ঢাকা, সোমবার ২৫ জানুয়ারি ২০২১, ১২ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

পিআইডি এর নিয়ম অনুসারে আবেদিত

জমি রেজিস্ট্রেশনের ৮ দিনের মধ্যে নামজারি

প্রকাশিত : 11:26 AM, 10 November 2020 Tuesday

গণঅধিকার নিউজ ডেস্কঃ

জমি রেজিস্ট্রেশন ও নামজারি কার্যক্রম সমন্বয় সাধনের প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। এতে সফটওয়্যার ব্যবহার করে স্বচ্ছতার সঙ্গে জমির রেজিস্ট্রেশন করার পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে নামজারি ও রেকর্ড সংশোধন হবে। জমি রেজিস্ট্রেশন শেষ হওয়ার মাত্র আট দিনের মধ্যে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নামজারি হয়ে যাবে এবং এসিল্যান্ডকে (সহকারী কমিশনার-ভূমি) বাধ্যতামূলকভাবে সেই জমির রেকর্ড সংশোধন করতে হবে। এছাড়া করোনাভাইরাস মহামারীর মধ্যে আগামী ১৪ নবেম্বরের পর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সীমিত পরিসরে খোলা হবে, নাকি ছুটি আরও বাড়বে- আগামী দুই এক দিনের মধ্যে সে সিদ্ধান্ত জানা যাবে। সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে ভার্চুয়াল মন্ত্রিসভা বৈঠকে ভূমি মন্ত্রণালয়ের আনা এ অনুমোদন দেয়া হয়। গণভবন প্রান্ত থেকে প্রধানমন্ত্রী এবং সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে মন্ত্রীরা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বৈঠকে যোগ দেন। বৈঠক শেষে সচিবালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম এ অনুমোদনের কথা জানান। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, এটি একটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত। দেশের মানুষ, সর্বসাধারণ, বিনিয়োগকারীদের খুব সহায়ক হবে। নতুন একটা অধ্যায় সৃষ্টি হবে এবং ধারণা যে মামলা-মোকাদ্দমা অনেক কমে যাবে। তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে অনেক দিন থেকে কার্যক্রম চলছিল। প্রধানমন্ত্রী আমাদের নির্দেশনা দিচ্ছিলেন জমির রেজিস্ট্রেশন ও নামজারি কীভাবে আরও সহজে করা যায়, মানুষের হয়রানি না হয়, সময় যাতে কম লাগে। এই কার্যক্রম বাস্তবায়ন হলে রেজিস্ট্রেশন স্বচ্ছ হবে, নামজারি ও রেকর্ড সংশোধন অটোমেটিক হবে। এছাড়া উত্তরাধিকার সূত্রে জমির মালিকানার বিষয়টিও এই সফটওয়্যারে অন্তর্ভুক্ত করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, তৃতীয় লিঙ্গের (ট্রান্সজেন্ডার) মানুষও যেন জমির মালিকানা থেকে বঞ্চিত না হন তা নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন।

ভূমি রেজিস্ট্রেশন অফিস সাব-রেজিস্ট্রার অফিস আইন মন্ত্রণালয়ের অধীন। আর ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধীন উপজেলা অফিস বা সার্কেল ভূমি অফিস জমির নামজারির কাজ করে জানিয়ে আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, দুটি ভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে করা হয় বলে সমন্বয় করা কষ্টসাধ্য ছিল, এ জন্য দীর্ঘসূত্রতা ছিল। রেজিস্ট্রেশনে কিছুটা অস্পষ্টতা ছিল, যেমন কোন জমি যে কেউ গিয়ে রেজিস্ট্রেশন করতে পারত। আবার নামজারির ক্ষেত্রে ঝামেলা হতো, দলিল পাওয়া যেত না, ‘এলটি’(সম্পত্তি হস্তান্তর) নোটিস বোঝা যেত না, এ কারণে দীর্ঘদিন এগুলো পড়ে থাকত।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, এখন থেকে সাব- রেজিস্ট্রার অফিস এবং এসিল্যান্ড অফিসের মধ্যে ‘ইন্টার-অপারেটবল সফটওয়্যার’ থাকবে। বাংলাদেশের সব এসিল্যান্ড অফিসের চার কোটি ৩০ লাখ ‘রেকর্ডস অব রাইটস’ অনলাইনে চলে এসেছে। এখন থেকে সাব- রেজিস্ট্রার অফিস এবং এসিল্যান্ড অফিসের একজন আরেকজনের ডাটাবেজে ঢুকতে পারবে। যখন কেউ জমি রেজিস্ট্রেশনের জন্য যাবে, সাব-রেজিস্ট্রার আগের মতো সঙ্গে সঙ্গে রেজিস্ট্রি করে দেবে না, অনলাইনে এসিল্যান্ডের অফিস থেকে রেকর্ডের অবস্থা জানবেন। সফটওয়্যারের মাধ্যমে সেই তথ্য জানানো হবে। তখন এসিল্যান্ডও জানবেন এই তথ্য পরীক্ষা করা হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘এলটি’ (সম্পত্তি হস্তান্তর) নোটিস এমনভাবে লেখা ছিল যে অনেক সময় বোঝা যেত না। এখন ছোট ফরম করে দেয়া হয়েছে। সেটা পূরণ করলে সঙ্গে সঙ্গে এসিল্যান্ডের কাছে চলে যাবে। জমি নামজারি করতে গেলে দলিল লাগে।’ এতদিন বিধি যেটা ছিল দুটি দলিল করা হতো, যিনি দলিল করতে যান তিনি একটা পান, আরেকটা থাকে সাব-রেজিস্ট্রারের কাছে। মন্ত্রিসভা সিদ্ধান্ত দিয়েছে এখন থেকে তিনটি দলিল করতে হবে। একটা সাব-রেজিস্ট্রার, একটা ক্রেতা এবং আরেকটি এলটি নোটিসের পাশাপাশি এসিল্যান্ডের কাছে চলে যাবে। যেহেতু এসিল্যান্ড দলিল ও ‘এলটি’ নোটিস অনলাইনে পেয়ে যাচ্ছেন, এই জমি তার কাছ থেকেই যাচাই করে রেজিস্ট্রেশন করা হয়েছে সুতরাং এসিল্যান্ডের আর কিছুই লাগবে না। ওই সফটওয়্যার ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের মাধ্যমে সে নামজারির সম্পন্ন করে ফেলবে। সর্বোচ্চ আট দিনের মধ্যে এসিল্যান্ড নামজারি করে দেবেন।

দেশের সব জমির রেজিস্ট্রেশন আর্কাইভ করার জন্য সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে দুই হাজার কোটি টাকার একটি প্রকল্প নেয়া হচ্ছে বলেও জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব। তিনি বলেন, ১৭টি উপজেলায় পরীক্ষামূলকভাবে এই কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আমরা দেখেছি এটা খুব ভালভাবে কাজ করছে। এক বছরের কম সময়ের মধ্যে পুরো দেশে এই কার্যক্রম শুরু করা হবে।

নামজারির জন্য আলাদা কোন আবেদন করতে হবে না। আট দিনের মধ্যে নামজারি হয়ে যাবে। এসবের ম্যানুয়াল কপিও দেয়া হবে। দেখা যায় জমির রেজিস্ট্রেশন করলেও অনেকে নামজারি করেন না।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, সাব-রেজিস্ট্রার অফিস থেকে হাতে লেখা যেসব তথ্য সেগুলো খুব পরিষ্কার ছিল না। সাব-রেজিস্ট্রার নিজেও ‘রেকর্ড অব রাইটস’ নিয়ে থাকতেন না। আপনি যে কোন দলিল নিয়ে রেজিস্ট্রেশন করতে চাইলেই করে দিতেন কিন্তু এখন আর সে পারবে না। ‘রেকর্ডস অব রাইটস’ দেখে তারপর তফসিলটা সফটওয়্যারে দিতে হবে। আগে তদন্তের কোন সিস্টেম না থাকায় যে কোন জমি রেজিস্ট্রেশন করে দিতে পারত।

অনেকে রেজিস্ট্রেশন করে নামজারি করলেও রেকর্ড সংশোধন করেন না। এখন এসিল্যান্ডের দায়িত্ব থাকবে মাসিক প্রতিবেদন দেবে এসিডি রেভিনিউ এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে কতটি নামজারি হলো এবং কতটি রেকর্ড সংশোধন হলো। রেকর্ড সংশোধন করাটা এসিল্যান্ডের দায়িত্ব হলেও অনেক ক্ষেত্রে তারা করতেন না। এখন লালকালি দিয়ে এসিল্যান্ডকে রেকর্ড সংশোধন করতে হবে। আগে দলিল পেত না বলে অনেক সময় নামজারি করতো না। এখন আর সেটা হবে না।

এতদিন নামজারি করলেও ৫০-৬০ শতাংশই রেকর্ড সংশোধন করতেন না জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘উত্তরাধিকার সূত্রে জমির কে কতটুকু অংশ পাবে সেটাও এই সফটওয়্যারে অন্তর্ভুক্ত করে দেয়া হয়েছে। তৃতীয় লিঙ্গের মানুষও যাতে বাবা-মায়ের জমি থেকে বঞ্চিত না হন সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন। নির্দিষ্ট সময় পরপর তহশিলদারদের রিপোর্ট দিতে হবে তার এলাকায় কোন লোক মারা গেছেন। টাকা ছাড়া সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে কোন কাজ হয় না বলে প্রচলিত আছে- এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, এখন সেই সুযোগ নেই। রেকর্ড সংশোধনের ক্ষেত্রে দুর্নীতি করার আর কোন সুযোগ থাকছে না। এতে দুর্নীতি কমে আসবে। ৭৫ শতাংশ দুর্নীতি কমে যাবে।

তিনি আরও বলেন, আমাদের হিসাব হলো জমিকে কেন্দ্র করেই ৭৫ শতাংশ মামলা হয়। এটা হলে ৫০ শতাংশ মামলা কমে যাবে। মানুষের জীবনযাত্রাও অনেকটা সহজ হয়ে যাবে, জমিজমা নিয়ে যে একটা টেনশন তা আর থাকবে না।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিয়ে সিদ্ধান্ত আসছে ॥ করোনাভাইরাস মহামারীর মধ্যে আগামী ১৪ নবেম্বরের পর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সীমিত পরিসরে খোলা হবে, নাকি ছুটি আরও বাড়বে- সেই সিদ্ধান্ত আগামী ‘দুয়েক দিনের মধ্যে’ জানা যাবে। আগামী ১৪ নবেম্বরের পর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলবে কি না, সেই প্রশ্নে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘এটা শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানাবে আপনাদেরকে।’ বাংলাদেশে করোনাভাইসের প্রকোপ বাড়তে শুরু করলে গত ১৭ মার্চ থেকে দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়া হয়। কওমি মাদ্রাসা বাদে অন্যসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আগামী ১৪ নবেম্বর পর্যন্ত ছুটি ঘোষণা করা আছে।

মহামারীর মধ্যে এবার পঞ্চম ও অষ্টমের সমাপনী পরীক্ষা এবং মাধ্যমিক স্তরের বার্ষিক পরীক্ষা নেবে না সরকার। আর অষ্টমের সমাপনী এবং এসএসসি ও সমমানের ফলের ভিত্তিতে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল ঘোষণা করা হবে।

আগামী বছর যারা এসএসসি এবং এইচএসসি পরীক্ষায় বসবে, তাদের কথা মাথায় রেখে ১৪ নবেম্বরের পর সীমিত পরিসরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়া হতে পারে বলে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি আগেই আভাস দিয়েছেন। তবে তার আগে কোভিড-১৯ পরিস্থিতিকে বিবেচনায় নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার মতো পরিবেশে সৃষ্টি হয়েছে কি না, এমন প্রশ্নে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘দেখেন, উনারা (শিক্ষা মন্ত্রণালয়) কাল-পরশুই জানাবেন।’

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক গণঅধিকার'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyganoadhikar@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

দৈনিক গণঅধিকার'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। দৈনিক গণঅধিকার | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT