ঢাকা, বুধবার ১৪ এপ্রিল ২০২১, ১লা বৈশাখ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

পিআইডি এর নিয়ম অনুসারে আবেদিত

জনশুমারি ও গৃহগণনা প্রকল্প সতেরো খাতে সাশ্রয় ৮৫০ কোটি টাকা

প্রকাশিত : 12:38 PM, 2 April 2021 Friday

গণঅধিকার নিউজ ডেস্কঃ

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) জনশুমারি ও গৃহগণনা (সাবেক আদমশুমারি) প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সতেরো খাতে ব্যয় কমানো হচ্ছে। এতে সরকারের সাশ্রয় হচ্ছে প্রায় ৮৫০ কোটি টাকা। অন্যদিকে ভ্রমণ ও প্রচারের চার খাতে ব্যয় বাড়ছে ২৫ কোটি টাকা। একই সঙ্গে প্রকল্পের হিসাব ডিজিটাল পদ্ধতিতে রাখার সুবিধার্থে শুধু কোড পরিবর্তনজনিত কারণে ব্যয় বাড়ছে এক কোটি ৮৪ লাখ টাকা।

৩ মার্চ অনুষ্ঠিত প্রকল্পটির স্টিয়ারিং কমিটির ষষ্ঠ সভায় এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের। সূত্র জানায়, প্রতি ১০ বছর পরপর এ প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের প্রতিটি মানুষকে গণনার আওতায় আনা হয়। একইসঙ্গে গণনা করা হয় গৃহ সামগ্রী।

স্টিয়ারিং কমিটির সভার কার্যবিবরণী থেকে পাওয়া তথ্যে দেখা যায়, প্রকল্পের ২১ খাতের মধ্যে ১৭টির ব্যয় কমানো হয়েছে। বাকি তিনটি খাতে ব্যয় বৃদ্ধি পাবে এবং একটি খাতে ব্যয় অপরিবর্তিত থাকবে।

এ প্রসঙ্গে বিবিএসের মহাপরিচালক মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বুধবার যুগান্তরকে বলেন, করোনা মহামারির কারণেও বর্তমানে অনেক প্রকল্প থেকে ব্যয় কমানো হচ্ছে। এক্ষেত্রেও সেটিই হতে পারে। এছাড়া ডিজিটাল পদ্ধতিতে শুমারিটি করা হবে বলে কাগজ-কলমসহ সংশ্লিষ্ট অনেক ব্যয়ই কমে যাবে। এসব কারণে সার্বিকভাবে ব্যয় কমছে।

তিনি আরও বলেন, যে সময় প্রকল্প নেয়া হয় তখন এসব ব্যয় যাচাই-যাছাই করেই নেয়া হয়েছিল। করোনার কারণে এখন ব্যয় কমছে। তবে সমস্যা হবে প্রকল্পে রিপোর্ট লেখা নিয়ে। কারণ পরামর্শক ব্যয় অনেক কমিয়ে দেয়া হয়েছে। শুমারির রিপোর্ট লেখার দক্ষতা পরিসংখ্যান ব্যুরোর কর্তকর্তাদের এখনও সেভাবে হয়নি। তাই যে কোনো শুমারির রিপোর্ট লেখার জন্য প্রচুর পরামর্শকের প্রয়োজন হয়। কিন্তু প্রকল্প থেকে পরামর্শক ব্যয় প্রায় বাদ দেয়া হয়েছে। এখন কিভাবে প্রকল্পের রিপোর্ট লেখা হবে- তা নিয়ে সংশয় থেকে যাচ্ছে।

সূত্র জানায়, ‘জনশুমারি ও গৃহগণনা-২০২১’ শীর্ষক প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠক অনুমোদন পায় ২০১৯ সালের ২৯ অক্টোবর। এটির মোট ব্যয় ধরা হয় ১ হাজার ৭৬১ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিলের ১ হাজার ৫৭৮ কোটি ৬৮ লাখ টাকা এবং বৈদেশিক সহায়তা থেকে ১৮৩ কোটি ১১ লাখ টাকা। প্রকল্পটির শুরু থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে ১০৯ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। প্রকল্পের আর্থিক অগ্রগতি ৬ দশমিক ২২ শতাংশ আর বাস্তবায়নের অগ্রগতি ২২ শতাংশ। স্টিয়ারিং কমিটির সিদ্ধান্তের আলোকে প্রকল্পটি সংশোধন করার প্রস্তাব করা হবে বলে জানা গেছে। সভার কার্যবিবরণী অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি ব্যয় কমেছে বিভিন্ন জরিপ খাতে। এতে ব্যয় কমেছে ৫৮০ কোটি ৭৫ লাখ ৬৩ হাজার টাকা। একই সঙ্গে পরামর্শক খাতের ব্যয় কমেছে পাঁচ কোটি ৬২ লাখ ৮০ হাজার টাকা। মূল ডিপিপিতে (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব) কর্মকর্তাদের মূল বেতন-ভাতা ছিল ১ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। সংশোধিত ডিপিপিতে প্রস্তাব করা হয়েছে শুধু প্রকল্প পরিচালকের ৩৬ মাসের ভাতা হিসাবে ৩৫ লাখ ৪৮ হাজার টাকা। এক্ষেত্রে কমেছে ১ কোটি ৬০ লাখ টাকা। ওভার টাইম বাবদ কমেছে ৬১ লাখ ৮৫ হাজার টাকা। কর্মচারীদের সম্মানী বাবদ কমেছে এক কোটি ৪৩ লাখ টাকা।

এছাড়া আপ্যায়ন ব্যয় ৪৪ কোটি ৯৬ লাখ টাকা, হায়ারিং চার্জ ৮ কোটি ৮৬ লাখ টাকা, অনিয়মিত শ্রমিক খাতে ২৪ লাখ টাকা, কুরিয়ার খরচ ৬০ লাখ টাকা, টেলেক্স/ফ্যাক্স/ইন্টারনেট খাতে দুই কোটি ৭১ লাখ টাকা, যাতায়াত ব্যয় ২৫ লাখ টাকা, পরিবহণ ব্যয় সাড়ে ৯৭ লাখ টাকা, ব্যাংক চার্জ ৪ কোটি ৪ লাখ টাকা, দেশীয় প্রশিক্ষণ খাতে ৬১ কোটি ১০ লাখ টাকা, মুদ্রণ ও বাঁধাই ১১৫ কোটি ১৭ লাখ ৫৩ হাজার টাকা, অন্যান্য স্টেশনারি খাতে ১২ কোটি ৯৮ লাখ ১৩ হাজার টাকা এবং ব্যবহার্য দ্রব্যাদি খাতে ২৫ লাখ টাকা কমেছে।

এ প্রসঙ্গে প্রকল্পটির সাবেক পরিচালক (পিডি) জাহিদুল হক সরদার যুগান্তরকে বলেন, যখন এসব খাতে ব্যয় ধরা হয়েছিল তখন এগুলো যৌক্তিকই ছিল। কেননা সে সময় ব্যয় যাচাই-বাছাইয়ের পর ব্যয় ধরা হয়। তখন ব্যয় কাঠামো উচ্চপর্যায় পর্যন্ত অনুমোদিত হয়েছিল। এখন কেন কমছে তা তারাই বলতে পারবেন। কার্যবিবরণী অনুযায়ী, চার খাতে ব্যয় বাড়ছে। এর মধ্যে ভ্রমণ খাতে ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে ১৭ কোটি ৭৮ লাখ টাকা। এছাড়া প্রচার ও বিজ্ঞাপন খাতে ৩ কোটি ২৪ লাখ টাকা, অডিও-ভিডিও ও ফিল্ম প্রস্তুত খাতে ২ কোটি ৩৫ লাখ টাকা এবং সম্মানী খাতে কোড পরিবর্তনের জন্য বেড়েছে ১ কোটি ৮৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক গণঅধিকার'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyganoadhikar@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

দৈনিক গণঅধিকার'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। দৈনিক গণঅধিকার | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT