ঢাকা, শনিবার ০৫ ডিসেম্বর ২০২০, ২১শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

পিআইডি এর নিয়ম অনুসারে আবেদিত

ট্রান্সফ্যাট গ্রহণে মৃত্যুহার বাড়ছে

প্রকাশিত : 09:06 PM, 12 November 2020 Thursday

গণঅধিকার নিউজ ডেস্কঃ

শিল্পোৎপাদিত ট্রান্সফ্যাট গ্রহণে মৃত্যুহার বাড়ছে। বাংলাদেশে প্রতিবছর ২ লক্ষ ৭৭ হাজার মানুষ হৃদরোগে মারা যায়, যার মধ্যে ৪.৪১ শতাংশ মৃত্যুর জন্য দায়ী শিল্পোৎপাদিত ট্রান্সফ্যাট গ্রহণ। ট্রান্সফ্যাট এক নিরব ঘাতক, যা খাদ্যের মাধ্যমে মানবদেহে প্রবেশ করে। হৃদরোগসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যঝুঁকি বৃদ্ধি করে। আগামী ছয় মাসের মধ্যে ট্রান্সফ্যাট রেগুলেট করার নীতিমালার খসড়া করা হতে পারে।

জানা গেছে, শিল্পোৎপাদিত ট্রান্সফ্যাটের প্রধান উৎস হল পারশিয়ালি হাইড্রোজেনেটেড অয়েল বা পিএইচও, যা আমাদেও দেশে ডালডা বা বনস্পতি ঘি নামে সুপরিচিত। এই শিল্পোৎপাদিত ট্রান্সফ্যাট রক্তে এলডিএল কোলেস্টেরল (খারাপ কোলেস্টেরল) বৃদ্ধি করে এবং একই সাথে এইচডিএল কোলেস্টেরল (ভাল কোলেস্টেরল) কমিয়ে ফেলে। এর ফলে হার্টের ধমনীতে ব্লক তৈরির সম্ভাবনা বৃদ্ধি পেয়ে হৃদরোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়, এমন কি হার্ট এটাক হয়ে মৃত্যুও হতে পারে।

অনেকটা অজ্ঞাতসারেই দেশের বেশিরভাগ মানুষ ট্রান্সফ্যাট নামক বিষ গ্রহণ করছে। সম্প্রতি ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হসপিটাল অ্যান্ড রিসার্চ ইন্সটিটিউটের এক গবেষণায় গবেষকগণ ঢাকার শীর্ষস্থানীয় পিএইচও (পারশিয়ালি হাইড্রোজেনেটেড অয়েল) ব্র্যান্ডসমূহের নমুনার ৯২ শতাংশে ডব্লিউএইচও সুপারিশকৃত ২ শতাংশ মাত্রার চেয়ে বেশি ট্রান্সফ্যাট পেয়েছেন। প্রতি ১০০ গ্রাম পিএইচও নমুনায় সর্বোচ্চ ২০.৯ গ্রাম পর্যন্ত ট্রান্সফ্যাট এর উপস্থিতি পাওয়া গেছে, যা ডব্লিউএইচও’র সুপারিশকৃত মাত্রার তুলনায় ১০ গুণেরও বেশি। এই পিএইচও বা ডালডা সাধারণত ভাজা পোড়া, স্ন্যাক্স ও বেকারিপণ্য তৈরি এবং হোটেল রেস্তোরাঁ ও সড়ক সংলগ্ন দোকানে খাবার তৈরিতে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। এছাড়া একই তেল উচ্চ তাপমাত্রায় বারবার ব্যবহারের কারণেও খাদ্যে ট্রান্স ফ্যাট সৃষ্টি হয়।

সম্প্রতি বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) কর্তৃক প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয় বিশ্বে ট্রান্সফ্যাট গ্রহণের কারণে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই ঘটে ১৫টি দেশে, যারমধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। ট্রান্সফ্যাটের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত কোনো আইন বা নীতি প্রণয়ন হয়নি। তবে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ) ট্রান্সফ্যাট বিষয়ক একটি টেকনিক্যাল কমিটি গঠনের পর অতিসম্প্রতি সকল ফ্যাট, তেল এবং খাদ্যে ট্রান্সফ্যাটের সর্বোচ্চ সীমা মোট ফ্যাটের ২ শতাংশ নির্ধারণ করে নীতি প্রণয়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ) সদস্য ও টেকনিক্যাল কমিটির প্রধান মঞ্জুর মার্শেদ আহমেদ জানিয়েছেন, “সর্বোচ্চ ৬ মাসের মধ্যে বাংলাদেশে ট্রান্সফ্যাট রেগুলেট করার নীতিমালার খসড়া করতে পারব। রেগুলেশনের খসড়া চূড়ান্ত হলে সেই অনুযায়ী মান তৈরি করতে সক্ষম হবে বিএসটিআই। ট্রান্সফ্যাটমুক্ত নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে অবিলম্বে ডব্লিউএইচও’র পরামর্শ অনুযায়ী সবধরনের ফ্যাট, তেল এবং খাদ্যদ্রব্যে ট্রান্সফ্যাটের সর্বোচ্চ সীমা মোট ফ্যাটের ২ শতাংশ নির্ধারণ করে আইন প্রণয়ন এবং কার্যকর করার দাবি জানিয়েছে গবেষণা ও অ্যাডভোকেসি প্রতিষ্ঠান প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান)।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক গণঅধিকার'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyganoadhikar@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

দৈনিক গণঅধিকার'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০২০ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। দৈনিক গণঅধিকার | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT