ঢাকা, বৃহস্পতিবার ২৪ জুন ২০২১, ১০ই আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

পিআইডি এর নিয়ম অনুসারে আবেদিত

চাঞ্চল্যকর ফাহিম হত্যায় অভিযুক্তের গার্লফ্রেন্ড বললেন মানুষ হত্যা দূরের কথা, হ্যাসপিল মাছি মারতেও চায়নি

প্রকাশিত : 08:22 PM, 17 August 2020 Monday

গণঅধিকার নিউজ ডেস্কঃ

চাঞ্চল্যকর ফাহিম সালেহ হত্যা মামলায় গ্রেফতার টাইরেস হ্যাসপিলকে আজ (১৭ আগস্ট) ম্যানহাটান ক্রিমিনাল কোর্টে হাজির করার কথা। সশরীরে সম্ভব না হলে ভার্চুয়ালে তার উপস্থিতির মধ্য দিয়ে মামলাটির পরবর্তী পরিক্রমা সম্পর্কে সিদ্ধান্ত জানাতে পারে আদালত। ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসকরা আদালতকে অবহিত করে বলেছেন, ফাহিমের ঘাড়ে, গলায় বেশ কয়েকটি ছুরিকাঘাত ছাড়াও বাঁ হাতে জখম ছিল। তদন্ত কর্মকর্তারা বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্ট ভবনের সিসিটিভি ফুটেজের উদ্ধৃতি দিয়েছেন। তারা বলেছেন, বিশেষ সহকারী টাইরেস হ্যাসপিল ১৩ জুলাই ফাহিমের সঙ্গে কথা বলতে বলতে সপ্তম তলায় অ্যাপার্টমেন্টের ভিতর পর্যন্ত ঢুকেই ফাহিমকে নৃশংসভাবে হত্যা করেন। এরপর ফাহিমের ক্রেডিট কার্ডে করাতসহ বিভিন্ন সামগ্রী ক্রয় করা হয় ফাহিমের লাশ গুম করার মতলবে। এ কাজে ম্যানহাটানে লোয়ার ইস্ট সাইডে হিউস্টন স্ট্রিটে অবস্থিত ওই অ্যাপার্টমেন্ট ভবন থেকে স্টোরে যাতায়াতের জন্য ব্যবহৃত ট্যাক্সির ভাড়াও পরিশোধ করা হয় ফাহিমের ক্রেডিট কার্ডেই। এভাবেই হ্যাসপিলের হদিস উদঘাটন করতে সক্ষম হয় নিউইয়র্ক পুলিশ। ১৭ জুলাই হ্যাসপিলকে গ্রেফতার করা হয় এই অ্যাপার্টমেন্টের সন্নিকটে এয়ারবিএনবির বাসা থেকে। সেই বাসার ভাড়াও পরিশোধ করা হয় ফাহিমের ক্রেডিট কার্ডে। উল্লেখ্য, ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে এ সুযোগ পেয়েছিলেন হ্যাসপিল। গ্রেফতারের পর আদালতে ভার্চুয়ালে হ্যাসপিলকে উপস্থাপন হলে জামিনহীন আটকাদেশ দিয়ে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। এদিকে হ্যাসপিলের গার্লফ্রেন্ড ম্যারিন এনওয়াই টিভিতে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ‘আমি তাকে এমন একজন মানুষ হিসেবে চিনি, যে একটি মাছি পর্যন্ত মারতে পছন্দ করেন না। মানুষ হত্যার কথা কল্পনাও করা যায় না। এমন একজন শান্তিপ্রিয় মানুষের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে, তা আদৌ সত্য নয়। নিজের পুরো নাম গোপন রাখার শর্তে নিজ ছবি অপ্রকাশের মধ্য দিয়ে এই সাক্ষাৎকারে ম্যারিন বলেন, ‘পুলিশ যে অভিযোগ উত্থাপন করেছে, তা আমি বিশ্বাস করতে চাই না। কারণ আমি তাকে (হ্যাসপিল) খুব ভালো করেই জানি।’

ইউরোপ থেকে স্টুডেন্ট ভিসায় নিউইয়র্কে এসেছেন ম্যারিন। দুই বছর ধরে হ্যাসপিলের সঙ্গেই দিনাতিপাত করছিলেন। হ্যাসপিল ছাড়া তার কেউ নেই বলে হ্যাসপিলকে গ্রেফতারের পর তিনি নিজ দেশে ফিরে গেছেন। এর আগে তদন্ত কর্মকর্তারা তাকেও জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন। তবে তাকে ওই বর্বরোচিত হত্যাকান্ডে জড়িত বলে পুলিশ মনে করেনি। এদিকে দুই দিন আগে ফাহিমের বড় বোন রুবি অ্যাঞ্জেলা সালেহ মিডিয়াম ডটকমে এক পোস্টে বাংলাদেশে ‘পাঠাও’ এবং নাইজেরিয়াসহ বিভিন্ন দেশে ‘গোকাডা’ নামক রাইড শেয়ারিংয়ের জনক ছোট ভাই ফাহিমের স্মৃতিচারণাকালে উল্লেখ করেছেন, ‘আমি আমার ভাইয়ের হত্যাকান্ডের বিচার চাই। সবার দোয়া চাই, যেন ফাহিমের আত্মা শান্তিতে থাকে।’

প্রসঙ্গত, তথ্য-প্রযুক্তি জগতে তরুণ বয়সেই ব্যাপক খ্যাতি অর্জনকারী বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আমেরিকান ফাহিম সালেহকে ১৩ জুলাই ম্যানহাটানে নিজ অ্যাপার্টমেন্টে হত্যা করা হয়। হত্যার পর ফাহিমের লাশ করাত দিয়ে কয়েক টুকরো করে পলিথিনের ব্যাগে ভরা হয়েছিল।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক গণঅধিকার'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyganoadhikar@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

দৈনিক গণঅধিকার'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। দৈনিক গণঅধিকার | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT