রবিবার ২৯ মে ২০২২, ১৫ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

নরসিংদী বাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ

প্রকাশিত : 11:03 PM, 8 June 2021 Tuesday

গণঅধিকার নিউজ ডেস্কঃ

হাঁড়িদোঁয়া ও মেঘনা নদীর মোহনায় আনুমানিক ১৭৭৪ সালের দিকে কয়েকটা বটগাছের নিচে সপ্তাহে ২ দিন সোম+বৃহস্পতিবার বাজার বসতে শুরু করে। নরসিংদী, রায়পুরা,নবীনগর, ভৈরব,বাঞ্ছারামপুর, নারায়ণগঞ্জ অঞ্চলের মানুষের জন্য নৌপথে চলাচল সহজতর হওয়ায় এই বাজার টি অল্প দিনেই বেশ জনপ্রিয় হয়,১৮৬৪ সালে কাগজে কলমে সপ্তাহে ২ দিন বাজার বসতে শুরু করে, কিন্তু এখানে মানুষ বাজার করতে এসে নামাজের জায়গা পায় না, এলাকার লোকদের আগ্রহে আনুমানিক ১৯২২ সালের দিকে একটা ছোট ঘরে পাঞ্জেগানা মসজিদ তৈরি হয়, তখনও জুম্মা হতো না, ১৯৩৯ সালের দিকে এখানে একচালা টিনের জুম্মা মসজিদ স্থাপন করা হয়, সেই থেকে বাজার মসজিদে জুম্মা শুরু হয়, ১৯৭৪ সালে বেশ বড় পরিসরে একতলা ভবন নির্মান করা হয়,তারপরে আবার ২০১০/১১ সালে নরসিংদী কৃতি সন্তান বিশিষ্ট দানবীর আঃকাদির মোল্লা সাহেব আরো বৃহত্তর পরিসরে দৃষ্টিনন্দন ডিজাইনে এই মসজিদ টি পুনঃনির্মাণ করা দেন,

মসজিদের পূর্ব দিকে চালপট্টি,মনোহরীপট্টি,হাঁড়িদোঁয়া নদী,, উত্তর দিকে লাকড়ীপট্টি,নারিকেল পট্টি,
দক্ষিণ দিকে, পানপট্টি,সিলভার পট্টি,তারকারি বাজার,পশ্চিম দিকে ফল পট্টি, আর ৭০ গজ পশ্চিমে রয়েছে কালী মন্দির।
চমৎকার দৃষ্টিনন্দন এই মসজিদ টি তিনতলা ভবন বিশিষ্ট, এর নিচতলায় দুপাশে অযুখানা রয়েছে, একসাথে ১৩০ জন অযু করতে পারে, নিচতলা ১৪ টি এসি দ্বারা সম্পূর্ণভাবে শীতাতপনিয়ন্ত্রিত, শুধু মাত্র মসজিদের জন্য আলাদা ট্রান্সফর্মার বসিয়ে কারেন্টের লাইন নিতে হয়েছে, কারেন্ট চলে গেলে এর জন্য আলাদা বিশাল জেনারেটর রয়েছে, মসজিদের উত্তর দিকে ইমাম সাহেবদের কক্ষ ও লাইব্রেরী, পশ্চিম দিকে তিনতলা বিশিষ্ট টয়লেট,এবং জেনারেটর রুম রয়েছে,
নিচতলায় একসাথে ১০২০ জন নামাজ আদায় করতে পারে, এবং দোতলা তিনতলা মিলিয়ে পুরো মসজিদে ৩৫৭০ জন মুসুল্লি একসাথে নামাজ আদায় করতে পারে, রমাজানের প্রত্যেক জুম্মায় ছাদে ও রাস্তায় নামাজের কাতার হয়, তখন প্রায় ৫ হাজার মানুষের বিশাল জমায়েত হয়, ছোটকাল থেকেই এই মসজিদে জুম্মার নামাজ আদায় করি, মসজিদের ফ্লোর, সিঁড়ি থেকে অযুখানা সবই মাখরানা মার্বেল পাথরের, নিচতলায় সদর দরজার সামনে সুপেয় পানির ব্যাবস্থা করা আছে,এই মসজিদের মাসিক রক্ষণাবেক্ষণ ব্যায় আড়াই লক্ষ টাকা।

মসজিদের ৪ জন খাদেম, ২ জন মোয়াজ্জিন, ১ জন পেশ ইমাম, একজন খতীব রয়েছেন, ( ইমাম+খতিব সাহেব দুজনেই দারুল উলুম দেওবন্দের স্বর্ণসন্তান, এবং ওনারা দুজনেই দারুল উলুম দত্তপাড়া মাদ্রাসার শিক্ষক হিসেবে আছেন)
ওনাদের প্রত্যেকের ব্যবহার অতি আন্তরিক ও সৌহার্দপূর্ণ, যার কারনে মুসুল্লিরাও আকৃষ্ট হয়, দেশী বিদেশী সকল জামাত এখানে উঠতে পারে,
চমৎকার এই মসজিদটি নরসিংদীর গর্ব ও ঐতিহ্য ধরে রেখেছে…..!
২৬ জুন ২০২০ তারিখে জুম্মার নামাজের পরে ছবিগুলো তোলা।
তথ্য গুলো ৩ সপ্তাহে সংগ্রহ করা, কোনো ভুল হলে প্রমাণ সহ সংশোধনের জন্য কমেন্ট করতে পারবেন,
সময় নিয়ে পড়ার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক গণঅধিকার'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyganoadhikar@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

দৈনিক গণঅধিকার'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০২২ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। দৈনিক গণঅধিকার | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT