ঢাকা, রবিবার ০৯ মে ২০২১, ২৬শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

পিআইডি এর নিয়ম অনুসারে আবেদিত

তানোরে উচ্ছেদ অভিযানে জামায়াত-বিএনপিপ্রীতি

প্রকাশিত : 10:21 AM, 25 September 2020 Friday

গণঅধিকার নিউজ ডেস্কঃ

রাজশাহীর তানোর পৌরসভার গোল্লাপাড়া বাজারে প্রশ্নবিদ্ধ উচ্ছেদ অভিযানে ভুমিহীন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে, বিরাজ করছে বিস্ফোরণমুখ পরিস্থিতি। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, নীতিমালা লঙ্ঘন ও গোপণে জামায়াত-বিএনপির নেতাদের নামে বাজারের সরকারি জায়গা লীজ দিয়ে আওয়ামী মতাদর্শী অসহায় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের উচ্ছেদ করায় সাধারণের মধ্যে এমন ক্ষোভ-অসন্তোষের সুত্রপাত হয়েছে। ওদিকে নীতিমালা লঙ্ঘন করে গোপণে জামায়াত-বিএনপির নেতাদের নামে লীজ দেয়া তিনটি ঘর এখানো উচ্ছেদ না করায় বিষয়টি টক অবদ্যা তানোরে পরিণত হয়েছে। বাজারের ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা এবিষয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃস্টি আকর্ষণ এবং স্থানীয় সাংসদ ও রাজশাহী জেলা প্রশাসক(ডিসি)’র জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।স্থানীয়রা জানান, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের নামে বাজারের ভুমিহীন শতাধিক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীকে উচ্ছেদ করা হলেও রহস্যজনক কারণে ওই তিন ঘর উচ্ছেদ করায় এটাকে জামায়াত-বিএনপিপ্রীতি বলে তারা মনে করেছে। আবার কেউ কেউ বলছে পৌর নির্বাচনের আগে গোপণে জামায়াত-বিএনপি নেতাদের লীজ দিয়ে উচ্ছেদ অভিযান করে এমপিবিরোধীদের খুশি করার পাশাপাশি স্থানীয় এমপি ও উপজেলা চেয়ারম্যানকে বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি করে আওয়ামী লীগের ভোট ব্যাংকে আঘাত করা হয়েছে। তারা বলেন, গোল্লাপাড়া বাজারের সিংহভাগ ব্যবসায়ী আওয়ামী মতাদর্শী হয়েও তারা কোনো ঘর ইজারা পায়নি পেয়েছে জামায়াত-বিএনপির নেতারা। তারা বলেন, প্রকৃত পক্ষে সরকারী সম্পত্তি উদ্ধারের জন্যই যদি উচ্ছেদ অভিযান তবে গোপণে হাটের জায়গা জামায়াত-বিএনপির নেতাদের লীজ দিয়ে সাধারণ ব্যবসায়ীদের উচ্ছেদ কেনো ? লীজ দেয়া হলে সকলকেই দেয়া হোক। একদিকে যখন উচ্ছেদ অভিযান চলছে, অন্যদিকে জামায়াত-বিএনপির নেতাদের ঘর উচ্ছেদ না করে গোপণে ইজারা দেয়া হয়েছে। এমনকি তাদের ঘর রক্ষায় কতিপয় কর্মকর্তা বিভিন্ন মহলে দেনদরবার করছে বলেও অনেকে অভিযোগ তুলেছে। এদিকে প্রশ্নবিদ্ধ উচ্ছছেদ অভিযানে জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হতদরিদ্র ব্যবসায়ীরা প্রতিনিয়ত এসব জনপ্রতিনিধিদের কাছে ঘরের জন্য দেনদরবার ও আলোচিত তিনঘর নিয়ে নানা প্রশ্ন করে তাদের বিব্রত করছেন। অথচ যেই বিষয়ের সঙ্গে জনপ্রতিনিধিদের কোনো সম্পৃক্ততা নাই, শুধুমাত্র প্রশ্নবিদ্ধ উচ্ছেদ অভিযানের কারণে তাদের সেই বিষয়ে বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখে পড়তে হচ্ছে এর দায় নিবে কে ?
সুত্র জানায়, জামায়াত-বিএনপি নেতাদের ঘর উচ্ছেদ না করায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে। তারা বলছে, এমন হবে কেনো যদি ইজারা দেয়া হয় তাহলে সকলকে দেয়া হোক। কিন্ত্ত তা না করে অসংখ্য ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের উচ্ছেদ করা হলেও জামায়াত-বিএনপির নেতাদের ইজারা দেয়া হলো কি বিবেচনায়। এটা কি হিরক রাজার দেশ না কি এসব দেখার কেউ নাই। এনিয়ে গোল্লাপাড়া বাজার বনিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম বলেন, প্রশাসন দোকানঘর ভাংচুর শুরু করেছিলো, বনিক সমিতির পক্ষ থেকে এসব দোকান সরিয়ে নেয়ার জন্য সময় নেয়া হয়েছে ২/১দিনের মধ্যেই সকল দোকান সরিয়ে নেয়া সম্পূর্ন হবে। তবে, তিনি ৩টি দোকান না ভাঙ্গায় এবং একক ভাবে হাটের সরকারী জায়গা লীজ দেয়ার বিষয়ে বিষ্ময় প্রকাশ করে বলেন, প্রশাসন যদি সরকারী জায়গা লীজ দিয়ে থাকেন তাহলে সবাইকে দেয়া হলো না কেনো ? কেনো ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের এসব দোকানঘর ভেঙ্গে বেকার করে দেয়ার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত করা হলো ? এমন প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে তিনি বলেন বেকার হয়ে পড়া বাজারের ব্যবসায়ীদের মধ্যে প্রশাসনের রহস্যজনক ভুমিকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এব্যাপারে গোল্লাপাড়া বাজার বনিক সমিতির সহ-সভাপতি রাকিবুল হাসান পাপুল সরকার বিষ্ময় ও ক্ষোভ প্রকাশ বলেন, প্রশাসনের খামখেয়ালী পনার কারনে বাজারের দরিদ্র শ্রেনীর ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা বেকার হয়ে গেলো। তিনি বলেন, লীজ দেয়া হলে সবাইকে দেয়া উচিৎ ছিলো তা না করে প্রশাসন রহস্যজনক কারনে চিহিৃত জামায়াত ও বিএনপি নেতাদের দোকান ঘর
কি বিবেচনায় এককভাবে লীজ দেয়া হলো ? সেটা অবশ্যই তদন্তের দাবি রাখেন। তিনি এবিষয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সু-দৃষ্টি ও হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। এবিষয়ে একাধিকবার যোগাযোগের চেস্টা করা হলেও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুশান্ত কুমার মাহাতো মুঠোফোনে কল গ্রহণ না করায় তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক গণঅধিকার'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyganoadhikar@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

দৈনিক গণঅধিকার'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

এই বিভাগের জনপ্রিয়

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। দৈনিক গণঅধিকার | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT