ঢাকা, বৃহস্পতিবার ২১ অক্টোবর ২০২১, ৬ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

পিআইডি এর নিয়ম অনুসারে আবেদিত

চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে নিত্যপণ্য

প্রকাশিত : 11:00 AM, 18 October 2020 Sunday

গণঅধিকার নিউজ ডেস্কঃ

রসুন ও আদা ছাড়া বাজারে সব ধরনের নিত্যপণ্য চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে। সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীদের কারাসাজির কারণে গোল আলুর সরকার নির্ধারিত দাম কার্যকর হয়নি খুচরা বাজারে। প্রতিকেজি আলু আগের মতো বাড়তি দামে ৫০-৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আরেক দফা বেড়েছে শাক-সবজির দাম। সবজির দামে নাকাল নগরবাসী। পেঁয়াজ ও চাল বাড়তি দামে স্থিতিশীল রয়েছে। ইলিশ ধরা ও বিক্রি কার্যক্রম বন্ধ থাকায় দেশী মাছের উপর চাপ বেড়েছে। বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে সব ধরনের মাছ। ব্রয়লার মুরগি ও গরু-ছাগলের মাংস বিক্রি হচ্ছে আগের দামে। তবে দেশী রসুন ও আদা বাজারে আসায় প্রতিকেজি আদা ৯০-১০০ এবং রসুন ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে খুচরা বাজারে। কয়েক মাস আগেও আদা-রসুন প্রায় ২৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে।

শুক্রবার রাজধানীর কাওরান বাজার, ফকিরাপুল বাজার, খিলগাঁও সিটি কর্পোরেশন মার্কেট, মালিবাগ কাঁচা বাজার, মুগদা বড় বাজার, কাপ্তান বাজার ও যাত্রাবাড়ী বাজার ঘুওে নিত্যপণ্যের দরদামের এসব তথ্য পাওয়া গেছে। বাজারে এ মুহূর্তে সবচেয়ে আলোচিত সবজি আলু। বছরের অন্য যেকোন সময়ের চেয়ে আলু এখন দ্বিগুন দামে বিক্রি হচ্ছে। সহজলভ্য ও সব ধরনের তরকারিতে ব্যবহার হয় বলে আলু এদেশে জনপ্রিয় সবজি। এছাড়া আলুর উৎপাদনও দেশে ভাল। বছরে ১ কোটি লাখ টন চাহিদার তুলনায় উৎপাদন হয় প্রায় ১ কোটি ২৫ লাখ টন। এজন্য প্রতিবছর আলু রফতানি করেও বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা হয়ে থাকে। কিন্তু এ বছর করোনার কারণে আলু রফতানি করা যায়নি। এরপরও আলুর দাম বেড়ে যাচ্ছে। দাম বাড়ার পেছনে যেসব যুক্তি উপস্থাপন করা হচ্ছে তা সঠিক নয় বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। বরং আলুর বাজারে সিন্ডিকেট ঢুকে পড়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে এটা ঠিক সবজির দাম বাড়ায় আলুর চাহিদা কিছু বেড়েছে। কিন্তু দাম দ্বিগুন হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দ্রব্যমূল্য সংক্রান্ত টাস্কফোর্স কমিটির একজন উর্ধতন কর্মকর্তা জনকণ্ঠকে বলেন, আলুর দাম বাড়ার পেছনে কারসাজি রয়েছে। অবশ্যই সরকার নির্ধারিত দাম কার্যকর হতে হবে। এলক্ষ্যে নিয়মিত অভিযান পরিচালনাসহ বাজার মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে খিলগাঁও সিটি কর্পোরেশনের ব্যবসায়ী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আমরা ৩০ টাকা কেজি কিনতে না পারলে বিক্রি করবো কীভাবে? পাইকারিতে প্রতিকেজি আলুর দাম পড়েছে ৪০-৪২ টাকা। অন্যান্য খরচ যোগ করে এককেজি আলু ৫০ টাকার নিচে বিক্রি করা সম্ভব না। তিনি বলেন, শুধু দাম বেঁধে দিলে হবে না। আড়ত ও কোল্ড স্টোরে কড়া নজরদারি বাড়াতে হবে। আড়ত ও কোল্ড স্টোরে আলুর দাম কমলে, খুচরা বাজারেও দাম কমে যাবে।

এদিকে, দীর্ঘদিন ধরেই চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে সব ধরনের সবজি। খুচরা বাজারে এখন ৮০ টাকার নিচে কোন সবজি নেই। গত সপ্তাহের মতো এখনও শিম, টমেটো, গাজর, বেগুন, বরবটি ও উস্তার কেজি একশর ঘরে রয়েছে। এর সঙ্গে নতুন করে একশ টাকার তালিকায় নাম লিখিয়েছে শসা। এর মধ্যে টমেটো গত কয়েক মাসের মতো এখনও ১২০ থেকে ১৪০ টাকা এবং গাজর ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহের মতো শিমের কেজি বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৪০ টাকা। আর শসার কেজি বিক্রি হচ্ছে ৯০ থেকে ১০০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ৬০ থেকে ৭০ টাকার মধ্যে। বরবটির কেজি গত সপ্তাহের মতো ৮০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বেগুনও গত সপ্তাহের মতো ৮০ থেকে ১১০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। দাম অপরিবর্তিত রয়েছে উস্তারও। এককেজি উস্তা বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকা।

এগুলোর পাশাপাশি বাজারে অন্য সবজিগুলোও স্বস্তি দিচ্ছে না। পটলের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকা, তা গত সপ্তাহে ছিল ৬০ থেকে ৭০ টাকা। গত সপ্তাহে ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া ঢেঁড়সের দাম বেড়ে ৭০ থেকে ৮০ টাকা হয়েছে। দাম বাড়ার তালিকায় রয়েছে ঝিঙা, কাঁকরোল, ধুন্দুল, কচুর লতি। ঝিঙার কেজি বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকা, তা গত সপ্তাহে ছিল ৫০ থেকে ৬০ টাকা। গত সপ্তাহে ৫০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া কাঁকরোলের দাম বেড়ে ৭০ টাকা হয়েছে। একই দামে বিক্রি হচ্ছে কচুর লতি, যা গত সপ্তাহে ছিল ৫০ থেকে ৬০ টাকা।

লাউয়ের পিস গত সপ্তাহের মতো বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকায়। এক হালি কাঁচকলা বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকায়। বাজারে আসা শীতের আগাম সবজি ফুলকপি ও বাঁধাকপির পিস বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা। ৫০ টাকার নিচে পাওযা যাচ্ছে শুধু মুলা ও পেঁপে। এর মধ্যে মুলার কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা। পেঁপের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৫০ টাকায়। স্বস্তি মিলছে না কাঁচা মরিচ ও পেঁয়াজের দামেও। এককেজি কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকায়। দেশি পেঁয়াজের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ৯০ টাকায়। আমদানি করা বড় আকারের ভারতীয় পেঁয়াজের কেজির জন্যও গুনতে হচ্ছে ৮০ টাকা। গত মাসে ভারত পেঁয়াজ রফতানি বন্ধের ঘোষণা দেয়ার পর থেকেই এমন চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়া বাজারে চাল সরু নাজির ও মিনিকেট ৫৭-৬২, চাল মাঝারি পাইজাম ও লতা ৫০-৫৬, চাল মোটা স্বর্ণা ও চায়না ইরি ৪৬-৫২, মশুর ডাল বড় দানা ৬৫-৭০, পেঁয়াজ ৮৫-৯০, ভোজ্যতেল সয়াবিন খোলা ৯০-৯৪, পাঁচ লিটারের বোতল ৪৭০-৫২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে খুচরা বাজারে।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক গণঅধিকার'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyganoadhikar@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

দৈনিক গণঅধিকার'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। দৈনিক গণঅধিকার | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT