ঢাকা, রবিবার ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১৬ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

পিআইডি এর নিয়ম অনুসারে আবেদিত

শিরোনাম
◈ কুষ্টিয়ায় জিন্না হক,র এর ৭ তম মৃত্যু বার্ষিকী স্বরণে আলোচনা সভা ও নাট্যানুষ্ঠান অনুষ্ঠিত ◈ এক যুগ আগের আর আজকের বাংলাদেশ এক নয় : প্রধানমন্ত্রী ◈ “জিয়াউর রহমান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতির জনক” ◈ ‘শুধু ডিগ্রি দেয়া নয়, শিল্পের উপযোগী জনশক্তি তৈরিতে মনোযোগ জরুরী’ ◈ এলডিসি থেকে উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় যেতে চূড়ান্ত সুপারিশ পেল বাংলাদেশ ◈ চট্টগ্রামে উন্নয়নে সমন্বয়ের অভাবে আছে : স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ◈ পরিবর্তন করা হচ্ছে তথ্য মন্ত্রণালয়ের নাম ◈ শাহবাগে সংঘর্ষ ॥ ৭ জনকে আসামি করে পুলিশের মামলা ◈ পরিবর্তন করা হচ্ছে তথ্য মন্ত্রণালয়ের নাম ◈ “আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে পরিসংখ্যানের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ”

জেলগেটে প্রদীপকে তদন্ত কমিটির জিজ্ঞাসাবাদ

প্রকাশিত : 09:40 AM, 3 September 2020 Thursday

গণঅধিকার নিউজ ডেস্কঃ

অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যা মামলার আরও তিনজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছে। এ তিনজন হচ্ছে সিনহা হত্যার পর পুলিশী মামলার সাক্ষী। পরে সিনহা হত্যা মামলায় এদের আসামি করে গ্রেফতার করা হয়। এদের নিয়ে সিনহা হত্যা মামলায় এ পর্যন্ত ৮ আসামি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিল। অপরদিকে, সিনহা হত্যাকে কেন্দ্র করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গঠিত তদন্ত কমিটি বুধবার জেলগেটে আসামি ওসি প্রদীপ কুমার দাশকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তার জবানবন্দী গ্রহণ করে। এদিকে ওসি প্রদীপের বিরুদ্ধে আরও দুটি হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে কক্সবাজার আদালতে।

অবশেষে প্রদীপকে তদন্ত কমিটির জিজ্ঞাসাবাদ ॥ সিনহা হত্যার পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে চার সদস্যের যে তদন্ত কমিটি করে দেয়া হয় সেই কমিটি অবশেষে হত্যা মামলার অন্যতম প্রধান আসামি টেকনাফের তৎকালীন ওসি প্রদীপ কুমার দাশকে বুধবার জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। আগেই তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালত অনুমতি দেয় তদন্ত কমিটিকে। কিন্তু টানা পনেরো দিনের রিমান্ডে থাকার কারণে তার বক্তব্য গ্রহণ বা তাকে জেরা করা তদন্ত কমিটির পক্ষে দীর্ঘ সময় পর্যন্ত সম্ভব হয়নি। গত মঙ্গলবার রিমান্ড শেষে প্রদীপকে কারাগারে পাঠানোর পর বুধবার কমিটি জেলগেটে তাকে জেরা করার সুযোগ হয়। ঘটনা নিয়ে প্রদীপ কমিটিকে দীর্ঘ বক্তব্য দিয়েছেন। কিন্তু এ বক্তব্যের সারমর্ম কমিটি এখনও প্রকাশ করেনি। কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা এ পর্যন্ত ১৬৭ জনের বক্তব্য নিয়েছেন। প্রদীপসহ এ সংখ্যা ১৬৮ হয়েছে। তদন্তে তারা নানা তথ্য-উপাত্ত পেয়েছে। আসামি, সাক্ষী, এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে উপস্থিত অনেকের বক্তব্য তারা নিয়েছেন। তারা ঘটনাস্থল, টেকনাফ থানা, নিহত সিনহার অপর তিন সহযোগীর বক্তব্য গ্রহণ করেছেন। জেলা পুলিশ সুপারসহ সুপারভাইজিং পুলিশ অফিসারদেরও বক্তব্য নিয়েছেন। তারা আশা করছেন সহসায় তদন্ত রিপোর্ট প্রদান করতে সক্ষম হবেন এবং এতে কিছু সুপারিশও থাকবে।

আরও ৩ জনের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী ॥ বুধবার কক্সবাজারের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তামান্না ফারাহর আদালতে মারিসবুনিয়া থেকে গ্রেফতারকৃত মোঃ নুরুল আমিন, মোঃ নিজাম উদ্দিন ও মোঃ আয়াছ পর্যায়ক্রমে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছেন। গত মঙ্গলবার এ তিনজনকে তিনদিনের রিমান্ডে নেয়া হয়। এ রিমান্ডের দ্বিতীয় দিনে তারা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিতে রাজি হওয়ায় সকাল ১০টা থেকে তাদেরকে ম্যাজিস্ট্রেট তামান্না ফারাহর খাস কামরায় পর্যায়ক্রমে তাদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী গ্রহণ করা হয়। উল্লেখ্য, সিনহা হত্যার পর এ তিনজনকে গ্রেফতার করা হয় গত ৯ আগস্ট। আদালত এদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাতদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করার পর গত ১৪ আগস্ট তাদের র‌্যাব হেফাজতে নেয়া হয়। ২০ আগস্ট তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আরও চারদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত। এ চারদিনের রিমান্ড শেষে মঙ্গলবার আরও তিনদিনের রিমান্ডে নেয়া হয়। টানা রিমান্ডে স্বীকারোক্তিমূলক জবানব›ীদ দিতে রাজি হচ্ছিল না এ তিনজন। ফলে সর্বশেষ আরও তিনদিন রিমান্ডে নেয়া হলে দ্বিতীয় দিনেই তারা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী প্রদান করে। এরপর এদের জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা র‌্যাবের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার খাইরুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, এ পর্যন্ত এ মামলার ৮ আসামি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছেন।

প্রদীপসহ ৫৩ জনের বিরুদ্ধে একদিনে দুই মামলা ॥ মুছা আকবর ও সাহাব উদ্দিন দুই ব্যক্তিকে ক্রসফায়ারে হত্যার অভিযোগে টেকনাফ থানার বরখাস্ত হওয়া ওসি প্রদীপ কুমার দাশসহ ৫৩ জনের বিরুদ্ধে একদিনে আরও দুটি মামলা দায়ের হয়েছে।

বুধবার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (টেকনাফ-৩) হেলাল উদ্দীনের আদালতে এই দুই মামলার আবেদন করা হয়। নিহত মুছা আকবরের স্ত্রী শাহেনা আকতার ও সাহাব উদ্দীনের বড় ভাই হাফেজ আহামদ বাদী হয়ে দুই মামলার আবেদন করেন। বাদী পক্ষের আইনজীবী রিদুয়ান আলী সাংবাদিকদের এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। আদালত মামলা দুটি আমলে নিয়েছে। এ ঘটনা সংক্রান্তে অন্য মামলা আছে কিনা তা আগামী পনেরো কার্য দিবসের মধ্যে আদালতকে জানানোর জন্য টেকনাফ থানার ওসিকে নির্দেশ দিয়েছেন। একটি মামলায় হোয়াইক্যং ফাঁড়ির ইনচার্জ ইন্সপেক্টর মশিউর রহমানকে প্রধান ও ওসি প্রদীপ কুমার দাশকে ২ নং এবং অন্যটিতে এসআই দীপক বিশ^াসকে প্রধান ও ওসি প্রদীপকে ৩ নম্বর আসামি করা হয়। নিহত মুছা আকবরের হত্যা নিয়ে এজাহারে বাদী উল্লেখ করেছেন, গত ২৭ ফেব্রুয়ারি পুলিশ হোয়াইক্যং খারাইঙ্গ্যাঘোনায় মুছার বড় ভাই আলী আকবরের বাড়ি পুড়িয়ে দেয় থানা পুলিশের একটি দল। এ ঘটনার পর কক্সবাজার প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে তাদের পরিবার। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ২৮ মার্চ রাতে আবু মুছাকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায় পুলিশ। পরে ক্রসফায়ার না দেয়ার কথা বলে মুছার পরিবারের কাছ থেকে ২০ লাখ টাকা দাবি করা হয়। কিন্তু মুছার পরিবার ৩ লাখ দিতে সামর্থ্য হয়। এরপরও ওইদিন ভোরে মুছা আকবরকে ক্রসফায়ারে হত্যা করা হয়। অন্যদিকে নিহত সাহাব উদ্দিনের হত্যা নিয়ে মামলার বাদী এজাহারে উল্লেখ করেছেন, ২০১৯ সালের ১৭ এপ্রিল টেকনাফে দিনে দুপুরে এসআই দীপক বিশ^াসের নেতৃত্বে একদল পুলিশ সাহাব উদ্দিনকে তার বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায়। পরে ক্রসফায়ার না দেয়ার কথা বলে পরিবারের কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা দাবি করা হয়। কিন্তু পরিবারের পক্ষ থেকে ৫০ হাজার টাকা দিতে সক্ষম হয়। অবশিষ্ট ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা না দেয়ায় ২০ এপ্রিল রাতে কাঞ্জরপাড়া ধান খেতে ক্রসফায়ারে সাহাব উদ্দিনকে হত্যা করা হয়।

উল্লেখ্য, গত ৩১ জুলাই রাতে টেকনাফের শামলাপুর তল্লাশি চৌকিতে পুলিশের গুলিতে নিহত হন সাবেক সেনা কর্মকর্তা সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান। তিনি মারিশবুনিয়ার একটি পাহাড়ে ভিডিওচিত্র ধারণ করে মেরিন ড্রাইভ দিয়ে কক্সবাজারের হিমছড়ির নীলিমা রিসোর্টে ফিরছিলেন। খুনের ঘটনায় গত ৫ আগস্ট কক্সবাজার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হত্যা মামলা করেন সিনহার বড় বোন শারমিন শাহরিয়ার ফেরদৌস। এতে ৯ পুলিশকে আসামি করা হয়। মামলার আসামি সাতজন আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। পরে তাদেরকে বরখাস্ত করা হয়। সিনহা হত্যার ঘটনায় পুলিশের করা মামলার তিন সাক্ষীকে ১১ আগস্ট গ্রেফতার করে মামলার তদন্ত সংস্থা র‌্যাব। এছাড়া হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগে আরও তিন এপিবিএন সদস্যকে গ্রেফতার করে এলিট ফোর্সটি। একই ঘটনায় টেকনাফ থানায় দুটি ও রামু থানায় পুলিশের পক্ষ থেকে একটি মামলা করা হয়। সাক্ষী অপহরণের অভিযোগে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে টেকনাফ থানায় পরে আরেকটি মামলা হয়। মামলায় মোট আসামির সংখ্যা ১৫ জন। দুজন এখনও পলাতক রয়েছে। সিনহা খুনের ঘটনায় এ পর্যন্ত পাঁচটি মামলা হয়েছে।

ওসি প্রদীপের বিরুদ্ধে আরও একটি মামলা ॥ টেকনাফ থানার বরখাস্ত ওসি প্রদীপ কুমার দাশের বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের আদালতে আরও একটি মামলা দায়ের হয়েছে। এ মামলায় আসামি করা হয়েছে আরও ৪ পুলিশ সদস্যকে। বুধবার চট্টগ্রামের চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কামরুন নাহার রুমীর আদালতে মামলাটি দায়ের করেন রিনাত সুলতানা শাহীন নামের এক নারী।

চন্দনাইশে দুই ভাইকে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি এবং গুলি করে হত্যার অভিযোগে মামলাটি দায়ের করা হয়। বাদীপক্ষের আইনজীবী জিয়া হাবিব আহসান জানান, মামলায় ওসি প্রদীপসহ ৫ পুলিশের বিরুদ্ধে দুই ভাইকে অপহরণ ও হত্যার অভিযোগ আনা হয়। আদালত অভিযোগ আমলে নিয়ে এ বিষয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আনোয়ারা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দিয়েছে।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক গণঅধিকার'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyganoadhikar@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

দৈনিক গণঅধিকার'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

এই বিভাগের জনপ্রিয়

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। দৈনিক গণঅধিকার | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT