ঢাকা, বুধবার ২৭ জানুয়ারি ২০২১, ১৪ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

পিআইডি এর নিয়ম অনুসারে আবেদিত

জমি রেজিস্ট্রেশন ও নামজারির সমন্বিত উদ্যোগে স্বস্তি

প্রকাশিত : 01:18 PM, 11 November 2020 Wednesday

গণঅধিকার নিউজ ডেস্কঃ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে জমির দলিল ই-রেজিস্ট্রেশন ও ই-নামজারির যুগান্তকারী কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে ভূমি এবং আইন মন্ত্রণালয়। এর ফলে সব পর্যায়ে জমি ক্রয়, বিক্রয়, উত্তরাধিকারসংক্রান্ত জটিলতা অনেক কমে যাবে। প্রধানমন্ত্রীর এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন ব্যবসায়ী, এসি ল্যান্ড, সাবরেজিস্ট্রারসহ সব পর্যায়ের মানুষ। এ ছাড়া সরকারের এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্তের জন্য আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ও ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদকে ধন্যবাদ জানানো হয়েছে।

একটি পাইলট প্রকল্পের আওতায় প্রথম পর্যায়ে দেশের ১৭টি উপজেলায় সমন্বিতভাবে জমির দলিল ই-রেজিস্ট্রেশন ও ই-নামজারি শুরু হবে। এসব উপজেলায় এ কার্যক্রম সঠিকভাবে করা গেলে দেশজুড়ে এ সেবা চালু করবে সরকার। এর সঙ্গে ভূমিসংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য বিভিন্ন জেলায় গঠিত ‘ভূমি জরিপ ট্রাইব্যুনাল’কে আরো শক্তিশালী করতে সরকারের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন সেবাগ্রহীতারা।

গত সোমবার মন্ত্রিসভা বৈঠকে ভূমি মন্ত্রণালয়ের এসংক্রান্ত প্রস্তাবে সায় দিয়েছে মন্ত্রিসভা। ভূমি ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ দুটি ধাপ জমির দলিল রেজিস্ট্রেশন ও নামজারি। দলিল রেজিস্ট্রেশন হয় আইন মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা সাবরেজিষ্ট্রি অফিসে আর নামজারি হয় ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধীন উপজেলা ভূমি অফিসে। দুটি কাজ পৃথকভাবে হওয়ায় কোনো অফিস আগে থেকে জমিসংক্রান্ত প্রাথমিক তথ্য জানতে পারে না। গ্রাহকরা ভূমি অফিস, রেজিস্ট্রি অফিস ও স্থানীয়ভাবে খোঁজ নিয়ে জমি কেনেন। এসব ক্ষেত্রে ভুয়া কাগজপত্রের কারণে অনেক সময় মাসুল দিতে হয় অনেককে। নতুন সমন্বিত পদ্ধতিতে এ ঝামেলা থাকবে না। ই-রেজিস্ট্রেশন চালু হলে দলিল করার সময় সংশ্লিষ্ট জমির সব তথ্য সাবরেজিস্ট্রি অফিস জানতে পারবে। আর দলিল হয়ে গেলে সেটা দ্রুত এসি ল্যান্ড অফিস জানতে পারবে। এর ফলে একজনের জমি ধোঁকা দিয়ে অন্যজন রেজিস্ট্রেশন করতে পারবে না। অন্যদিকে নামজারির দীর্ঘসূত্রতাও ঘুচবে। নামজারি হয়ে গেলে এসি ল্যান্ড অফিস সেটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে আপডেট করে রাখবে।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের সচিব মাক্ছুদুর রহমান পাটওয়ারী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ই-রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম শুরু হলে জনগণের বিজয় হবে। বর্তমানে নামজারি করতে ২৮ থেকে ৪৫ দিনের কথা বলা হলেও অনেক ক্ষেত্রে সেটা হয় না। প্রস্তাবিত নতুন পদ্ধতি শুরু হলে সেটি আট দিনে সম্ভব। এতে সাধারণ মানুষ ভোগান্তি থেকে বাঁচবে, সময় এবং আর্থিক ব্যয়ও কমবে।’

রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (রিহ্যাব) সহসভাপতি ও বিওসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সোহেল রানা টিটু বলেন, ‘নতুন পদ্ধতিটি খুবই সময়োপযোগী। পরিকল্পনা অনুযায়ী কার্যক্রম চালু হলে দেশের মানুষ ভূমিসংক্রান্ত অনেক জটিলতা থেকে মুক্তি পাবে।’

ঢাকার সাভার উপজেলার এসি ল্যান্ড আব্দুল্লাহ আল মাহফুজ বলেন, ‘নতুন পদ্ধতি চালু হলে মানুষ সহজে জমিসংক্রান্ত সেবা পাবেন। যেকোনো জায়গা থেকে আবেদন করতে পারবেন। তাঁর আবেদনের অবস্থা কী তা জানতে পারবেন। বর্তমানে এসব বিষয় মনিটর করা কঠিন। নতুন পদ্ধতি চালু হলে সহজে বিষয়গুলো মনিটর করা যাবে।’

বাংলাদেশ রেজিস্ট্রেশন সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব জাহিদ হোসেন বলেন, ‘এটা যুগান্তকারী একটি উদ্যোগ। ডিজিটাল বাংলাদেশের পূর্ণাঙ্গ রূপ পেতে ই-রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সরকারের এমন একটি উদ্যোগ দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা ছিল।’

ভূমি জরিপ ট্রাইব্যুনাল ও বিচারক বাড়ানোর দাবি
জমিসংক্রান্ত জটিলতার আরেক দুর্গতির নাম ভূমি জরিপ ট্রাইব্যুনাল। ভূমি জরিপের ভুল সংশোধন করতে ভূমি মালিকদের যেতে হয় ভূমি জরিপ ট্রাইব্যুনালে। ভূমির মালিকানাসংক্রান্ত আবেদনগুলো যাচাই-বাছাই করে প্রকৃত মালিকদের মালিকানা নিশ্চিত করেন ট্রাইব্যুনাল। ভূমিসংক্রান্ত মামলার জট কমাতে জেলা পর্যায়ে ভূমি জরিপ ট্রাইব্যুনাল গঠনে আইন করা হয়। এ পর্যন্ত ৪২টি জেলায় এই ট্রাইব্যুনাল রয়েছে। বাকি ২২টি জেলায় ভূমি জরিপ ট্রাইব্যুনাল নেই। সংশ্লিষ্টদের দাবি, যত দ্রুত সম্ভব সব জেলায় ভূমি জরিপ ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হোক। আর যেসব এলাকায় ভূমিসংক্রান্ত কাজ বেশি সেসব এলাকায় একাধিক ট্রাইব্যুনাল ও বেশিসংখ্যক বিচারক নিয়োগ দিয়ে মামলার জট কমানোরও দাবি জানান তাঁরা।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হুমায়ুন কবির কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দেশজুড়ে ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনাল ও বিচারকের সংকট রয়েছে। সব জেলায় ট্রাইব্যুনাল নেই। ফলে মাঠপর্যায়ের একজন কৃষক থেকে শুরু করে উচ্চপর্যায়ের মানুষ চরম ভোগান্তিতে আছেন। এই ভোগান্তি দূর করতে দ্রুত অধিকসংখ্যক ট্রাইব্যুনাল গঠন করতে হবে এবং বিচারক নিয়োগ দিতে হবে। একই সঙ্গে হাইকোর্টের রায় বাস্তবায়ন করতে হবে।’

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক গণঅধিকার'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyganoadhikar@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

দৈনিক গণঅধিকার'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। দৈনিক গণঅধিকার | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT