ঢাকা, শনিবার ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১৫ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

পিআইডি এর নিয়ম অনুসারে আবেদিত

নিক্সন চৌধুরীর বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে ॥ সিইসি

প্রকাশিত : 02:27 PM, 14 October 2020 Wednesday

গণঅধিকার নিউজ ডেস্কঃ

ফরিদপুর-৪ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য নিক্সন চৌধুরীর জেলা প্রশাসককে হুমকি ও সরকারী কর্মকর্তাদের গালিগালাজের ঘটনা দেশজুড়ে আলোচিত। গত শনিবার চরভদ্রাসন উপজেলায় উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে তিনি নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গ করে জেলা প্রশাসককে দাঁতভাঙ্গা জবাব দেয়ার হুমকি প্রদান করেন। এছাড়াও তিনি উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী ভূমি কমিশনারকেও গালিগালাজ করেন। এ ঘটনার ভিডিও সঙ্গে সঙ্গে সারাদেশে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। বিষয়টি এখন টক অব দ্য কান্ট্রিতে পরিণত হয়েছে।

এদিকে ফরিদপুর চার আসনের এমপি মজিবর রহমান চৌধুরী ওরফে নিক্সন চৌধুরীর বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নুরুল হুদা। চরভদ্রাসর উপজেলার উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে সংসদ সদস্য আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছেন। প্রয়োজনে তার বিরুদ্ধে মামলা করার বিধান থাকলে তাও করা হবে। ব্যক্তি বিবেচ্য নয়। এমপি হিসেবে আলাদা সুবিধা পাওয়ার সুযোগ নেই। বিধি অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

মঙ্গলবার আগারগাঁও নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের এ কথা জানান। ফরিদপুর-৪ আসনের স্বতন্ত্র এমপি মজিবর রহমান ওরফে নিক্সন চৌধুরীর বিরুদ্ধে অভিযোগ গত শনিবার চরভদ্রাসন উপজেলায় চেয়ারম্যান পদের উপনির্বাচনে আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ের তার কর্মী-সমর্থকদের গ্রেফতার করায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার জেসমিন সুলতানা এবং সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) গালাগালি করেন। এছাড়া জেলা প্রশাসক অতুল সরকারকে এ বিষয়ে দাঁতভাঙ্গা জবাব দেয়া হুমকি প্রদান করেন। সরকারী কর্মকর্তাদের হুমকি প্রদানের অডিও এখন সামাজিক যোগাযোগে ভাইরাল। যদিও নিক্সন চৌধুরী মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে সরকারী কর্মকর্তাদের গালাগালির বিষয়টি অস্বীকার করেন। বলেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া কণ্ঠস্বরটিও আমার নয়।

এদিকে নির্বাচনে আচরণবিধি লঙ্ঘন এবং সরকারী কর্মকর্তাদের গালিগালাজ ও হুমকির ঘটনা ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য মুজিবর রহমান চৌধুরীর ওরফে নিক্সন চৌধুরীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গত সোমবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও নির্বাচন কমিশনে চিঠি পাঠিয়েছেন জেলা প্রশাসক অতুল সরকার। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব শেখ রফিকুল ইসলাম বলেন, আমরা এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনকে চিঠি পাঠিয়েছি। এটি নির্বাচন সংক্রান্ত বিষয়। এখানে যদি কোন আচরণবিধি ভঙ্গ হয়ে থাকে, সেটা নির্বাচন কমিশন দেখবে।

ডিসির পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে গত ১০ অক্টোবর চরভদ্রাসন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করার স্বার্থে নির্বাচন কমিশন এবং স্থানীয় সহকারী রিটার্নিং অফিসারের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেয়া হয়। এ বিষয় নিয়ে হুমকি, মিথ্যা, মানহানিকর ও অশালীন বক্তব্য দেন স্থানীয় সংসদ সদস্য (স্বতন্ত্র) মজিবুর রহমান চৌধুরী নিক্সন, চরভদ্রাসন উপজেলা পরিষদের বিজয়ী চেয়ারম্যান মোঃ কাউছার এবং তার অনুসারীরা। তাদের এ ধরনের আচরণ উপজেলা পরিষদ (নির্বাচন আচরণ) বিধিমালা-২০১৬ এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন মর্মে প্রতীয়মান হয় উল্লেখ করে ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করা হয়েছে।

এদিকে প্রধান নির্বাচন কমিশন কে এম নুরুর হুদা সাংবাদিকদের নির্বাচনের আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়ে আরও বলেন, সংসদ সদস্য যে আচরণবিধি ভঙ্গ করেছেন অবশ্যই তার বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নেয়া হবে। আমরা জানি, তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে। অভিযোগটা আমরা সঙ্গে সঙ্গে জেনেছি। এ বিষয়ে কমিশনারদের সঙ্গে আলোচনা করেছি। করণীয় বিষয় নির্ধারণ করেছি। যে কোন সময় করণীয় বা সিদ্ধান্ত নেয়া হবে এ বিষয়ে। অবশ্যই যে আচরণ সংসদ সদস্য করেছেন নির্বাচন পরিচালনা করার সময়, সেটা কাম্য নয়। আচরণবিধি ভঙ্গ করেছেন। আইনে যেরকম বিধিবিধান আছে, তার বিষয়ে আইনের বিধিবিধান প্রযোজ্য হবে। এতটুকু বলতে পারি। এ সময় কমিশনার রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আইনে যা আছে, যা যা করা সম্ভব, আমরা সবকিছুই করার জন্য প্রস্তুত আছি।

হুমকিতে জেলা প্রশাসককে যা বললেন নিক্সন চৌধুরী ॥ ভাইরাল

এর আগে শনিবার ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক অতুল সরকারকে চরভদ্রাসন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান পদের উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের গ্রেফতার ও পিটানোর অভিযোগ এনে হুঁশিয়ারি উচ্চরণ ফরিদপুর-৪ আসনের স্বতন্ত্র সাংসদ মুজিবর রহমান চৌধুরী নিক্সন বলেছেন, ‘এ ডিসিকে আমরা তার দাঁতভাঙ্গা জবাব দেব।’ শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে চরভদ্রাসন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে উপনির্বাচনে পরবর্তীতে এক বিজয় সমাবেশে এ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন সাংসদ। চরভদ্রাসন উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সাংসদ নিক্সন বলেন, প্রশাসনের মধ্যে লুকাইয়া থাকা ওই জেলা প্রশাসক শেখ হাসিনার চোখকে ফাঁকি দিয়ে ১২ জন ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে নৌকার কর্মীদের এ্যরেস্ট করছে পিটাইছে ওই জেলা প্রশাসক। ‘ওই জেলা প্রশাসক একজন রাজাকার’-মন্তব্য করে সাংসদ বলেন, তা না হলে মাত্র চরাটি ইউনিয়নে ১২ জন ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে আমার নেতাকর্মীদের যেখানে পাইছে সেখানে আমার নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, আমার কর্মীরা ভয় পাইয়া গেছিল। আমি বলেছি ভয় পাবেন না। উনি তো কেবল জেলা প্রশাসক ওনার চেয়ে অনেক বড় বড় প্লেয়ার আমরা দেইখা আইছি। যেভাবে আমার নেতাকর্মীরা জান বাজি রাইখা ওই সরকারী গু-াদের প্রতিহত করে জনগণের ভোট জনগণকে দিয়ে ১১ হাজার ভোটের ব্যবধানে নৌকার বিজয় ছিনাইয়া এনেছে।

নিক্সন চৌধুরী বলেন, অনেকে বলেন নৌকা মার্কা পাইলেই নাকি চেয়ারম্যান হওয়া যায়, এমপি হওয়া যায়। এইবার নৌকা নিয়ে এসে আমি তার ঠেলাটা বুঝেছি। আমার নির্বাচনের সময় একজন ম্যাজিস্ট্রেট ছিল। গত উপজেলা নির্বাচনের সময় ছিল একজন। এবার চারজন টিএনও আটজন ম্যাজিস্ট্রেট দিয়া জেলা প্রশাসক ফরিদপুর নৌকাকে হারাইয়া দিয়া বিএনপির লোককে জেতানোর ষড়যন্ত্র করেছেন।

হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে সাংসদ বলেন, আমি জেলা প্রশাসনকে সাবধান করব আপনি ফরিদপুরে দেখেছেন অনেক বড় নেতার পতন হইছে, ওই বরকত-রুবেলের যত অন্যায়, যত দুর্নীতি তার সঙ্গে আপনার জেলা প্রশাসনের লোক জড়িত ছিল। বরকত রুবেলের বিচারে হলে ওই জেলা প্রশাসকের বিচার হবে। কারণ ওই দিপু খাঁর (প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী কে এম ওবায়দুল বারী) বালির ব্যবসার ভাগ ওই জেলা প্রশাসক পায়।

নিক্সন বলেন, জেলা প্রশাসকের উদ্দেশ বলব, আপনি যত বড় উপদেষ্টার নাতি হোন না কেন আপনি নিক্সন চৌধুরীর সঙ্গে চোখ রাঙাইয়া কথা বলবেন না। আমি যদি আমার জনগণ নিয়া আপনার বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামি, আপনি নৌকার বিরুদ্ধে কাজ করেছেন, আপনি আমার নেতাকর্মীদের এরেস্ট করেছেন আমার এজেন্টদের এরেস্ট করেছেন, আমি যদি নেতাকর্মীদের নিয়ে নামি তবে আপনি এক মিনটি দম নেয়ার সুযোগ পাবেন না। বক্তব্যের এই পর্যায়ে জেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধে যাবতীয় আপত্তিকর সেøাগান দিতে শুরু করেন নিক্সনের সমবেত অনুসারীরা।

সাংসদ নিক্সন আরও বলেন, আজকে নির্বাচন সুষ্ঠু করতে আমার নেত্রী যেভাবে পুলিশ বাহিনীকে দিয়ে এ নির্বাচন সুষ্ঠু করেছে তিনি তার উল্টো ১২ জন ম্যাজিস্ট্রেট, একটা জাতীয় নির্বাচনে একজন ম্যাজিস্ট্রেট থাকে, এই আসনের তিন থানায় তিনজন থাকেন। আর এ চার ইউনিয়নে ১২ জন ম্যাজিস্ট্রেট আর চারজন ইউএনও এবং যে দুর্ব্যবহার সে নৌকার নেতাকর্মীদের সঙ্গে করছে এ ডিসিকে আমরা তার দাঁতভাঙ্গা জবাব দেব। এবং আগামী দিনে যদি এই ডিসির বিচার করা না হয় তবে আমরা নৌকার কর্মীরা রাজপথে শুয়ে বিশ্বরোড অবরোধ করে…উনি এক উপদেষ্টার ভয় দেখায়, উনি মনে করে ওই উপদেষ্টাই ওনার ক্ষমতা। আরে এমন কত উপদেষ্টা দেখলাম মিয়া, জাফরউল্লা কাজীরই বেল নাই আর আপনি উপদেষ্টার ভয় দেখান। সরকারী চাকরি করেন বিএনপি নেতাদের চেয়ারম্যান বানানোর জন্য না। এই যুবদলের প্রেসিডেন্ট দিপু খাঁর বালুর ব্যবসা থেকে কোটি কোটি টাকা এই ডিসি ঘুষ নিচ্ছে দেখেই আজ এ অবস্থা। আমরা এর বিচার অবশ্যই করব এবং আমরা এর বিচার চাই। প্রকাশ্য সভায় জেলা প্রশাসক অতুল সরকারকে ফরিদপুর-৪ আসনের স্বতন্ত্র এমপি মুজিবুর রহমান চৌধুরী নিক্সন চৌধুরী দেখে নেবার হুমকি দেয়াসহ নানা অশালীন ভাষায় আক্রমণ করে বক্তৃতা করার ঘটনা নিয়ে গোটা জেলাজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। এছাড়া ভাঙ্গা উপজেলার এসিল্যান্ডকে খারাপ ভাষায় মোবাইল ফোনে কথা বলার বিষয়টি নিয়ে নানা সমালোচনা শুরু হয়েছে। একজন এমপির এমন আচরণ নিয়ে প্রশাসনের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করছে। এমপি নিক্সন চৌধুরীর ভিডিও এবং অডিও এখন হাজারো মানুষের হাতে হাতে ঘুরছে। ডিডিও এবং অডিওটি ভাইরাল হয়েছে। জেলা প্রশাসক ও এসিল্যান্ডকে হুমকি দিয়ে কথা বলার ঘটনাটি নজিরবিহীন বলে মন্তব্য করেছেন সচেতন নাগরিক সমাজ। এজন্য সাংসদকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইবার কথা বলেছেন অনেকেই।

গত শনিবার ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার চেয়ারম্যান পদে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে নিক্সন চৌধুরীর সমর্থিত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মোঃ কাউসার বিজয়ী হন। এছাড়া এমপি নিক্সন চৌধুরী ভাঙ্গা উপজেলা সহকারী কমিশনারকে মোবাইল ফোনে মা-বাবা তুলে গালমন্দ করেন সেই অডিওটি এখন হাজারো মানুষের মোবাইল ফোনে ঘুরছে। এমপি নিক্সন চৌধুরীর এমন আচরণ নিয়ে গোটা এলাকাজুড়ে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে। এ অঞ্চলের মানুষের মুখে মুখে এখন জেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধে এমপি নিক্সন চৌধুরীর সেই বক্তব্যের আলোচনা। নিক্সন চৌধুরীর কথা ভিডিও এবং অডিওটি ফেসবুক-এ ভাইরাল হবার পর হাজার হাজার মন্তব্য করছে সাধারণ মানুষ।

গত শনিবার চরভদ্রাসন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এ নির্বাচনে মোট সাত জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তবে নির্বাচনের আগে দুইজন প্রার্থী সরে দাঁড়ান।

নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ কাওসার হোসেন (নৌকা) ১৬ হাজার ৫২৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী উপজেলার হরিরামপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান কে এম ওবায়দুল বারী পেয়েছেন ৫ হাজার ৩৪৬ ভোট। কে এম ওবায়দুল বারী একসময় উপজেলা যুবদলের সভাপতি ছিলেন। তবে গত ছয় বছর ধরে চরভদ্রাসনে যুবদলের কোন কমিটি নেই। গত বছর ২৩ অক্টেবর চরভদ্রাসন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন মুসার মৃত্যুর কারণে উপজেলার চেয়ারম্যান পদটি শূন্য হয়ে যায়। গত ২৯ মার্চ এ উপনির্বাচন হওয়ার কথা ছিল। করোনার কারণে তা পিছিয়ে ১০ অক্টোবর ভোট গ্রহণের দিন ধার্য করা হয়।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে নির্বাচন অবাধ, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে আয়োজনের জন্য নির্বাচন কমিশনের চাহিদা অনুযায়ী চরভদ্রাসন উপজেলা নির্বাচনে ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেয়া হয়। গত ৬ অক্টোবর চরভদ্রাসন উপজেলার উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা জেলা প্রশাসকের কাছে প্রেরিত ‘চরভদ্রাসন উপজেরা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে উপনির্বাচন ২০২০ উপলক্ষে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ প্রসঙ্গে’-এক আবেদনে সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে নির্বাচন পরিচালনা এবং আচরণ বিধি প্রতিপালন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য চারজনসহ মোট ১২ জন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ জানান। সে প্রেক্ষিতে এ উপনির্বাচনে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ১২ জন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেয়া হয়।

ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক অতুল সরকার বলেন, নির্বাচন অবাধ সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে আয়োজনের জন্য নির্বাচন কমিশনের চাহিদা অনুযায়ী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, বেশি ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেয়া হলে নির্বাচনে কি সমস্যা হয় তা বোধগম্য নয়।

সাংসদ মুজিবর রহমান নিক্সনের হুঁশিয়ারি বিষয়ে জেলা প্রশাসকের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হরে তিনি বলেন, বিষয়টি শিষ্টাচারবহির্ভূত। একজন সংসদের কাছ থেকে এ জাতীয় বক্তব্য প্রত্যাশিত নয়। তিনি বলেন, এ বিষয়টি তিনি তাঁর উর্ধতন কর্তপক্ষকে জানিয়েছেন।

প্রসঙ্গত ভাঙ্গা, সদরপুর ও চরভদ্রাসন উপজেলা নিয়ে গঠিত ফরিদপুর-৪ সংসদীয় আসন। এ আসনের স্বতন্ত্র সাংসদ মুজিবর রহমান চৌধুরী ওরফে নিক্সন। তিনি আওয়ামী লীগ প্রার্থী কাজী জাফরউল্লাকে ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে দুই দফা পরাজিত করে সাংসদ নির্বাচিত হন। এরপর থেকে ওই তিন উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যত দুভাবে বিভক্ত হয়ে পড়ে।

এ উপনির্বাচনকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগ প্রার্থী হিসেবে মোঃ কাওসারকে দলীয় মনোনয়ন দেয়া হয়। কাজী জাফরউল্লাহ চরভদ্রাসনে এসে এ ঘোষণা দেন। অপরদিকে স্বতন্ত্র সাংসদ নিক্সন চৌধুরী তার প্রার্থী হিসেবে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আনোয়ার মোল্লাকে মনোনয়ন দেন। তকে গত ২৩ সেপ্টেম্বর আনোয়ার মোল্লা সাংসদের পরামর্শে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান। পরদিন ২৪ সেপ্টেম্বর আওয়ামী লীগ প্রার্থী কাউসার সোনার নৌকা নিক্সনের হাতে তুলে দিয়ে সাংসদের শিবিরে যোগ দেন।

অভিযোগ অস্বীকার নিক্সনের ॥ ভয়েসটি আমার না।

এ দিকে জেলা প্রশাসককে হুমকি এবং সরকারী কর্মকর্তাদের গালিগালাজের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন নিক্সন চৌধুরী। মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন সোসাল মিডিয়ায় আমার যে বক্তব্য ও কথা প্রকাশিত হয়েছে, এটা বক্তব্য পুরোপুরিভাবে এডিট করা। বেলা এগারোটার দিকে আমি টিএনওকে ফোন করেছিলাম, যে আমার একজন কর্মীকে তারা সে মাঠে দাঁড়িয়ে সিগারেট খাচ্ছিল, সেই অপরাধের জন্য ম্যাজিস্ট্রেট এবং বিজিপি ধরে নিয়ে গিয়েছিল। সেই বিষয়টা অবগত করার জন্যই আমি ফোন করেছিলাম। আর যেটা ছড়ানো হয়েছে সেটা সুপার এডিট করা।’

‘আপনারা এখানে দেখতে পারবেন যে টিএনও এর সঙ্গে আমার আলাপটা দেয়া হয়েছে। টিএনও একজন বিসিএস ক্যাডার। যদি আমার সঙ্গে টিএনও এর কথা সোস্যাল মিডিয়ায় দেয়া হয়, উনি তো আইন সম্পর্কে সব জানেন। হাইকোর্টে সুস্পষ্ট ব্যাখা আছে, রায় আছে সেখানে কারও ফোনের রেকর্ড সোস্যাল মিডিয়ায় দেয়া যাবে না। আমার টিএনও এত বোকা না, যে তিনি আইনের লোক হয়ে আইন ভঙ্গ করে সোস্যাল মিডিয়াতে এটা দিয়ে ভাইরাল করবে। এখন পর্যন্ত আমার টিএনও এর কোন বক্তব্য কিন্তু আসেনি।’

‘আমি মনে করি উনার সঙ্গে আমার এ রকম আচরণ করার কোন প্রশ্নই উঠে না। যে অডিও ক্লিপ বানানো হয়েছে, এটা পুরোপুরি ভিক্তিহীন। আপনারা চরভদ্রাসনের ইউএনকে জিজ্ঞেস করেন, আমি এমন কোন আচরণ করেছি কি না। হ্যাঁ আমি, ফোন করেছিলাম একজনকে ধরে নিয়ে গেছে সেই বিষয়ে। বাকি যে বিষয়টা সেটা পুরাই ভিক্তিহীন এবং এটাকে ভয়েস এডিট করে আমার শত্রু পক্ষ যেটা আছেন।

তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের আচরণবিধি, আমি বলেছি যে আমি নালিশ করেছি, এইটার বিষয়ে আসি টিএনও আপাকে জানাচ্ছি লাম এইটার অবশ্যই নির্বাচন আচরণবিধির মধ্যে পরে না।’ আরেকটা জিনিস, নির্বাচনে পরে যখন ফলাফল প্রকাশ করা হলো, তখন আমার একটা বক্তব্য দিয়েছে যে এটাও পুরোপুরি এডিট করা। আমার কাছে আছে, যে আমি যে বক্তব্য দিছি সেটা এডিট করে দিয়েছে। ভোট শেষ হওয়ার পর প্রশাসনের তা-বে ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীদের শান্ত করতে গিয়েছিলাম, সেটাও প্রশাসনের অনুরোধে।

‘চরভদ্রাসন উপজেলায় উপনির্বাচন পরিচালনার জন্য চারজন ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেয়া হলো। নির্বাচনের দিন দেখা গেল সেখানে ১৩ জন ম্যাজিস্ট্রেট দেয়া হলো। এই ম্যাজিস্ট্রেটরা সারাদিন আমার নেতাকর্মীদের ওপর তা-ব চালিয়েছে, নৌকার ভোটারদের ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে। এর প্রতিবাদের নেতাকর্মীরা টিএনও কারর্যলয়ে গিয়েছিল। প্রশাসন থেকে আমাকে রিকোয়েস্ট করে নিয়ে গেছে। আমি নির্বাচনে বিধি অমান্য করিনি। কারণ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর নেতাকর্মী এবং ভোটারদের শান্ত করেতে রাস্তায় দাঁড়িয়ে তাদের বুঝিয়েছি। আমি উপজেলা থেকে তাদের সরিয়ে ২ কিলোমিটার দূরে তাদের শান্ত করার জন্য হাত জোর করে অনুরোধ করেছি আপনারা কেউ আইন হাতে তুলে নিবেন না, তারা সারাদিন যা করেছে তার বিচার আমি দেব।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক গণঅধিকার'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyganoadhikar@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

দৈনিক গণঅধিকার'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। দৈনিক গণঅধিকার | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT