ঢাকা, বৃহস্পতিবার ২৪ জুন ২০২১, ১০ই আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

পিআইডি এর নিয়ম অনুসারে আবেদিত

চীনের উইঘুর হংকং ও তিব্বত নীতির নিন্দায় ৩৯ দেশ

প্রকাশিত : 02:09 PM, 8 October 2020 Thursday

গণঅধিকার নিউজ ডেস্কঃ

চীনের উইঘুর, হংকং ও তিব্বত নীতির নিন্দা জানিয়েছে ৩৯টি দেশ। মঙ্গলবার জাতিসংঘে মানবাধিকার সংক্রান্ত এক বৈঠক থেকে এ নিন্দা জানানো হয়। জার্মানির নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জাপান ও কানাডাসহ দেশগুলো এ নিয়ে যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করেছে। তাৎক্ষণিকভাবে এর ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বেইজিং।

বিবৃতিতে চীনের শিনজিয়াং প্রদেশে উইঘুর মুসলিমদের ক্যাম্পে বন্দি রেখে নির্যাতনের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে সেখানে আন্তর্জাতিক তদন্ত দলকে প্রবেশের জরুরি অনুমতি দিতে বলা হয়েছে। জার্মানির রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টোফি হিইসেন বৈঠকে বলেন, আমরা হংকংয়ের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, তিব্বতের দমনপীড়ন ও শিনজিয়াংয়ের মানবাধিকার লঙ্ঘন নিয়ে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।

বিবৃতিতে স্বাক্ষর করা অপর দেশগুলো হল- অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, আলবেনিয়া, অস্ট্রিয়া, বেলজিয়াম, বসনিয়া হার্জেগোভিনা, বুলগেরিয়া, ক্রোয়েশিয়া, ডেনমার্ক, এস্তোনিয়া, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, হাইতি, হন্ডুরাস, আইসল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, ইতালি, জাপান, লাটভিয়া, লিচেনস্টেইন, লিথুয়ানিয়া, লুক্সেমবার্গ, রিপাবলিকান অব মার্শাল আইল্যান্ডস, মোনাকো, নাউরু, নেদারল্যান্ডস, উত্তর মেসোডোনিয়া, নরওয়ে, পালাউ, পোল্যান্ড, স্লোভেনিয়া, স্পেন, সুইডেন ও সুইজারল্যান্ড।

বিবৃতিতে হংকংয়ের বিতর্কিত নিরাপত্তা আইনের মধ্যেও অঞ্চলটির বাসিন্দাদের অধিকার ও স্বাধীনতার ওপর জোর দেয়া হয়েছে। এর আগে ২০১৯ সালে যুক্তরাজ্যের উদ্যোগে এমন একটি খসড়ায় স্বাক্ষর করে ২৩টি দেশ। এবার সে সংখ্যা দ্বিগুণের মতো বাড়ল।

চীন বলছে, তারা শিনজিয়ায়ে কারিগরি শিক্ষার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তুলেছে। কিন্তু মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, সেখানে মুসলিম তরুণদের বন্দি রেখে নির্যাতন করা হচ্ছে, নারীদের গর্ভপাত করানো হচ্ছে। ক্যাম্পগুলোর বিরুদ্ধে ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর কড়াকড়ি আরোপ, দমনপীড়ন, জোরপূর্বক শ্রম করানো ও বন্ধ্যত্বকরণ কর্মসূচির অভিযোগ এসেছে।

জাতিসংঘে চীনের স্থায়ী প্রতিনিধি ঝাং জুন এসব অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন’ মন্তব্য করে বলেছেন, সদস্য দেশগুলো চীনের বিরুদ্ধে ভুয়া তথ্য এবং রাজনৈতিক ভাইরাস ছড়াচ্ছে এবং চীনের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করছে। এদিকে চীনের পক্ষে ৪৫টি দেশের সমর্থন নিয়ে পাল্টা বিবৃতিতে কিউবা বলেছে, শিনজিয়াংয়ে চীন নীতির সমালোচনা করা বেইজিংয়ের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ।

পাকিস্তানের নেতৃত্বে আরেক বিবৃতিতে কয়েকটি দেশ হংকং ইস্যুতে চীনকে সমর্থন করেছে।

জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর আশঙ্কা, চীনা বন্দিশিবিরগুলোয় ১০ লাখেরও বেশি উইঘুর মুসলিমকে বিনা বিচারে আটক করে রাখা হয়েছে। তবে সংবাদমাধ্যম উইঘুর টাইমস বলছে, এসব শিবিরে প্রকৃত বন্দির সংখ্যা ৩০ লাখ।

চীনে প্রায় দেড় কোটি উইঘুর মুসলমানের বাস। জিনজিয়াং প্রদেশের জনসংখ্যার ৪৫ শতাংশই উইঘুর মুসলিম। এই প্রদেশটি তিব্বতের মতো স্বশাসিত একটি অঞ্চল। বিদেশি মিডিয়ার সেখানে প্রবেশের ব্যাপারে কঠোর বিধিনিষেধ রয়েছে। কিন্তু বিভিন্ন সূত্রে খবর আসছে, সেখানে বসবাসরত উইঘুরসহ ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের ওপর ব্যাপক ধরপাকড় চালাচ্ছে বেইজিং। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, হিউম্যান রাইটস ওয়াচসহ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলোও জাতিসংঘের কাছে এ ব্যাপারে উদ্বেগ জানিয়েছে। তবে চীন বরাবরই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক গণঅধিকার'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyganoadhikar@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

দৈনিক গণঅধিকার'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। দৈনিক গণঅধিকার | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT