ঢাকা, বৃহস্পতিবার ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১, ৮ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

পিআইডি এর নিয়ম অনুসারে আবেদিত

দেশের মানুষকে করোনামুক্ত করার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে

প্রকাশিত : 09:45 AM, 11 September 2020 Friday

গণঅধিকার নিউজ ডেস্কঃ

প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা দেশের মানুষকে করোনা থেকে মুক্ত করার জন্য যা যা ব্যবস্থা নেয়ার দরকার তা নেয়া হয়েছে জানিয়ে বলেছেন, বিশ্বের যেখানেই করোনাভাইরাসের ভ্যাক্সিন আবিষ্কার হোক না কেন সেটা বাংলাদেশের মানুষের জন্য সংগ্রহ করা হবে। সরকার এ ব্যাপারে সব ধরনের প্রস্তুতি ও অর্থ বরাদ্দ রেখেছে। বিচারবহির্ভূত হত্যাকা- প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিচারবহির্ভূত হত্যাকা- জিয়াউর রহমানের আমল থেকেই শুরু, পরে তা প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়া হয়েছে। আমরা চেষ্টা করছি এটা কীভাবে মোকাবেলা করা যায়। কেউ এটা বলতে পারবে না যে, আমরা অন্যায় করলে ছেড়ে দিচ্ছি। সেটা কিন্তু দেয়া হচ্ছে না।

স্পীকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের নবম অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, এমন কিছু করা ঠিক হবে না, যাতে তারা (আইনশৃঙ্খলা বাহিনী) ভীত হয়, তাদের কাজের উৎসাহ নষ্ট হয়। সমালোচনা ভাল, কিন্তু এটাও মাথায় রাখতে হবে। আর করোনায় পানির মতো টাকা খরচ হলেও আমরা টাকাপয়সার দিকে তাকাইনি। আমাদের কাছে মানুষের জীবন বাঁচানো, তাদের রক্ষা করাই ছিল মূল বিবেচ্য বিষয়। কারণ দেশের মানুষের জন্যই আমাদের রাজনীতি। তাই বিপদ আসবেই, আর এ বিপদে ভীত না হয়ে মোকাবেলা করেই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। মানুষের সেবা করেই বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ও আকাক্সক্ষা আমরা পূরণ করব।

বিচারবহির্ভূত হত্যাকা- নিয়ে বিরোধীদলীয় উপনেতার বক্তব্যের জবাব দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে বলেন, বিচারবহির্ভূত হত্যাকা- কারা শুরু করেছিল? এটা জিয়াউর রহমানের আমল থেকেই শুরু। আমাদের বহু নেতা-কর্মীর লাশ পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। এ রকম বহু ঘটনা ঘটেছে। তারপরে তো একেবারে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়া হলো এবং সেই ধারাবাহিকতা রয়ে গেছে। আমরা চেষ্টা করছি এটাকে কীভাবে মোকাবেলা করা যায়।

প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সমালোচনা করা ভাল, কিন্তু পাশাপাশি এটাও দেখতে হবে আমাদের মাদক নিয়ন্ত্রণ করতে হবে, সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদ নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। সেগুলো নিয়ন্ত্রণ করতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা যথাযথ কাজ করে যাচ্ছে এবং তারা যথেষ্ট সাফল্য অর্জন করেছে। তারা নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছে, কিন্তু সেগুলো করতে গিয়ে যদি কিছু দুর্ঘটনা ঘটে, সেটা ঘটা খুব স্বাভাবিক। আমরা কিন্তু কাউকে ছেড়ে দিচ্ছি না। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছি। কেউ এটা বলতে পারবে না যে অন্যায় করলে আমরা ছেড়ে দিচ্ছি। সেটা কিন্তু দেয়া হচ্ছে না।

তিনি বলেন, তারপরেও যারা কাজ করবে; এটাও দেখতে হবে আমরা সমালোচনা করব, আবার যাদের দিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে, যাদের দিয়ে মানুষ বিপদে পড়লে ডাকলে সবার আগে আসে সে কিন্তু পুলিশ। কাজেই এমন কিছু করব না, যেন তারা (পুলিশ) ভীত হয়ে কাজের উৎসাহ নষ্ট করে না ফেলে, সেদিকে দৃষ্টি দিতে হবে। সমালোচনা ভাল, কিন্তু এটাও মাথায় রাখতে হবে।

করোনার ভ্যাক্সিন আবিষ্কার হলেই সংগ্রহ ॥ বিশ্বের যেখানেই আগে করোনাভাইরাসের ভ্যাক্সিন আবিষ্কার হবে বাংলাদেশ তা সংগ্রহের উদ্যোগ নেবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে সরকার অর্থও বরাদ্দ রেখেছে, যেসব দেশে ভ্যাক্সি আবিষ্কারের জন্য গবেষণা চলছে, সেসব দেশে আবেদন করে রাখা হয়েছে। দেশের মানুষকে করোনা থেকে মুক্ত করার জন্য যা যা ব্যবস্থা নেয়ার দরকার, তা নেয়া হয়েছে।

করোনা মোকাবেলায় সরকারের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে জানিয়ে সংসদ নেতা বলেন, ভ্যাক্সিনের ব্যাপারে বিভিন্ন দেশ গবেষণা করছে। অনেক দেশের কাছে আমরা শুনছি। সব দেশেই আমরা আবেদন দিয়ে রেখেছি। এর জন্য টাকাও বরাদ্দ করে রেখেছি। যেখান থেকে আগে পাওয়া যায় আমরা সেটা নেবো। দেশের মানুষকে করোনা থেকে মুক্ত করার জন্য যা যা ব্যবস্থা নেয়ার দরকার, তা নেয়া হয়েছে।

এ ভাইরাস মোকাবেলায় আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, সবাইক এক হয়ে কাজ করতে হবে, আমরা যেন এই দুর্যোগের সময়টা পার করতে পারি। ইনশা আল্লাহ! আমরা এটা পার করতে পারব। তবে, ভ্যাক্সিন যেটা আবিষ্কার হলো- আমরা আশাবাদী হয়েছিলাম অক্সফোর্ডেরটা নিয়ে, কিন্তু পরীক্ষা করতে গিয়ে দেখা গেল অসুস্থ হয়ে পড়ল। আমরা দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে গেছি। তারপরও আমাদের প্রচেষ্টা আছে। যেখানেই আবিষ্কার হোক, আমাদের দেশের মানুষের জন্য তা সংগ্রহ করতে পারব। এই বিষয়ে আমরা যথেষ্ট সচেতন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, করোনা এমন একটি ভাইরাস যা চোখে দেখা যায় না। কিন্তু সারাবিশ্বকে একেবারে স্থবির করে দিয়েছে। বাংলাদেশে যখন এর প্রাদুর্ভাব দেখা দেয় তখন থেকেই প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। সকলে এটি মোকাবেলায় একযোগে কাজ করছে। প্রশাসন, আমাদের রাজনৈতিক কর্মীরা মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। সম্মিলিতভাবে প্রচেষ্টা আমরা চালিয়েছি বলেই মৃত্যুর হার নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছি। যতদূর সম্ভব আমরা সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছি। করোনার কোন সুনির্দিষ্ট চিকিৎসা ছিল না, তারপরও যে যেভাবে পেরেছি সহায়তা করেছি।

করোনাকালে চিকিৎসা ব্যবস্থার দুর্নীতির অভিযোগের প্রেক্ষাপটে সরকারপ্রধান বলেন, মানুষকে চিকিৎসা সেবা যাতে দিতে পারি তার জন্য হাসপাতাল প্রস্তুত করা, চিকিৎসা সামগ্রী ক্রয়সহ সব ব্যবস্থা আমরা নিয়েছি। এজন্য পানির মতো টাকা খরচ হয়েছে। আমরা টাকাপয়সার দিকে তাকাইনি। এখানে হয়ত কেউ খুঁজে খুঁজে দুর্নীতি দেখতে পারে। যে মুহূর্তে এ ধরনের একটি দুর্যোগ মোকাবেলার চিন্তা করতে হয়েছিল, তখন টাকাপয়সা কী হবে? কত খরচ হলো, কতটুকু লস তা বিবেচ্য ছিল না।

তিনি বলেন, আমাদের বিবেচ্য ছিল দেশের মানুষকে বাঁচানো, রক্ষা করা। কীভাবে মানুষকে রক্ষা করব সেই ব্যবস্থাটা নেয়ার চিন্তা ছিল। আর সেটা করেছি বলেই অনেকটা নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছি। যেখানে এখনও বিশ্বের অনেক উন্নত দেশ হিমশিম খাচ্ছে। আমাদের দেশের মতো ঘনবসতির দেশে এ কাজ করা অত্যন্ত কঠিন। উন্নত বিশ্বে এই সমস্যাটা ছিল না। তিনি বলেন, করোনার কারণে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা কী হবে? কী কী সমস্যা দেখা দিতে পারে। সেই বিষয়ে আমরা সজাগ ছিলাম। এজন্য আমরা শুরু থেকেই সিদ্ধান্ত নেই, যথাযথ ব্যবস্থা নেই। দেশের মানুষ যাতে কষ্ট না পায় সেই জন্য অনেক পদক্ষেপ আমরা নিয়েছি।

এ প্রসঙ্গে সরকারপ্রধান আরও বলেন, আমরা করোনাভাইরাস সংক্রমণের শুরু থেকেই মোকাবেলার প্রস্তুতি নিয়েছি। এই ভাইরাস মোকাবেলায় চিকিৎসক, নার্স, টেকনোলজিস্ট, সশস্ত্র বাহিনী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারী, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী প্রত্যেকেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করেছেন, মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। এই করোনা মোকাবেলায় সম্মিলিতভাবে যে প্রচেষ্টা চালিয়েছি, এজন্যই আমরা মৃত্যুহার নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছি। আমরা কিন্তু খরচের দিকে তাকাইনি। মানুষকে যাতে চিকিৎসাসেবা দিতে পারি সেই ব্যবস্থা, যা যা প্রয়োজন আমরা সেটা করা এবং দেয়ার চেষ্টা করছি।

দেশের অর্থনীতি সচল রাখতেই ২১ দফা প্রণোদনা প্যাকেজ ॥ করোনার সময়ে দেশের মানুষকে রক্ষার পাশাপাশি অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে ২১টি প্যাকেজের বিপরীতে এক লাখ ১২ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু গার্মেন্টস শিল্পেই আমরা ১০ হাজার কোটি টাকা প্রণোদনা বরাদ্দ দিয়েছি। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, দেশের কোন মানুষ ভূমিহীন কিংবা গৃহহারা থাকবে না। এ জন্যও বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ রেখেছি।

তিনি বলেন, এত বিশাল অঙ্কের টাকা প্রণোদনা দিয়েছি এই কারণে যে, যাতে দেশের অর্থনীতির চাকা গতিশীল থাকে এবং দেশের কোন মানুষ যাতে কষ্ট না পায়। কারণ দেশের মানুষকে নিয়েই আমাদের রাজনীতি। করোনার মধ্যেও আমরা বিশাল বাজেট দিয়েছি। করোনার কারণে সমস্যা তো আছেই, হয়তো বাজেটের সবকিছু বাস্তবায়ন নাও হতে পারে। কিন্তু প্রস্তুতি তো আমাদের রাখতে হবে। যেন সুযোগ পেলেই তা বাস্তবায়ন করতে পারি।

প্রধানমন্ত্রী করোনা মহামারীর মধ্যে পরপর ঘূর্ণিঝড় আমফান, দীর্ঘস্থায়ী বন্যার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিপদ আসবে, আবার তা মোকাবেলা করেই এগিয়ে যেতে হবে। আমরা সেই প্রস্তুতি নিয়েই কাজ করে যাচ্ছি। বিপদে ভীত হলে চলবে না। বাংলাদেশের যে অগ্রযাত্রা সেটা অব্যাহত রাখতে হবে। আমরা অনেক কর্মসূচী নিলেও করোনার কারণে মুজিব শতবর্ষের অনেক কর্মসূচী পালন করতে পারিনি। আমরা জনগণের সেবা করেই জাতির পিতার স্বপ্ন ও আকাক্সক্ষা পূরণ করব।

দুর্ঘটনাকবলিত মসজিদ নির্মাণে কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছিল না ॥ নারায়ণগঞ্জে মসজিদে গ্যাস বিস্ফোরণ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নারায়গণগঞ্জে গ্যাস বিস্ফোরণে দুর্ঘটনাকবলিত মসজিদটি গ্যাস পাইপ লাইনের ওপর নির্মাণ করা হয়েছিল। ওই স্থানে মসজিদ নির্মাণে কর্তৃপক্ষের কোন অনুমতিও ছিল না। ভবিষ্যতে কোন স্থাপনা নির্মাণে নীতিমালা মেনে করার আহ্বান জানান সংসদ নেতা শেখ হাসিনা।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জের মসজিদে নামাজ পড়া অবস্থায় বিস্ফোরণের ঘটনায় যারা মৃত্যুবরণ করেছেন আমি তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করি। এ ঘটনা সত্যিই খুব দুঃখজনক। অত্যন্ত দুঃখজনক আরও এজন্য যে, মসজিদটি নির্মাণ করা হয়েছিল এমন একটি জায়গায়, যেখানে গ্যাস লাইন ছিল তার ওপর। মসজিদ নির্মাণের কোন অনুমোদন ছিল না, কোন নীতিমালাও ছিল না। এভাবে অননুমোদিত ও অপরিকল্পিতভাবে করার ফলে আজ এ দুর্ঘটনা ঘটে গেলো। ভবিষ্যতে কেউ যদি কোন স্থাপনা করে তাতে নীতিমালা মেনে করবেন, যাতে কোন দুর্ঘটনায় আর এভাবে পড়তে না হয়।

বিএনপির সময়ের মতো পানি নিয়ে কোন হাহাকার নেই ॥ রাজধানীর সাপ্লাই পানির দাম বৃদ্ধি নিয়ে বিরোধী দলের নেতা গোলাম মোহাম্মদ কাদেরের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পানির দাম যদি বেশি হয়, পানি কম ব্যবহার করেন। সীমিত আকারে ব্যবহার করেন, কোন অপচয় করবেন না- তখন বিল অবশ্যই কম আসবে। আর ভাল জিনিস নিতে হলে তো একটু পয়সা দিয়ে নিতে হয়। ওয়াসার পানি কোন খারাপ পানি নয়য়, অত্যন্ত চমৎকার পানি।

প্রধানমন্ত্রী প্রশ্ন রেখে বলেন, ঢাকা শহরে পানি সাপ্লাইয়ের অবস্থা কি ছিল? বিএনপির আমলে পানির জন্য হাহাকারের কথা সবাই জানে। এখন তো কাউকে ওয়াসা থেকে পানি কিনতে হয় না, বরং কয়েক বছরের মধ্যে চাহিদার চেয়ে আমরা বেশি পানি সাপ্লাই দিতে পারছি। পানি কিন্তু সবাই পাচ্ছে। আমরা পাইপ লাইনগুলো পরিবর্তন করছি। দুই-এক জায়গায় পানির সমস্যা দেখা দেয়। সেখানে তাদের ব্যক্তিগত পানির লাইন সমস্যা থাকায় এমন হয়েছে। তাই প্রত্যেকের উচিত অন্তত ৬ মাস পর পর লাইনগুলো চেক করা, পানির ট্যাঙ্কিগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা। পানির লাইনগুলো যদি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে পারেন, তাহলে ওয়াসার পানি কোন খারাপ পানি না, অত্যন্ত চমৎকার পানি।

তিনি বলেন, আমাদের ঢাকা শহরে পানি সাপ্লাইয়ের যে অবস্থা ছিল, যখন আমরা সরকারে আসি চারদিকে হাহাকার ছিল। কয়েক বছরের মধ্যে আমরা চাহিদার চেয়ে বেশি পানি আমরা কিন্ত সাপ্লাই দিতে পারছি। কোথায় পদ্মা নদী, সেখান থেকে পানি এনে এনে সেই পানি পরিশোধন করে আমরা সাপ্লাই দিচ্ছি। এই যে বিশাল কর্মযজ্ঞ, এর একটু প্রশংসাও করবেন। শুধু কয় টাকা খরচ হলো, আর কয় টাকা বেশি দিতে হলো- সেই হিসাব করলো তো হবে না।

বিগত সরকারগুলোর সময়ের পানির জন্য হাহাকারের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী প্রশ্ন রেখে বলেন, আগে যখন গাড়িতে করে পানি কিনতে হতো তখন কি অবস্থা ছিল? অথবা জেনারেটর চালিয়ে চালিয়ে পানি তুলতে হতো, তখন কত টাকা খরচ হতো? এসব বিষয়েও বিবেচনা করতে হবে, এখন তো গাড়ি দিয়ে পানি কিনতে হচ্ছে না। এখন তো একেবারে পিওর পানি পেয়ে যাচ্ছেন ঘরে বসে। আর সেই পানি ২৪ ঘণ্টাই ইচ্ছামতো ব্যবহার হচ্ছে। এক লিটার পানি পরিশোধন করতে কত টাকা লাগে সেটিও একটু খেয়াল রাখতে হবে।

সংসদে বিরোধী দলের সরব উপস্থিতি ॥ সংসদে বিরোধী দলের সরব উপস্থিতির জন্য তাদের ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই পার্লামেন্টে যেসব বিল পাস হলো, এখানে কিন্তু আমাদের সরকারদলীয় কেউ কথা বলার সুযোগই পায়নি। একমাত্র বিরোধী দলেরই এই পার্লামেন্ট ছিল এবং তাঁরাই কথা বলে গেছে।

তিনি বলেন, গত পাঁচদিন তাদের (বিরোধী দল) উপস্থিতিটা প্রতি মুহূর্তে আমরা টের পেয়েছি। শুধু একদিন আমরা যেহেতু আমাদের দু’জন সংসদ সদস্য মারা গেছেন, সেজন্য সেদিন আর পার্লামেন্ট চলেনি। কিন্তু তারপরে বিল পাসের সময় একমাত্র বিরোধী দলের দখলে পার্লামেন্ট- এবার এটাই বলতে হবে।

প্রবাসী কর্মীদের পুনর্বাসনে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা কিন্তু বসে নেই। যাদের আনার কথা আমরা স্পেশাল প্লেন পাঠিয়েও তাদের নিয়ে এসেছি এবং লাশ কিন্তু সব সময় আনা হয়। আর এখন তো প্লেনে যাতায়াতই বন্ধ। সব দেশেই বন্ধ। কোন দেশ তো প্লেন ল্যান্ড করতেও দেবে না। কাজেই সেখান থেকে আমরা আনব কী করে? সেটাও তো দেখতে হবে।

শিক্ষার্থীরা এক হাজার টাকা পাবে কাপড় বানাতে ॥ করোনার মধ্যেও সারাদেশের শিক্ষার্থীদের মাঝে উপবৃত্তি প্রদানের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, করোনার কারণে শিক্ষাঙ্গন বন্ধ থাকলেও আমরা প্রাথমিক পর্যায়ে এক কোটি ৩০ লাখ শিক্ষার্থীকে উপবৃত্তি প্রদান করেছি, ২ কোটি ৩০ লাখের বেশি শিক্ষার্থীর মাঝে বৃত্তি-উপবৃত্তি প্রদান করেছি। এছাড়া ডিসেম্বরের মধ্যে শিক্ষার্থীদের এক হাজার টাকা করে দেয়া হবে। যাতে করে তারা নতুন জামা-কাপড় কিনতে পারে।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক গণঅধিকার'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyganoadhikar@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

দৈনিক গণঅধিকার'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। দৈনিক গণঅধিকার | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT