ঢাকা, বুধবার ২০ জানুয়ারি ২০২১, ৭ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

পিআইডি এর নিয়ম অনুসারে আবেদিত

নব্য রাজাকার নির্মূল

প্রকাশিত : 10:34 AM, 17 December 2020 Thursday

গণঅধিকার নিউজ ডেস্কঃ

করোনা মহামারীর কারণে জাতীয় কুচকাওয়াজসহ সরকারী বড় সব কর্মসূচী না থাকলেও মহান বিজয়ে বাঙালীর বিজয়োৎসবের এতটুকু কমতি ছিল না। সীমিত পরিসরের কর্মসূচী থাকলেও বিজয়ের আনন্দ আর নতুন প্রজন্মের বাঁধভাঙ্গা উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো। সর্বত্রই বাঙালীর মনে ছিল এক অন্যরকম বিজয়ের আনন্দ। বাংলাদেশে এ দিন সব ফুল ফুটেছিল শহীদের প্রতি শ্রদ্ধায়। প্রতিবারের মতো তীব্র জনস্রোত না নামলেও লাল-সবুজের বিজয় নিশান আর ফুল হাতে মানুষের ঢল ছিল সর্বত্র। তবে একাত্তরের পরাজিত শক্তির যে অনুসারীরা আজও বাংলাদেশে উগ্রবাদের বিষ ছড়াচ্ছে, জাতির পিতার ভাস্কর্য নিয়ে ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্য দেয়ার দুঃসাহস দেখাচ্ছে- তাদের শেকড় বাংলাদেশের মাটি থেকে উপড়ে ফেলার প্রত্যয় এসেছে মুক্তিযুদ্ধে বাঙালীর বিজয়ের ৪৯তম বার্ষিকীতে।

বুধবার মহান বিজয় দিবসে সর্বত্রই ছিল কৃতজ্ঞ বাঙালীর মুখে বিজয়ের গান আর যুদ্ধাপরাধী-রাজাকার ও মৌলবাদমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার শপথ। শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে আসা সমাজের নানা স্তরের প্রতিনিধিদের কণ্ঠে প্রতিধ্বনিত হয়েছে নব্য রাজাকার ও তাদের দোসারদের সর্বত্র ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধের সেই শপথের সুর। তাদের কণ্ঠে উচ্চারিত হয়েছে- একাত্তরের সেই ঘাতক-দালাল আর তাদের আজকের দোসর নব্য রাজাকারদের নির্মূল করা না গেলে ভবিষ্যতেও তারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বাংলাদেশের জন্য হুমকি তৈরি করবে।

এমন দীপ্ত শপথে বুধবার চারদিকে ছিল নতুন প্রজন্মের বাঁধভাঙ্গা উচ্ছ্বাস। বাংলাদেশ নামক জাতিরাষ্ট্রের জন্মদিনে অন্যরকম এক স্বস্তি ও চেতনায় স্বাস্থ্যবিধি মেনেই বিজয়ের উল্লাসে মেতেছিল পুরো জাতি। এক নতুন রূপে ও চেতনায় এবার বিজয় দিবস উদ্যাপন করল দেশবাসী। রাজাকার-আলবদর ও স্বাধীনতাবিরোধী মুক্ত বাংলাদেশ বিনির্মাণের শপথে একাত্তরের মতোই যেন গর্জে উঠেছিল তারা। সারাদেশে শহীদদের শ্রদ্ধাসহ নানা অনুষ্ঠানে লাল-সবুজ পতাকা উড়িয়ে বিজয় উদ্যাপন করেছে বাংলাদেশের মানুষ।

মহান বিজয় দিবসে অহঙ্কার আর অর্জনের বিজয়োল্লাসে মেতেছিল পুরো বাংলাদেশ। রক্তের ঋণ শোধ করার গর্ব, নিষ্ঠুরতার বিচার করতে পারার তৃপ্তি। বিজয়োৎসবে মাঠে নামা মানুষের একাত্তরের বীর শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধায় অবনত শির আর চোখে ছিল একাত্তরের ঘাতক রাজাকার-আলবদর-যুদ্ধাপরাধী ও তাদের দোসরদের প্রতি তীব্র ঘৃণার আগুন। এসব প্রমাণ করে দেয়, সেই রক্তক্ষয়ী ৯ মাসের প্রতিটি ক্ষণ কৃতজ্ঞ জাতি এক মুহূর্তের জন্যও ভুলতে পারে না, ভোলেনি। আর ভুলবেও না। কৃতজ্ঞ বাঙালী জাতি গভীর শ্রদ্ধায় ফুলে ফুলে ভরিয়ে দিয়েছে ত্রিশ লাখ শহীদের স্মৃতির মিনার।

উগ্র সাম্প্রায়িক, স্বাধীনতাবিরোধী ও রাজাকারমুক্ত বাংলাদেশ বিনির্মাণের শপথ নিয়ে বিজয়ের ৪৯ বছর পূর্তি উদ্যাপন করেছে বাংলাদেশ। তবে আনন্দমুখর এ উৎসবে বরাবরের মতো এবারও অন্তঃস্রোত বয়ে গেছে স্বজন হারানোর বেদনা। বিজয় দিবসের নানা আয়োজন তরুণ প্রজন্মকে দোলা দিয়েছে, স্মৃতির ঝাঁপিতে নাড়া দিয়েছে ইতিহাসের সেদিনের সাক্ষীদের। বাংলাদেশের সোঁদাগন্ধময়ী মাটির যে হৃদস্পন্দন সেখানে এই বাংলার প্রতিটি সন্তানের ভিন্ন মাত্রিক সম্পর্ক দেশপ্রেমের দর্শনকে ক্রমাগত শাণিত করেছে।

রাজধানী ঢাকা থেকে ওঠা রাজাকার-আলবদরমুক্ত অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ বিনির্মাণের এই দাবি বিজয়ের দিনে ঢেউয়ের মতো আছড়ে পড়ে গোটা দেশে। এভাবেই স্বস্তির পরিবেশে মুক্ত আকাশে মুক্ত বিহঙ্গের মতো করোনার মধ্যেও বিপুল মানুষের আনন্দ উচ্ছ্বাস, মহান শহীদদের শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ এবং অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার দৃঢ় অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে জাতি পালন করল মহান বিজয় দিবস। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের অলি গলি পাড়া মহল্লা রাজপথে বিনা বাধায় দিনভর বেজেছে জাতির জনকের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের বজ্রকঠিন ভাষণের রেকর্ড আর কালজয়ী দেশাত্মবোধক গানগুলো।

বাঙালী জাতি আনন্দ, বেদনা আর বিনম্র শ্রদ্ধায় স্মরণ করেছে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান একাত্তরের বীর মুক্তিযোদ্ধা ও লাখো শহীদকে, স্বাধীন রাষ্ট্রের স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। দিবসটির মূল অঙ্গীকারই ছিল পরাজিত জঙ্গীবাদমুক্ত, সুখী-সমৃদ্ধ-স্বনির্ভর মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার। দিবসটি ঘিরে আলোচনা, সেমিনার, বক্তৃতা ও যুক্তিতর্কসহ সবকিছুতেই ঘুরেফিরে প্রাধান্য পায় জঙ্গীবাদ-মৌলবাদ, ক্ষুধা-দারিদ্র্য ও দুর্নীতিমুক্ত মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় নতুন এক জন্মভূমির স্বপ্নের কথাও।

রাজধানীসহ সারাদেশের রাস্তাঘাট, অফিস-আদালত, দোকানপাট, যানবাহন এবং বাসাবাড়িতে পতপত করে উড়েছে লাখো শহীদের রক্তস্নাত লাল-সবুজ পতাকা। ছোট ছোট কাগজ বা কাপড়ের তৈরি পতাকা হাতে নিয়ে বা বুকে-পিঠে লাগিয়ে শিশু-কিশোররা বেরিয়েছিল ঘরের বাইরে। কেউ কেউ মুখে এঁকেছিল লাল-সবুজ পতাকা। বিজয় দিবসে কোথাও স্বাধীনতাবিরোধী সেই জামায়াত-শিবিরের টিকিটিও খুঁজে পাওয়া যায়নি। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় শাণিত নতুন প্রজন্মের সাহসী পথচলায় এবারের বিজয় দিবসে রাজনৈতিক বিতর্ক বা স্বাধীনতাবিরোধীদের কোন আস্ফালন ছিল না।

তেজগাঁও পুরাতন বিমানবন্দর এলাকায় সূর্যোদয়ের সময় ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে বুধবার ভোরে বিজয় দিবসের কর্মসূচী শুরু হয়। করোনার দ্বিতীয় ধাক্কার মধ্যেও কৃতজ্ঞ বাঙালী জাতিকে ঘরে আটকে রাখা যায়নি। ভোর থেকেই সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধ এবং ধানমণ্ডির বঙ্গবন্ধুর বাসভবনের সামনে নামে জনতার ঢল, সন্ধ্যা পর্যন্ত মানুষের ভিড় ছিল লক্ষ্যণীয়। পথে পথে বিভিন্ন অনুষ্ঠান, রণাঙ্গনের বীর মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতিকথা এবং সব কর্মসূচীতে স্বাধীনতাবিরোধীদের প্রতি ঘৃণা ও ধিক্কার প্রকাশ পায়।

স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে বুধবার ছিল সরকারী ছুটি। শিশু-কিশোরসহ বিভিন্ন বয়সের মানুষ বিজয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানমালা ঘুরে ঘুরে উপভোগ করে। রাজধানীসহ বিভিন্ন বিভাগীয় এবং জেলা সদরের প্রধান প্রধান সড়ক মোহনা জাতীয় ও উৎসব পতাকা দিয়ে সাজানো হয়। বেতার-টেলিভিশনে বিজয় দিবস উপলক্ষে বিশেষ অনুষ্ঠান এবং সংবাদপত্রে ক্রোড়পত্র প্রকাশ করে দিবসটির মাহাত্ম্য তুলে ধরা হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে হাসপাতাল, শিশুসদন, কারাগার ও এতিমখানায় উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হয়। এছাড়া জাতির সুখ, সমৃদ্ধি ও অগ্রগতি কামনা করে মসজিদে অনুষ্ঠিত হয় বিশেষ মোনাজাত। মন্দির, গির্জা, প্যাগোডায় বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয়।

সাভার থেকে সংবাদদাতা জানান, বুধবার ১৬ ডিসেম্বর বিজয়ের ৪৯ বছর পূর্তিতে আগত হাজার হাজার মানুষের স্লোগানে মুখরিত হয়ে উঠেছিল সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধ এলাকা। আগতদের বিনম্র শ্রদ্ধায় এদিন ’৭১-র মুক্তিযুদ্ধে বীর শহীদদের গভীরভাবে স্মরণ করা হয়। তবে অন্যবারের তুলনায় এ বছর করোনা মহামারীর কারণে ভিড় কিছুটা কম ছিল।

হাতে লাল-সবুজের পতাকা আর রং-বেরঙের ফুল, হৃদয়ে গভীর শ্রদ্ধা আর ভালবাসা নিয়ে এদিন সকাল থেকেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন, বিভিন্ন সরকারী-বেসরকারী প্রতিষ্ঠানসহ সর্বস্তরের লাখো মানুষের ঢল নেমেছিল সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণে। দেশের শ্রেষ্ঠসন্তানদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা আর ভালবাসার ফুলে ফুলে ঢেকে যায় জাতীয় স্মৃতিসৌধের শহীদ বেদি। স্মৃতিসৌধে লাখো মানুষের জমায়েতে ছিল বুড়ো থেকে শিশু পর্যন্ত সববয়সী মানুষ। ছিলেন যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধারা।

করোনা মহামারীর কারণে এ বছর বীর শহীদদের রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জানান তাদের সামরিক সচিবরা। সকালে প্রথম প্রহরে ভোর ৬টা ৩৪ মিনিটে রাষ্ট্রপতির পক্ষে তার সামরিক সচিব মেজর জেনারেল এস এম শামিম উজ জামান এবং প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে তার সামরিক সচিব মেজর জেনারেল নকিব আহমেদ চৌধুরী দেশের মহান বীরদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে জাতীয় স্মৃতি সৌধের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এ সময় তিন বাহিনীর একটি চৌকস দল সামরিক কায়দায় বীর শহীদদের সালাম জানায়। বিউগলে বেজে ওঠে করুণ সুর।

এর আগে ভোরে ৩১বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসের কর্মসূচী সূচীত হয়। মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে এদিন ভোরে কনকনে শীতের মধ্যে কুয়াশায় ঘেরা স্মৃতিসৌধের সামনে জড়ো হয় হাজার হাজার জনতা। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জানানোর পর বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, সংসদ সদস্য, বিচারপতি, তিন বাহিনীর প্রধান, কূটনীতিকর ও পেশাজীবী সংগঠনের পক্ষ থেকে শহীদ বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে স্মরণ করেন একাত্তরের বীর শহীদদের। সকাল নয়টার দিকে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের নেতৃত্বে দলের কেন্দ্রীয় নেতারা স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

এরপর সকাল দশটার দিকে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জাতীয় স্মৃতিসৌধের শহীদ বেদিতে ফুলেল শ্রদ্ধা জানান। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আমাদের বাক স্বাধীনতা নেই, মৌলিক স্বাধীনতাকে হরণ করা হয়েছে। অধিকারকে হরণ করা হয়েছে। আজকে আমরা বিজয় দিবসে সেজন্য শপথ গ্রহণ করেছি, স্মৃতিসৌধে আমাদের শ্রদ্ধা জানিয়ে। আমরা গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করার জন্য, খালেদা জিয়াকে মুক্ত করার জন্য।

এছাড়া জাতীয় পার্টি, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি, ওয়ার্কার্স পার্টি, জাসদ, বাসদ, নাগরিক ঐক্য, গণসংহতি আন্দোলন, গণফোরাম, বিকল্প ধারা বাংলাদেশ, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিল নির্বাচন প্রস্তুতি কমিটি, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ, বাংলাদেশ ডেন্টাল সোসাইটি, রেড ক্রিসেন্ট বাংলাদেশ, বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর, বাসদ, মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয়, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি, সড়ক ও জনপথ প্রকৌশলী সমিতি, বিসিক শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নসহ অজস্র সংগঠন পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা জানান বীর শহীদদের প্রতি। এদিকে স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির পক্ষ থেকে আয়োজন করা হয়েছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

বঙ্গবন্ধুর বাসভবন প্রাঙ্গণেও জনতার ঢল ॥ মহান বিজয় দিবসে ঐতিহাসিক ৩২ নম্বর ধানমণ্ডির জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর বাসভবনের সামনেও নেমেছিল কৃতজ্ঞ বাঙালী জাতির ঢল। এছাড়া সকাল ৯টায় সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পার্ঘ্য নিবেদন এবং সকাল সোয়া ১০টায় বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করে দলটি। পুষ্পস্তবক অর্পণের পর নেতৃবৃন্দ জাতির পিতার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের স্মরণে কিছুসময় নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন।

দলের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের নেতৃত্বে শ্রদ্ধা নিবেদনের সময়ে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী, ড. আব্দুর রাজ্জাক, জাহাঙ্গীর কবির নানক, শাজাহান খান, আব্দুর রহমান, তথ্যমন্ত্রী ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ ও আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, এস এম কামাল হোসেন ও মির্জা আজম, সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, শ্রমবিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান সিরাজ, স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডাঃ রোকেয়া সুলতানা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক আবদুস সবুর, উপ-দফতর সম্পাদক সায়েম খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। এরপর ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, কৃষক লীগ, জাতীয় শ্রমিক লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, যুব মহিলা লীগ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধ নিবেদন করা হয়।

এছাড়া মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ। বুধবার সকালে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আজিজুর সামাদ ডন ও আব্দুল আউয়াল শামীমের নেতৃত্বে নেতৃবৃন্দ সমাধিসৌধ বেদীদে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে এ শ্রদ্ধা জানান।

মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর ফল-মিষ্টি ॥ বিজয় দিবস উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শুভেচ্ছার নিদর্শন হিসেবে যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবারের জন্য ফল এবং মিষ্টি পাঠিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, রাজধানীর মোহাম্মদপুরে মুক্তিযোদ্ধা পুনর্বাসন কেন্দ্রে (মুক্তিযোদ্ধা টাওয়ার-১) বুধবার সকালে প্রধানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব-২ গাজী হাফিজুর রহমান লিকু এবং সহকারী প্রেস সচিব এবিএম সরওয়ার-ই-আলম সরকার যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে ফল-মিষ্টি পৌঁছে দেন।

এ সময় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবারের সদস্যরা প্রতিটি রাষ্ট্রীয় দিবস এবং উৎসবে তাদের স্মরণ করায় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তারা সম্প্রতি বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতির অবমাননা এবং নব্য রাজাকারদের উত্থানের চেষ্টায় উদ্বেগ প্রকাশ করে যেকোন মূল্যে স্বাধীন বাংলাদেশের মাটি থেকে ধর্মের নামে সন্ত্রাসী কার্যকলাপসহ রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড প্রতিহত করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। বীর মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবারের সদস্যরা প্রধানন্ত্রীর সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন।

ই-পোস্টার প্রকাশ ॥ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জš§শতবার্ষিকী উদ্যাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির উদ্যোগে ১৬ ডিসেম্বর ২০২০ মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক, অনলাইন ও সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারের জন্য একটি ই-পোস্টার প্রকাশ করা হয়েছে। ‘ভাস্কর তুমি এই বাংলার জাতির সূর্যোদয়, তোমার সাহসে বিজয়ী মানুষ আমরা করি না ভয়।’ মহান বিজয় দিবসে জাতির পিতার প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা শীর্ষক এই ই-পোস্টার প্রকাশ করা হয়।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক গণঅধিকার'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyganoadhikar@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

দৈনিক গণঅধিকার'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। দৈনিক গণঅধিকার | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT