ঢাকা, মঙ্গলবার ২৬ অক্টোবর ২০২১, ১১ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

পিআইডি এর নিয়ম অনুসারে আবেদিত

থাই পুলিশের সদর দফতরের সামনে বিক্ষোভ

প্রকাশিত : 08:43 AM, 20 November 2020 Friday

গণঅধিকার নিউজ ডেস্কঃ

থাইল্যান্ডে এবার পুলিশের প্রধান কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন হাজার হাজার গণতন্ত্রপন্থী। মঙ্গলবার পার্লামেন্টের বাইরে জড়ো হলে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশ ও সরকারপন্থীদের সংঘর্ষ হয়। এতে গুলিবিদ্ধসহ বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারী আহত হন। ওই ঘটনার প্রতিবাদে বুধবার পুলিশের প্রধান কার্যালয়ের দেয়াল ও সামনের সড়কে রং ছিটিয়ে প্রতিবাদ জানান গণতন্ত্রপন্থীরা। এদিকে বিক্ষোভকারীদের দমনে কঠোর আইন ও ধারা প্রয়োগের হুমকি দিয়েছেন থাই প্রধানমন্ত্রী প্রায়ুথ চান ওচা। বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে তিনি এই হুশিয়ারি দেন। খবর এএফপি ও গার্ডিয়ানের।

বিক্ষোভকারী নেতারা তাদের ওপর গুলি চালানো এবং জলকামান ব্যবহার করে রাসায়নিকযুক্ত পানি ও কাঁদানে গ্যাস ছোড়ার নিন্দা জানান। তারা এ সময় পুলিশকে লক্ষ্য করে ‘স্বৈরাচারের দাশ’, ‘আমাদের কর’ প্রভৃতি স্লোগান দেন। পুলিশের প্রধান কার্যালয়ের দেয়াল ও আঙিনায় রং ছিটিয়ে দেন বিক্ষোভকারীরা। তারা খেলনা পানি পিস্তল, রঙের বোমা ব্যবহার করে পুলিশের প্রতিক্রিয়ার জবাব দেন।

খবরে বলা হয়, মঙ্গলবার দেশটির পার্লামেন্ট ভবনের পাশে সরকারবিরোধী ও রাজতন্ত্রের অনুসারী দু’পক্ষের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করতে জলকামান ব্যবহার করে। এ সময় নদীর পাশে অবস্থিত পার্লামেন্ট ভবন থেকে এমপিরা নৌকায় স্থান ত্যাগ করেন। জুলাই থেকে তরুণদের নেতৃত্বে চলা আন্দোলনে এদিন সবচেয়ে সহিংস সংঘর্ষ দেখা যায়। বিক্ষোভ প্রদর্শনের সময় ৫৫ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ব্যাংককের একটি জরুরি সেবাকেন্দ্র। রাতের দিকে ওই এলাকায় গুলির শব্দও শোনা যায়।

মঙ্গলবারের সহিংসতা সত্ত্বেও বুধবার ব্যাংককের র‌্যাচাপ্রাসংয়ে ১০ হাজারের বেশি মানুষ জড়ো হন। সেখানে বিক্ষোভকারীরা তাদের আন্দোলন আরও জোরদার করার হুশিয়ারি দেন। বিক্ষোভে খেলনা পিস্তল ধরে রাখা থানিসর্ন বলেন, আমাদের অস্ত্র নেই, আমাদের সেনাবাহিনী নেই। আমার মনে হয়েছে, ঘর থেকে বাইরে এসে তাদের জানিয়ে দিই যে, ভয় পাই না। আমরা তাদের চেয়ে শক্তিশালী।

তিনি আরও বলেন, মানুষ জেগে উঠেছে। এখন আর অপপ্রচার চালানোর যুগ নেই। মানুষ এখন পরিবর্তন চায় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

রাজতন্ত্রের ক্ষমতা কমানো এবং প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে কয়েক মাস ধরে থাইল্যান্ডে বিক্ষোভ চলছে। থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী প্রাউত চান-ওচার পদত্যাগ চাইছেন বিরোধী দলের নেতারা। বিক্ষোভে অংশ নেয়ার জন্য অনেকের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। মঙ্গলবার বিক্ষোভকারীদের চাহিদা মোতাবেক সংবিধান সংশোধন করার জন্য বেশ কয়েকটি প্রস্তাব নিয়ে বিতর্ক করার কথা ভাবছিলেন আইনপ্রণেতারা।

সংবিধান পরিবর্তনের জন্য আইনপ্রণেতাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে হাজার হাজার বিক্ষোভকারী এদিন পার্লামেন্টের বাইরে জড়ো হন। কিন্তু সেখানে বিক্ষোভকারীদের কাঁটাতারের বেড়ায় আটকে রাখা হয়। পুলিশের একজন মুখপাত্র বলেছেন, সংরক্ষিত এলাকা ভাঙার চেষ্টা চালালে পুলিশ জলকামান ব্যবহারে বাধ্য হয়।

থাই প্রধানমন্ত্রীর হুমকি : গণতন্ত্রপন্থী বিক্ষোভকারীদের ঠেকাতে তাদের বিরুদ্ধে সব ধরনের আইন ও ধারা ব্যবহারের হুমকি দিয়েছেন থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী প্রায়ুথ চান-ওচা। বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে তিনি এই হুশিয়ারি দেন। প্রধানমন্ত্রীর এমন হুমকির পর অনেকেই আশঙ্কা করছেন, দেশটির কঠোর রাজতন্ত্র সুরক্ষা আইন বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে প্রয়োগ করা হতে পারে। তবে আগে ওই আইন ব্যবহার না করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন থাই প্রধানমন্ত্রী।

বিবৃতিতে থাই প্রধানমন্ত্রী বলেন, পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় আরও সহিংসতা বৃদ্ধির ঝুঁকি রয়েছে। এগুলো যদি বিবেচনায় নেয়া না হয় তাহলে এগুলো আমাদের দেশ এবং প্রিয় রাজতন্ত্রের ক্ষতি করতে পারে। তিনি বলেন, সরকার তাদের কার্যক্রম জোরালো করবে এবং আইনভঙ্গ করা বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে সব আইন ও ধারা ব্যবহার করবে।

তবে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে পেনাল কোডের ১১২ নম্বর ধারা ব্যবহার করা হবে কিনা তা প্রধানমন্ত্রীর বিবৃতিতে স্পষ্ট করা হয়নি। ওই ধারায় রাজতন্ত্রের সমালোচনা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এই ধারায় ভঙ্গকারীদের ১৫ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে দেশটিতে।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক গণঅধিকার'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyganoadhikar@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

দৈনিক গণঅধিকার'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। দৈনিক গণঅধিকার | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT