ঢাকা, বুধবার ১৪ এপ্রিল ২০২১, ১লা বৈশাখ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

পিআইডি এর নিয়ম অনুসারে আবেদিত

নিত্যপণ্যের কোন সঙ্কট নেই

প্রকাশিত : 08:28 AM, 5 April 2021 Monday

গণঅধিকার নিউজ ডেস্কঃ

দেশের কাঁচাবাজারে নিত্যপণ্যের কোন সঙ্কট নেই। আমদানি ও সরবরাহ বাড়ায় চাহিদা মতো ভোগ্যপণ্য সামগ্রী পাওয়া যাচ্ছে সকল বাজারে। রমজান মাস সামনে রেখে মার্চ মাসের শেষ নাগাদ চাহিদার তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ পরিমাণ ভোজ্যতেল, চিনি, ছোলা, পেঁয়াজ, ডাল ও খেজুর আমদানি হয়েছে। পর্যাপ্ত পরিমাণে মজুদ রয়েছে চাল। হাওড়ে নতুন ধান কাটার উৎসব চলছে। দ্বিগুণ পরিমাণ পণ্য নিয়ে সারাদেশে ট্রাকসেল কার্যক্রম শুরু করে দিয়েছে সরকারী বাজার নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা-টিসিবি। লকডাউনের সময় আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত পণ্যসামগ্রী না কেনার পরামর্শ দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে- পর্যাপ্ত পরিমাণে ভোগ্যপণ্য সামগ্রীর মজুদ রয়েছে দেশে। লকডাউনের সময় ন্যায্যমূল্যে বাজারে পণ্য সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে। তবে রবিবারও দেশের প্রায় প্রতিটি মার্কেট, শপিংমল এবং কাঁচাবাজারে ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। সাধ্যমতো কেনাকাটা করেছেন ভোক্তারা। এতে করে পেঁয়াজ, সবজি ও মাছ-মাংসের মতো কিছু ভোগ্যপণ্যের দাম বেড়ে গেছে। লকডাউনের সময় সকাল ৮টা থেকে প্রতিদিন বিকেল ৪টা পর্যন্ত কাঁচাবাজার চালু থাকবে। ওই সময়ের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মেনে স্বাচ্ছন্দে নগরবাসী কেনাকাটা করতে পারবেন।

জানা গেছে, রোজায় ভোগ্যপণ্যের সরবরাহ বাড়াতে এবার প্রায় তিন মাস আগে প্রস্তুতি গ্রহণ করে সরকার। এরমধ্যে বেসরকারী খাতকে অত্যাবশ্যকীয় ১৭টি পণ্যের মধ্যে যেগুলো আমদানি করতে হয় সেগুলোর মজুদ বাড়ানোর পরামর্শ দেয়া হয়। বিশেষ করে রোজায় বেশি ব্যবহার হয় এমন সব পণ্য আমদানি ও মজুদে সবচেয়ে বেশি জোর দেয়া হয়। পাশাপাশি সরকারী সংস্থা টিসিবিও নিজস্ব উদ্যোগে এবার প্রথম বারের মতো দ্বিগুণ পরিমাণ পণ্যসামগ্রী আমদানি ও সংগ্রহ করেছে। ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ-টিসিবি ইতোমধ্যে সারাদেশে ৫০০ ট্রাকের মাধ্যমে বিক্রি কার্যক্রম শুরু করে দিয়েছে যা অব্যাহত থাকবে রমজান মাসজুড়ে। এছাড়া করোনার প্রকোপ বেড়ে যাওয়া এবং লকডাউন চলায় সংস্থাটি অনলাইনেও তাদের বিক্রি কার্যক্রম চালু রাখার ঘোষণা দিয়েছে। এতে করে ভোক্তারা ইচ্ছে করলে টিসিবির কমমূল্যের পণ্য ঘরে বসে অনলাইনে কেনাকাটার সুযোগ পাবেন।

জানা গেছে, লকডাউনের সময় ভোগ্যপণ্যের সরবরাহ ব্যবস্থাপনা ও বণ্টন পদ্ধতির ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দেয়া হয়েছে। কাঁচাবাজারের পাশাপাশি ভোগ্য ও নিত্যপণ্যের সুপারশপগুলো আগের মতো যথারীতি চালু থাকবে। এক্ষেত্রে সুপারশপ কর্তৃপক্ষকে নিজ উদ্যোগে স্বাস্থ্যবিধি মানার বিষয়টি অনুসরণ করতে হবে। আগের মতো যথারীতি ফার্মেসিগুলো চালু রাখা হয়েছে। জরুরী ওষুধ সামগ্রী ক্রেতারা ফার্মেসি থেকে সংগ্রহ করতে পারবেন। সব ধরনের খাবারের রেস্তরাঁ চালু থাকলেও সেখানে বসে খাওয়া যাবে না। পার্সেল কিংবা বাসায় নিয়ে খেতে হবে। তবে পাইকারি ও খুচরা দোকানদার ব্যবসায়ীরা অনলাইনের মাধ্যমে বেচা বিক্রি করতে পারবেন। সেক্ষেত্রে তাদের শতভাগ স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে। তবে মার্কেট, বিপণিবিতান, শপিংমল, ফ্যাশন হাউসগুলো বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। সামনে পহেলা বৈশাখ ও রোজার ঈদ সামনে রেখে ইতোমধ্যে মার্কেটগুলোতে উৎসবকেন্দ্রিক বেচাকেনা শুরু হয়েছিল। কিন্তু লকডাউনের কারণে এখন মার্কেট ও শপিংমলগুলো বন্ধ রাখতে হবে। এ নিয়ে ব্যবসায়ীদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

লকডাউনের আগে কেনাকাটার ধুম ॥ লকডাউনের আগে রবিবার রাজধানীর মার্কেট, বিপণিবিতান, শপিংমল এবং কাঁচাবাজারগুলোতে কেনাকাটার ধুম লক্ষ্য করা গেছে। সকাল সকাল ক্রেতারা বাজারে গিয়ে প্রয়োজনীয় পণ্যের কেনাকাটা করেছেন। অনেকে ছুটে গেছেন মার্কেট, বিপণিবিতান ও শপিংমলে। এ কারণে মার্কেটগুলোতে বেচাকেনা বেড়েছে। নিত্যপণ্যের চাহিদা বাড়ার কারণে পেঁয়াজ, সবজি, মুরগি ও মাছ-মাংসসহ বেশ কয়েকটি ভোগ্যপণ্যের দাম বেড়ে যায়। পুরান ঢাকার কাপ্তানবাজার থেকে মুরগি ও মাছ কিনছিলেন বনগ্রামের বাসিন্দা আসলাম আলী। তিনি জনকণ্ঠকে বলেন, ফের লকডাউন শুরু হচ্ছে আর এ কারণে বেশি করে মুরগি ও মাছ-মাংস কেনা হয়েছে। ওই বাজারের মুদি পণ্যের ব্যবসায়ী হাবিবুর রহমান বলেন, লকডাউনের খবরে পেঁয়াজ, আলু, চাল, ডালসহ প্রায় সব ধরনের পণ্যসাগ্রীর বিক্রি বেড়েছে। এ কারণে দু’একটি পণ্যের দাম বেড়েছে। তবে বাজারে কোন পণ্যের সঙ্কট নেই। পণ্যের সরবরাহও ভাল অবস্থায় রয়েছে।

তবে ক্রেতাদের চাহিদার তুলনায় বেশি পরিমাণ পণ্যসামগ্রী না কেনার পরামর্শ দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে- নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। দেশে ভোগ্যপণ্যের কোন সঙ্কট নেই। তাই স্বাভাবিক ক্রয়ে আস্থা রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে সরকারের পক্ষ থেকে।

মাছ-মাংস, দুধ-ডিমের সরবরাহ বাড়ানো হবে ॥ লকডাউনের সময় ভোগ্যপণ্যের বাজারে মাছ-মাংস, দুধ ও ডিমের সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম জানিয়েছেন, লকডাউনের সময় নিত্যপ্রয়োজনীয় মাছ, মাংস, দুধ, ডিম উৎপাদন, আহরণ, বিপণন কোনভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত হবে না। মোবাইল ব্যবস্থাপনা করা হবে। সরকারের যেসব গাড়ি আছে সেখানে মাছের সঙ্গে মাংস, ডিম সহজলভ্যভাবে যাতে মানুষের কাছে পৌঁছায় সে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে মন্ত্রণালয়। প্রসঙ্গত, রোজার সময় মাছ-মাংস, ডিম ও দুধের চাহিদা বাড়বে। ইতোমধ্যে মুরগির দাম বেড়ে গেছে। চড়া মাছের দাম। লকডাউনে আরেক দফা দাম বাড়লে সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাবে এসব ভোগ্যপণ্য। এ কারণে এখনই মাছ-মাংস, মুরগি এবং ডিমের সরবরাহ বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছে ভোক্তা অধিকার নিয়ে কাজ করে এমন সব সংগঠন। এছাড়া এসব পণ্যের দাম বাড়লে পুষ্টিহীনতার অভাব তৈরি হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। গরিবের আমিষের প্রধান উৎস ব্রয়লার মুরগি এখন বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। খামার মালিকরা বলছেন, মুরগি ফিডের দাম কমানো না হলে ভবিষ্যতে আরও দাম বাড়তে পারে। আগামী বাজেটে মুরগি ফিড, মুরগির ওষুধসহ অন্য উপকরণ আমদানিতে ভর্তুকি বাড়াতে হবে।

দ্বিগুণ ভোগ্যপণ্য আমদানি ॥ রমজান সামনে রেখে এবার তিনমাস আগে থেকে আমদানির প্রস্তুতি নিয়েছিলেন ব্যবসায়ীরা। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে গত বছরের ডিসেম্বর মাসের শুরুতে ভোগ্যপণ্যের আমদানি বাড়ানোর পরামর্শ দেয়া হয়। সরকারী সেই পরামর্শ গ্রহণ করে দেশে ভোগ্যপণ্যের আমদানি ও বাজারজাতকারী জায়ান্ট প্রতিষ্ঠানগুলো বিপুল পরিমাণ চাল, ডাল, ছোলা, ভোজ্যতেল, চিনি, গম, পেঁয়াজ, মসলাপাতি এবং খেজুর আমদানি করে। এ কারণে ভোগ্যপণ্য নিয়ে ক্রেতাদের আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি ও বাণিজ্য সচিব ড. মো. জাফর উদ্দীন। তারা বলছেন, দেশে ভোগ্যপণ্যের কোন সঙ্কট নেই। করোনা পরিস্থিতির মধ্যেও বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকবে।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক গণঅধিকার'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyganoadhikar@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

দৈনিক গণঅধিকার'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। দৈনিক গণঅধিকার | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT