বুধবার ০৮ ডিসেম্বর ২০২১, ২৪শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

পিআইডি এর নিয়ম অনুসারে আবেদিত

ধর্ষণের শাস্তি দেশে দেশে

প্রকাশিত : 11:53 AM, 14 October 2020 Wednesday

গণঅধিকার নিউজ ডেস্কঃ

দেশে উদ্বেগজনকভাবে ক্রমবর্ধমান ধর্ষণ প্রতিরোধে এগিয়ে এলো সরকার। এটা এক সামাজিক ব্যাধি, ভয়ঙ্কর অপরাধ। এ জন্য ধর্ষণের শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড থেকে বাড়িয়ে মৃত্যুদণ্ড শাস্তির বিধান করছে সরকার। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশেই এই ধরনের অপরাধের জন্য রয়েছে কঠোর শাস্তির বিধান। একেক দেশে এক ধরনের শাস্তির বিধান আছে। কোন দেশে কি ধরনের সাজার বিধান তা জেনে নেয়া যাক।

বাংলাদেশ ॥ ধর্ষণের সর্বোচ্চ সাজা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড থেকে মৃত্যুদণ্ড করা হয়েছে।

চীন ॥ ধর্ষকের জন্য বরাদ্দ শাস্তি হলো মৃত্যুদণ্ড। তবে আরেকটি শাস্তি রয়েছে পুরুষাঙ্গচ্ছেদ।

ফ্রান্স ॥ ধর্ষণের শাস্তি ১৫ বছরের কারাদণ্ড। তবে ঘটনায় ক্ষতি ও নৃশংসতার বিচারে তা ৩০ বছর পর্যন্ত বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও হতে পারে।

সৌদি আরব ॥ শুক্রবার জু’মার নামাজ শেষে জনসমক্ষে শিরচ্ছেদ। তবে তার আগে দোষীকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেতন করা হয়।

উত্তর কোরিয়া ॥ ফায়ারিং স্কোয়াডে দাঁড় করিয়ে গুলি করে অপরাধীর বুক ঝাঁজরা করে দেয়া হয়। আফগানিস্তান ॥ আদালত রায় দেয়ার চারদিনের মধ্যে অভিযুক্তকে মাথায় গুলি করে হত্যা করা হয় কিংবা ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।

মিসর ॥ ধর্ষণের শাস্তি ফাঁসি।

সংযুক্ত আরব আমিরাত ॥ সাত দিনের মধ্যে মৃত্যুদ- কার্যকর করা হয়।

ইরান ॥ ইরানেও ধর্ষকের শাস্তি মৃত্যুদ-। ফাঁসি অথবা প্রকাশ্যে পাথর মেরে তা কার্যকর করা হয়।

ইসরাইল ॥ দোষ প্রমাণ হলে ১৬ বছরের কারাদ-। সে দেশে ধর্ষণের সংজ্ঞা কিছুটা বর্ধিত। অন্য যৌন নির্যাতনও এর অন্তর্ভুক্ত।

যুক্তরাষ্ট্র ॥ স্টেট ও ফেডারেল আইন অনুযায়ী ধর্ষণের বিচার ভিন্ন। ফেডারেল আইন অনুযায়ী দোষীর সাজা কয়েক বছরের কারাদ- থেকে যাবজ্জীবনও হতে পারে।

রাশিয়া ॥ ধর্ষকের তিন থেকে ছয় বছরের কারাদ-ের বিধান আছে। তবে পরিস্থিতির বিচারে তা ১০ বছর পর্যন্ত হতে পারে। যদি ধর্ষকের আচরণ অত্যন্ত নৃশংস হয়ে থাকে, তবে ২০ বছর পর্যন্ত কারাদ- হতে পারে।

নরওয়ে ॥ সম্মতি ছাড়া যে কোন যৌনতা ধর্ষণের মধ্যে পড়ে। নৃশংসতা অনুযায়ী দোষীর তিন থেকে ১৫ বছরের কারাদ- হয়।

মঙ্গোলিয়া ॥ ধর্ষিতার পরিবারের হাত দিয়ে ধর্ষকের মৃত্যুদ- কার্যকর করা হয়।

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশেই ধর্ষণকে ঘৃণ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়। সেই সঙ্গে ধর্ষণের বিরুদ্ধে শাস্তির বিধানও সেভাবে নির্ধারণ করা হয়। তবে একেক দেশে একেক রকম শাস্তির বিধান রয়েছে। ধর্ষণের মতো অপরাধ পৃথিবীর অনেক দেশেই মহামরীর আকার ধারণ করেছে। দেশেও ধর্ষণের ঘটনা অনেকটাই বেড়ে যাওয়ায় বিব্রত সরকার। ক্ষুব্ধ হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সরকার ধর্ষণের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং আইন মন্ত্রণালয়কে এ ব্যাপারে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার ভার্চুয়াল বৈঠকে ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন’ সংশোধন করে অধ্যাদেশ আকারে জারির জন্য এর খসড়ার নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হয়। এতে ধর্ষণের শাস্তি যাবজ্জীবন থেকে মৃত্যুদ- করা হয়েছে। মঙ্গলবার অধ্যাদেশ জারি করা হবে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী এ্যাডভোকেট আনিসুল হক। জাতীয় সংসদের অধিবেশন শুরু হলে এই অধ্যাদেশকে আইনে পরিণত করা হবে। ধর্ষণের অপরাধে শাস্তির মাত্রা বাড়িয়ে মৃত্যুদ-ের বিধান করার পাশাপাশি দ্রুততম সময়ে বিচার ও রায় কার্যকর করার জন্য বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে যে দাবি জানানো হয়ে আসছে। ধর্ষণের সাজা যাবজ্জীবন থেকে মৃত্যুদ- করায় জন আকাক্সক্ষা পূরণ করার দৃষ্টান্ত স্থাপন করলো সরকার।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক গণঅধিকার'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyganoadhikar@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

দৈনিক গণঅধিকার'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। দৈনিক গণঅধিকার | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT