ঢাকা, রবিবার ২৪ জানুয়ারি ২০২১, ১১ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

পিআইডি এর নিয়ম অনুসারে আবেদিত

শিরোনাম

নিরাময় কেন্দ্রে পুলিশ কর্মকর্তার মৃত্যু, দায়ীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে

প্রকাশিত : 05:11 PM, 12 November 2020 Thursday

গণঅধিকার নিউজ ডেস্কঃ

প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে- রাজধানীর আদাবরে অবস্থিত মাইন্ড এইড মানসিক ও মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন সিনিয়র এএসপি আনিসুল করিমের মৃত্যু হয়েছে সেখানকার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রহারজনিত কারণে।

প্রতিষ্ঠানটির সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে এমনটিই মনে করছে পুলিশ। এর মানে হল, মানসিকভাবে অসুস্থ আনিসুল করিমের মৃত্যু আকস্মিক কোনো ঘটনা নয়; এটি একটি হত্যাকাণ্ড। পুলিশ এরই মধ্যে নিরাময় কেন্দ্রের পরিচালকসহ ১০ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে গ্রেফতার করেছে।

উল্লেখ্য, পরিবারের সদস্যরা গত সোমবার তাকে জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইন্সটিটিউটে নিয়ে যাওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মাইন্ড এইড মানসিক ও মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রশ্ন হচ্ছে, তড়িঘড়ি করে তাকে মানসিক চিকিৎসা কেন্দ্র পরিচালনার লাইসেন্স না থাকা একটি প্রতিষ্ঠানে নিয়ে যেতে হল কেন? এ প্রশ্নের উত্তর খোঁজা জরুরি এবং এক্ষেত্রে ওই সরকারি হাসপাতালসহ সংশ্লিষ্ট সবার জবাবদিহি হওয়া প্রয়োজন।

নির্যাতন ঘটনার একজন প্রত্যক্ষদর্শী বলেছেন, যে কক্ষে আনিসুল করিমকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে, সেটি রোগীদের জন্য ‘টর্চার সেল’ হিসেবে ব্যবহার করা হতো। এটি কোনোমতেই চিকিৎসার পদ্ধতি হতে পারে না।

সাধারণত মাদকাসক্ত ও মানসিক রোগীদের উত্তেজনা প্রশমনের ক্ষেত্রে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অনুসরণ তথা র‌্যাপিড ট্রাংকুলাইজিং পদ্ধতিতে চিকিৎসা প্রদান করা হয়। এটি মূলত ওষুধ দিয়ে করা হয় এবং তা ব্যবহারের ক্ষেত্রে ‘নৈতিক ও বিধিবদ্ধ’ নিয়মনীতি রয়েছে। বলার অপেক্ষা রাখে না, সুস্বাস্থ্যের জন্য একজন মানুষের মানসিক অবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এটি আমাদের দৈনন্দিন জীবনেও সরাসরি প্রতিফলিত হয়। সাধারণত যে কোনো মানবিক সংকটে একটি জনগোষ্ঠীর মানসিক স্বাস্থ্যের সমস্যা প্রকট হয়ে ওঠে। এছাড়াও এটি হয় যখন কেউ সহিংসতার শিকার হয়, কাছের মানুষকে হারায়, প্রাকৃতিক দুর্যোগের শিকার হয় অথবা মানবেতর জীবনযাপনে বাধ্য হয়।

দেখা যায়, শারীরিক ক্ষত হয়তো একসময় শুকিয়ে যায়; কিন্তু মানসিক ট্রমা মানুষকে বছরের পর বছর ভোগাতে পারে। এ কারণে উপযুক্ত মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আর এ জন্য দরকার সাইকোলজিস্ট, কাউন্সেলর ও সাইকিয়াট্রিস্টদের নিয়ে গঠিত একটি পরিপূর্ণ মেন্টাল হেলথ টিম, যা মাইন্ড এইড মানসিক ও মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে ছিল না।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ছাড়া মানসিক রোগীদের চিকিৎসা দেয়া কোনোমতেই সম্ভব নয়। অথচ মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রের নিবন্ধন পাওয়া মাইন্ড এইড মানসিক ও মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র অবৈধভাবে ১০ শয্যার মানসিক চিকিৎসা কেন্দ্র পরিচালনা করে আসছিল।

১৯৮২ সালের অধ্যাদেশ অনুযায়ী নিবন্ধন না পাওয়া পর্যন্ত কেউ কোনো হাসপাতাল কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে না। প্রতিষ্ঠানটি কোন খুঁটির জোরে ১০ শয্যার মানসিক চিকিৎসা কেন্দ্র পরিচালনা করছিল, তার তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।

রাজধানীসহ সারা দেশে বৈধ ও অবৈধভাবে গড়ে ওঠা বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সরকারের লোকজন ছাড়াও অনেক চিকিৎসক নেতা সম্পৃক্ত। ফলে রোগী কল্যাণ তথা জনস্বার্থ সংরক্ষণের বিষয়টি বরাবরই উপেক্ষিত থেকেছে।

এ সুযোগে দেশে লাইসেন্সবিহীন অসংখ্য হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পাশাপাশি মানসিক ও মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রও গড়ে উঠেছে। এগুলোর বিরুদ্ধে যথাযথ পদক্ষেপ নেয়াসহ পুলিশ কর্মকর্তা আনিসুল করিমের মৃত্যুর জন্য দায়ীদের শাস্তি নিশ্চিত করা হবে, এটাই প্রত্যাশা।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক গণঅধিকার'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyganoadhikar@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

দৈনিক গণঅধিকার'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। দৈনিক গণঅধিকার | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT