ঢাকা, মঙ্গলবার ২২ জুন ২০২১, ৮ই আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

পিআইডি এর নিয়ম অনুসারে আবেদিত

চুরির ঘটনায় গঠিত বশেমুরবিপ্রবি’র তদন্ত কমিটির হ-য-ব-র-ল অবস্থা

প্রকাশিত : 06:15 PM, 30 August 2020 Sunday

গণঅধিকার নিউজ ডেস্কঃ

গোপালগঞ্জ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি) কম্পিউটার চুরির ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির হ-য-ব-র-ল অবস্থা। তদন্ত কমিটি নিয়ে চলছে একের পর এক নাটক।

কেউ পাচ্ছে অব্যাহতি আবার কেউ করেছেন পদত্যাগ। আবার ফাকা জায়গায় ঢুকছে নতুন মুখ। শুধু অব্যাহতি বা পদত্যাগ নয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর কর্তৃক রেজিষ্ট্রারকে হুমকি দেয়ার ঘটনায় নাটকীয়তায় পেয়েছে আরো ভিন্নতা।

হুমকি দেয়ার বিষয়ে রেজিষ্ট্রার প্রফেসর ড. মো: নূরউদ্দিন আহমেদ রোববার বিকেলে ভারপ্রাপ্ত ভিসি প্রফেসর ড. মোঃ শাহজাহানের কাছে একটি অভিযোগ পত্র জমা দিয়েছেন। তবে বিষয়টি নিয়েও চলছে ইঁদুর-বিড়াল খেলা। কেউই সাংবাদিকদের ফোন ধরছেন না। আবার কারো কারো ফোন ধরলে এ বিষয়ে তারা কেউ কিছু জানেন না বলে জানান।

এর আগে, প্রক্টর ড. রাজিউর রহমানকে হুমকি দেয়ায় তিনি সহকারি রেজিস্টার মো: নজরুল ইসলামের নামে গোপালগঞ্জ সদর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।

এদিকে, কম্পিউটার চুরির বিষয়ে তদন্ত কমিটির তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার কথা ছিলো বৃহস্পতিবার (২০আগষ্ট)। কিন্তু, নানা নাটকীয়তার কারণে শেষ পযর্ন্ত তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে পারেনি তদন্ত কমিটি। কমিটির প্রধান সাংবাদিকদেরকে বলেছেন তারা দুইজন সদস্যকে সংযুক্ত করার পরে সুবিধাজনক সময়ে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করবেন।

রোববার (২৩ আগষ্ট) যদিও অব্যাহতি ও পদত্যাগী দুই সদস্যের পরিবর্তে শিক্ষার্থী উপদেষ্টা ড. মো: শরাফত আলী ও উপ-পরিচালক (পউও) তুহিন মাহমুদকে তদন্ত কমিটির সদস্য হিসাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

সব মিলিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটার চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও দ্বিধা বিবক্ত হয়ে এক পক্ষ অন্য পক্ষের বিরুদ্ধে বিশদগার করতে ছাড়ছেন না। আর এসব বিষয়ে গোপালগঞ্জের সাধারণ শিক্ষানুরাগীরাও বিরক্তি প্রকাশ করছেন। তাদের দাবি এসব জঞ্জাল পরিস্কার করে বিশ্ববিদ্যালয়ে একটা সুশৃঙ্খল পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে কর্তৃপক্ষ ত্বরিত ব্যবস্থা নেবেন। কেননা এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে যেসব রশিটানাটানি চলছে তাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের মান ক্ষুন্ন হচ্ছে এমনটি ধারনা সাধারণ মানুষের।

উল্লেখ্য, ঈদের ছুটির মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির পেছন দিকের জানালা ভেঙে ৪৯টি কম্পিউটার চুরির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় গত ১০ আগষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্টার ড. প্রফেসর নূরউদ্দিন আহমেদ বাদী হয়ে গোপালগঞ্জ সদর থানায় একটি মামলা করেন। গোপালগঞ্জ সদর থানার মামলা নং-২০।

১৩ আগষ্ট ঢাকার ক্রিস্টাল ইন হোটেল থেকে চুরি যাওয়া ৪৯ টি কম্পিউটারের মধ্যে ৩৪টি কম্পিউটার উদ্ধার করে পুলিশ। এ সময় দুলাল ও হুমায়ুন কবিরকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে প্রযুক্তির সহায়তায় গোপালগঞ্জ ও নড়াইল থেকে ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৬-১৭ সেশনের শিক্ষার্থী মাসরুল ইসলাম পনি শরীফসহ আরো ৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গত ১৫ আগষ্ট গ্রেপ্তারকৃত ৭ জনকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়। এর আগে তারা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে। এরপর বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়ায় এ সংক্রান্ত মামলার আর কোন অগ্রগতি হয়নি।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক গণঅধিকার'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyganoadhikar@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

দৈনিক গণঅধিকার'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। দৈনিক গণঅধিকার | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT