ঢাকা, বৃহস্পতিবার ২৯ জুলাই ২০২১, ১৪ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

পিআইডি এর নিয়ম অনুসারে আবেদিত

চুয়াডাঙ্গা সীমান্তে অস্ত্র ও ভারতীয় পণ্য নিয়ে এএসআইসহ গ্রেফতার ২

প্রকাশিত : 01:09 AM, 13 October 2020 Tuesday

গণঅধিকার নিউজ ডেস্কঃ

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলাধীন ভারত সীমান্তবর্তী একটি গ্রাম থেকে পুলিশের এক এএসআইসহ দুইজনকে গ্রেফতার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি নাইন এমএম পিস্তল, একটি ম্যাগজিন, ১০ রাউন্ড গুলি ও ভারত থেকে পাচার করে নিয়ে আসা ৫৯ কেজি সীসা উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় বিজিবির পক্ষ থেকে দুইজনকে আসামি করে রবিবার (১১ অক্টোবর) বিকালে দর্শনা থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এর আগে শনিবার রাতে জেলার দামুড়হুদা উপজেলার ধান্যঘড়া গ্রাম থেকে তাদের আটক করা হয়। আটক পুলিশের ওই এএসআইয়ের নাম হুমায়ুন কবির। তার পুলিশ নং ১৯০। তিনি চুয়াডাঙ্গার কার্পাসডাঙ্গা পুলিশ ফাঁড়িতে কর্মরত। এছাড়া তার সহযোগী জহিরুল ইসলাম ধন্যঘরা গ্রামের মৃত আবুল হোসেনের ছেলে। চুয়াডাঙ্গা-৬ বিজিবির পরিচালক মোহাম্মদ খালেকুজ্জামান স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে পুলিশ সদস্যসহ দুইজনকে অস্ত্র-গুলি ও সীসাসহ আটকের তথ্য ও ছবি দিয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের ই-মেইল বার্তা পাঠানো হয়েছে।
ই-মেইল বার্তায় জানানো হয়- বিজিবির ফুলবাড়ি বিওপির একটি টহল দল শনিবার রাতে ভারত সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোতে টহল দিচ্ছিল। এ সময় গোপন সংবাদে ভিত্তিতে টহল দলটি দামুড়হুদা উপজেলার ধন্যঘড়া গ্রামের কাঁঠালতলা নামক স্থানে অভিযান চালায়। অভিযানে একটি ইজিবাইক তল্লাশি করে গাড়িতে থাকা কার্পাসডাঙ্গা পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই হুমায়ুন কবির ও তার সহযোগী জহিরুলকে আটক করে। পরে তাদের কাছ থেকে একটি নাইন এমএম পিস্তল, ম্যাগজিন ভর্তি ১০ রাউন্ড গুলি ও ৫৯ কেজি সীসা জব্দ করে বিজিবি।
এরপর রবিবার দিনভর নানা নাটকীয়তার পর দুপুরে বিজিবির ফুলবাড়ি ক্যাম্পের কমান্ডার নায়েক সুবেদার মোস্তাফিজুর রহমান বাদী হয়ে দুইজনকে অভিযুক্ত করে দর্শনা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর পুলিশ বিকালে কঠোর গোপনীয়তায় গ্রেফতারদের আদালতে সোপর্দ করলে আদালত তাদের জেলহাজতে প্রেরণের আদেশ দেন। এ ব্যাপারে চুয়াডাঙ্গা-৬ বিজিবির পরিচালক মোহাম্মদ খালেকুজ্জামান দৈনিক অধিকারকে জানান, সীমান্তে দায়িত্ব পালন করতে গিয়েই শনিবার রাতে ওই দুইজনকে আটক করা হয়। মামলায় গ্রেফতারদের বিরুদ্ধে কী অভিযোগ আনা হয়েছে- এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘প্লিজ আমাকে আর কোন প্রশ্ন করবেন না। এজাহার দেখুন তাতে সব লেখা আছে।’
তবে দর্শনা থানার অফিসার ইনচার্জ মাহব্বুর রহমান জানান, পুরো ঘটনাটি একটি ভুল বোঝাবুঝি থেকে সৃষ্টি হয়েছে। আটক পুলিশ সদস্য হুমায়ুনের কাছ থেকে যে অস্ত্রটি উদ্ধার দেখানো হয়েছে সেটি সরকারি অস্ত্র বলে তিনি দাবি করেছেন। একই সাথে মামলায় বিজিবির পক্ষ থেকে অস্ত্রের অভিযোগ আনা হয়নি বলেও জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা। এ দিকে, চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপার জাহিদুল ইসলাম দৈনিক অধিকারকে জানান, ইতোমধ্যে পুলিশের শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও ইমেজ নষ্টের কারণে তাকে (এএসআই হুমায়ুন কবির) সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। মামলা দিয়ে ইতোমধ্যে তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক গণঅধিকার'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyganoadhikar@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

দৈনিক গণঅধিকার'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

এই বিভাগের জনপ্রিয়

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। দৈনিক গণঅধিকার | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT