ঢাকা, বৃহস্পতিবার ০৩ ডিসেম্বর ২০২০, ১৯শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

পিআইডি এর নিয়ম অনুসারে আবেদিত

থামছে না সামাজিক অপরাধ ॥ নারী ও শিশু প্রতিনিয়ত ধর্ষণের শিকার

প্রকাশিত : 09:05 AM, 7 November 2020 Saturday

গণঅধিকার নিউজ ডেস্কঃ

নোয়াখালীর সেনবাগে ব্যাটারিচালিত অটোরিক্সা থামিয়ে বাবার কাছ থেকে এক তরুণীকে ছিনিয়ে নিয়ে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে মামলা হয়েছে। সম্প্রতি ওই তরুণীর বাবা বাদী হয়ে সেনবাগ থানায় তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। এজাহারে বলা হয়েছে, চার মাস আগে ওই তরুণীর বিয়ে হয়েছে ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলায়। মেয়েকে নিয়ে সন্ধ্যায় বাবা ব্যাটারিচালিত অটোরিক্সায় করে সেনবাগ উপজেলায় যাচ্ছিলেন। সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে বোবুলের নেতৃত্বে তিন বখাটে তাদের অটোরিক্সার গতিরোধ করে। বখাটেরা অটোরিক্সায় অবৈধ জিনিস আছে বলে চালক ও যাত্রী বাবা-মেয়েকে মারধর শুরু করেন। পরে তিন বখাটে তরুণীকে টেনে-হিঁচড়ে পাশের বাগানের ভেতর নিয়ে যান। তিনজন মিলে তরুণীকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে তারা তরুণীকে গলাটিপে হত্যার চেষ্টা করেন। বাবা ও মেয়ের চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে গেলে বখাটেরা পালিয়ে যান। পরে লোকজন বাগান থেকে তরুণীকে উদ্ধার করে স্থানীয় নবীপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যানের মাধ্যমে থানায় পাঠান।

সম্প্রতি ঢাকার সাভারে ছয় বছরের এক শিশুকে পরপর দুই দিন ধর্ষণের অভিযোগে ইব্রাহীম খলিল নামের এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। একই এলাকায় এক তরুণী ঘরে ঢুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে বাবুল নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সাভার থানার পুলিশ জানায়, ওই শিশুর মা ও বাবা সাভারের একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করেন। শিশুর পরিবার ও ইব্রাহীমের পরিবার একই বাসায় থাকেন। মা-বাবা শিশুটিকে রেখে প্রতিদিন সকালে কর্মস্থলে যান এবং রাতে বাসায় ফেরেন। ওই সময়ে শিশুটি একাই বাসায় থাকে। এক সন্ধ্যায় ইব্রাহীম শিশুটির বাসায় ঢুকে শৌচাগারের ভেতরে নিয়ে তাকে ধর্ষণ করেন। এ সময় শিশুটি চিৎকার দিলে তার মুখ চেপে ধরে তাকে হত্যার হুমকিসহ নানা ভয় দেখান। ভয়ে শিশুটি তার মা-বাবাকে কিছু বলেনি। এই সুযোগে ইব্রাহীম পরের দিন বৃহস্পতিবার একই সময় ঘরের পেছনে গলির ভেতরে নিয়ে শিশুটিকে ধর্ষণ করেন। দ্বিতীয়বার ধর্ষণের কারণে শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়ে। শিশুটির বাবা বলেন, ভয়ে তার মেয়ে সব গোপন করলেও অসুস্থ হয়ে পড়ায় তারা বিষয়টি আঁচ করতে পারেন। পরে জিজ্ঞাসাবাদে সে সব খুলে বলে। পরে তিনি সাভার থানায় গিয়ে ইব্রাহীমের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

প্রতিদিনই দেশে এমন ঘটনা ঘটছে। কঠোর আইন, তীব্র আন্দোলনের মুখেও কমছে না পারিবারিক ও সামাজিক অপরাধ। বরং দিন দিন এর ভয়াবহতা যেন বেড়েইে চলছে। বীভৎস ও নিষ্ঠুরভাবে খুন হচ্ছে মানুষ। একেপর এক ধর্ষণের শিকার হচ্ছেন নারী ও শিশুরা। সন্তানের হাতে বাবা-মা আর বাবা-মার হাতে খুন হচ্ছেন সন্তান। শিক্ষকের হাতে অমানবিকভাবে ধর্ষিত হচ্ছে শিক্ষার্থী! ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড করেছে সরকার। নতুন আইনে ইতোমধ্যে একটি রায় হয়েছে। চলমান সামাজিক অপরাধের প্রতিবাদে সারাদেশে চলছে তীব্র গণআন্দোলন। গণমাধ্যমের পাতায় পাতায় সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে করণীয় নির্ধারণে পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। থেমে নেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা। অপরাধ দমনে সরকারও কঠোর অবস্থানে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে নেতাকর্মীদের প্রতি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করা হচ্ছে। তবুও যেন অপরাধের হ্রাস টানা সম্ভব হচ্ছে না।

বিচারপতি-সমাজবিজ্ঞানী-আইনজীবীসহ মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, অপরাধীদের একটি বড় অংশ অশিক্ষিত বা স্বল্প শিক্ষিত। সামাজের একটি বৃহৎ অংশ এসব অপরাধের প্রতিরাধে রাজপথে সোচ্চার এ খবর তাদের কাছে একেবারেই যায় না। এসব ঘটনা রোধে কঠোর আইন, দলীয় হুঁশিয়ারি গণমাধ্যমে ওঠে এলেও এসব সংবাদ তাদের কান পর্যন্ত পৌঁছায় না। ফলে বাস্তব চিত্র বিশ্লেষণে মনে হয়, সমস্যা অনেকটা যে তিমিরে ছিল- সেখানেই রয়েছে। দেখা গেছে, সমাজের এক শ্রেণীর অশিক্ষিত ও স্বল্প শিক্ষিতসহ রাজনৈতিকভাবে নিজেদের প্রভাবশালী মনে করে এমন লোকজন এসব অপকর্মের সঙ্গে বেশিরভাগ যুক্ত।

এসব অপরাধের নেপথ্যে অন্য কারণের মধ্যে রয়েছে, মাদকের প্রভাব, সম্পদের লোভ, রাতারাতি বড়লোক হওয়ার বাসনা, সুস্থ ধারার বিনোদনের অভাব, নানা ধরনের সামাজিক বৈষম্য ও কুসংস্কার। তারুণ্যের মধ্যে সৃষ্ট হতাশাও অন্যতম একটি কারণ বলে মনে করছেন কোন কোন অপরাধবিজ্ঞানী। একই সঙ্গে দায়ী করা হচ্ছে রাষ্ট্রীয় আইন প্রয়োগের ব্যর্থতা, পারিবারিক শিক্ষার অভাব, ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয়কেও।

সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হক বিভিন্ন গণমাধ্যমে দেয়া সাক্ষাতকারে বলেছেন, ‘দেশজুড়ে একের পর এক ধর্ষণের খবর আসছে গণমাধ্যমে। ধরাও পড়ছে আসামিরা। যাদের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ, তাদের অনেকে সমাজের প্রভাবশালীদের ছত্রচ্ছায়ায় প্রশ্রয় পায় বলে অভিযোগ রয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি যাবজ্জীবন সাজার যে বিধান করা হলো তাতে কি ধর্ষণ কমবে? উত্তরে বলব, এক কথায় তা বলা যাবে না। শুধু সাজা বাড়িয়ে সমাজ থেকে ধর্ষণের মতো জঘন্যতম অপরাধ দূর করা যাবে না। হয়ত কিছুটা কমবে। এ অপরাধ সমাজ থেকে দূর করতে হলে গোড়ায় যেতে হবে। সাজা বাড়ানোর পাশাপাশি যেসব সমস্যা আছে, তা দূর করতে হবে। সংস্কার আনতে হবে প্রচলিত বিচার ব্যবস্থায়।’

এদিকে নোয়াখালীতে বিবস্ত্র করে নারী নির্যাতন ও সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনার নিন্দা জানিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ধর্ষক যেই হোক তার কোন দলীয় পরিচয় থাকতে পারে না। রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয়ে কোন অপরাধীই যেন ছাড় না পায়। ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনকারীরা দুর্বৃত্ত। তাদের সামাজিকভাবে প্রতিরোধ ও প্রতিহত করতে হবে। ধর্ষক আমার দলের যে কোন পর্যায়েরই হোক না কেন এ ব্যাপারে কোন ছাড় নেই। প্রশাসন যেন এ বিষয়ে কোন ঘটনা ঘটা মাত্রই তাদের ভূমিকা পালন করে। আমার দলের যে কোন পর্যায়ের কেউ যদি কোন ঘৃণ্য অপরাধ ও দুর্বৃত্তায়নে লিপ্ত থাকে তাদের শুধু দল থেকে বহিষ্কার নয়, আজীবন আওয়ামী লীগের দরজা বন্ধ হয়ে যাবে তাদের জন্য। এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, মাদক, ইভটিজার, ধর্ষক, নারী নির্যাতনকারীসহ যে কোন অপরাধের বিরুদ্ধে তুমুল সামাজিক প্রতিরোধ ও আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। এসব দুর্বৃত্ত ও দুর্বৃত্তায়ন শুরুতেই বিনষ্ট করে দিতে হবে।

দেশে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর এই নয় মাসে প্রতিদিন গড়ে তিনটির বেশি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) প্রতিবেদনে এ তথ্য পাওয়া গেছে। নয় মাসে মোট ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে ৯৭৫টি।

মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান মনে করেন, ‘যদি আইনের শাসন বেশি দুর্বল হয়ে যায় তবে এ ধরনের ঘটনা ঘটতেই থাকে। দেশে আইনের শাসন দুর্বল হয়ে গেছে। দুর্বল হয়ে যাওয়ার কারণ হলো প্রভাবের একটি বলয় তৈরি হয়েছে। ক্ষমতার অপব্যবহার আইনের শাসনকে কোণঠাসা করে ফেলেছে বলেও মনে করেন তিনি।

বাংলাদেশে একের পর এক ধর্ষণের ঘটনা নিয়ে প্রতিবাদ-আন্দোলনের মুখে এই অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড করা হয়েছে। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে সংশোধনী এনে অধ্যাদেশের মাধ্যমে তা ইতোমধ্যে কার্যকর করা হয়েছে। আইন সালিশ কেন্দ্রের মানবাধিকার কর্মী নীনা গোস্বামী বলছেন, গত ১০ বছরে তাদের সংগঠনের পক্ষ থেকে তিন শ’র বেশি মামলায় নির্যাতিত নারীদের আইনী সহয়তা দেয়া হচ্ছে। সেখানে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দীর্ঘ সময়ের কারণে এখনকার শাস্তিই নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না। তিনি বলেন, শাস্তি যাই থাকুক- তা বাস্তবায়ন করাটাই বড় বিষয়। মানবাধিকার কর্মীদের বক্তব্য হচ্ছে, নির্যাতিত নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা কমিয়ে আনা এবং রাজনৈতিক প্রভাবের বাইরে থেকে অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া।

১৯৭৯ সালের ১৮ ডিসেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ সিডও সনদ গ্রহণ করে। সিডও হলো জাতিসংঘের ‘নারীর প্রতি সকল প্রকার বৈষম্য বিলোপ’ সনদ। ১৯৮৪ সালে বাংলাদেশ সরকার সিডও অনুমোদন করে সে হিসেবে বাংলাদেশ নারীর প্রতি সব বৈষম্য বিলোপে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। কিন্তু তার পরও নারীর প্রতি সহিংসতা বা বৈষম্য দূর হচ্ছে না। এক জরিপে দেখা গেছে ৮৭ ভাগ নারী হোক পরিবারে কিংবা বাইরে শারীরিক বা মানসিকভাবে নির্যাতিত হচ্ছে। নারীর প্রতি সামাজিক মূল্যবোধের উন্নয়ন ঘটেনি বা হয়নি আইনের যথোপযুক্ত প্রয়োগ। সাম্প্রতিক বা নিকটতম অতীতে ধর্ষণ বা সহিংসতার ঘটনাগুলো সেটাই প্রমাণ করে।

ধর্ষণের হাত থেকে প্রাথমিকভাবে আত্মরক্ষার উপকরণ হিসেবে এ্যান্টিরেপ ডিভাইসের বিকল্প নেই বলে মনে করছেন সাবেক প্রধান বিচারপতি ও বাংলাদেশ আইন কমিশনের চেয়ারম্যান এবিএম খায়রুল হক। তিনি জানান, ‘উন্নত দেশের মতো আমাদের দেশেও এ ডিভাইস ব্যবহার করা যেতে পারে। ডিভাইসটির সিগন্যাল পেয়ে নিকটস্থ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে যাবে ভিকটিমকে উদ্ধার করতে। তবে এসব ডিভাইস আবার কাউকে হয়রানি করার উদ্দেশ্যে যেন ব্যবহৃত না হয়, সেদিকেও নজরদারি রাখতে হবে।’

এ্যান্টিরেপ ডিভাইসের ব্যবহার ও সরবরাহের নির্দেশনা চেয়ে গত ১২ জানুয়ারি মানবাধিকার সংগঠন বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড এ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (বাস্ট) ও চিলড্রেনস চ্যারিটি বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের পক্ষে হাইকোর্টে একটি রিট দায়ের করা হয়। রিটে নারীদের সম্মান ও মর্যাদা রক্ষায় পর্যাপ্ত নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা কেন গ্রহণ করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারির আবেদন জানানো হয়। একইসঙ্গে বিদেশ থেকে এ্যান্টিরেপ ডিভাইস আনতে একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের নির্দেশনাও চাওয়া হয়।

রিট আবেদনে বলা হয়, এ্যান্টিরেপ ডিভাইস নারী তার শরীরে বহন করতে পারবে। যৌন নির্যাতনের শিকার হলে বা হওয়ার আশঙ্কা থাকলে ওই যন্ত্রের সাহায্যে ৯৯৯-এ জরুরী বার্তা পাঠানো যাবে।

জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের কমিউনিটি এ্যান্ড সোশ্যাল সাইকিয়াট্রি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক মোঃ তাজুল ইসলাম তার নিজের একটি লেখার বলেছেন, সব ধরনের সতর্কতা অবলম্বন করার পরও আমরা হয়ত ধর্ষণ পুরোপুরি প্রতিরোধ করতে পারব না। তবে সচেতনতা, সতর্কতা, সামাজিক ও আইনী প্রতিকার এ সংখ্যা অনেক কমিয়ে আনতে পারে।

তিনি বলেন, প্রতিরোধের জন্য নারীকে এমনভাবে ক্ষমতায়িত করতে হবে, যেন তারা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করতে শেখে যে ‘না’ বলার ও ‘আত্মরক্ষার’ অধিকার ও সক্ষমতা তার রয়েছে। নারীকে ‘মানুষ’ নয় ‘ভোগের সামগ্রী’ হিসেবে ভাবার পুরুষতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গির আমূল পরিবর্তন করতে হবে।

প্রতিরোধ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, প্রথমেই প্রয়োজন ধর্ষণ-সংস্কৃতিকে উসকে দেয়, প্রশ্রয় দেয় তেমন সমাজকে ধর্ষণবিরোধী, ধর্ষণ প্রতিরোধী সমাজে রূপান্তর করা। এর জন্য গল্প, উপন্যাস, নাটক, সিনেমা, বিজ্ঞাপনে নারীকে ‘যৌন পণ্য হিসেবে আকর্ষণীয়ভাবে উপস্থাপন বন্ধ করার উদ্যোগ নিতে হবে। নারীকে ‘মানুষ’ হিসেবে ভাবার সাংস্কৃতিক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তুলতে হবে।

ধর্ষণ প্রতিরোধে শুধু নারীকে সতর্ক থাকতে বললে হবে না, পুরুষকেও ‘ধর্ষণ করবে না’ এই বার্তা বারবার দিতে হবে উল্লেখ করে এই মানসিক চিকিৎসক বলেন, পরিবার, সমাজে অন্যের ‘অনুমতি বা সম্মতি’ নেয়ার সংস্কৃতি তৈরি করতে হবে। পৌরষত্বের সনাতনী ধারণায় পরিবর্তন আনতে হবে, ধর্ষণ প্রাকৃতিক ব্যাপার এই ভুল ধারণা ভেঙে একে ‘অপরাধ’ ও নারীর প্রতি ‘সহিংসতা’ হিসেবে দেখতে হবে। ধর্ষণ মানে ধর্ষণ, প্রেম-বন্ধুত্বের নামে একে ‘বৈধতা’ দেয়ার চেষ্টা করা যাবে না, চোখের সামনে ধর্ষণ হচ্ছে অথচ নির্বিকার, নিষ্ক্রিয় থাকার কাপুরুষতা পরিহার করতে হবে, সামাজিক বা আইনগত হয়রানি, অসম্মানের ভয়ে ধর্ষণের ঘটনা লুকিয়ে রাখা যাবে না।

জাতীয় শিশু কিশোর সংগঠন কেন্দ্রীয় খেলাঘরের সভাপতিমণ্ডলীর চেয়ারম্যান অধ্যাপিকা পান্না কায়সার বলেন, আমি তো এখন থেকে দেশে আর কোন শিশুর উপর পাশবিক নির্যাতন চালানো হয়েছে; এমন খবর শুনতে চাই না। একটি সভ্য জাতি গঠনে এ ধরনের খবর যে কতটা কলঙ্কের তিলক মেখে দেয় তা আমাদের সকলের হৃদয় থেকে উপলব্ধি করতে হবে।

এ ধরনের ঘৃণিত অপরাধের দ্রুত বিচার দাবি করে তিনি বলেন, আমরা প্রতিটি এ ধরনের ঘটনার দ্রুত বিচার চাই। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে দৃষ্টান্ত জরুরী। তাই অপরাধের দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করতে হবে। সর্বোপরি এ ধরনের অপরাধকে রাজনীতির বাইরে দেখতে হবে। অপরাধীদের সমাজের শত্রু, জাতির শত্রু হিসেবে ভাবতে হবে সবাইকে।

নারী নির্যাতন ও শিশুর প্রতি সব ধরনের পাশবিকতা রোধে সামাজিক আন্দোলন কঠোরভাবে চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে সমাজকর্মী ডাঃ লেলীন চৌধুরী বলেন, আমাদের এখন আর বসে থাকার কোন সুযোগ নেই। যার যার জায়গা থেকে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে, প্রতিবাদ করতে হবে, দ্রুত বিচার চাইতে হবে। নইলে আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্ম অন্ধকারে ডুবে যাবে। তারা আলোর দিকে আসতে পারবে না। সমাজকে তারা ভয় পারে। অভিভাবক হিসেবে আমাদের সকলের উচিত শিশুদের ভয় দূর করা

তিনি সাংস্কৃতিক চর্চা বাড়ানোর তাগিদ দিয়ে বলেন, নানাভাবে প্রতিরোধের বার্তায় জানান দিতে হবে আমরা দেশে আর একটিও ধর্ষণ চাই না। এক্ষেত্রে বড় হাতিয়ার হতে পারে সংস্কৃতি। কিন্তু দিন দিন আমাদের সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডল ছোট হয়ে আসছে। সমাজে অপরাধের জবাবদিহিতা, বিচারের সংস্কৃতি বন্ধ হচ্ছে। তবুও সকলে মিলে সব মানুষের কানে পৌঁছাতে হবে ধর্ষণ একটি ভয়াবহ অপরাধ। এরসঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা সমাজে ঘৃণিত, আইনের চোখে অপরাধী। যার প্রেক্ষিতে তার মৃত্যুদণ্ড হতে পারে। আসুন সবাই মিলে নারী ও শিশু প্রতি পাশবিকতাকে না বলি।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক গণঅধিকার'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyganoadhikar@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

দৈনিক গণঅধিকার'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

এই বিভাগের জনপ্রিয়

© ২০২০ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। দৈনিক গণঅধিকার | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT