ঢাকা, মঙ্গলবার ১৩ এপ্রিল ২০২১, ৩০শে চৈত্র, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

পিআইডি এর নিয়ম অনুসারে আবেদিত

দেশে ব্যয় হবে ১৫ কোটি টাকা মৎস্য চাষ প্রকল্পে ‘ভ্রমণবিলাস’

প্রকাশিত : 08:35 PM, 25 August 2020 Tuesday

গণঅধিকার নিউজ ডেস্কঃ

মৎস্য চাষ প্রযুক্তি সম্প্রসারণ প্রকল্পে ‘ভ্রমণবিলাস’ যেন স্থায়ী সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছে। এ ক্ষেত্রে শুধু অভ্যন্তরীণ ভ্রমণ ও সফরের ব্যয় বাবদ প্রস্তাব করা হয়েছে ১৪ কোটি ৬৪ লাখ ৪৮ হাজার টাকা। এ ছাড়া ইতোমধ্যে প্রশিক্ষণের নামে ১৪ কর্মকর্তার বিদেশ সফরে খরচ করা হয়েছে ৫৬ লাখ টাকা। ফের বিদেশ সফরের জন্য নতুন আরেকটি প্রস্তাব দিলে সেটি বাতিল করেছে পরিকল্পনা কমিশন।

‘ইউনিয়ন পর্যায়ে মৎস্য চাষ প্রযুক্তি সেবা সম্প্রসারণ (দ্বিতীয় পর্যায়)’ শীর্ষক প্রকল্পে ‘ভ্রমণবিলাসের’ নামে রীতিমতো টাকা খরচের হিড়িক পড়েছে। বিবেচনায় নেই চলমান করোনা পরিস্থিতি। দ্বিতীয়বারের মতো সার্বিকভাবে প্রকল্পটির ব্যয় বাড়ছে ১০৭ কোটি ৮০ লাখ টাকা। সেইসঙ্গে দুই বছর বাড়ছে মেয়াদও। ফলে দ্বিতীয় সংশোধনী প্রস্তাব জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) আগামী বৈঠকে উপস্থাপনের প্রস্তুতি চূড়ান্ত করা হয়েছে।

প্রকল্পটির ব্যয় প্রস্তাব পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, মূল অনুমোদিত প্রকল্পে ভ্রমণ ব্যয় (বদলিসহ) বরাদ্দ ধরা হয়েছিল ৯ কোটি টাকা। এখন দ্বিতীয় সংশোধনীতে এসে ৪ কোটি ৮০ লাখ টাকা বাড়িয়ে এ খাতে মোট ব্যয় প্রস্তাব করা হয়েছে ১৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা। যেটি মোট প্রকল্প ব্যয়ের ৩ দশমিক ৬৫ শতাংশ। এ ছাড়া ১৫০টি অভিজ্ঞতা বিনিময় সফরের জন্য মূল বরাদ্দ ছিল ৮০ লাখ টাকা। সফরের সংখ্যা ১৬৬টি করে এখন ৮ লাখ ৪৮ হাজার টাকা বাড়িয়ে এ খাতে ব্যয় ধরা হচ্ছে ৮৮ লাখ ৪৮ হাজার টাকা। যেটি মোট প্রকল্প ব্যয়ের শূন্য দশমিক ২৩ শতাংশ। মূল প্রকল্পে মৎস্য অধিদফতরের কর্মকর্তা, পরিকল্পনা কমিশনের কর্মকর্তা, বাস্তবায়ন পরীবিক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) কর্মকর্তা মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং প্রকল্প কর্মকর্তাদের বৈদেশিক শিক্ষা সফরের ব্যবস্থা ছিল। ১৪ জন কর্মকর্তার জন্য বরাদ্দ ধরা হয় ৫৬ লাখ টাকা। এতে প্রত্যেক কর্মকর্তার পেছনে ব্যয় হয় ৪ লাখ টাকা। এই বিদেশ ভ্রমণ ইতোমধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছে। এখন নতুন করে আবারও এ খাতে ব্যয় বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছিল। কিন্তু পরিকল্পনা কমিশন থেকে বলা হয়, বৈশ্বিক মহামারী কোভিড-১৯-এর প্রাদুর্ভাবের কারণে বৈদেশিক শিক্ষা সফর খাতে অর্থের সংস্থান বৃদ্ধি পরিহার করতে হবে। সেই সঙ্গে অভিজ্ঞতা বিনিময় সফর, মতবিনিময় সভার সংখ্যা ও ব্যয় হ্রাস এবং মাঠ দিবস আইটেমটি বাদ দিতে হবে। ফলে প্রকল্পের এই সংশোধনীতে নতুন করে বিদেশ সফর প্রস্তাব বাতিল হয়ে যায়।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ‘ইউনিয়ন পর্যায়ে মৎস্য চাষ প্রযুক্তি সেবা সম্প্রসারণ (দ্বিতীয় পর্যায়)’ প্রকল্পটির সাবেক প্রকল্প পরিচালক জোয়ার্দ্দার আনোয়ারুল হক সোমবার যুগান্তরকে বলেন, অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, বিদেশ ভ্রমণে পরিকল্পনা কমিশন এক ধরনের জোর করেই তাদের নাম ঢুকিয়েছিল। এ ছাড়া প্রকল্প সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও অন্যান্য কিছু কর্মকর্তা দাবি করে বিদেশ ভ্রমণের ব্যবস্থা করেছিল। তাদের খুশি করতেই এসব ভ্রমণের সুযোগ রাখা হয়। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি অভ্যন্তরীণ ভ্রমণের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে বলেন, উপজেলা পর্যায়ের কোনো কর্মকর্তা বা ফিল্ড অফিসার মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম তদারক করতে গেলে তাদেরকে রাজস্ব বাজেট থেকে ভ্রমণ ব্যয় দেয়া হয় না। তাই এই প্রকল্পে বরাদ্দ রাখা হয়েছে। আবার কোনো কর্মকর্তা যদি বদলি হয়ে যায়, তাকে সরকারি বিধিবিধান অনুযায়ী খরচ দেয়া হয়। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, মাঠপর্যায়ে যদি কোনো কৃষক ভালো কাজ করে উদাহরণ সৃষ্টি করেন, তাহলে আশপাশের কৃষক, কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্টদের সেখানে দেখতে নিয়ে যাওয়া হয়। কীভাবে এসব চাষ করে উন্নতি লাভ করেছে। এ জন্য অভিজ্ঞতা বিনিময় সফর খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানায়, ওই প্রকল্পের শুরু থেকে গত এপ্রিল পর্যন্ত ক্রমপুঞ্জিত ব্যয় হয়েছে ২১৫ কোটি ২৪ লাখ টাকা। যেটি মোট অনুমোদিত ব্যয়ের ৭৯ দশমিক ৫৫ শতাংশ। এ অবস্থায় এখন প্রকল্পে নতুন এলাকা অন্তর্ভুক্তি করায় বিভিন্ন অংশের ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে। গত জুনে মেয়াদ শেষ হলেও এর মধ্যে বাস্তবায়ন শেষ না হওয়ায় ফের মেয়াদ বৃদ্ধির কারণে এটি সংশোধন করতে হচ্ছে। প্রকল্পটির মূল ব্যয় ছিল ২৪২ কোটি ২৮ লাখ টাকা। পরবর্তী সময়ে প্রথম সংশোধনীর মাধ্যমে ব্যয় বাড়িয়ে ২৭০ কোটি ৫৮ লাখ টাকা করা হয়। এর পরও বাস্তবায়ন শেষ না হওয়ায় এখন ১০৭ কোটি ৮০ লাখ টাকা বাড়িয়ে মোট ৩৭৮ কোটি ৩৮ লাখ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এ ছাড়া ২০১৫ সালের মার্চ থেকে শুরু করে গত জুনের মধ্যে এটি বাস্তবায়নের কথা ছিল। এখন নতুন করে দুই বছর বাড়িয়ে মেয়াদ ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত করা হচ্ছে। প্রসঙ্গত, চলতি অর্থবছরের পরিচালন ও উন্নয়ন বাজেটের ভ্রমণ ব্যয় নিয়ন্ত্রণে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছে পরিকল্পনা কমিশন। গত ১৯ আগস্ট সংশ্লিষ্টদের পাঠানো এক চিঠিতে এ নির্দেশনা দেয়া হয়। এতে বলা হয়েছে, কোভিড-১৯-এর প্রাদুর্ভাব মোকাবেলায় সরকারের অগ্রাধিকার খাতে অর্থ বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে সীমিত সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে চায় সরকার। এ জন্য সব সককারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের পরিচালন ও উন্নয়ন ব্যয় থেকে ভ্রমণ ব্যয় নিয়ন্ত্রণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। তবে শুধু জরুরি ও অপরিহার্য বিবেচনায় এ খাতের বরাদ্দ খরচ করা যাবে। সরকারি ভ্রমণে ব্যয় নির্বাহের ক্ষেত্রে বরাদ্দকৃত অর্থের ৫০ শতাংশ বরাদ্দ স্থগিত থাকবে। এ ছাড়া সব ধরনের রুটিন ভ্রমণ পরিহার করতে হবে। এর আগে গত ১০ আগস্ট একই ধরনের আরও একটি চিঠি দিয়েছিল পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়। তার আগে গত ১৯ জুলাই পরিচালন ও উন্নয়ন বাজেটের আওতায় ভ্রমণ ব্যয় হ্রাসের চিঠি দেয় অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক গণঅধিকার'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyganoadhikar@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

দৈনিক গণঅধিকার'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। দৈনিক গণঅধিকার | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT