ঢাকা, মঙ্গলবার ২৭ জুলাই ২০২১, ১২ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

পিআইডি এর নিয়ম অনুসারে আবেদিত

তদন্ত কমিটির রিপোর্টে থাকছে ১২ সুপারিশ

প্রকাশিত : 09:54 AM, 6 September 2020 Sunday

গণঅধিকার নিউজ ডেস্কঃ

অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোঃ রাশেদ খান হত্যা মামলার তদন্তে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গঠিত যৌথ তদন্ত কমিটি আগামীকালই রিপোর্ট জমা দিচ্ছে। রবিবার এ রিপোর্ট জমা দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু কমিটির চার সদস্য একযোগে ঢাকায় গিয়ে রিপোর্ট হস্তান্তরে নির্ধারিত শেষ দিনটিই বেছে নিয়েছেন। তারা আজ রবিবারের মধ্যে ঢাকায় গিয়ে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

শনিবার শেষ বিকেলে কক্সবাজার হিলডাউন সার্কিট হাউসে প্রেস ব্রিফিংয়ে কমিটি প্রধান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ৮০ পৃষ্ঠার এ প্রতিবেদন, সুপারিশমালায় কি থাকছে তিনি তা খোলাসা করেননি।

পুলিশের গুলিতে সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খানকে হত্যার ঘটনায় মাসাধিককাল ধরে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে তদন্ত করেছে এই যৌথ কমিটি। সোমবার তদন্ত রিপোর্ট জমা দেয়া হবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে। কমিটির চার সদস্যই এ সময় উপস্থিত থাকবেন বলে জানিয়েছেন তদন্ত কমিটির প্রধান চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার মিজানুর রহমান। তিনি জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা এড়াতে প্রতিবেদনে ১২টি সুপারিশ থাকছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও পুলিশের তরফ থেকে বিভিন্নভাবে সেবা পাচ্ছে জনসাধারণ। পক্ষান্তরে ওসি প্রদীপের কারণে টেকনাফের জনগণ সেবার পরিবর্তে পেয়েছে নিপীড়ন নির্যাতন। কারণে অকারণে মারা গেছেন অনেকে। বিশেষ করে ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে অনেকের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ আদায় করেছে। আবার অর্থ আদায়ের পর তাদের অনেককে হত্যাও করা হয়েছে। ওসি প্রদীপ ও তার সহযোগীদের ভয়ে অনেকেই বাড়িঘর ছেড়ে আত্মগোপনেও চলে গিয়েছিলেন। এদের অনেককে না পেয়ে তাদের বাড়িঘরও গুঁড়িয়ে দেয়া হয়েছে। সিনহাকে গুলি করে হত্যা মামলার আসামি হয়ে প্রদীপ দাশ জেলে গেলে ওইসব ভুক্তভোগীরা বিচার চেয়ে আইনের আশ্রয় নিচ্ছেন। প্রতিদিনই আদালতে জমা হচ্ছে প্রদীপের বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা। চাঁদাবাজি, হত্যা, মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো সবটাতেই একচ্ছত্র নায়ক প্রদীপ এবং তার প্রাইভেট বাহিনী। তবে প্রদীপের প্রাইভেট বাহিনীর কারও বিরুদ্ধে এ পর্যন্ত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। ধরা পড়ার ভয়ে তারা নিজেরা তদ্বির করে টেকনাফ থেকে অন্যত্র বদলি হতে মরিয়া হয়ে কাজ করছে। কেউ কেউ ইতোমধ্যে অন্যত্র বদলি হয়ে গেছে।

সিনহা হত্যা মামলার বাদী শরমিন শাহরিয়া ফেরদৌসের আইনজীবী মোহাম্মদ মুস্তফা বলেন, আগে যারা মুখ খুলেছিলেন, তাদের ধরে নিয়ে নির্যাতন করা হয়েছে। তাই সাক্ষীদের সুরক্ষা অবশ্যই দরকার। প্রদীপের বিরুদ্ধে আদালতের আশ্রয় নিতে আসা একজন বাদী জানিয়েছেন, আমাদের মধ্যে একটা ভীতি আছে, যারা প্রতিবাদ করছেন এখন, তাদের ওপর পরে প্রতিশোধ নেয়া হতে পারে। আদালতে দায়ের হওয়া সাতটি হত্যা মামলায় নিহতদের বিষয়ে সব ধরনের রেকর্ডপত্র চেয়েছেন কক্সবাজার জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত। এরপর বিচারকার্য শুরু হলে আমাদের স্বজন হারানোর যন্ত্রণা কিছুটা হলেও কমতে পারে।

উল্লেখ্য, গত ৩১ জুলাই রাতে টেকনাফের শামলাপুর তল্লাশি চৌকিতে পুলিশের গুলিতে নিহত হন সাবেক সেনা কর্মকর্তা সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান। তিনি মারিশবুনিয়ার একটি পাহাড়ে ভিডিওচিত্র ধারণ করে মেরিন ড্রাইভ দিয়ে কক্সবাজারের হিমছড়ির নীলিমা রিসোর্টে ফিরছিলেন। খুনের ঘটনায় গত ৫ আগস্ট কক্সবাজার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হত্যা মামলা করেন সিনহার বড় বোন শারমিন শাহরিয়ার ফেরদৌস। এতে ৯ জনকে আসামি করা হয়। মামলার আসামি ৭ পুলিশ সদস্য আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। পরে তাদের বরখাস্ত করা হয়। ১১ আগস্ট সিনহা হত্যার ঘটনায় পুলিশের করা মামলার তিন সাক্ষীকে গ্রেফতার করে মামলার তদন্ত সংস্থা র‌্যাব। এছাড়া হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে আরও তিন এপিবিএন সদস্যকে গ্রেফতার করে এলিট ফোর্সটি। সিনহা হত্যা মামলায় মোট আসামির সংখ্যা ১৩ জন। একই ঘটনায় টেকনাফ থানায় দুইটি ও রামু থানায় পুলিশের পক্ষ থেকে একটি মামলা করা হয়েছে। এই তিনটি মামলাসহ সিনহার বোনের দায়েরকৃত হত্যা মামলার তদন্ত করছে র‌্যাব। পুলিশের দায়েরকৃত মামলার সাক্ষী অপহরণের অভিযোগে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে টেকনাফ থানায় পরে আরও একটি মামলা হয়। সিনহা খুনের ঘটনায় চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে এ পর্যন্ত ৮টি মামলা হয়েছে।

প্রদীপ-লিয়াকতের ভিডিও বার্তা ॥ এদিকে সিনহা হত্যা মামলার অন্যতম প্রধান আসামি ওসি প্রদীপ কুমার দাশ ও ইন্সপেক্টর লিয়াকত আলীর একটি ভিডিও বার্তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। র‌্যাব হেফাজতে থেকে এই দুই আসামি তাদের কোন এক স্যারের উদ্দেশে বার্তাটি দিতে দেখা গেছে। কিন্তু তারা কিভাবে মোবাইল ফোন পেল তা আবার ফেসবুকে আপলোড করা হলো তা নিয়ে নানা জিজ্ঞাসার সৃষ্টি হয়েছে। ভিডিও বার্তায় ওসি প্রদীপ রিমান্ডে তাকে নির্যাতন করা হয়েছে বলে র‌্যাবের তিন কর্মকর্তার নামও উল্লেখ করেছেন। প্রদীপকে বলতে দেখা গেছে, ওরা খুব বেশি মাথা গরম করছে, আমাদের ইচ্ছেমতো পিটিয়েছে। তারা আমাদের কারেন্টের শক দিয়েছে। রাত-দিন হ্যান্ডকাফ পরিয়ে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে। প্রদীপ ওই বার্তায় তার অজ্ঞাতনামা স্যারকে বিষয়টি শক্তভাবে দেখার অনুরোধ জানিয়েছে। অনুরূপভাবে সিনহাকে গুলিবর্ষণকারী এসআই লিয়াকত আলী তার ভিডিও বার্তায় বলেন, আমাদের মারাত্মকভাবে আহত করেছে স্যার। এডিজি র‌্যাব বেশি অত্যাচার করাইছে স্যার। এ জাতীয় ভিডিও বার্তা কোন সংস্থার কোন স্যারের উদ্দেশে দিয়েছে তা অজ্ঞাত। এছাড়া আদালতে পুলিশ ভ্যানে আনা-নেয়ার সময় ভিডিও বার্তাটি আপলোড হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কিন্তু কিভাবে সম্ভব হলো বিষয়টি নিয়ে গোয়েন্দা সংস্থা তদন্তে নেমেছে। এ ব্যাপারে জেল সুপার মোকাম্মেল হোসেন জানিয়েছেন, জেলের বাইরে এ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। সুতরাং বিষয়টি তার আওতায় পড়ে না।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক গণঅধিকার'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyganoadhikar@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

দৈনিক গণঅধিকার'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। দৈনিক গণঅধিকার | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT