ঢাকা, শুক্রবার ১৮ জুন ২০২১, ৪ঠা আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

পিআইডি এর নিয়ম অনুসারে আবেদিত

দেশে ফেরার আগেই বঙ্গবন্ধু-ইন্দিরা শীর্ষ বৈঠক

প্রকাশিত : 07:20 PM, 9 September 2020 Wednesday

গণঅধিকার নিউজ ডেস্কঃ

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর মধ্যে ১৪ সেপ্টেম্বর শীর্ষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। তারা সাধারণভাবে বিশ্ব পরিস্থিতি এবং বিশেষ করে ভারত উপমহাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করবেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তনের আগে বঙ্গবন্ধু ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে কিছুক্ষণের জন্য অবস্থান করবেন। এ সময়কালেই দুই প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহল উপমহাদেশের এই দুই প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে অনুষ্ঠেয় বৈঠককে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন।

বাংলাদেশের বিরুদ্ধে চীনের ভেটো এবং পাকিস্তানের ভণ্ডামিকে পটভূমিকায় রেখে শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধী এবং বঙ্গবন্ধু উপমহাদেশের পরিস্থিতির বিষয়ে আলোচনা করবেন বলে মনে করা হচ্ছে। এদিকে বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে। ১৪ সেপ্টেম্বর বিকাল সাড়ে তিনটায় বঙ্গবন্ধু ঢাকা পৌঁছাবেন বলে জানানো হয়েছে। শনিবার (৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় অস্থায়ী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর এক টেলিফোন আলাপে এ কথা জানা যায়। বঙ্গবন্ধু টেলিফোনে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সচিব তোফায়েল আহমেদ, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান এবং জনাব আব্দুর রাজ্জাকের সঙ্গে আলাপ করেন। তিনি ফজলুল হক সম্পর্কে উৎকণ্ঠা প্রকাশ করেন। টেলিফোনে ঢাকা জেলা আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক বাহিনীর উপ-প্রধান ফজলুল হকের বর্তমান শারীরিক অবস্থা জানতে চান তিনি। উল্লেখ করা যেতে পারে যে, ফজলুল হক দুষ্কৃতিকারীদের হাতে দু-দুবার গুলিবিদ্ধ হয়ে মারাত্মকভাবে আহত হন। বিপিআই এ খবর দিয়েছে।

টেলিফোনে কথা বলার সময় বঙ্গবন্ধু দেশের বর্তমান পরিস্থিতি, বিশেষ করে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি ও আদমজীর ঘটনা এবং পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য সরকার কী কী ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে, তা জানার জন্য গভীর উৎকণ্ঠা প্রকাশ করেন। অস্থায়ী প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুকে সব বিষয়ে অবহিত করেন। তিনি বঙ্গবন্ধুকে একথা জানান যে, আদমজী মিল আগামী তিন দিনের মধ্যে পুনরায় চালু হবে।

আহত যুদ্ধবন্দি ফেরত পাঠানো সম্পর্কে সিদ্ধান্ত

বাংলাদেশ-ভারত অসুস্থ ও আহত পাকিস্তানি যুদ্ধবন্দিদের পঞ্চম দলটিকে পাকিস্তানে ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। উভয় দেশ ওই সময়টাতে বিষয়টির খুঁটিনাটি বিষয় পরীক্ষা করছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র একথা সংবাদপত্রকে জানান। একই সঙ্গে মুখপাত্র বলেন, গত ডিসেম্বরের যুদ্ধে বন্দি ৬০০ ভারতীয় সৈন্যের কুশল সম্পর্কে ভারতের জিজ্ঞাসার জবাব পাকিস্তান দেয়নি। পাকিস্তানি যুদ্ধবন্দিদের মুক্তি দিতে ভারত আগ্রহী। কিন্তু বাংলাদেশের বাধাদানের জন্য তা সম্ভব হচ্ছে না এই মর্মে লন্ডনের একটি সংবাদপত্রে যে খবর সে সময় বেরিয়েছিল, সেটিও এই মুখপাত্র অস্বীকার করেন।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সচিব তোফায়েল আহমেদ পাকিস্তানে আটক বাঙালিদের পরিবারবর্গকে আশ্বাস দেন যে, পাকিস্তানে আটক বাঙালিদের স্বদেশে ফিরিয়ে আনার জন্য বঙ্গবন্ধু এবং তার সরকার চেষ্টার কোনও ত্রুটি করবে না। পাকিস্তানে আটক বাঙালিদের আত্মীয়-স্বজন মিছিল সহকারে অস্থায়ী প্রধানমন্ত্রী সৈয়দ নজরুল ইসলামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার জন্য গণভবন অভিমুখে যান এবং তারা সেখানে উপস্থিত হলে তোফায়েল আহমেদ নেতাদের উদ্দেশে ভাষণ দেন।

দৈনিক বাংলা, ১০ সেপ্টম্বর ১৯৭২

বন্ধু রাষ্ট্রবিরোধী প্রচার চলতে দেওয়া হবে না

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুস সামাদ বলেন, ‘বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধু রাষ্ট্রগুলোর বন্ধুত্ব বিঘ্নিত হতে পারে, এমন কোনও নীতি দেশে প্রচার করতে দেওয়া হবে না।’ গণপ্রজাতন্ত্রী বুলগেরিয়ার জাতীয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে মহান ভারত ও সোভিয়েত ইউনিয়নের পর বুলগেরিয়াসহ পূর্ব ইউরোপের সমাজতান্ত্রিক দেশগুলোর ভূমিকা আমাদের জাতীয় ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। বাংলাদেশ-বুলগেরিয়া মৈত্রী সমিতি এই আলোচনার আয়োজন করে। সমিতির সভাপতি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সৈয়দ আলী আহসান এতে সভাপতিত্ব করেন।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক গণঅধিকার'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyganoadhikar@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

দৈনিক গণঅধিকার'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। দৈনিক গণঅধিকার | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT