ঢাকা, মঙ্গলবার ২২ জুন ২০২১, ৮ই আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

পিআইডি এর নিয়ম অনুসারে আবেদিত

ছন্দ ফিরেছে জীবনে ॥ করোনার ভয়কে জয়

প্রকাশিত : 07:10 PM, 15 September 2020 Tuesday

গণঅধিকার নিউজ ডেস্কঃ

২৬ মার্চ থেকে ৩০ মে ৬৬ দিনের দীর্ঘ সময় ঘরবন্দী হয়ে কাটিয়েছে দেশবাসী। করোনার ভয়ে ঘরবন্দী জীবনে ব্যাকুলতা ছিল প্রাণের উচ্ছ্বাসে ফেরার। আর কর্মজীবী মানুষের তাড়া ছিল জীবন যুদ্ধ এগিয়ে নেয়ার। ৬৬ দিন পর থেকে একটু একটু করে স্বাভাবিক হতে থাকে জীবনযাত্রা। প্রায় ৬ মাসের মাথায় বলতে গেলে পুরোটাই স্বাভাবিক হয়েছে জীবনযাত্রা। হাট-বাজার, শপিংমল, অফিসপাড়া, মসজিদ সর্বত্রই পুরনো ধারার গতিতে ফিরেছে। বেড়েছে মানুষ, বেড়েছে কাজের চাপ। কর্মচাঞ্চল্য আর মানুষের উচ্ছ্বাসে মুখর শহরের অলি-গলি। করোনা ধকল চললেও শহর ফিরেছে আগের গতিতে। বাঙালীর গতিময় জীবনে করোনা যেন ইতিহাসের খাতায় চলে যাচ্ছে। যদিও করোনার ভ্যাকসিন মেলেনি এখনও। করোনার মধ্যেই দৃশ্যমান এখন প্রতিদিনের জীবনযুদ্ধ।

দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে সরকার ২৬ মার্চ থেকে সারাদেশে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে। সেই ছুটির মেয়াদ দফায় দফায় বাড়িয়ে ৩০ মে পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া হয়। ৩১ মে থেকে সীমিত পরিসরে সবকিছু খুলে দেয়া হয়। সর্বশেষ ৩১ আগস্ট মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা আদেশেও কিছুটা শিথিলতা এসেছে।

জানা গেছে, মানুষের জীবন ও জীবিকার দিকে খেয়াল রেখেই ক্রমান্নয়ে সবকিছু খোলার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে সরকারের পক্ষ থেকে। কর্মহীন মানুষ কাজের সন্ধান করছে, নিম্ন আয়ের মানুষ কর্মের মাধ্যমে পরিবারে অর্থের সংস্থান করছে। মার্চ থেকে শুরু হয়ে সেপ্টেম্বরে এসে পুরোটাই স্বাভাবিক। মানুষের গতিবিধি কার্যক্রম দেখে বোঝার উপায় নেই করোনার আতঙ্ক আছে না নেই। মানুষের মুখে মুখে মাস্ক থাকলেও সচেতনতা খুব একটা নেই। শহরের প্রায় প্রত্যেকের মুখে মাস্ক দেখা গেলেও সঠিক জায়গায় মাস্ক নেই। বেশিরভাগ মানুষ মাস্ক মুখের নিচে থুতনিতে রাখতেই পছন্দ করেন। তবে অফিসপাড়ার মানুষগুলো নিয়মিত মাস্ক পরে অফিস করেন। এক সময় টেলিভিশনে বিশেষ করে করোনার বুলেটিন নিয়ে আগ্রহ এখন আর নেই বললেই চলে। যদিও প্রতিদিন বুলেটিনে করোনা রোগী ও মৃতের সংখ্যা বলা হচ্ছে। গত কয়েক মাসে অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের মানুষ অনেকেই কাজ হারিয়ে নতুন কাজের সন্ধানে নেমেছেন। কেউ আবার দীর্ঘদিন পর অফিস করছেন নতুন অভিজ্ঞতার আলোকে। বর্তমানে গুরুত্বপূর্ণ কিছু মিটিং অনলাইনে অনুষ্ঠিত হলেও রাজনৈতিক সভা সেমিনার বা মানববন্ধন শহরের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দৃশ্যমান। প্রতিদিনই সভা সেমিনারের জন্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের হলরুম ভাড়া হচ্ছে। তবে কেবিনেট সভা, একনেক সভাসহ প্রধানমন্ত্রীর সভাগুলো এখনও অনলাইনে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অনুষ্ঠানগুলো অনলাইনে হচ্ছে। এর বাইরেও কিছু কিছু অনুষ্ঠান হচ্ছে সেখানে স্বাস্থ্যবিধি কখনও মেনে বা না মেনে লোকজন জড়ো হচ্ছেন। রাজধানীর বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, করোনার ভয় নেই। তবে অনেকের মধ্যে কিছুটা সচেতনতা এখনও আছে। দীর্ঘ বন্দী জীবন শেষে শহর আগের চেহারায় ফিরছে এতেই অনেকে খুশি।

যানজট-ভোগান্তি পুরনো চেহারায় রাজধানী ॥ করোনাভাইরাস সংক্রমণ না কমলেও ক্রমেই মানুষের জীবনযাত্রা স্বাভাবিক হচ্ছে। রাজধানী ঢাকায় মানুষের ভিড়ে শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখতে পারছেন না কেউ। অফিস-আদালত সবকিছু আগের মতো হওয়ায় ঢাকায় মানুষ ও যানজটের চাপ বেড়েছে। দিনের অধিকাংশ সময় বিভিন্ন সড়কে তীব্র যানজট লেগে থাকছে। বেড়েছে মানুষের ভোগান্তিও। মানুষের ভিড় ও যানজট বাড়ায় সেই চিরচেনা ঢাকা তার স্বরূপ ফিরে পাচ্ছে।

করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে গত ২৬ মার্চ দেশে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে যান চলাচল বন্ধ করে দেয় সরকার। তখন এক ভুতুড়ে নগরীতে পরিণত হয় ঢাকা। সড়কের কোথাও মানুষের আনাগোনা দেখা যেত না। দুই মাস পর গত ১ জুন থেকে অফিস আদালত সীমিত পরিসরে খুলে দেয়ার পাশাপাশি ভাড়া বাড়িয়ে গণপরিবহন চালু করা হয়। এরপর গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে গণপরিবহনে ৫০ শতাংশ আসনে যাত্রী নেয়ার বাধ্যবাধকতা তুলে দিয়ে আগের মতো যাত্রী নেয়ার অনুমতি দেয় সরকার। ফলে মানুষের যাতায়াত বেড়েছে।

ঈদ-উল-আজহার পর ৬ আগস্ট আগের মতো সকাল ৯টা থেকে ৫টা পর্যন্ত অফিস সময় নির্ধারণ করে সরকার। এরপর অনেক বেসরকারী প্রতিষ্ঠানও কর্মীদের বাসা থেকে কাজের পরিবর্তে অফিস করার নির্দেশনা দেয়। আর তখন থেকেই রাজধানী ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করে। রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক ঘুরে দেখা যায়, সড়কে লেগে আছে যানজট। থেমে থেমে চলে গাড়ি। প্রতিনিয়ত রাজধানীর বাইরে থেকেও মানুষ ফিরছে এই নগরে।

ফুটপাথ থেকে শপিংমল সরগরম ॥ মানুষের ভিড় আর কেনাকাটায় সরগরম ফুটপাথ থেকে বিভিন্ন মার্কেট, শপিংমল। যদিও করোনা শুরুর পর থেকে শপিংমল বিপণিবিতানগুলো বন্ধ ছিল। বিপণিবিতান আর দোকান-পাট খোলার অনুমতি দেয়া হয়েছিল রোজার মধ্যেই। ঈদের আগে নির্দিষ্ট সময়ে খোলা রাখা হয়েছিল। গত ৩ থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত হাটবাজার, দোকানপাট ও শপিংমল খোলা রাখার সময় রাত ৮টা পর্যন্ত করা হয়।

সরকার গত ১ জুলাই থেকে ৩ আগস্ট পর্যন্ত সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত দোকানপাট ও শপিংমল খোলা রাখার অনুমতি দিয়েছিল। তার আগে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত দোকানপাট খোলা রাখা যেত। ৩১ আগস্টের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নতুন আদেশে হাটবাজার ও দোকান খোলা রাখার সময় নিয়ে কিছু বলা হয়নি। তবে বেশিরভাগ মার্কেট বিপণিবিতানগুলো ৮টার মধ্যে বন্ধ হয় বলে জানা গেছে। তবে সকাল থেকে অনেক রাত ৮টার পরেও ফুটপাথের কেনাকাটা চলে। অনেক ব্যবসায়ী দোকানে বিক্রি বাড়ায় বেশ খুশিও।

আকাশ পথেও শিথিলতা এসেছে, বেড়েছে চাপ ॥ করোনায় বন্ধ ছিল আকাশ পথও। এখন আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ রুটে পুরোদমে শুরু হয়েছে ফ্লাইট চলাচল। প্রায় সারাদিনই উড়োজাহাজের ওঠা-নামায় ব্যস্ত ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। এছাড়াও ১২ সেপ্টেম্বর থেকে বিমানের সিটে যাত্রী বসায় কোন বিধিনিষেধ থাকছে না ফলে পাশাপাশি সিটগুলোতে যাত্রীরা বসতে পারবেন। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মফিদুর রহমান বলেন, আগে এক সিটে যাত্রী বসলে পাশের সিট খালি রাখা হতো। এ নিয়ম আর থাকছে না। পাশাপাশি সিটগুলোতে যাত্রী বসতে পারবে। আন্তর্জাতিক সিভিল এভিয়েশনের (আইকাও) নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিটি প্লেনের শেষ দুটি সারির সিটগুলো খালি রাখতে হবে। করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে গত ২১ থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত যুক্তরাজ্য, চীন, হংকং, থাইল্যান্ড ছাড়া সব দেশের সঙ্গে এবং অভ্যন্তরীণ রুটে যাত্রীবাহী ফ্লাইট চলাচল বন্ধের ঘোষণা দিয়েছিল বেবিচক। এরপর আরেকটি আদেশে চীন বাদে সব দেশের সঙ্গে ৭ এপ্রিল পর্যন্ত বিমান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। এই নিষেধাজ্ঞা সরকারী সাধারণ ছুটির সঙ্গে সমন্বয় করে পর্যায়ক্রমে ১৪ এপ্রিল, ৩০ এপ্রিল, ৭ মে, ১৬ মে, ৩০ মে এবং ১৫ জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়। ১৬ জুন থেকে প্রথমবারের মতো ঢাকা থেকে লন্ডন এবং কাতার রুটে ফ্লাইট চলাচল করার অনুমতি দেয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় অন্যান্য দেশের ফ্লাইটগুলো চালু করা হচ্ছে। গত ৭ সেপ্টেম্বর থেকে বাংলাদেশের সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের দুই দেশ ওমান ও বাহরাইনের বিমান যোগাযোগ চালু হয়েছে। ইতোমধ্যে এই দুই দেশে ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি পেয়েছে তিন বিদেশী এয়ারলাইন্স। এর আগে গত মে মাসে ফ্লাইট পরিচালনার বিষয়ে বেশকিছু নির্দেশনা ঠিক করে দেয় বেবিচক। বর্তমানে দেশী-বিদেশী প্রায় ১০টির মতো এয়ারলাইন্স বাংলাদেশে ফ্লাইট পরিচালনা করছে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স বর্তমানে দোহা, দুবাই, লন্ডন ও কুয়ালালামপুরে ফ্লাইট পরিচালনা করছে। অভ্যন্তরীণ রুটেও ফ্লাইট সংখ্যা বাড়িয়েছে তারা। বেসরকারী এয়ারলাইন্সও নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনা করছে।

মসজিদে মুসল্লিদের উপস্থিতি বেড়েছে কয়েকগুণ ॥ মসজিদে মসজিদে আগের চেয়ে বেড়েছে মুসল্লিদের সংখ্যাও। ওয়াক্তের নামাজের পাশাপাশি জুমার নামাজে প্রতিটি মসজিদ মুসল্লিতে ভরপুর। কোন কোন মসজিদে এখনও শারীরিক দূরত্ব মানা হচ্ছে আবার কোন মসজিদে গায়ে গায়ে লাগিয়ে নামাজ আদায় হচ্ছে। গত ১৯ মার্চ করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে বাংলাদেশ সরকার ওয়াজ মাহফিল, তীর্থযাত্রাসহ সব ধরনের ধর্মীয়, রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জমায়েত বন্ধ রাখার নির্দেশ দিলেও মসজিদে নামাজ পড়া স্থগিত রাখার বিষয়ে কোন সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। ওই ঘটনার সপ্তাহ দুয়েক পর মসজিদে নামাজ পড়ার ওপর বিধি-নিষেধ আরোপ করে সরকার। সে সময় মুসল্লিদের ঘরে নামাজ পড়ার বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানানো হয় যে দৈনিক জামাতে সর্বোচ্চ পাঁচজন এবং জুমার নামাজে সর্বোচ্চ ১০ জন মুসল্লি অংশ নিতে পারবেন। রমজান মাস শুরু হওয়ার আগে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের মসজিদে তারাবির নামাজ আদায় করার ওপরও বিধি-নিষেধ আরোপ করে। তারাবির নামাজে সর্বোচ্চ ১২ জন অংশ নিতে পারবেন বলে জারি করা হয় নির্দেশনা। ৬ মে এক জরুরী বিজ্ঞপ্তিতে ধর্ম মন্ত্রণালয় জানায়, ৭ মে জোহরের নামাজ থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সুস্থ মুসল্লিরা মসজিদে নামাজ আদায় করতে পারবেন এবং স্বাস্থ্যবিধি মানার প্রতি বিশেষভাবে তাগিদ দেয়া হয়। খোলা স্থানের পরিবর্তে এবার রমজান ও কোরবানির দুই ঈদের নামাজ হয়েছে মসজিদে।

আন্তঃনগর ও লোকাল ট্রেন চলছে, সচল নৌ রুটও ॥ করোনা মহামারী পরিস্থিতি কাটিয়ে পুরোদমে সচল হতে চলেছে রেল যোগাযোগ। দীর্ঘ বিরতির পর ধাপে ধাপে আন্তঃনগর, মেল ও লোকাল ট্রেন চালু করা হচ্ছে। চলাচল করছে মালবাহী ট্রেনও। সারাদেশে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করতে ৫ সেপ্টেম্বর থেকে নতুন ১৯ জোড়া আন্তঃনগর, মেল ও লোকাল ট্রেন চালু করে রেল কর্তৃপক্ষ। ১৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আরও ৮৪ জোড়া কমিউটার, মেল, এক্সপ্রেস ও লোকাল ট্রেন চালু করবে বাংলাদেশ রেলওয়ে। এসব ট্রেন চালু হলে সারাদেশে নিয়মিত ২১৮টি ট্রেন চলাচল করবে। বাংলাদেশ রেলওয়ের উপপরিচালক (ট্রাফিক ট্রান্সপোর্টেশন) খায়রুল কবির স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ১৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে তিন ধাপে সারাদেশে ৮৪টি ট্রেন চালু করা হবে। করোনা মহামারীর কারণে ধারণক্ষমতার অর্ধেক টিকেট বিক্রি করা হচ্ছে, সেটা চলমান থাকবে। তবে শতভাগ টিকেট অনলাইনের পরিবর্তে অর্ধেক টিকেট কাউন্টার থেকে বিক্রি করা হবে।

মার্চে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়লে সারাদেশে ট্রেন চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এ সময় শর্তসাপেক্ষে পণ্য পরিবহন স্বাভাবিক রাখতে কয়েকটি মালবাহী ট্রেন চলাচল করত। ৩১ মে থেকে সীমিত পরিসরে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ট্রেন চালু করা হয়। ওই দিন প্রথম দফায় আট জোড়া আন্তঃনগর ট্রেন চালু করা হয়। ৩ জুন দ্বিতীয় দফায় ১১ জোড়া আন্ত নগর, তৃতীয় দফায় ১৬ আগস্ট ১৩ জোড়া, ২৭ আগস্ট ১৯ জোড়া ও সর্বশেষ ৫ সেপ্টেম্বর আরও ১৯ জোড়া ট্রেন চালু করা হয়েছে। এর আগে রেলপথমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন জনকণ্ঠকে বলেন, আমরা যাত্রী সাধারণের কথা চিন্তা করে ও করোনায় স্বাস্থ্যবিধি রক্ষা করে যাতে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করতে পারি সেজন্য বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছি। দীর্ঘ ৬৭ দিন বন্ধ থাকার পর আমরা ধাপে ধাপে সকল আন্তঃনগর, মেল ও লোকাল ট্রেন চালু করেছি। এদিকে, ঢাকার সদরঘাট টার্মিনাল থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে লঞ্চ চলাচল শুরু হয় ৩১ মে থেকে। ২৪ মার্চ থেকে লঞ্চ সার্ভিস বন্ধ ছিল। বর্তমানে সকল রুটে নৌ চলাচল করছে।

ব্যতিক্রম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ॥ করোনার মধ্যে দেশের প্রায় সবকিছু স্বাভাবিক হতে শুরু করলেও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে ভিন্নভাবে দেখা হচ্ছে। এখনও বন্ধই আছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। আগামী ৩ অক্টোবর পর্যন্ত সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। অভিভাবকরা সন্তানের স্বাস্থ্য নিয়ে বেশি চিন্তিত। করোনা পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত সন্তানকে স্কুলে পাঠাতে অনিচ্ছুক অভিভাবকরা। সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে একটু দেরিতেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলতে চায় মন্ত্রণালয়। যদিও করোনার মধ্যে এসএসসির ফল প্রকাশ হয়েছে এবং একাদশে ভর্তি কার্যক্রমও শুরু হয়েছে। তবে এইচএসসি পরীক্ষা এখনও নেয়া সম্ভব হয়নি। গত ২৭ আগস্ট

কোভিড-১৯ জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির ১৮তম অনলাইন সভা অনুষ্ঠিত হয়। কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ডাঃ মোঃ শহীদুল্লাহর সভাপতিত্বে সভায় শিক্ষামন্ত্রী ডাঃ দীপুমনিও ছিলেন। জাতীয় পরামশর্ক কমিটির সকল সদস্যের অংশগ্রহণে সভায় বিস্তারিত আলোচনা হয় এবং সিদ্ধান্ত হয়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার ক্ষেত্রে দেশের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার ভিত্তিতে জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি এ সিদ্ধান্তে আসে যে, এখনও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা ও পরীক্ষা নেয়ার মতো পরিস্থিতি নেই। কমিটি এখনই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান না খোলার বিষয়ে মতামত প্রদান করে। এছাড়াও, বিদ্যালয় খোলার আগে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তায় যেসব প্রস্তুতি নিতে হবে তা ইতোমধ্যেই জানানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মোঃ আকরাম-আল-হোসেন। তিনি বলেছেন, স্কুল খোলার ব্যাপারে কোন সিদ্ধান্ত হয়নি। গ্রামে যে স্কুলগুলো আছে, সেখানে আমরা মনে করছি এখনও পরিবেশ তৈরি হয়নি। ৩ অক্টোবর পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করেছি, এখনও অনেক সময় স্কুল খোলার আগে প্রত্যেকটি স্কুলের প্রধান শিক্ষক কোন গাইডলাইন ফলো করবেন তা আমরা জানিয়ে দিয়েছি।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নতুন নির্দেশনা ॥ কোভিড-১৯ সংক্রমণ পরিস্থিতি নিয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের গত ৩ আগস্টের আদেশ ছিল ৩১ আগস্ট পর্যন্ত। ফলে ৩১ আগস্ট নতুন নির্দেশনা হিসেবে চারটি কমন নির্দেশনা দিয়েছে। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, জনসাধারণের সার্বিক কার্যাবলী/চলাচলের ক্ষেত্রে স্ব স্ব মন্ত্রণালয়/বিভাগ/কর্তৃপক্ষ স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালন নিশ্চিত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। বাইরে সর্বত্র মাস্ক পরা, পারস্পরিক দূরত্ব বজায় রাখা, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা নিশ্চিত করবে। কোভিড-১৯ বিস্তার রোধে স্থানীয় সরকার বিভাগ, তথ্য, ধর্ম মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ, জেলা উপজেলা প্রশাসন প্রচার-জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করবে। স্বাস্থ্যবিধি অমান্যকারী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনাসহ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ নিশ্চিতের নির্দেশনা রয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নতুন এই নির্দেশনায় কোভিড-১৯ সংক্রমণ পরিস্থিতির মধ্যেই পুরোদমে অফিস চালুর পর রাতের বেলা জনগণের চলাচলের ক্ষেত্রে এতদিন যে নিষেধাজ্ঞা ছিল, সেটিও আর থাকছে না। করোনাভাইরাস মহামারীতে জনগণের সার্বিক কার্যাবলী/চলাচল নিয়ে ৩১ আগস্ট মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ যে আদেশ জারি করেছে, সেখানে রাতে চলাচলের ক্ষেত্রে কোন বিধি-নিষেধের কথা বলা হয়নি। একাধিক কর্মকর্তা বলছেন, যেহেতু বিধি-নিষেধের বিষয়ে কিছু বলা হয়নি কিংবা বিধি-নিষেধ বাড়ানোর কথা বলা হয়নি, তাই রাতের বেলা চলাচলে আর বাধা নেই। তবে সরকারের সংশ্লিষ্ট কোন মন্ত্রণালয় কিংবা বিভাগ যদি মনে করে তা হলে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের গত ৩ আগস্টের আদেশে বলা হয়েছিল রাত ১০টা থেকে সকাল ৫টা পর্যন্ত অতিজরুরী প্রয়োজন ব্যতীত (প্রয়োজনীয় ক্রয়-বিক্রয়, কর্মস্থলে যাতায়াত, ওষুধ কেনা, চিকিৎসাসেবা, মৃতদেহ দাফন/ সৎকার) বাড়ির বাইরে আসা যাবে না। যদি কেউ এ নির্দেশনা না মানে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। এই আদেশের মেয়াদ সোমবার শেষ হয়েছে। নতুন আদেশে হাটবাজার ও দোকান খোলা রাখার সময় নিয়ে কিছু বলা হয়নি। এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা বলেন, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ বলেছে প্রত্যেক মন্ত্রণালয় স্ব স্ব বিবেচনায় নিজেরা এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। আমরা শুধু কমন কিছু নির্দেশনা দিয়েছি। রাতে চলাচলের ওপর কোন বিধিনিষেধ রাখা হবে কিনা, তা মন্ত্রণালয়গুলো সিদ্ধান্ত নেবে। প্রত্যেক মন্ত্রণালয়কে আলাদা আলাদাভাবে নির্দেশনা দেয়া হয়নি। তবে কোন মন্ত্রণালয় বা বিভাগ প্রয়োজন মনে করলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে ফোন করে বা লিখিতভাবে পরামর্শ নিতে পারবে।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক গণঅধিকার'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyganoadhikar@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

দৈনিক গণঅধিকার'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। দৈনিক গণঅধিকার | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT