ঢাকা, সোমবার ১২ এপ্রিল ২০২১, ২৯শে চৈত্র, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

পিআইডি এর নিয়ম অনুসারে আবেদিত

জাতির পিতার জীবনগাথা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে সমৃদ্ধ হচ্ছে প্রজন্ম

প্রকাশিত : 06:16 PM, 15 September 2020 Tuesday

গণঅধিকার নিউজ ডেস্কঃ

বিভাগীয় শহর রাজশাহী থেকে উত্তরে ৫০ কিলোমিটার পথ মাড়িয়ে এক সময়ের দুর্গম ও রক্তাক্ত উপজেলা বাগমারা। সবুজে ঘেরা আঁকাবাঁকা পথ মাড়িয়ে উপজেলা সদরে পা পড়তেই সবার আগে চোখে পড়বে শ্যামল পাড়াগাঁয়ে মাথা উঁচিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা বহুতল কাঁচ লাগানো ভবন।

অজপাড়াগাঁ চানপাড়া নামক গ্রামে সেই ভবনের সামনে এলেই সবার আগেই চোখে পড়বে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণের বিশাল ম্যুরাল। মনে হবে হাত উঁচিয়ে দরাজকণ্ঠে ভাষণ দিচ্ছেন বঙ্গবন্ধু। বলছেন, ‘এবারের সংগ্রাম… স্বাধীনতার সংগ্রাম’…। এখন এই ভবনকে ঘিরে উঠেছে বাগমারার সব কর্মকা-, জেগেছে প্রাণের সঞ্চার। গ্রামের ভেতর ৬ তলাবিশিষ্ট আধুনিকমানের নির্মিত ভবনটি ‘বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর কমপ্লেক্স’। এখানে এখন বঙ্গবন্ধুর জীবন সংগ্রামের নানা দুর্লভ চিত্র, মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে সমৃদ্ধ। এখান থেকে তরুণ প্রজন্ম খুঁজে নিচ্ছে মহান মুক্তিযুদ্ধের চিত্র আর জানতে পারছে আওয়ামী লীগ ও জাতির জনকের জীবন সংগ্রামের ইতিহাস।

মূলত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের গৌরবময় ইতিহাসসহ বিভিন্ন তথ্য সংরক্ষণ এবং নতুন প্রজন্মের কাছে স্বাধীনতার সঠিক ইতিহাস তুলে ধরার লক্ষ্য নিয়ে এখানে নির্মাণ করা হয়েছে দেশের প্রথম ডিজিটাল ‘বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর কমপ্লেক্স।’ নতুন প্রজন্মের কাছে মহান মুক্তিযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধু ও আওয়ামী লীগের সংগ্রামী ইতিহাস তুলে ধরার জন্য এ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

পাশাপাশি বাগমারা উপজেলার ইতিহাস-ঐতিহ্য ও সার্বিক উন্নয়ন এবং বিভিন্ন এলাকার তথ্য অল্প সময়ের মধ্যে দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে দেয়া যাবে কমপ্লেক্সটির কার্যক্রমের মাধ্যমে। আর এ জন্যই ছয়তলা বিশিষ্ট অত্যাধুনিক বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর কমপ্লেক্সটি তৈরি করা হয়েছে।

উপজেলার চানপাড়ায় এ কমপ্লেক্সের নির্মাণ কাজ ২০১৩ সালে শেষ হওয়ার পর থেকেই এখানে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন দর্শনার্থীর আগমন ঘটছে। বিশেষ করে তরুণ ও নতুন প্রজন্ম জানতে পারছে স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস। বিভিন্ন স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা ছুটে আসেন। পরিচিত হন জাতির জনকের সঙ্গে। জ্ঞানে সমৃদ্ধ হয়, মহান মুক্তিযুদ্ধ ও আওয়ামী লীগের গৌরবময় ইতিহাস।

এক সময় যে এলাকার মানুষ প্রাণের ভয়ে লুকিয়ে থাকত। প্রকাশ্যে খুনের ঘটনা ছিল নিত্যনৈমিত্তিক বিষয়। এখন এই ভবনকে ঘিরে এখন রক্তাক্ত জনপদে ফিরে এসেছে প্রাণের স্পন্দন। মানুষের কোলাহল সারাক্ষণ।

২০০৮ সালের ডিসেম্বরে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর স্থানীয় সংসদ সদস্য প্রকৌশলী এনামুল হক ভবনটি নির্মাণের উদ্যোগ নেন। উপজেলা সদরের ভবানীগঞ্জ তাহেরপুর সড়কের পাশে চানপাড়ায় ১৩ শতক জমি কিনে ছয়তলা বিশিষ্ট নিজস্ব ভবনের নির্মাণ কাজ শুরু হয়। ভবন নির্মাণের আগে ওই জমি জননেত্রী শেখ হাসিনার নামে রেজিস্ট্রি করে দেন। তার পরেই শুরু হয় নির্মাণ কাজ। সাংসদের সম্পূর্ণ নিজস্ব খরচে নির্মাণ করা হয়েছে ব্যয়বহুল ও অত্যাধুনিক এই কমপ্লেক্স।

সংশ্লিষ্টরা জানান, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতির প্রতি সম্মান রেখে আওয়ামী লীগের ডিজিটাল এই কার্যালয়টির নাম রাখা হয়েছে ‘বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর কমপ্লেক্স’। এজন্য বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ট্রাস্ট থেকে অনুমতিও নেয়া হয়েছে। এখানে রয়েছে বহুবিধ কার্যক্রমের ব্যবস্থা। ছয় তলা ভবনটির পঞ্চম তলায় রয়েছে স্থানীয় সংসদ সদস্যের কার্যালয়। একই সঙ্গে রয়েছে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক ও এর সহযোগী সংগঠনগুলোর সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের পৃথক পৃথক দফতর। ভবনের তিন তলায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের গৌরবময় ইতিহাসসহ বিভিন্ন তথ্য সংরক্ষণ এবং নতুন প্রজন্মের কাছে স্বাধীনতার সঠিক ইতিহাস তুলে ধরার জন্য গড়ে তোলা হয়েছে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর। সেখানে রয়েছে বঙ্গবন্ধু ও স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মৃতিময় ভাস্কর্য এবং দুর্লভসব ছবি। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও এলাকার সাধারণ মানুষের যাতায়াতের সুবিধার্থে এবং উভয়ের মধ্যে সেতুবন্ধন সৃষ্টি করতে কমপ্লেক্সটি বাগমারার ভবানীগঞ্জে নির্মিত হয়েছে।

এলাকার জনগণ তাদের সমস্যা যাতে সংসদ সদস্যকে কিংবা দলীয় প্রধানদের জানাতে পারেন সে জন্য এখানে একটি হেল্প ডেস্কেরও ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ভবনটির বিভিন্ন তলায় দ্রুত ওঠা-নামার জন্য রয়েছে লিফটের ব্যবস্থা। এখানে দিনে-রাতে পর্যায়ক্রমে ৩/৪ জন দায়িত্বে রয়েছেন। তারাই এর রক্ষণাবেক্ষণের কাজ করেন। এর ব্যয়ভারও বহন করেন সংসদ সদস্য নিজেই।

২০১৩ সালের ৫ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কমপ্লেক্সটির উদ্বোধন করেন। ভবনটি উদ্বোধনের পর এখানে থেকে প্রতি সপ্তাহের একটি তালিকা তৈরি করে তা স্থানীয় সংসদ সদস্যের কাছে প্রেরণ করা হয়। এখানে সরকারের বর্তমান ও ভবিষ্যত কর্মকা- এলাকাবাসীর সুবিধার জন্য বোর্ডে লিপিবদ্ধ থাকে। এমনকি এলাকার কি কি কাজ করা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে পর্যায়ক্রমে কি কি কাজ করা হবে তারও একটি তালিকা সাঁটানো থাকে। এতে করে উপজেলাবাসীর কাছে স্পষ্ট হয়- কোন্ উন্নয়নমূলক কাজটি এবার বাস্তবায়ন হচ্ছে, কোনটি আগামী বছর কিংবা তার পরে হবে; সেটাও জানতে পারবেন এলাকার লোকজন। তাছাড়া ভবনটির অন্যান্য তলায় রেস্টুরেন্টসহ যাবতীয় সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। বর্তমানে এই কমপ্লেক্সের বঙ্গবন্ধু জাদুঘর পরিদর্শন করে চলেছেন উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের হাজার হাজার শিক্ষক-শিক্ষার্থী। তারা জানতে পারছেন বঙ্গবন্ধুর জীবন সংগ্রামের নানা দুর্লভ চিত্র, মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস।

উপজেলাবাসীর বিভিন্ন সুবিধার জন্য ছয়তলা বিশিষ্ট অত্যাধুনিক বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর কমপ্লেক্সটি নির্মাণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় রাজশাহী-৪ (বাগমারা) আসনের সংসদ সদস্য প্রকৌশলী এনামুল হক। তিনি জানান, দেশে এটিই প্রথম উপজেলা পর্যায়ে আওয়ামী লীগের ডিজিটাল কমপ্লেক্স কার্যালয়। কমপ্লেক্সটির কার্যক্রম পরিদর্শন করে সন্তোষ প্রকাশ করে গেছেন দেশের বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ ছাড়াও দেশ বরেণ্যরা।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক গণঅধিকার'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyganoadhikar@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

দৈনিক গণঅধিকার'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। দৈনিক গণঅধিকার | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT