশিংটন পোস্ট, নিউইয়র্ক টাইমস ও রিপাবলিক ওয়ার্ল্ডের। করোনা মহামারীর এই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র এ যাবতকালের সবচেয়ে গভীর সঙ্কটে ডুবতে থাকার মধ্যেও দেশের হাল না ধরে বরং হেরে যাওয়া নির্বাচনে জয়ের পথ খুঁজতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। হোয়াইট হাউজের অন্দরে ঘাপটি মেরে আছেন তিনি। এক সপ্তাহ আগে নির্বাচনে কারচুপির ভিত্তিহীন অভিযোগ করার পর থেকে ক্যামেরার সামনে তিনি আর কিছু বলছেন না। উপদেষ্টাদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন ট্রাম্প। কিন্তু তা দেশে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়া জরুরী জনস্বাস্থ্যের বিষয় নিয়ে নয় বরং নির্বাচনে জয় পাওয়া নিয়ে। যে নির্বাচনে তিনি এরই মধ্যে হেরে গেছেন। দেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির দিকে না তাকিয়ে পেন্টাগনের শীর্ষ পদে রদবদল ঘটানোর সময় তিনি ঠিকই বের করে নিয়েছেন। সরকারী কাজের যে স্বল্প কয়েকটি দিন ট্রাম্প কাটিয়েছেন, তা কার্যত নিউজ কভারেজ দেখে আর ভোট জালিয়াতি নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য টুইট করেই পার করেছেন। সব মিলিয়ে ট্রাম্প থেকে শুরু করে তার পরিবার এমনকি উপদেষ্টারা পর্যন্ত উঠেপড়ে লেগে আছেন একটি গুরুদায়িত্ব-প্রেসিডেন্সি-বাঁচাতে। যে দায়িত্ব অর্থবহভাবে পালনের আগ্রহ কার্যত ট্রাম্পের আছে বলে মনে হচ্ছে না। নির্বাচনের আগে হোয়াইট হাউসের চীফ অব স্টাফ মার্ক মেডৌস সিএনএনের ‘স্টেট অব দ্য ইউনিয়নে’ বলেছিলেন, মহামারী নিয়ন্ত্রণে আনা যাবে না বরং তারা এর প্রতিকারের পথে এগুবেন। আর এখন নির্বাচনের পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের হোয়াইট হাউজকে মহামারীর ব্যাপারে আগের চেয়েও আরও বেশি উদাসীন মনে হচ্ছে। সিএনএন বলছে, নির্বাচনের সময় থেকে যুক্তরাষ্ট্রে মহামারী পরিস্থিতি বিস্ফোরক হয়ে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় বুধবারেই দেশটিতে এক লাখ ৪০ হাজার ৫০০ জনের কোভিড-১৯ শনাক্ত হয়েছে এবং মারা গেছে এক হাজার এক শ’র বেশি মানুষ। প্রায় ৬৫ হাজার রোগী হাসপাতালগুলোতে ভর্তি হয়েছে; যেকোন সময়ের চেয়ে রোগীর এই সংখ্যা বেশি। সংক্রমণ যে হারে বাড়ছে তাতে চিকিৎসকরা উদ্বিগ্ন। কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা মুখ থুবড়ে পড়ার আশঙ্কায় আছেন তারা। এই ধারা চলতে থাকলে জানুয়ারিতে ট্রাম্প মেয়াদ শেষের আগে দেশকে স্বাস্থ্যের দিক থেকে এক ভয়ঙ্কর খারাপ পরিস্থিতির মধ্যে ফেলে যাবেন এবং তখন বাইডেনের জন্য এই বিপর্যয় দিন দিনই আরও খারাপের দিকে যাওয়ার আশঙ্কা থেকে যাবে। মহামারীর ব্যাপারে কেবল ট্রাম্পই উদাসীন তাই নয়, হোয়াইট হাউজের করোনা টাস্কফোর্সের প্রধান মাইক পেন্সও কয়েক সপ্তাহ ধরে কোন ব্রিফিং দেননি। ফলে বাইডেন দায়িত্ব নেয়ার আগে বর্তমান পরিস্থিতি সামাল দেয়া নিয়ে একরকম অন্ধকারে আছে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকরা। নেতৃত্ব থেকে ট্রাম্পের সরে থাকাটা বিশেষ করে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। এমোরি ইউনিভার্সিটি স্কুল অব মেডিসিনের নির্বাহী এ্যাসোসিয়েট ডিন কার্লোস ডেল রিও বলেছেন, আমরা নেতৃত্বে শূন্যতার মধ্যে আছি। অন্যদিকে, সিএনএনের চিকিৎসা বিষয়ক বিশ্লেষক ড. ইয়াসমিন বলেন, শুরু থেকেই আমাদের যা দরকার ছিল এখনও সেটাই আমাদের প্রয়োজন: আর তা হচ্ছে মহামারীর মোকাবেলায় জোরাল পদক্ষেপ। কিন্তু আমরা সেটা দেখতে পাব না বলেই উৎকণ্ঠায় আছি। অন্তত নতুন প্রেসিডেন্ট শপথ না নেয়া পর্যন্ত। আর এই সময়ের মধ্যে পরিস্থিতি তো খারাপ হতেই থাকবে।

এ্যারিজোনায় বাইডেন জয়ী ॥ এ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যে জয় পেয়েছেন বাইডেন। এ্যারিজোনায় জয়ের মধ্য দিয়ে অঙ্গরাজ্যটির ১১টি ইলেক্টোরাল কলেজ ভোট বাইডেনের ঝুড়িতে জমা পড়ছে। এ নিয়ে বাইডেনের ইলেক্টোরাল কলেজ ভোটের সংখ্যা ২৯০। বাইডেনের নির্বাচনী প্রতিপক্ষ রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী ও বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ইলেক্টোরাল কলেজ ভোটের সংখ্যা ২১৭। প্রেসিডেন্ট হতে কোন প্রার্থীর ২৭০টি ইলেক্টোরাল কলেজ ভোটের দরকার হয়। ইতোমধ্যে নির্ধারিত হয়ে গেছে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রার্থী বাইডেনই দেশটির পরবর্তী প্রেসিডেন্ট হচ্ছেন। এই লক্ষ্যে তিনি তার প্রশাসন গোছানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টির মধ্যে ৪৮টি অঙ্গরাজ্যের ভোটের ফল জানা গেল। সেই হিসাবে ৫৩৮টি ইলেক্টোরাল কলেজ ভোটের মধ্যে ৫০৭টির ফয়সালা হয়েছে। বাকি আছে ৩১টি। এখনও ঝুলে আছে দুটি অঙ্গরাজ্যের ভোটের ফল। তার একটি জর্জিয়া, অন্যটি নর্থ ক্যারোলাইনা। জর্জিয়ায় ১৬টি ও নর্থ ক্যারোলাইনায় ১৫টি ইলেক্টোরাল কলেজ ভোট আছে। জর্জিয়ায় এগিয়ে আছেন বাইডেন, নর্থ ক্যারোলাইনায় এগিয়ে ট্রাম্প। এ্যারিজোনা দীর্ঘদিন ধরে রিপাবলিকান শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। সেই রিপাবলিকান ঘাঁটি এখন ডেমোক্র্যাটদের দখলে।

বিদেশী নেতাদের শুভেচ্ছা বার্তা নিতে বাইডেনকে বাধা ॥ নতুন নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট বাইডেনকে বিদেশী নেতাদের শুভেচ্ছা বার্তা গ্রহণে বাধা দিচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন। বাইডেনকে সরকারীভাবে পাঠানো শুভেচ্ছা বার্তাগুলো যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জমা পড়ে আছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। মার্কিন গণমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে জানা গেছে, বাইডেন নির্বাচনে জয় পাওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত বহু দেশ থেকে বার্তা এসেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে। প্রথামাফিক এসব বার্তা নতুন প্রেসিডেন্টের কাছে পৌঁছে দেয়ার কথা। বর্তমান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখনও নির্বাচনের ফল মেনে না নেয়ায় তার প্রশাসন শুভেচ্ছা বার্তাগুলো বাইডেনের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে না। ফলে বাইডেনের লোকেরা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কোনরকম সহায়তা ছাড়াই ব্যক্তিগতভাবে বিদেশী নেতা এবং সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করতে বাধ্য হচ্ছে। এরই মধ্যে এমন ব্যক্তিগতভাবে ফোন কলে বাইডেন যোগাযোগ করেছেন কানাডা, ব্রিটেন, জার্মানি, ফ্রান্স এবং আয়ারল্যান্ডের সঙ্গেও। সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বাইডেন টিম পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রিসোর্স ব্যবহার করতে চায়। কিন্তু সেখান থেকে বাধা আসায় তারা এখন এই অপ্রত্যাশিত চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার চেষ্টা করছে। তাছাড়া, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে বাইডেনের দলবল যে কোন সহযোগিতা পাচ্ছে না কেবল তাই নয়, গত মঙ্গলবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও এই ডেমোক্র্যাট প্রার্থীর জয় মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বলেছিলেন, দ্বিতীয়বারের মতো নির্বিঘেœ ট্রাম্প প্রশাসনের হাতেই ক্ষমতা হস্তান্তর করা হবে। কয়েক বিদেশী কূটনীতিক বলেছেন, তাদের নেতারা নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট বাইডেনের সঙ্গে যোগাযোগে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বাধা দিচ্ছে বুঝতে পেরে পরে বাইডেন টিমকে শুভেচ্ছা বার্তা পাঠানোর জন্য সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আমলের কূটনীতিকদের সাহায্য নিয়েছেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলেছেন, যখন সময় হবে তখন বাইডেন টিমকে সহযোগিতা করতে মন্ত্রণালয় প্রস্তুত আছে। পার্টনারশিপ ফর পাবলিক সার্ভিসের সেন্টার ফর প্রেসিডেন্সিয়াল ট্রানজিশনের পরিচালক ডেভিড ম্যারচিক বলেন, নির্বাচনের আগে থেকেই এজেন্সিগুলো আইন মোতাবেক কাজ করছে। দফতর প্রস্তুত রাখা হয়েছে, সবকিছু প্রস্তুত আছে। এখন শুধু সবুজ সংকেতের অপেক্ষা। নিয়মানুযায়ী, সাবেক প্রেসিডেন্ট এবং ভাইস প্রেসিডেন্টরা যখন খুশি মন্ত্রণালয়ের রিসোর্স ব্যবহার করতে পারেন। কিন্তু, বাইডেন এখন নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট হওয়ার কারণে ট্রাম্প প্রশাসন তাকে মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতা নিতে দিচ্ছে না। শুধু তাই-ই নয়, নিয়মানুয়ায়ী নতুন প্রেসিডেন্টকে বর্তমান প্রেসিডেন্টের প্রতিদিন নানা বিষয়ে ব্রিফিং করার কথা, যাতে তিনি আগামী ২০ জানুয়ারি ক্ষমতা নেয়ার আগে রাষ্ট্রীয় বিষয়গুলো জেনে নিতে পারেন। সেই ব্রিফিংও বাইডেনকে দেয়া হচ্ছে না।

ট্রাম্পের জালিয়াতির অভিযোগ প্রত্যাখ্যান ॥ যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল নির্বাচনী কর্মকর্তারা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের আনা জালিয়াতির অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। তারা বলেছেন, ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি সুরক্ষিত নির্বাচন। নির্বাচনী কমিটির এক ঘোষণায় বলা হয়েছে, কোন ভোট মুছে ফেলা, হারিয়ে ফেলা, পরিবর্তন করা কিংবা অন্য কোন উপায়ে সমঝোতা করার কোন ধরনের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। সদ্য সমাপ্ত মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফল এখনও মেনে নেননি দেশটির বর্তমান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। নির্বাচনে জালিয়াতির অভিযোগে বেশকিছু মামলাও করেছেন তিনি। যদিও তার টিম এখনও কোন প্রমাণ হাজির করতে পারেনি। ভিত্তিহীনভাবে ট্রাম্প দাবি করেছেন, নির্বাচনে তার সমর্থনে পড়া ২৭ লাখ ভোট মুছে ফেলা হয়েছে। ট্রাম্পের ওই দাবির পর মুখ খুলেছে নির্বাচনে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি ইউনিট। বৃহস্পতিবার কমিটি অব দ্য সাইবার সিকিউরিটি এ্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার সিকিউরিটি এজেন্সি (সিআইএসএ) বলেছে, নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে আমরা বেশ কিছু অমূলক দাবি এবং ভুল তথ্যের সুযোগের কথা জানতে পারলেও আমরা আমাদের নির্বাচনের নিরাপত্তা এবং মর্যাদা নিয়ে চূড়ান্ত আত্মবিশ্বাসী, আপনাদেরও তা থাকা উচিত। ওই বিবৃতিতে বলা হয়, প্রশ্ন থাকলে বিশ্বস্ত কণ্ঠ নিয়ে নির্বাচনী কর্মকর্তাদের কাছে যান, তারাই নির্বাচনী প্রশাসক। সিআইএসএর প্রধান ক্রিস্টোফার ক্রেবস জানিয়েছেনÑ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাকে বরখাস্ত করতে পারেন বলে আশঙ্কা করছেন তিনি। এর আগে সিআইএসএর সহযোগী পরিচালক ব্রায়ান ওয়ার পদত্যাগ করেন। গত সপ্তাহে তাকে পদত্যাগ করতে বলে দেয় হোয়াইট হাউজ।

রিপাবলিকানরা গণতন্ত্রকে খাটো করছে ॥ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ভিত্তিহীন অভিযোগে সমর্থন দিয়ে রিপাবলিকান দলের সিনিয়র নেতারা মার্কিন গণতন্ত্রকে খাটো করছে বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। মার্কিন সম্প্রচারমাধ্যম সিবিএস নিউজকে দেয়া সাক্ষাতকারে ওবামা বলেন, এই নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থী জো বাইডেন স্পষ্টভাবে জিতে গেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্ট ওবামার স্মৃতিকথা প্রকাশ উপলক্ষে রবিবার ওই সাক্ষাতকারটি সম্প্রচারিত হবে। সাবেক প্রেসিডেন্ট ওবামা বলেন, নির্বাচনে জালিয়াতির যেসব অভিযোগ আনা হচ্ছে সেগুলো এই কারণে যে, ট্রাম্প হারতে পছন্দ করছেন না। ট্রাম্পের আগের আমলের প্রেসিডেন্ট বলেন, আমি আরও সমস্যা বোধ করছি এই কারণে যে, অন্য রিপাবলিকান কর্মকর্তা, যারা আরও ভালভাবে জেনে- বুঝেও ট্রাম্পের সঙ্গে গলা মেলাচ্ছেন। এতে কেবল আসন্ন প্রেসিডেন্ট বাইডেনকেই অবজ্ঞা করা হচ্ছে না বরং গণতন্ত্রকেও অবহেলা করা হচ্ছে আর এটা বিপজ্জনক পথ। নিজের স্মৃতিকথা প্রকাশ উপলক্ষে ওই সাক্ষাতকার দেন ওবামা। দুই খণ্ডে প্রকাশ হতে যাওয়া প্রথম খণ্ডটি আগামী ১৭ নবেম্বর প্রকাশের কথা রয়েছে। এ প্রমিজড ল্যান্ড নামের স্মৃতিকথাটিতে থাকছে মার্কিন সিনেট থেকে শুরু করে তার প্রথম মেয়াদে হোয়াইট হাউজে থাকার সময়কাল।

বাইডেনের জয় মেনে নিতে শুরু করেছেন ॥ মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বাইডেনের জয় মেনে নিতে ট্রাম্প অস্বীকৃতি জানালেও তার দল রিপাবলিকান পার্টির নেতাদের একটি গ্রুপ ভিন্ন পথে হাঁটছে। সংখ্যায় অল্প হলেও এসব রিপাবলিকান নেতা বলছেন, নিয়ম অনুযায়ী বাইডেনকে এখনই প্রতিদিনকার গোপনীয় গোয়েন্দা ব্রিফিং সরবরাহ করা উচিত। এসব রিপাবলিকান নেতার মধ্যে রয়েছেন ট্রাম্পের গুরুত্বপূর্ণ মিত্র লিন্ডসে গ্রাহামও। এরই মধ্যে সরকার গঠনের প্রস্তুতি শুরু করেছে বাইডেন। ক্ষমতা গ্রহণের লক্ষ্যে ট্রানজিশন টিম গঠনের পর এবার হোয়াইট হাউজের টিম গোছানোর দিকে নজর দেয়া শুরু করেছেন। কংগ্রেসের বেশিরভাগ রিপাবলিকান নেতাই ট্রাম্পের পক্ষে রয়েছেন। হাউজ অব রিপ্রেজেনটেটিভের স্পীকার ন্যান্সি পেলোসি বলেছেন, এই অযৌক্তিক সার্কাসের অর্থ করোনাভাইরাস মহামারী অবহেলা করা হয়েছে। তিনি এবং অন্য শীর্ষ ডেমোক্র্যাট নেতারা বাস্তবতা মেনে নিতে রিপাবলিকানদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। বেশিরভাগ রিপাবলিকান নেতা এখনও বাইডেনের জয় মেনে নিতে পারেননি। দশ থেকে ২০ রিপাবলিকান নেতা ইতোমধ্যে বাইডেনকে অভিনন্দন জানিয়েছেন কিংবা স্বীকার করে নিয়েছেন যে ক্ষমতা হস্তান্তর অবশ্যই হবে।

অবশেষে বাইডেনকে অভিনন্দন জানাল চীন ॥ নির্বাচিত হওয়ার প্রায় এক সপ্তাহ পর অবশেষে চীনের কাছ থেকে অভিনন্দন বার্তা পেলেন বাইডেন। শুক্রবার নির্বাচিত এই মার্কিন প্রেসিডেন্টকে অভিনন্দন জানিয়েছে চীন। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ওয়াং ওয়েনবিন শুক্রবার নিয়মিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে বলেছেন, আমরা আমেরিকার জনগণের পছন্দের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আমরা জো বাইডেন এবং কমলা হ্যারিসকে অভিনন্দন জানাই। বেজিংয়ের আগের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে চীনা এই কর্মকর্তা বলেন, আমরা জানি মার্কিন নির্বাচনের ফল যুক্তরাষ্ট্রের আইন এবং প্রক্রিয়া অনুযায়ী নির্ধারিত হবে। এর আগে, বেসরকারীভাবে নির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসকে বিশ্বের যে কয়েকটি দেশ অভিনন্দন জানানো থেকে বিরত ছিল, চীন তাদের মধ্যে অন্যতম। চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে বেজিং এক প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছিল, চীন দেখেছে- মার্কিন নির্বাচনে বাইডেনকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে। নির্বাচনে ট্রাম্প পরাজয় স্বীকার করে না নেয়ায় বিজয়ী প্রার্থীকে অভিনন্দন জানানো থেকে বিরত থাকে চীন, রাশিয়া, মেক্সিকোসহ কয়েকটি দেশ।

বাইডেনকে শুভেচ্ছা জানালেন পোপ ॥ বাইডেনকে টেলিফোনে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন শীর্ষ ক্যাথলিক ধর্মীয় গুরু পোপ ফ্রান্সিস। যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে ডেমোক্র্যাটিক দলের ট্রানজিশন টিম এমন তথ্য দিয়েছে। বাইডেন টিম জানিয়েছে, ফোন করে আশীর্বাদ ও শুভেচ্ছা জানানোয় তিনি পোপ ফ্রান্সিসের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেছেন। শান্তি, মীমাংসা ও মানুষের স্বাভাবিক বন্ধনকে এগিয়ে নিতে পোপের নেতৃত্বেরও প্রশংসা করেন বাইডেন। ১৯৬০ সালে জনএফ কেনেডির পর দ্বিতীয় ক্যাথলিক খ্রীস্টান হিসেবে জো বাইডেন মার্কিন প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন। প্রান্তিক দরিদ্র মানুষের সেবা, জলবায়ু পরিবর্তন সঙ্কট মোকাবেলা, অভিবাসী ও শরণার্থীদের আমাদের সমাজে বরণ এবং একীভূতকরণের মতো ইস্যুগুলোতে সবার সমানাধিকার ও মর্যাদার স্বাভাবিক বিশ্বাসের ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার কথা জানিয়েছেন বাইডেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিরুদ্ধে তিক্ত প্রচারে পোপ দ্বিতীয় জন পলের উদ্ধৃতি দিয়েছিলেন বাইডেন। এ সময় প্রায়ই তিনি নিজের আইরিশ ক্যাথলিক শিকড়ের কথা মনে করেন এবং চার বছরের তিক্ত বিভক্তির পর ‘আমেরিকার সত্তা ফিরিয়ে আনারও’ প্রতিশ্রুতি দেন। এছাড়া প্রয়াত ছেলে বিউ বাইডেনের স্মরণে নিয়মিত গির্জায় প্রার্থনা করেন বাইডেন। ট্রাম্পের সঙ্গে পোপ ফ্রান্সিসের সম্পর্ক ভাল নয়। ২০১৯ সালের শুরুর দিকে মেক্সিকো সীমান্তে অভিবাসীদের ফেরাতে ট্রাম্পের দেয়াল নির্মাণের প্রকল্পকে ‘উন্মত্ততা’ আখ্যা দেন পোপ ফ্রান্সিস।

বাইডেনকে ফোন জাপানের প্রধানমন্ত্রীর ॥ বাইডেনের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী ইয়োশিহাদা সুগা। জাপানের স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার তিনি বাইডেনকে ফোনে অভিনন্দন জানান। এটি মিত্র দুই দেশের নেতাদের মধ্যে প্রথম টেলিফোন সংলাপ ছিল। সুগা অবশ্য এর আগে টুইটে বাইডেনকে অভিনন্দন জানিয়েছিলেন। প্রথম টেলিফোন সংলাপে সুগা এবং বাইডেন জাপান-যুক্তরাষ্ট্র মৈত্রী জোরদার করার পাশাপাশি করোনা সংক্রমণ সামাল দেয়া এবং জলবায়ু চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় একসঙ্গে কাজ করতে রাজি হয়েছেন। প্রায় ১০ মিনিটের টেলিফোন সংলাপের পর সুগা সাংবাদিকদের বলেছেন, তাদের এই প্রথম আলোচনা ছিল খুবই আন্তরিক ও ফলপ্রসূ। নির্বাচনে জেতায় তিনি বাইডেনকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন। অবাধ ও উন্মুক্ত ইন্দো-প্যাসিফিক মহাসাগরীয় অঞ্চল বাস্তবায়নে সহযোগিতা করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। সুগা উত্তর কোরিয়ার জাপানী নাগরিক অপহরণের সমস্যা সমাধানে বাইডেন ও যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত সমর্থন প্রত্যাশা করেন। সুগা সাংবাদিকদের বলেছেন, বাইডেন তাকে জানিয়েছেন জাপান-যুক্তরাষ্ট্র মৈত্রী জোরদার করে নিতে এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে ওয়াশিংটনের মিত্রদের সঙ্গে তিনি কাজ করবেন। টেলিফোন সংলাপে বাইডেন আরও আভাস দিয়েছেন, পূর্ব চীন সাগরের বিতর্কিত সেনকাকু দ্বীপমালা জাপান-মার্কিন নিরাপত্তা চুক্তির আওতাধীন বলে তিনি মনে করেন। জাপানও এমনটাই চাইছে। কারণ, চীন এই দ্বীপের মালিকানা দাবি করছে। তাই যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানগত সহযোগিতা জাপানের জন্য প্রয়োজন। জাপান দ্বীপগুলো নিয়ন্ত্রণ করলেও চীন মালিকানা দাবির পাশাপাশি আশপাশের সমুদ্রে সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়ে চলেছে। সংবাদ সম্মেলনে সুগা আরও জানিয়েছেন, জানুয়ারি মাসের ২০ তারিখে বাইডেন দায়িত্ব গ্রহণের পর দ্রুত তিনি ওয়াশিংটন সফরে যাবেন।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক গণঅধিকার'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyganoadhikar@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

দৈনিক গণঅধিকার'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। দৈনিক গণঅধিকার | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT