ঢাকা, সোমবার ২৫ অক্টোবর ২০২১, ১০ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

পিআইডি এর নিয়ম অনুসারে আবেদিত

চিরতরে শুয়ে পড়তে চাই না

প্রকাশিত : 01:14 PM, 16 November 2020 Monday

গণঅধিকার নিউজ ডেস্কঃ

চিরতরে শুয়ে পড়তে রাজি ছিলেন না বাঙালীর গৌরব ক্ষণজন্মা অভিনেতা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়। বয়স অনেক হয়েছিল বটে। বেঁচে থাকার স্বপ্ন সাধ তবু ধরে রেখেছিলেন তিনি। এ কারণেই প্রবীণ বয়সেও নবীনের মতো উদ্যমী হয়ে অভিনয় চালিয়ে গিয়েছিলেন।

শেষবার ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশের মঞ্চে অভিনয় করতে এসে এই সত্য প্রকাশ করেছিলেন সৌমিত্র। ঢাকার শিল্পকলা একাডেমির সেমিনার কক্ষে আয়োজিত বিশেষ গল্প আড্ডায় অংশ নিয়ে নিজের শৈশব, মহাতারকা হয়ে ওঠার গল্পও শোনান। সত্যজিৎ রায়ের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা, দুই বাংলার সিনেমার অতীত বর্তমান, নাট্যচর্চা, নাট্য আন্দোলনসহ নানা বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ মূল্যায়ন তুলে ধরেন। অমূল্য সেই গল্প আড্ডায় যোগ দেয়ার সুযোগ হয়েছিল এই প্রতিবেদকের। নানা বিষয়ে চলা আলাপের কিছু অংশ তখন জনকণ্ঠে প্রকাশিত হয়। আজ বর্ষীয়ান অভিনেতাকে হারানোর বিষাদ নিয়ে সেই স্মৃতি হাতড়ে বেড়াতে হচ্ছে।

সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় তখনও একের পর এক দর্শক নন্দিত সিনেমায় অভিনয় করে যাচ্ছেন। কীভাবে সম্ভব? এক জীবনে এত অভিনয় করেছেন, ক্লান্তি আসে না? হ্যাঁ, এই প্রশ্নের জবাবেই জীবনের প্রতি ভালবাসার কথা সগর্বে প্রকাশ করেন তিনি। বলেন, অভিনয়ে না থাকা মানে বসে যাওয়া। বসে যাওয়া মানে শুয়ে যাওয়া। শুয়ে যাওয়া থেকে চিরতরে শুয়ে যাওয়া। সেটা চাইছি না। এজন্যই অভিনয়টা এখনও চালিয়ে যাচ্ছি।

অভিনেতা হয়ে বেঁচে থাকার এই আকাক্সক্ষাকে প্রকৃতি, হায়, খুব বেশি দীর্ঘ হতে দিল না! চলে গেছেন তিনি। তবে কত সফল আর প্রাণবন্ত ছিলেন, সেদিনের কথোপকথন থেকে তা অনুমান করা যায়।

শুধু বর্তমানে নয়, পেছনেও ফেরে তাকান সৌমিত্র। চশমার কাঁচ ঘষে নিয়ে শৈশবের ছবিটা দেখার চেষ্টা করে বলেন, আমার বেড়ে ওঠার প্রাথমিক পরিবেশটা খুব অনুকূল ছিল। বাবা পেশায় উকিল হলেও, অভিনয় ভালবাসতেন। প্রতি শুক্রবার কলকাতা থেকে কৃষ্ণনগরের বাসায় ফিরতেন তিনি। রাতে চমৎকার আবৃত্তি করতেন। আমাদের দেখিয়ে দিতেন, কীভাবে ওটা করতে হয়। সেখান থেকে কিছু না কিছু তো নেয়া হয়েছেই।

তবে অভিনয়ে আসার দ্বিতীয় কারণটি খুব মজার। একইসঙ্গে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। সৌমিত্র বলেন, নিজেকে আড়াল করতেই অভিনয়ে এসেছিলাম। ছোটবেলায় আমাকে নিয়ে পরিবারে অনেক কথা হতো। অনেকেই বলতেন, এ রকম একটা ছেলে কোত্থেকে এলো আমাদের বাড়িতে? গায়ের রং কালো। নাক চোখ নেই। যথেষ্ট রুগ্নও ছিলাম। টাইফয়েড জ্বরে ৬৩ দিন বিছানায় পড়ে থাকতে হয়েছিল। সেই সমস্ত কারণে ভেতরে এক ধরনের হীনম্মন্যতা জায়গা করে নিয়েছিল। মনে হচ্ছিল কিছু হবে না আমাকে দিয়ে। তবে যখনই অভিনয় করতাম, লোকে প্রশংসা করত। সেই প্রশংসা আর নিজেকে আড়াল করার সুযোগ অভিনয়ে আসার বড় কারণ বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সৌমিত্র জানান, কলকাতায় আসার পর তার থিয়েটার দেখা শুরু। এ প্রসঙ্গে চলে আসে শিশির কুমার ভাদুরীর কথা। বলেন, বিখ্যাত এই শিল্পীর অভিনয় দেখে বিদ্যুতস্পৃষ্ট হওয়ার মতো অবস্থা হলো আমার। পরবর্তীতে তিন বছর ধরে ওর সংস্পর্শে আসার সুযোগ পেয়েছিলাম। আমার চিন্তাভাবনার ভিতগুলো ওখানে তৈরি হয়।

সৌমিত্রকে সৌমিত্র হয়ে ওঠতে সহায়তা করেছে রেডিওতে কাজ করার অভিজ্ঞতাও। সুন্দর ভরাট কণ্ঠ। সে কণ্ঠ নিয়ে অল ইন্ডিয়া রেডিও’র ঘোষক হয়েছিলেন তিনি। অভিজ্ঞতা তুলে বলেন, আমার অপেক্ষা করে বসে থাকতে হতো, কখন একটি গান শেষ হবে। তার পর নতুন ষোষণা দেব আমি। বেশ বিরক্তির ছিল এ কাজ। তবে কাজটি করতে গিয়ে আমার ধৈর্য শক্তিটা বাড়ে। তারচেয়ে বড় কথা, ভাল করে মাইক্রোফোন ব্যবহার করাটা শিখি রেডিও থেকে। এভাবে প্রস্তুতিটা চলছিল।

আর আজ যে সৌমিত্র, তাকে পাওয়া হয় চলচ্চিত্রেই। সিনেমার বরপুত্র তিনি। কীভাবে হয়েছিল শুরুটা ? সত্যজিৎ রায়ের সঙ্গে কেমন কেটেছে আসলে ? উত্তরে সৌভাগ্যবান অভিনেতা বলেন, সিনেমায় অভিনয়ের তো ভীষণ তৃষ্ণা ছিল। তবে সুযোগটি এসেছিল অপ্রত্যাশিতভাবে। তখন ‘পথের পাঁচালী’ হয়ে গেছে। সত্যজিৎ রায়ের নামে রব উঠছে সর্বত্র। ঠিক তখন পরবর্তী ছবির জন্য কলেজে পড়ুয়া একজন ছেলে খুঁজছিলেন পরিচালক। তো, আমার এক বন্ধুর মাধ্যমে তার বাড়িতে গিয়ে দেখা করার প্রস্তাব পেলাম আমি। কিন্তু প্রথম দেখাতেই তিনি বললেন, এ হে, আপনি যে বড্ড বড় হয়ে গেলেন! তবে এখানেই সব চুকেবুকে গেল না। আমার সঙ্গে প্রচুর কথা হলো সেদিন। আমাকে দিয়ে বলালেন তিনি। অনেক পরে বুঝেছি আমার কথা বলার ঢং, উচ্চারণ, ব্যক্তিত্ব কেমন ওসব বোঝার চেষ্টা করেছিলেন। নির্মাণের ধারাবাহিকতায় ‘অপরাজিতা’ সিনেমাটির পর ‘অপুর সংসার’ নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছিলেন। বিশ্ব সংসার অর্থেই অপুর সংসার ভেবেছিলেন তিনি। আমার তখন চিকেনপক্স। ডাক পেয়ে ওই অবস্থায় তার সঙ্গে দেখা করতে গেলাম। এবার প্রথম দেখায় বললেন, সবাই যে বলল মুখে দাগটাগ হয়ে গেছে! তার পর প্রশ্ন- অভিনয়ের ইচ্ছে আছে ? একটু যোগাযোগ রাখুন। দরকার হতে পারে। সত্যজিৎ রায় তখন দুটো ছবি একসঙ্গে করছেন। ‘জলসাঘর’ ও ‘পরশপাথর’। আমাকে গিয়ে শূটিং দেখতে বললেন। আমার ডর ভয় কাটতেই হয়ত বলা। তো, একদিন ‘জলসাঘর’ এর শূটিং দেখে ফেরার পথে বললাম, মানিক বাবু আমি কি এবার যাব? জবাব না দিয়ে তিনি বললেন, আসুন ছবি বিশ্বাসের সঙ্গে আলাপ করিয়ে দিই। প্রখ্যাত সেই অভিনেতার সামনে আমাকে দাঁড় করিয়ে দিয়ে হঠাৎই তিনি বললেন, ছবি দা, এই আমার অপুর সংসারের অপু! আমার তখন কী অবস্থা বলে বোঝাতে পারব না। সিনেমায় এভাবেই শুরু। সৌমিত্র অবশ্য যোগ করেন, কথা শুনে আমার শুরুটা যত সুগম মনে হচ্ছে অতটা নয়। ‘অপুর সংসার’ করে টক অব দ্য টাউন হয়ে গিয়েছিলাম। নাম ধাম হয়েছিল। এরপরও অভিনয়ে দীর্ঘকাল ধরে থাকা মানে, বিপুল লড়াই। অনেককিছু ছাড়তে হয়। দিতে হয়। সে তো এখনও অব্যাহত।

মাঝখানে আরও কিছু কথা। তারপর আবারও সত্যজিৎ রায় ও যুগল পথচলার খুঁটিনাটি। সৌমিত্র বলেন, প্রতিভার বিপুল পার্থক্য সত্ত্বেও মানিক বাবুর সঙ্গে আমার দারুণ একটা সম্পর্ক হয়েছিল। মহান শিল্পীর কাছ থেকে প্রথম পদক্ষেপগুলো শেখার সুযোগ পেয়েছিলাম আমি। আমাদের মধ্যে বোঝাপরাটা বেশ ছিল। মৌলিক বিষয়গুলোতে সহমত ছিল। ফলে তার সঙ্গে কাজ করতে সুবিধা হতো। তিনিও হয়ত কিছু সুবিধা আমার কাছ থেকে পেয়েছিলেন। তা না হলে ১৫টার মতো ছবির গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে আমাকে নেবেন কেন? এ পর্যায়ে অভিনেতার রসবোধের পরিচয়টি পাওয়া যায়। বলেন, তিনি হয়ত ভাবতেন আমাকে নিলে গাদা পিটিয়ে মানুষ করার কষ্ট করতে হবে না। সত্যজিতের অনেক ছবিতে অভিনয় যেমন করেছেন, তেমনি কোন কোন চরিত্রে অভিনয়ের আবদার করেও পাননি বলে জানান তিনি। তার এই বলা যে সত্যজিৎকে আরও স্পষ্ট করার স্বার্থে তা বোঝতে কারও বাকি থাকে না। প্রিয় পরিচালকের বিনয়ের পরিচয় দিয়ে তিনি বলেন, একটি ছবিতে আমাকে অভিনয়ের প্রস্তাব দিয়ে মানিক বাবু বলেছিলেন, চরিত্রটির মাত্র কুড়িটা সংলাপ। তুমি কি করে দেবে? সত্যজিতের প্রতি প্রেমের সবটুকু প্রকাশ ঘটিয়ে শক্তিমান এই অভিনেতা বলেন, আমাকে মানিক বাবুর ঘরের ছাতা রাখার জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকতে বললেও ‘হ্যাঁ’ বলতাম। চরিত্রটি করতেও ‘হ্যাঁ’ বললাম। তারও পরে একদিন আমাকে ডেকে বললেন, তোমাকে আমি প্রচুর স্বাধীনতা দিয়েছি। যা করতে চেয়েছ, করেছ। এই ছবিটা দু’জনে মিলে ভাবব। এভাবে দীর্ঘকাল আমরা একসঙ্গে কাজ করেছি। সৌমিত্র জানান, কোন ছবিতে তিনি না থাকলেও সে ছবির স্ক্রিপ্ট নিয়ে তার সঙ্গে কথা বলতেন সত্যজিৎ।

আলোচনায় ওঠে আসে কবি সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় প্রসঙ্গটিও। কবিতার সঙ্গে কীভাবে? জানতে চাইলে তিনি বলেন, কবিতা আসলে আমার নিজেকে মেলে ধরার সুযোগ করে দিয়েছিল। ইশকুলে পড়ার সময় থেকেই কবিতা লিখতাম। বলতেই লজ্জা করছে। কারণ, ওই বয়সে মেয়েদের প্রতি ভাল লাগার একটা ব্যাপার শুরু হয়। তারপর বিশেষ কোন মেয়েকে ভাল লাগার দিন আসে। যার জন্য প্রথম কবিতা লেখা, সে প্রচেষ্টা সফল হয়েছে বলেও জানান তিনি। সহাস্যে যোগ করেন- তখন একটা মেয়ের হাত ধরতে অনেক সময় লাগত। যাই হোক, এই প্রেমানুভূতি কবিতা লেখায় উৎসাহ যুগিয়েছে। তখন আইডেন্টিটি ক্রাইসিসটা ছিল। সেই প্রেক্ষিতে নিজেকে খোঁজাও কবিতা লেখার একটা কারণ। অনেকে বলেন কবিতা ও অভিনয় সম্পূর্ণ বিপরীত দুটি ধারা। আমি মনে করি সব শিল্পের মধ্যে নানা রকম বন্ধন ছিল। আছে। অনুষ্ঠানে আবৃত্তির প্রসঙ্গ তোলেন বাচিক শিল্পী গোলাম সারওয়ার। তার প্রশ্নের জবাবে অনুষ্ঠানের মধ্যমনি বলেন, আবৃত্তি খুব গুরুত্বপূর্ণ। ভীষণ দরকার। কণ্ঠ দিয়ে জিহ্বা দিয়ে কাজ করা তো অভিনেতার প্রথম শর্ত। একদম প্রাথমিকটা তো কথা বলা। অভিনেতা আবৃত্তি চর্চা না করলে চর্চা পূর্ণ হয় না। আমি নিজে রোজ সন্ধ্যায় জোরে জোরে আবৃত্তি ও গান করতাম। আবৃত্তির এই শিক্ষা রবীন্দ্রনাথ থেকে গ্রহণ করেছিলেন বলে জানান তিনি।

নাটকও লিখেছেন সৌমিত্র। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমার যে বন্ধুরা নাটক লিখত তাদেরটা অন্যরা কেড়ে নিয়ে যেত। আমি যাদেরটা পেতাম, ভাল লাগত না। এই অভাব পূরণ করতেই নাটক লেখা। বাইরের নাটক প্রচুর পড়তাম। সেটা সাহায্য করেছে। সব মিলিয়ে গোটা তিরিশেক নাটক লেখার তথ্য দেন সৌমিত্র। এর পর অবাক না হয়ে পারা যায় না।

পেশাদার থিয়েটার কলকাতায় খুব একটা বিকাশ লাভ করল না। এখানেও নিরন্তর প্রচেষ্টা চলছে। হচ্ছে না। সব মিলিয়ে এর ভবিষ্যত কী? এমন প্রশ্নের জবাবে মঞ্চ তারকা সৌমিত্র বলেন, কলকাতার পেশাদারি মঞ্চের ইতিহাস ১০০ বছরের বেশি। একসময় চমৎকার বিকাশের মধ্য দিয়ে গেছে। কিন্তু যখনই প্রফেশনালিজম ও কমার্শিয়ালিজম এক হয়ে গেল তখনই ক্ষয় শুরু। তিনি বলেন, যে কোন কাজ প্রফেশনালি করলে দায় আরও বেশি নেয়া যায়। মনে হয়, যাদের সামনে অভিনয় বা গান করছি আমার প্রতি তাদের দাবি বেড়ে গেল। সর্বোচ্চ দিয়ে তাদের তুষ্ট করতে হবে।

বাংলাদেশের নাটক সিনেমা প্রসঙ্গেও কথা বলেন সৌমিত্র। বলেন, এই দেশ নিয়ে প্রত্যাশা অনেক। অনেক মূল্য দিয়ে মুক্তি লাভ করেছে বাংলাদেশ। সেই ত্যাগ বিফলে যেতে পারে না। এখান থেকে নতুন চিন্তার উদ্বোধন হবে, আশা করি। একই আলোচনায় নিজের শহর কলকাতার কঠোর সমালোচনা করেন তিনি। বলেন, ঠিক উল্টো দেখি কলকাতায়। সবই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। সকলেই অনুকরণপ্রিয়। বাজে কিছু ভ্যালুজ ওরা আঁকড়ে ধরে আছে। তরুণ-তরুণীরা যে ভাষা বলছে সেই ভাষা এতটাই মিশ্র, বাংলা কতটুকুন বুঝতে অসুবিধা হয়। এরপর বাংলাদেশের প্রতি নিজের আস্থা পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, বাঙালী জাতিসত্তাটাকে আপনারা ধরে রেখেছেন। ধরে রাখবেন আশা করি।

কলকাতায় বাংলাদেশের টিভি চ্যানেল দেখা যায় না। পুরনো এ অভিযোগটিও তোলা হয় তার সামনে। জবাবে প্রবীণ অভিনেতা বলেন, দুই বাংলার মধ্যে কমিউনিকেশনটা জরুরী। অত্যন্ত জরুরী। আপনাদের পক্ষে যতটা জরুরী, তারও বেশি জরুরী পশ্চিমবঙ্গের জন্য। কলকাতার নাটকে সিনেমায় বাংলাদেশের ভাষাকে বিকৃত করা হয়- এমন অভিযোগ নিয়েও জমে উঠেছিল আলোচনা। এ প্রসঙ্গে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় বলেন, কলকাতায় ভাল বাঙাল অভিনেতাই তো নেই আর। তারা ভাল করে বাংলা ভাষা বলতে পারেন না। কারা এগুলো করে তা জানি না। এ পর্যায়ে টিভি সিরিয়ালের সবচেয়ে কঠিন সমালোচনাটি করে বসেন তিনি। বলেন, টিভি সিরিয়ালকে নাটক বলবেন না। ওটা থিয়েটারের পরিচয় না। নাটকের পরিচয় না। সব থেকে খারাপ যা কাজ, এগুলো তা-ই। টিভি সিরিয়াল খুব খারাপ সিনেমাটির চেয়েও খারাপ বলে মন্তব্য করেন তিনি। বলেন, ফিল্মের আদি অন্ত মধ্য থাকে। টিভি সিরিয়ালের কিচ্ছু নেই। সব মিলিয়ে অনবদ্য এক গল্প আড্ডা। তখন কে জানত সেই গল্প আড্ডাই হবে ঢাকায় সৌমিত্রের শেষ গল্প আড্ডা!

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক গণঅধিকার'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyganoadhikar@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

দৈনিক গণঅধিকার'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। দৈনিক গণঅধিকার | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT