ঢাকা, বৃহস্পতিবার ২৮ জানুয়ারি ২০২১, ১৫ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

পিআইডি এর নিয়ম অনুসারে আবেদিত

তারাই আজ ব্যর্থ ॥ স্বাধীনতাকে যারা নস্যাৎ করতে চেয়েছিল

প্রকাশিত : 10:18 AM, 11 January 2021 Monday

গণঅধিকার নিউজ ডেস্কঃ

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা সন্ত্রাস-জঙ্গীবাদ থেকে মুক্ত রেখে ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত অসাম্প্রদায়িক চেতনায় সমৃদ্ধ বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তোলার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেছেন, স্বাধীনতাকে যারা ব্যর্থ করতে চেয়েছিল, আজকে তারাই ব্যর্থ হয়েছে। বাংলাদেশ স্বাধীন দেশ হিসেবে সারাবিশ্বে যে মর্যাদা পেয়েছে, এ মর্যাদা ধরে রেখে বাংলাদেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাব। এ জাতি বিশ্বে মাথা উঁচু করে চলবে। জাতির পিতার স্বপ্নের উন্নত সমৃদ্ধ সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলব- জাতির পিতার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসে এটাই আমাদের প্রতিজ্ঞা।

১০ জানুয়ারি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে রবিবার বিকেলে বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যোগ দিয়ে সভাপতির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশের যদি অতীত ইতিহাস দেখেন, একমাত্র ভূমিপূত্র বলতে বা এই দেশের মাটির সন্তান বলতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবই প্রথম এদেশের শাসনভার হাতে নিয়েছিলেন। বাকিরা কেউ কিন্তু এই দেশের মাটির সন্তান ছিল না।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যে জাতির জন্য মহান নেতা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আজীবন লড়াই-সংগ্রাম করেছেন, বছরের পর বছর কারাগারে নির্যাতন সহ্য করেছেন, এ জাতির জন্য নিজের জীবন পর্যন্ত উৎসর্গ করে গেছেন- সেই বাংলাদেশের জনগণকে একটু সুন্দর ও উন্নত জীবন দেয়ায় আমাদের একমাত্র লক্ষ্য। সেই লক্ষ্য নিয়েই আমরা কাজ করে যাচ্ছি। দেশ আজ সব দিক থেকে এগিয়ে যাচ্ছে, হারানো মর্যাদা ফিরে পেয়েছে। ইনশাআল্লাহ, আমরা জঙ্গীবাদ-সন্ত্রাস এগুলোর হাত থেকে দেশকে মুক্ত রেখে ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত অসাম্প্রদায়িক চেতনায় উন্নত সমৃদ্ধ বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা আমরা গড়ে তুলবই।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয় প্রান্তে প্রথমে স্বাগত বক্তব্য রাখেন দলের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। আরও বক্তব্য রাখেন দলের সভাপতিম-লীর সদস্য কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক, রমেশ চন্দ্র সেন, এ্যাডভোকেট আবদুল মতিন খসরু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, বিএম মোজাম্মেল হক, এস এম কামাল হোসেন, স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডাঃ রোকেয়া সুলতানা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক প্রকৌশলী আবদুস সবুর, ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক শেখ বজলুর রহমান, আবু আহমেদ মন্নাফী, এস এম মান্নান কচি ও হুমায়ুন কবির। গণভবন প্রান্ত থেকে আলোচনা সভা পরিচালনা করেন কেন্দ্রীয় প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধু সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করে যে দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়েছিলেন, সেটা বাস্তবায়ন করতে পারলে পরবর্তী পাঁচ বছরেই বাংলাদেশ ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত উন্নত দেশ হিসেবে গড়ে উঠতে পারত, এতে কোন সন্দেহ নেই। দেশ পরিচালনা করতে বঙ্গবন্ধু মাত্র সাড়ে তিন বছর সময় পেয়েছিলেন। এই স্বল্প সময়ে জাতির পিতা এত কাজ করে গেছেন, তা সত্যিই বিস্ময়কর। এটা গবেষণা করলেই বেরিয়ে আসবে মাত্র সাড়ে ৩ বছরে বঙ্গবন্ধু সব কিছুই করেছিলেন।

জাতির পিতা পদাঙ্ক অনুসরণ করে তাঁর স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণের দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে তাঁর কন্যা শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতা এই জাতিকে চিরদিন ভালবেসেছেন, আত্মত্যাগ করেছেন। আমাদের একটাই লক্ষ্য যে, আমাদের মহান যে জাতির জন্য শেষ পর্যন্ত নিজের জীবন পর্যন্ত দিয়ে গেছেন, সেই জাতির কল্যাণ করা, তাদের জীবন সুন্দর করা। সেই লক্ষ্য নিয়েই আমি কিন্তু কাজ করে যাচ্ছি।

নতুন প্রজন্মের সুন্দর জীবন নিশ্চিত ও সমৃদ্ধ আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণে তাঁর সরকারের দেয়া আগামী এক শ’ বছরের ডেল্টা প্ল্যান ঘোষণার কথা অনুষ্ঠানে তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই বাংলাদেশ ২১০০ সাল পর্যন্ত উন্নয়ন কিভাবে হবে, নতুন প্রজন্মের জীবন উন্নত হবে- সেই পরিকল্পনা নিয়েই আমরা এক শ’ বছরের ডেল্টা প্ল্যান করে দিয়েছি। প্রেক্ষিত পরিকল্পনা ২০৪১ সালে বাংলাদেশ কেমন হবে সেটাও দিয়েছি। ২০৭১ সালে আমাদের স্বাধীনতার শতবর্ষ উদ্যাপন হবে। আমাদের আগামী প্রজন্ম কিভাবে এটা উদ্যাপন করবে, সেই কথা চিন্তা করেই আমরা কিন্তু পরিকল্পনা হাতে নিয়েছি। সেগুলো আমাদের বাস্তবায়ন করতে হবে। দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।

জাতির পিতার ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসের কথা স্মরণ করে তাঁর কন্যা শেখ হাসিনা বলেন, সব থেকে বড় কথা জাতির পিতা মুক্তি পেয়ে ফিরে এলেন স্বদেশের মাটিতে, তাঁর প্রিয় মানুষের কাছে। আমি একজন পরিবারের সদস্য হিসেবে শুধু এইটুকুই বলব, আমার আব্বা (বঙ্গবন্ধু) দেশে ফিরে প্রথমে কিন্তু আমাদের কাছে আসেননি। তিনি কিন্তু পরিবারের কাছে না, বঙ্গবন্ধু তাঁর প্রিয় জনগণের কাছে সবার আগে ছুটে গিয়েছিলেন। কারণ তিনি বাংলার মানুষকে সব থেকে বেশি ভালবাসতেন। সেই মানুষের কাছেই তিনি ছুটে গিয়েছিলেন।

তিনি বলেন, দীর্ঘ নয়টা মাস বঙ্গবন্ধু পাকিস্তারের কারাগারে বন্দী ছিলেন। সেখানে তাঁর ওপর যে অত্যাচার-নির্যাতন হয়েছে, প্রায় ৪০ পাউন্ড ওজন তাঁর কমে যায়। তারপরও তিনি সেই কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে চলে যান লন্ডনে। সেখানে প্রেস কনফারেন্সে করেন। দিল্লী হয়ে ঢাকায় এসে সরাসরি তিনি রেসকোর্স ময়দানে চলে যান তাঁর প্রিয় জনগণের কাছে। সেখানে বঙ্গবন্ধু ঐতিহাসিক যে ভাষণটা দিয়েছিলেন, সেখানে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র পরিচালনা করার সমস্ত দিক-নির্দেশনা ছিল তাঁর ওই ভাষণে। সেখানেও কিন্তু কোন লেখা কাগজ বা কোন কিছু ছিল না বঙ্গবন্ধুর কাছে। ভাষণে তিনি যা বলেছেন নিজের মন থেকে বলেছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের দিনে জনগণের উদ্দেশে দেয়া ভাষণে বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতা সংগ্রামে আমাদের বন্ধুপ্রতিম দেশ যারা ছিল, তাদের সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। বাংলাদেশের মানুষ দীর্ঘ নয় মাস যে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর হাতে অমানবিক অত্যাচারিত-নির্যাতিত হয়েছে- সেই কথাগুলোও বঙ্গবন্ধু তাঁর ভাষণে তুলে ধরেছেন। স্বাধীন দেশটাকে কিভাবে পরিচালিত করা হবে তাঁর দিক-নির্দেশনা তিনি দিয়ে গেছেন। যার প্রতিফলন আমরা দেখি , আমাদের যে সংবিধান দিয়েছিলেন, সেই সংবিধানে সেটা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা আছে।

আবেগজড়িত কণ্ঠে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একজন মানুষ (বঙ্গবন্ধু), একটা জাতি ও মানুষের প্রতি কতটা নিবেদিত হলে এবং কতটা ভালবাসতে পারলে এইভাবে জীবনে এতটা আত্মত্যাগ করতে পারে আর এইভাবে মানুষের কথা বলতে পারে। ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ এরপর ১০ জানুয়ারির ভাষণ; আমি বলব, আমাদের আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীসহ সকলেরই পুরনায় সেই ভাষণগুলো আবার নতুন করে শোনা উচিত। আমাদের নতুন প্রজন্মেরও শোনা উচিত। তাহলেই রাজনীতি করার একটা প্রেরণা এবং দিক-নির্দেশনা সবাই পাবেন।

স্বাধীনতা পরবর্তী কিছু মানুষের বিরোধিতা ও ষড়যন্ত্রের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু দেশ পরিচালনায় মাত্র সাড়ে তিন বছর সময় পেয়েছিলেন। এর মধ্যে একটা বিধ্বস্ত দেশকে গড়ে তুলে বাংলাদেশকে বঙ্গবন্ধু স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে উন্নীত করেন। দেশের অর্থনৈতিক উন্নতির জন্য জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলে সকলকে নিয়ে বঙ্গবন্ধু ৫ বছরের একটা কর্মসূচী নিয়েছিলেন। কিন্তু আমাদের দুর্ভাগ্য, আমাদের দেশের কিছু মানুষ এত বেশি বুঝে গেল এবং তাদের অপপ্রচার ও অপকর্মে ব্যতিব্যস্ত করে তোলা হয়, বঙ্গবন্ধু যা কিছু করতে যান সেখানেই বাধা হয়।

এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ওই সময় স্বাধীনতাবিরোধীরা তো সবসময় সক্রিয় ছিল। যারা স্বাধীনতাবিরোধী-মানবতাবিরোধী কাজ করেছিল, সেই যুদ্ধাপরাধীদের বিচারও বঙ্গবন্ধু শুরু করেছিলেন। কিন্তু সেই সময় কিছু লোকের যে অপকর্ম, তাদের কথাবার্তা বলা শুরু হলো। কিন্তু মাত্র সাড়ে তিন বছর একটা জাতির জন্য তো কিছুই না। যে জাতি ২৪ বছর ছিল শোষিত বঞ্চিত। বাংলাদেশের যদি অতীত ইতিহাস দেখেন, একমাত্র ভূমিপূত্র বলতে বা এই দেশের মাটির সন্তান বলতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবই প্রথম এদেশের শাসনভার হাতে নিয়েছিলেন। বাকিরা কেউ কিন্তু এই দেশের মাটির সন্তান ছিল না।

বঙ্গবন্ধুর ঘোষিত দ্বিতীয় বিপ্লবের কর্মসূচী প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু এদেশকে চিনতেন, জানতেন, ভালবাসতেন এবং দেশের কল্যাণেই তিনি তাঁর জীবনকে উৎসর্গ করেছিলেন। বঙ্গবন্ধু যে জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়ে দ্বিতীয় বিপ্লবের কর্মসূচী দিয়েছিলেন, সেই ব্রিটিশ আমল থেকে তৈরি করা যে শাসন ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন করে গণমুখী ব্যবস্থা তিনি করার পদক্ষেপ নিয়েছিলেন, সেটা যদি করে যেতে পারতেন, তাহলে ওই পরবর্তী ৫ বছরের মধ্যে বাংলাদেশ ক্ষুধামুক্ত-দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলা হিসেবে গড়ে উঠত, এতে কোন সন্দেহ নেই।

মাত্র সাড়ে তিন বছরে যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশ গড়ে তোলার পাশাপাশি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর দেশের জন্য অসংখ্য কাজ করে যাওয়ার ইতিহাস তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে রাষ্ট্র পরিচালনা করতে যেয়ে প্রতিটি ক্ষেত্রেই দেখি সমস্ত কাজের ভিত্তিটা কিন্তু বঙ্গবন্ধুই তৈরি করে দিয়ে গেছেন। আমার অবাক লাগে, এত অল্প সময়ের মধ্যে এত আইন, এত নীতিমালা, এত কাজ তিনি কিভাবে করেছেন, এটা একটা বিস্ময়! যদি কেউ এর ওপরে গবেষণা করেন তাহলেই আপনারা এটা দেখবেন। অনেক তথ্য আগে ছিল না। অনেক তথ্য আমরা খুঁজে খুঁজে বের করেছি। আমাদের প্রত্যেকটা ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধুর অবদান রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, কাজেই আমাদেরও প্রধান লক্ষ্য যে, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সেই বাংলাদেশটা স্বাধীন দেশ হিসেবে বিশ্বে মর্যাদা নিয়ে দাঁড়াক, মানুষ উঁচু করে চলুক। সম্মান নিয়ে চলুক। এটা কিন্তু আমাদের স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি পরাজিত শক্তি কখনও এটা চায়নি বলেই জাতির পিতাকে শুধু হত্যাই করেনি, আমাদের সমস্ত মুক্তিযুদ্ধের আদর্শকে বিচ্যুত করেছিল। প্রজন্মের পর প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানতে দেয়নি। বিজয়ী জাতি হিসেবে আমাদের যে গর্ব করার মতো কতকিছু রয়েছে, কত ইতিহাস রয়েছে- একথাটা অনেকেই জানতেই পারেনি। সমস্ত ইতিহাসটাকেই বিকৃত করা হয়েছিল।

শেখ হাসিনা বলেন, শুধু আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পরেই মানুষ আস্তে আস্তে সত্য ইতিহাস জানতে পারে। আর এখন আমাদের যারা নতুন প্রজন্ম তাদের একটা আগ্রহ জন্মেছে সত্য ইতিহাসটা জানার, এটাই সবচেয়ে আমাদের আশার বিষয়। তারপরও আমি বলব, একমাত্র আওয়ামী লীগ এদেশের মানুষকে কিছু দিয়েছে। কারণ জাতির পিতার আদর্শ নিয়ে আমরা পথ চলি। তাঁর আদর্শ সামনে রেখেই আমরা দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি এবং যাব।

করোনাভাইরাস মহামারীর কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে করোনাভাইরাস আমাদের অগ্রযাত্রায় কিছুটা ব্যাহত তো করেছে। এতে সন্দেহ নেই। আমরা মুজিববর্ষ উদ্যাপন করছি। আর কিছুদিন পর স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালন করব। ২৬ মার্চ জাতির পিতা স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন, সেই স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তি উৎসব আমরা পালন করব। করোনাভাইরাসের জন্য যেভাবে করার কথা সেভাবে করতে পারছি না। কিন্তু আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, যে জাতির জন্য বঙ্গবন্ধু এত ত্যাগ স্বীকার করে গেছেন, সেই বাঙালী জাতির প্রত্যেকের একটা ঠিকানা, প্রতিটি গৃহহীন মানুষকে আমরা ঘর করে দেব। দেশের একটি মানুষও ভূমিহীন বা গৃহহীন থাকবে না। এদেশের পরিবেশ রক্ষার ব্যবস্থা আমরা যে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচীর ঘোষণা দিয়েছি, ইতোমধ্যে অনেক গাছ লাগিয়ে পরিবেশ রক্ষা করেছি। সেটা আমাদের অব্যাহত রাখতে হবে।

আওয়ামী লীগসহ ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, কৃষক লীগ, শ্রমিক লীগ, যুব মহিলা লীগ আমাদের যত সংগঠন আছে প্রত্যেককে আমি অনুরোধ করব- আপনার বাড়ির পাশে যদি কেউ ভূমিহীন থাকে, গৃহহীন থাকে, নিঃস্ব কেউ থাকে- তাদের কথা আমাদের জানাবেন। তাদের আমরা সরকারের পক্ষ থেকে বিনা পয়সার ঘর করে দিব। কারণ আওয়ামী লীগ সরকার, জনগণের সেবক। আওয়ামী লীগ জাতির পিতার হাতে গড়া সংগঠন। এই সরকার মানে জনগণের সেবক। কাজেই আমরা জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী উদ্যাপন হয়ত আমরা ঘটা করে করতে পারিনি, কিন্তু আমরা দেশের সেবা মানুষের সেবা করেই সেটা আমরা উদ্যাপন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, খুব শীঘ্রই আমরা গৃহহীন প্রায় ৪৬ হাজার মানুষকে ঘর দেব। ৭৬ হাজার মানুষের জন্য নতুন ঘর তৈরি হচ্ছে। কত লোক আমাদের গৃহহীন বা ভূমিহীন আছে- তালিকা নিয়েই আমরা তাদের ঘর করে দিতে চাই। মুজিববর্ষে একটি মানুষও গৃহহীন থাকবে না। শতভাগ বিদ্যুত পৌঁছে যাবে মানুষের ঘরে ঘরে। দেশের প্রতিটি ঘর আলোকিত করব। চিকিৎসাসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিয়েছি।

করোনার মধ্যে দেশের সবাইকে স্বাস্থ্য সুরক্ষাবিধি মেনে চলার অনুরোধ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, করোনাভাইরাসের জন্য ইতোমধ্যে ভ্যাকসিন ক্রয় করার সমস্ত ব্যবস্থা আমরা কওে ফেলেছি। ইনশাআল্লাহ ভ্যাকসিন এসে যাবে। তারপরও বলব সবাইকে স্বাস্থ্য সুরক্ষা মেনে চলতে হবে। স্বাস্থ্য সুরক্ষা মেনে নিজেকে রক্ষা করতে হবে, অপরকে রক্ষা করতে হবে। এটাই হচ্ছে সব থেকে বড়। যত ভ্যাকসিন আমরা নেই না কেন, তারপরও কিন্তু সকলকে মাস্ক পরা, হাত ধোঁয়া, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা, ভিটামিন সি এবং ডি এ ধরনের খাবার খাওয়া, এগুলো আমাদের সবাইকে মানতে হবে। এগুলো মেনেই কিন্তু আমরা করোনাভাইরাস কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পেরেছি। কাজেই এটা আমাদের ধরে রাখতে হবে। কারণ মনে রাখতে হবে, মার্চ মাসে করোনা সব থেকে বেশি ক্ষতি করেছিল আমাদের। কাজেই সেই সময় হয়ত আবার একটা ধাক্কা দিতে পারে।

মাতৃভাষার আন্দোলন থেকে শুরু করে স্বাধীনতার সংগ্রাম এই দীর্ঘ সময়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের লড়াই-সংগ্রাম ও বছরের পর বছর কারান্তরীণ থেকে বাঙালী জাতির মুক্তির জন্য নির্যাতন সহ্য করার ইতিহাস তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ নয় মাস পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু ১৯৭২ সালের এদিন স্বদেশের মাটিতে, তাঁর প্রিয় মানুষের ফিরে এসেছিলেন। যে মানুষের মুক্তির জন্য তিনি আজীবন সংগ্রাম করেছেন, উৎসর্গ করেছে নিজের জীবনও। আর বঙ্গবন্ধুর এই স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমেই পূর্ণতা পায় দেশের স্বাধীনতা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের ইতিহাসে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুই একমাত্র নেতা যিনি মন্ত্রিত্ব ছেড়ে দিয়ে দলের দায়িত্ব নিয়েছিলেন, আওয়ামী লীগকে সারাদেশে সুসংগঠিত করে গড়ে তুলেছিলেন। পাকিস্তান সৃষ্টির পেছনেও বঙ্গবন্ধুর বড় অবদান ছিল। কিন্তু বঙ্গবন্ধু তখনই বুঝতে পেরেছিলেন, বাঙালী জাতির মুক্তি ও স্বাধীন রাষ্ট্র ছাড়া শোষণ-বঞ্চনা বন্ধ হবে না। সেজন্য ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে বাঙালী জাতির মুক্তির সংগ্রাম করতে গিয়ে বঙ্গবন্ধুকে বছরের পর বছর কারান্তরীণ থেকে নির্যাতন সহ্য করতে হয়েছে।

বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, বঙ্গবন্ধুর নিজের চিন্তা থেকে দেয়া ঐতিহাসিক ৬ দফার ভিত্তিতে আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় আসে সত্তরের নির্বাচন। পাক শাসক গোষ্ঠী কোনদিন চিন্তাও করেনি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জিতবে। ওই নির্বাচনেই আওয়ামী লীগ এক সংখ্যাগরিষ্ঠতা আসবে বিজয়ী হয়ে নির্ধারিত হয় বাঙালী জাতির জন্য কে কথা বলবে। তিনি বলেন, ৭ মার্চের ভাষণেই একটা গেরিলা যুদ্ধের সব দিক-নির্দেশনা বঙ্গবন্ধু দিয়ে যান। পরবর্তীতে লন্ডনে বসেই পরিকল্পনা করেন মুক্তিযুদ্ধে কে অস্ত্র দেবে, ট্রেনিং দেবে, সহায়তা দেবে। বঙ্গবন্ধুর নির্দেশনা অনুযায়ী ৯ মাস সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে আসে মহার্ঘ স্বাধীনতা। আর সেই স্বাধীনতা পূর্ণতা পায় বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের মধ্য দিয়ে। তাই জাতির পিতার স্বপ্নের উন্নত সমৃদ্ধ সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলব- জাতির পিতার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসে এটাই আমাদের প্রতিজ্ঞা।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক গণঅধিকার'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyganoadhikar@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

দৈনিক গণঅধিকার'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। দৈনিক গণঅধিকার | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT